বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছোট্ট হীরা।

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রাইহান খান (০ পয়েন্ট)

X ছোট্ট হীরা। ক্লাস ফাইভের প্রথম বয়। সবার কাছে খুব আদরের। ক্লাসে সবার সাথে হাসিখুশি থাকে। রোজ দিনের মতো আজো ক্লাস শেষে মুখ গোমড়া করে স্কুলের গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে। সবার মায়েরা তাদের সন্তানদের সাথে করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে কিন্ত হীরার বেলা অন্য রকম। ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে বাসার দিকে হেটে যাচ্ছে। কনিংবেল চাপ দিতেই রিজিয়া বেগম দরজা খুলে দিলেন। বড় বড় চোখ করে হীরার দিকে তাকালেন রিজিয়া। হীরার হাত ধরে ভিতরে নিয়ে আনলেন তারপর সজোরে আঘাত করলেন হীরার গালে। হারামজাদা স্কুল থেকে ফিরতে এ্যাতো দেড়ি হলো কেন? রিজিয়া রোজি এভাবে কোনো না কোনো কারনে হীরাকে মারধর করেন। হীরার মা কহিনুর মারা যাবার পরপরি হীরার বাবা আাসাদ সাহেব রিজিয়া কে বিয়ে করেন। তারপর থেকে হীরার উপর নেমে আসে অমানবিক অত্যাচার। যদিও রিজিয়া হীরাকে স্পষ্ট করে বলে দিছেন এসব কথা কাউকে বললে ভালো হবেনা। ছোট্ট হীরা বাবার কাছে কিছুই বলতে পারে না। দিনেরাতে কম বেশি অত্যাচার আর লান্চিত হীরার জিবন অতিষ্ট হয়ে ওঠে। এ সংসারে ফাহিম তার ছোট ভাই। ফাহিম সবার আদরের!!আর হীরাকে কেউই সহ্য করতে পারে না। ছোট্ট হীরা কেবল মাত্র তার বাবার কাছে প্রিয়।বাবাই তাকে খুব ভালোবাসে। বাবা পাশে থাকলে ভালো খাবাড় খেতে পারে অন্যথায় তাকে দেওয়া হয় বাসি খাবাড়। আজকে ফাহিমের জন্মদিন। বাসায় রকমারি খাবাড় তৈরি হচ্ছে।হীরা বিরিয়ানির এক টুকরো মাংস চেখে নিলো। ইয়াম্মি!!!কত্ত মজা হয়েছে। দৌড়ে চলে গেলো রিজিয়ার কাছে। ছোট মা ও ছোট মা আমাকে একটু বিরিয়ানি খেতে দাও না।খুব মজা হয়েছে।হীরার মাসুম চেহারায় অসহায়ের ছাপ ফুটে উঠেছে। হারামজাদা বিরিয়ানি খাওয়ার শখ মিটিয়ে দেবো, খবরদার আরেকবার যদি তোকে ডায়নিং রুমে দেখি তবে পিটিয়ে তাবা তাবা করে দিবো।হুমম বিরিয়ানি খেতে আসছে,যা ফোট চোখের সামনে থেকে।যা। হীরা কান্না চোখে নিজের রুমে চলে গেলো। মায়ের ছবিটা নিয়ে বিছানায় শুয়ে কাদছে! চোখের পানি গুলো মায়ের ছবির উপর গড়িয়ে পরছে!! একটু পরে বাচ্চাদের হই হুল্লোড় শুরু হলো। ফাহিমের কেক কাটা হচ্ছে। আসাদ সাহেব হীরাকে খুজছে। হীরা হীরা বলে ডাকতে থাকে।কই গেলিরে আব্বু!হীরা!? হীরা রিজিয়ার কথায় প্রচন্ড ভয় পেয়েছে। বাবা যেনো তাকে খুজে না পায় তার জন্য খাটের নিচে ঢুকে পরে। আসাদ সাহেব কোথাও হীরাকে খুজে না পেয়ে চলে গেলেন মেহমানদের কাছে। অনেক রাত হলো। সবাই খুব ক্লান্ত।হীরার কথা কারোই মনে নেই। হীরা কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে খাটের নীচে!!! হীরা!!? ও হীরা!? ওঠ বাবা। ঘুম ভেঙ্গে গেলো হীরার! চোখ খুলে নিজেকে খাটের নীচে দেখতে পেলো। পাশে একজন মহিলা শুয়ে আছে। এটা দেখে হীরা মাগো বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো। কোমল একটা হাত হীরার মুখ চেপে ধরলো। আমার সোনা আমিই তো তোর মা। হীরা খাটের নীচ থেকে বেড়িয়ে এলো।মায়ের বাধানো ছবিটা দেখে নিলো। পিছন থেকে শব্দ এলো, কিরে চিনতে পেরেছিস!? হীরা মাথা ঘুরিয়ে পেছনে ঐ মহিলাকে দেখতে পেলো। কাদো কাদো চেহারা করে ফেললো হীরা। দৌড়ে এসে মাকে জরিয়ে ধরলো। মা কোথায় ছিলে তুমি!? এখানে কেউ আমাকে ভালোবাসে না,সবাই আমাকে রাগ করে। মহিলা হীরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। বাবা,কান্না করে না,সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। শাড়ীর আচল দিয়ে হীরার নাকটা পরিস্কার করে দিলেন।হীরার নাক ভর্তি সর্দি জমে আছে। হীরাকে বাথরুমে নিয়ে গেলেন।তারপর ভালো করে গোসল করালেন।হীরাকে নতুন জামা কাপড় পড়ালেন। হঠাৎ হীরার ঘোর ভাঙ্গলো! চেয়ে দেখলো চারিদিক অন্ধকার! নীল আলোয় ঘরটা কিছুটা আলোকিত হয়ে আছে তবে স্পষ্ট দেখা যায়। হীরা লাইটের সুইচটা অন করলো কিন্ত লাইট জ্বলছে না। কি করসিছ বাব? লাইট জ্বালানোর চেষ্টা করছি মা! লাগবে না লাইট,আয় আমার কাছে আয়। তোকে একটু আদর করে দি। হীরা সো করে মায়ের কোলে শুয়ে পড়লো। বাবা তোর ক্ষুধা লাগনি? হুমম লাগছে,কিন্ত কেউ আমাকে ভালো খাবাড় খেতে দেয় না। মহিলাটার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। হুমম হুমম হুৃৃৃমমম করছে। হীরা ঘাবড়ে যায়!ওমা!? হীরার ডাকে মহিলা শান্ত হয়ে যান বলো বাবা এমন করছো কেনো!? এমনি,আমার বাবুকে কে খেতে দেয় না!? ঐ যে ছোট মা আছেনা,উনি আমায় খুব মারে।মা তুমি কোথাও যেওনা। তাহলে আমি ভীষন কষ্ট পাবো। মহিলাটা নীরব!!! তারপর হীরার গালে একটা চুমু দিলেন। আর কেউ তোকে কিছু বলতে পারবে না।বলো কি খাবে? মা জানো আজকে বাসায় বিরিয়ানি রান্না করেছে। খেতে চাইলাম কিন্ত ছোট মা আমাকে ডায়নিং রুম থেকে বের করে দেয়। মহিলাটা সাপের মতো ফোস ফোস করতে থাকে! কেউ বাচবে না!আমার বাচ্চার সাথে অন্যায়?কেউ বাচবে না। হীরা ভয়ে চুপসে গেলো। সোনা মানিক আসো আমার সাথে, হীরা মহিলাকে অনুসরন করে ডায়নিং রুমে চলে এলো। হীরাকে ডায়নিং চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। তারপর প্লেটে বিরিয়ানি দিলেন।মাংসের রেজালা দিলেন।নীল আলোয় চারিদিক ছেয়ে আছে! ছোট্ট হীরা রাস্তার অভাবি টোকাইদের মত গপগপ করে গিলছে।অজান্তে হীরা কান্না করে দেয়। বড় বড় কয়েকটা গোসতের টুকরো ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে। মহিলা পাশের চেয়ারে বসে পড়লো। তারপর হীরার থেকে প্লেট টা নিয়ে নিজ হাতে হীরাকে খাইয়ে দিলেন। মায়ের হাতে খাবাড় খেতে পেরে হীরা খুব খুশি।এবার মায়ের কোলেই বসে পড়লো।তারপর মায়ের বুকে হেলান দিয়ে আরাম করে খাচ্ছে। পরম মমতায় হীরা এই কোল কে সব চেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করছে। মা!? হুম বলো সোনা আমাকে ফেলে কোথায় ছিলে? আমি তোমার পাশেই থাকি তুমিই তো আমাকে দেখতে পাওনা!! আমি দেখতে পাইনা!? না পাওনা কেনো পাইনা? ওসব পরে হবে।আরেকটু খাও বাবা,না খেয়ে তুমি অনেক শুকিয়ে গেছো! মা আমাকে তুমি রোজ খাইয়ে দিলে আমি ঠিক হয়ে যাবো। ওলে ওলে আমার সোনা কত চালাক হয়ে গেছে!!ঠিক আছে।তবে রাতে তোমাকে খাইয়ে দিবো।দিনে তুমি একা খেয়ে নিবে। কেমন!? আচ্ছা মা। ছোট্ট হীরা মায়ের আদর পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে। হীরা আর তার মা বিছানায় শুয়ে পড়লো। হীরা!? জ্বী মা আমার কথা কাউকে বলবে না,কেমন? আচ্ছা মা। এইতো আমার সোনা বাবু,কত্ত ভালো! এখন ঘুমাও। হীরা ঘুমিয়ে পড়লো। সকালে ঘুমটা ভাঙ্গলো রিজিয়ার চেচামেচিতে হীরা ডায়নিং রুমে গিয়ে দেখলো রিজিয়া বেগম নাস্তা করছেন আর উচ্চস্বরে কথা বলছেন বুয়ার সাথে। হুমম? এ ঘরে সব চোর।কতগুলো মাংসের রেজালা ছিলো!এখন দেখি অনেক কম!!! কে খেয়েছে!? রহিমা তুই খাইছিস? না না খালা আমি খাই নাই,মরা বাপের কিরা কাইট্টা কইতাছি আমি খাই নাই তাইলে কে খাইছে? মাথা ঘুরাতেই হীরাকে দেখতে পেলো রিজিয়া বেগম। এই ছেলে এদিকে আয় হীরা ভয় ভয় পায়ে রিজিয়ার সামনে এসে দাড়ালো চট করে একটা থাপ্পড় কসালো হীরার গালে। বল কে খেয়েছে এসব? ছোট মা কাল রাতে,,,,,,, কি কাল রাতে?বল বল? না মানে কাল রাতে তো আমি তোমাদের এখানে আসি নি,তাহলে খাবো কিভাবে? চুপ কর চোর,তোর মা একটা জোচ্চোরনি ছিলো তার পেটে আরকেটা চোর জন্মেছে। হীরা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। যা চোখের সামনে থেকে। হীরা চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলো। একা একা জামা কাপড় পরে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। ছোট মা আমি যাচ্ছি। রিজিয়া বেগম কেকিয়ে উঠলেন। যা যা, ফিরে না আসলে খুব খুশি হবো। হীরা স্কুলে চলে গেলো। রিজিয়া দুপুরে গোসল করতে গেলেন। আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে ভালো করে দেখছেন। নিজের রুপে পন্চমুখ!! হঠাৎ রিজিয়ার হাসি মুখটা ঘোমরা হয়ে গেলো। আয়নায় তিনি অন্য এক ভয়ানক মূর্তিরূপ দেখতে পেলেন। ভয়ঙ্কর কুৎসিত একজন মহিলা আয়নার ওপাশে! চিৎকার দিয়ে বেহুশ হয়ে পড়লেন রিজিয়া। রহিমা চিৎকার শুনে রিজিয়ার কাছে এসে দখতে পেলো রিজিয়া মেঝেতে পরে আছে। রহিমা আসাদ সাহেবকে ডেকে আনলো। জ্ঞান ফেরার পর রিজিয়া আসাদকে সব খুলে বললেন। আসাদ সব শুনে হেসে উড়িয়ে দিলেন। আজকাল রিজিয়া ভয়ে ভয়ে থাকে।তার মনে হয় কেউ একজন তার পিছনে থাকে। আজকাল রিজিয়া অল্পতে ভয়ে চিৎকার করে ওঠে। আজো সে ভয় পেয়েছে।কালো একটা বিড়াল নাকি তার পেছনে পেছনে ঘুর ঘুর করে। আকাশটা মেঘলা।বিকেল কে সন্ধ্যা মতো লাগে! রিজিয়া শুয়ে আছে। ফাহিম পাশেই ঘুমিয়ে আছে।হঠাৎ খুক খুক কাশির শব্দে রিজিয়া উঠে বসলো। শব্দটা খাটের নীচ থেকে আসছে। উকি দিতেই রিজিয়া চিৎকার দিয়ে উঠলো।চিৎকার শুনতে পেয়ে আসাদ চলে এলেন। কি হয়েছে তোমার? রিজিয়া আসাদকে বললেন আলো আলো!! কিসের আলো!? খাটের নিচে আলো আসাদ উকি মেরে দেখলেন কোথাও আলো নেই। রিজিয়াকে বুঝাতে লাগলেন এসব মনের ভুলভ্রান্তি কিন্ত রিজিয়া কিছুতেই শান্ত হচ্ছেন না।কান্নাকাটি করছেন! এর মধ্যে রিজিয়ার ফোনে কল এলো।মোবাইলের স্ক্রিনে "সবুজ "লেখা উঠলো ফোনটা রিসিভ করলেন আসাদা সাহেব। ওপাশ থেকে পুরুষ কন্ঠে একজন বললো ডার্লিং কোথায় তুমি! আজকে কিন্ত আর কোনো কথা শুনবো না।আমার বাসায় আজ তোমাকে আসতেই হবে।কতদিন হলো তোমাকে ছুতে পারিনা।আজ ইচ্ছাে মতো যা খুশি তাই করবো।আসাদ সাহেব এবার মুখ খুললেন অশ্লীল ভাষা গালি দিলেন লোকটাকে।লাইন কেটে দিলেন। তারপর রিজিয়ার গালে কষে থাপ্পড় দিলেন। ছিঃ ছিঃ তুই এ্যাতো নোংরা!?দেখ তোকে কে কল করেছে,দেখ রিজিয়া তার মোবাইল চেক করে দেখলেন সবুজের কল!! হায় হায় এখন কি হবে!!ধরা পরে গেছি। মনে মনে বললেন রিজিয়া। আসাদা সাহেব তাৎক্ষনিল উকিল ডাকলেন।তারপর ডিভোর্স দিয়ে দিলেন। ফাহিমকে রিজিয়ার কোলে তুলে দিয়ে বললেন হারামজাদি এই নে তোর আর সবুজের ফসল।এটা আমার সন্তান না।আমার সন্তান হীরা। তারপর ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন রিজিয়াকে। আসাদের বুকে চিন চিন ব্যাথা!! কেনো মানুষ এমন হয়!! কেনো মানুষ আপনকে চিনতে পারে না!? কেনো মানুষ একজনকে নিয়ে খুশি থাকতে পারে না!?তবে কি সব মেয়েরা একি রকম!? না না আমার কহিনুরের সাথে কারো তুলনা হয়না! আমি অন্যায় করেছি।আমার উচিত হয়নি আবার বিয়ে করা।আমিই ভুল ছিলাম হীরার রুমে এসে দখতে পেলেন হীরা হাসি মুখে বসে আছে। ছেলেকে জরিয়ে ধরলেন।বাপ আজ থেকে তুই আমার সাথে ঘুমাবি।হীরা বাবার কোলে বসে পড়লো। রাতে বাবা ছেলে এক সাথে ঘুমিয়ে পড়লো।মাঝরাতে হীরা ডায়নিং রুমে চলে গেলো, মা বসে আছে। পরের দিন হীরা স্কুল থেকে বাসায় ফিরছে। রিজিয়া হীরার কে রাস্তায় দেখতে পায় চট করে হীরার সামনে এসে দাড়ায়। হীরা, বাবা আমার চলো এক সাথে বাসায় ফিরবো। হীরা হা করে চেয়ে আছে রিজিয়ার দিকে। কি হলো!?চলো ছোট মা আজ আমাকে তুমি এ্যাত আদর করছো কেনো? হা হা হা পাগল ছেলে।আজ থেকে তোমার আদর যত্নে আর কোনো ত্রুটি হবে না।হুট করে কালো একটা মাইক্রো এসে থামলো ওদের সামনে। গাড়ী থেকে একটা লোক নেমে এলো। রিজিয়ার সাথে ফিসফিস করে কি যেনো বললো। হীরা এর আগে কখনো এই লোকটাকে দেখেনি। হীরা? জ্বী ছোট মা? চলো বাবা আমরা বাসায় যাবো। হীরা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো। তারপর হীরা গাড়ীতে উঠতেই রিজিয়া হীরার নাকে রুমাল চেপে ধরতেই হীরা গাড়ীর সিটে হেলে পড়লো। অন্ধকার ঘুটঘুটে রুম।চারিদিকটা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না হীরা। শরীরটায় বাথা অনুভব করছে। ছোট মা ও ছোট মা!? ছোট মা? কোন সাড়া শব্দ নেই। আবছা আবছা কথার শব্দ শুনতে পাচ্ছে হীরা। হঠাৎ করেই রুমটা আলোকিত হলো!! রিজিয়া বেগম হাসছেন। কিরে হীরা কেমন লাগছে এখানে? হীরা ছলছল চোখে বললো ভীষন কষ্ট হচ্ছে। ছোট মা আমার হাত পা কে যেনো বেধে রাখছে,খুলে দাও খুব কষ্ট হচ্ছে। রিজিয়ার হাসি যেনো থামছে না। তোকে আমি বেধে রেখেছি।কেনো জানিস? কেনো? তোকে জবাই করে টুকরো টুকরো করে ফেলে দিবো তারপর তোর বাপকে মারবো।রিজিয়ার সাথে একটা লোক দাড়ানো ছিলো। হীরা কাদো কাদো কন্ঠে বললো, আমাকে মাইরো না প্লিজ।আমাকে ছেড়ে দাও।হীরা চিৎকার দিয়ে ওঠে। হীরাকে কান্না করতে দেখে ওরা দুজন সজোরে হাসছে! লোকটার হাতে বাকানো একটা চাকু। ধীরে ধীরে হীরার দিকে এগোতে থাকে ওরা। হীরার কান্নাকাটি তে ওদের মন গলছে না। হীরাকে সজোরে লাত্তি দিয়ে মাটিতে শুইয়ে দিলো লোকটা।রিজিয়া মজা লুটছেন!! ব্যাথায় ছটফট করছে হীরা মাসুম চোখে রিজিয়ার দিকে চেয়ে আছে হীরা। হঠাৎ করেই রুমটা অন্ধকার হয়ে গেলো। তারপর অন্ধকার থেকে ধীরে ধীরে চারিদিকটা নীল আলোয় ছেয়ে গেলো। রিজিয়া লোকটার পাশে এসে দাড়ালো।রিজিয়ার ভয় লাগছে! সবুজ এসব কি হচ্ছে? আমিও বুঝতে পারছি না! বললো সবুজ। বিকট এক চিৎকার!!! পিলে চমকো গেলো দুজনের!! পালানোর জন্য পিছনে দৌড় দিলো দুজনে কিন্ত দরজা লক করা।কিছুতেই দরজা খোলা যাচ্ছে না নীল আলোয় চারিদিকটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সবুজ!?হীরা কোথায়? সবুজ চারিদিকটা ভালো করে চেয়ে দেখলো, কিন্ত হীরাকে দেখা যাচ্ছে না!! আরে!!সত্যিতো ছেলেটা কই গেলো? সবুজ আবার ভালো করে চারিদিকটায় নজর দিলো।সবুজের শরীর ঘামতে শুরু করে দেওয়ালের এক কোনায় সাদা কাপড় পড়া এক মহিলা দাড়িয়ে আছেন!!! রিজিয়া ওটা কি? কোনটা কি?রিজিয়া শক্ত করে সবুজের হাত ধরে রাখলো। রিজিয়া দেখতে পেলো সাদা কাপড় পরা একজন মহিলা তাদের দিকে চেয়ে আছে।চোখ দুটো নীল লাইটের মতো জ্বলছে। মাগোরে এসব কি দেখছি!?সবুজ কিছু একটা করো চোখের পলকে মহিলাটা ওদের সামনে চলো এলো। বিভৎসকর মুখ!!! সবুজ তার হাতের চাকুটা মহিলার শরীরে ঢুকিয়ে দেয়,কিন্ত কিছুই হলো না। মহিলা তার দু হাত সবুজ আর রিজিয়ার মুখে পুরে দেয়,সজোরে টান দিতেই দুজনের গলার নালী গুলো বের হয়ে যায়।মহিলাটা তারা মুখের দাত গুলো দিয়ে তা চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিলে। হীরার জ্ঞান ফিরলো। চোখ খুলে দেখতে পেলো তার বাবা পাশে বসে আছে। বাবার পিছনে দাড়িয়ে আছে তার মমতাময়ী মা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now