বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বৃদ্ধাশ্রম

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X একটি অভিশাপ । (একটু ধৈর্য ধরে পড়ুন আশা করি ভাল লাগবে) . [১] হ্যাপিহোম নামের বৃদ্ধাশ্রমটি শহর থেকে একটু দুরে । এই বৃদ্ধাশ্রমেরই একটি ঘরে থাকেন রহিমা বেগম, চৌধুরী সাহেবের মা । বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থ । আজ হঠাৎ একটু বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন । আদরের একমাত্র মানিক কে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে ওনার । পরিচালিকাকে বললেন ছেলের কাছে ফোন করতে.... . (ক্রিং...ক্রিং....) ফোনের আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে গেল রবি চৌধুরীর । ফোন হাতে নিয়ে -হ্যালো রবি চৌধুরী স্পিকিং... . অপর পাশ থেকে উদ্বিগ্ন মহিলা কন্ঠের আওয়াজ ভেসে আসল। -হ্যা.. হ্যালো স্যার । হ্যাপি হোম থেকে বলছি । আজ একবার এখানে আসতে হবে । গৃন্নি মায়ের অসুস্থতা বেড়ে গেছে ।" . মহিলাটি "হ্যাপিহোম" বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালিকা । রবি চৌধুরীর অনুদানেই গড়ে উঠেছে এই বৃদ্ধাশ্রমটি । অবহেলিত বৃদ্ধদের প্রতি গভীর ভালবাসার স্বরূপে তিনি বৃদ্ধাশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত করেন । ওনার ৫০ উর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকেও রেখেছেন এই বৃদ্ধাশ্রমে । "মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে খুবই বিরক্ত হলেন চৌধুরী সাহেব। -(ধমকের সুরে) আমি কি ডাক্তার যে আমাকে বলছো? ভাল কোন ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করে নাও । আমার সেক্রেটারির হাতে টাকার চেক পাঠিয়ে দিব । অপর পাশের মহিলাটি কিছু বলতে চেয়েও চুপ হয়ে গেলেন । -জ্বি আচ্ছা । বলেই ফোন কেটে দিলেন.....! . [২] রবি চৌধুরী শহরের নামকরা ধনীদের মধ্যে একজন । রাস্তার পাশের বিশাল এই অট্টলিকাটি সবারই নজর কাড়ে । সুবিশাল এই বাড়িটির সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধকরে । সুন্দর এই অট্টলিকাটি রবি চৌধুরীর বাসা । বাসার ভিতরের কারুকাজও চোখ ধাঁধিয়ে দেয় । স্ত্রী পূত্র ও দুই কণ্যা সন্তান কে নিয়ে চৌধুরী সাহেবের সুখী পরিবার । >> ক্রিং ক্রিং... আবারো বেজে উঠল ফোনটি । রাগের মাথায় কলটি রিসিভ করলেন, অপর পাশ থেকে -স্যার একটি সুখবর । আমাদের ডিলটা একসেপ্ট হয়েছে । কামাল সাহেব আজকে মিটিং অ্যারেন্জ করতে বলছেন । এখন শুধু আপনার অনুমতির প্রয়োজন । রবি চৌধুরীর ঠোটের কোনায় হাসির ছাপ । আনেক টাকা আয় হবে এই ডিলটিতে । . -হ্যা আজই মিটিং ফিক্সড করো । আমি একটু পরেই অফিসে আসছি । বাড়ির কাজের মেয়েটি চা দিয় গেল । দ্রুত ব্রেকফাষ্ট সেরে রেডি হয়ে নিজের গাড়িতেই রওনা দিলেন আফিসে । . [৩] গভীর আগ্রহে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে রহিমা বেগম । পরিচালিকা ঘরে প্রবেশ করলে জানতে চাইলেন -খোকা কখন আসবে?? (বুকের মানিককে একটি পলক দেখার জন্য মনটা তার আজ খুব বেশি ছটফট করছে) । পরিচারিকাকে চুপ থাকতে দেখে বুঝলেন যে ওনার ছেলে আজও আসবেনা । উদাস মনে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন । আকাশে মেঘ, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি । আকাশের বৃষ্টি সবারই নজরে আসে সহজেই কিন্তু ওনার মনের আকাশে যে মেঘের ঘনাঘটা তা হয়তো উপর ওয়ালা ছাড়া আর কেউ দেখতে পাচ্ছেনা । ব্যাথিত মনে স্মৃতির পাতে গুলো উল্টাতে লাগলেন রহিমা বেগম । . "খুব অল্প বয়সে রহিমা বেগমের বিয়ে হয়েছিল এক স্কুল শিক্ষকের সাথে । স্বামীর আর্থিক অবস্থা ভাল না হলেও মানুষটি ছিল খুবভাল। কথায় বলে অভাগা যেদিকে চায় সাগরও নাকি শুকিয়ে যায় । ১ বছরের সন্তান কে রেখে স্বামী মারা যান । বিধবা হন রহিমা বেগম । স্বামীর শোকে প্রায় পাগল হয়ে যান তিনি । বুকের মানিককে স্বামীর স্মৃতি হিসেবে নিয়ে বেঁচে থাকেন তিনি । নিজের রূপ, যৌবনকে বিসর্জন দেন রবির কথা ভেবে । নিজের হাতে তুলেনেন পরিবারের দায়িত্ব ।নিজের সুখ আহলাদ কে বিসর্জন দিয়ে, বাড়ি বাড়ি কাজ করে লালন-পালন করতে থাকে তার সোনা মানিককে । দিনের পর দিন অত্যাচার, অপবাদ, লালসার শিকার হয়েও সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেন তিনি । চাইলেই তখন বিয়ে করে নিজের সুখের সংসার সাজাতে পারতেন কিন্তু বুকের মানিকের কথা ভেবে নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়েছেন ।সময় বদলে গেছে, ভাগ্যও বদলে গেছে । রবি আর আগের সেই ছোট্ট রবি সোনা নেই । এখন রবি চৌধুরি হয়েছেন । স্বামী ওনাকে ছেড়ে গেছেন সেই কবে । একমাত্র বুকের মানিক রবি চৌধুরিও তাকে রেখে গেছেন বৃদ্ধাশ্রমে । সবাই এই অভাগীকে ছেড়ে চলে গেলেও দুঃখ কষ্ট আজও পিছু ছাড়েনি তার । অতীতের দিনগুলির কথা ভাবতেই চোখ বেয়ে নেমে এলো অশ্রু ধারা । বৃষ্টি থেমে গেছে । হয়তো এই অভাগীর চোখের জল দেখে বৃষ্টিও লজ্জা পেয়ে পালিয়ে গেছে.. । . মূমূর্ষ অবস্থায় বিছানাতে শুয়ে আছে রহিমা বেগম । বেলা যত বাড়তে লাগলো রহিমা বেগমের অসুস্থতাও বাড়তে থাকলো । ডাক্তার আশা ছেড়ে দিয়ে বললেন: -আল্লাহই শেষ ভরসা । পরিচালিকা ভাবগতিক বুঝে গেলেন । রবি চৌধরীকে ফোনে সবকিছুই খুলে বলিলেন । শুনিয়া রবি চৌধুরী বললেন: -জরুরি মিটিং চলছে । এখন আসতে পারবেননা । মিটিং শেষ করে এসে দেখে যাবেন । পরিচালিকা কানের কাছে মুখ এনে বলে গেলেন চৌধুরি সাহেবকে আনার জন্য লোক পাঠানো হয়েছে । রহিমা বেগম কিছুই বললেননা শুধু গভীর আগ্রহে দরজার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়া রইলেন । সময়ের সাপেক্ষে মৃত্যুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছেন তিনি। কে যেন "মা" "মা" বলে ডাকলো তাকে । -তুই এসেছিস খোকা, আয় আমার বুকে আয় সোনা" দরজার দিকে মুখ ফিরালেন তিনি। কিন্তু কোথায় তার খোকা? তবে কি তিনি ভূল শুনেছেন? চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু গড়ে পড়ছে ওনার । তারপর কয়েকবার ক্ষীণ কন্ঠে খোকা, খোকা বলে ডেকে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে পড়লো রহিমা বেগম । রহিমা বেগমের মৃত্যুর প্রায় আধা ঘন্টা পরে ঘরে প্রবেশ করলো চৌধুরী সাহেব । একটু দেরি করে ফেলেছেন তিনি.... . [৪] ১৫ বছর পরে....... "মৃত্যুর আগে মায়ের মুখটি দেখার ভাগ্যও হয়নি চৌধুরী সাহেবের । অর্থ নামের আলেয়ার আলোর পিছনেই ছুটেছেন সারাটি জীবন । হ্যাপি হোমের ঐ ঘরে বসেই আজ মায়ের মৃত্যুর সেই দিনটির কথা ভাবছেন বৃদ্ধ রবি চৌধুরী ...আজ তিনিও এই বৃদ্ধাশ্রমেরই বাসিন্দা....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বৃদ্ধাশ্রম
→ বৃদ্ধাশ্রমের চিঠি
→ "বৃদ্ধাশ্রম"
→ বৃদ্ধাশ্রম
→ ডিভোর্স ভার্সেস বৃদ্ধাশ্রম
→ বৃদ্ধাশ্রমে একদিন
→ বৃদ্ধাশ্রম
→ বৃদ্ধাশ্রম
→ বৃদ্ধাশ্রমে মাকে রেখে এসেছে তপু
→ প্রয়োজন যার ফুরিয়েছে-আশ্রয় কি তার বৃদ্ধাশ্রম
→ বৃদ্ধাশ্রম থেকে অসহায় বাবার চিঠি
→ আশ্রয় কি তার বৃদ্ধাশ্রম ?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now