বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পাতামৃগ——সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আকাশে মেঘ, বাতাসে শীতল ভাব, নদীর জলে অশান্তি। বাবু সাহেব বলেছেন, ঝড় হবে। তিনি যা বলেন, তা-ই হয়। আমি ধরে নিয়েছি আজ বিকেলে ঝড় হবে এবং বাবু সাহেবের নৌকা প্রচণ্ড দুলবে। তাঁর মাঝিমাল্লার একটা কঠিন সময় যাবে নৌকা এবং বাবু সাহেবকে সহিসালামতে রেখে ঝড়টা পার করে দিতে। বাবু সাহেব যখন আইনের হাত গলিয়ে কিছুদিন আড়ালে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তিনি তাঁর নৌকায় ওঠেন। দুই তলা নৌকা—দুই তলা খাস, নিচতলা আম। খাসমহলে ঢোকার অধিকার হাতে গোনা কয়েকজনের, তার মধ্যে আমি একজন। ছয় মাস আগেও আমি আম ছিলাম, এখন খাস। আমার প্রমোশনের কারণ, বাবু সাহেবের ইন্দিরা রোডের সম্পত্তি থেকে লোকজনকে তাড়িয়ে সেটি সোনামণি ডেভেলপারকে বুঝিয়ে দিয়ে বিনিময়ে পাওয়া ২৪ কোটি ক্যাশ টাকা হুন্ডি করে মালয়েশিয়ায় তাঁর সেকেন্ড হোম তহবিলে পাঠিয়েছি। পরিষ্কার, চাঁছাছোলা কাজ; যে কাজ শেষে কোনো বিরক্তিকর, অপরিচ্ছন্ন সুতো ঝুলে থাকে না। বাবু সাহেব আজ নৌকায়। কারণ, ইন্দিরা রোড়ের সম্পত্তির আসল মালিক বা দাবিদার আমেরিকা থেকে এসে কেস করেছেন। দাবিদারের এক চাচা পুলিশের বড়কর্তা। একটু ঝামেলা হচ্ছে এ কারণে, তবে বাবু সাহেব বলেছেন, সমস্যা নাই। ১০-১২ দিন একটু নিচা হইয়া থাকতে হবে: ঘাড়টা না তুললে কেউ দেখব না। নিচা হয়ে থাকতে হবে আমাকেও। বাবু সাহেব আরও বললেন, আগামী মাসের ২ তারিখ তিনি মালয়েশিয়া যাবেন। ইমিগ্রেশনে তাঁর সময় লাগবে পাঁচ মিনিট। অর্থাৎ তাঁকে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। তিনি জামাই আদর পাবেন। তাঁর কথা যে সব সময় সত্য হয়, আর ১০ দিন পর তা প্রতিষ্ঠা পাবে। তাঁর সব ঝামেলা মিটবে, তিনি নতুন জন্ম নেওয়া শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবেন। দেশের ভেতরে-বাইরে তাঁর যাতায়াত হবে ফুলের বনে উড়ে বেড়ানো ভোমরার মতো সরল। নদীর পাড়ে কেউ একজন ফুলের একটা বাগান রচনা করেছে। ফুল ফুটেছে। হাওয়া দিচ্ছে। সেই হাওয়ায় ভেসে ভেসে কয়েক ভোমরা ফুলে বসছে। মধু পান করছে। বাগানের দিকে চোখ মেলে বাবু সাহেব বললেন, বিষয়টা আমারে অবাক করে, সুজন মিয়া। এই যে ভোমরার দল, তাদের ভনভনানি ফুলের উপ্রে বসা পর্যন্ত। ফুলে বসল কি এক্কেরে চুপ। জি, আমি বললাম, বাচ্চাগো মতো। দুধ না খাওয়া পর্যন্ত খালি কান্না। মা বুক দিলে চুপ। বাবু সাহেব হাসলেন। কথাটা ব্যাপকভাবে খাটে, তিনি বললেন। এই যে আমার বউ, জানটা পানি করে ফেলল মালয়েশিয়া মালয়েশিয়া করতে করতে, যেই মালাক্কায় একটা বাড়ি কিন্যা বসাইয়া দিলাম, এক্কেরে চুপ। রা নাই মুখে। বাবু সাহেবের স্ত্রীর মুখে রা নেই কেন, তার আসল কারণটা অবশ্য আমি জানি, বাবু সাহেব জানেন না। তাঁর ধারণা, মালাক্কায় বাড়ি পেয়ে বউ খুশি। অথচ বউয়ের খুশির আসল কারণ কিনা মালাক্কায় বাড়ি কিনেছেন রহমত আলিও। একসময় বাবু সাহেবের পার্টনার ছিলেন, তাঁদের ব্যবসা ছিল কেমিক্যাল আমদানির। একবার আমদানি নিষিদ্ধ কেমিক্যালের চালানসমেত রহমত ধরা পড়লেন। জেল হলো। জেল থেকে বের হয়ে রহমত আলাদা ব্যবসা দিলেন—হুন্ডি আর আদম ব্যাপারির। একসময় সিদ্ধান্ত নিলেন মালয়েশিয়ায় মাইগ্রেট করবেন। বাবু সাহেব জানেন, রহমত মালয়েশিয়ায় পাম বাগানের মালিক। সত্য হলো, পাম বাগান তাঁর আছে বটে, তবে সেটা চালায় তাঁর ছোট ভাই ল্যাংড়া কিসমত। রহমত মালাক্কায় বাড়ি কিনেছেন, যে বাড়িতে বাবু সাহেবের বউ যান, যখন ইচ্ছা হয় যান। সেই ইচ্ছাপূরণের কারণে বউয়ের মুখে রা নাই। বাবু সাহেব বললেন, তুমিও সুজন, অনেক ভনভন করছ। এখন চুপ। ঠিক কি না? আমি মাথা নাড়লাম। ভনভন করার কারণ ছিল। বাবু সাহেব আমার বাবার শ্যামপুরের পেট্রল পাম্প দখল করেছেন, বাবাকে যদিও অল্প কিছু টাকা দিয়েছেন ক্ষতিপূরণ হিসেবে। দনিয়ায় আমাদের তিন কাঠা জমির ওপর আড়াই তলা একটা দালান ছিল। একদিন বাবু সাহেব তা দখলে নিলেন। জমিটা ছিল আমার মায়ের। বাড়িটাও। একটা একটা ইট দিয়ে বাড়িটা গড়েছিলেন আমার মা। সেই বাড়ি ছেড়ে একটা ভাড়াবাসায় উঠতে হলো, শালার দনিয়াতেই। বাড়ি হারিয়ে মা বিধ্বস্ত হলেন, পরের উদ্বাস্তু অবস্থা তাঁকে শেষ করে দিল। তিনি পরপারে চলে গেলেন। এই দুই দখলের আসল কারণ: আমার বাবার হঠাৎ বাতিক হয়েছিল ওয়ার্ড কমিশনার হবেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বাবু সাহেবের ছোট ভাই সাবু। বাবাকে বাড়ি এসে বাবু সাহেব বলেছিলেন, নির্বাচনে না দাঁড়াতে। বাবা শোনেননি। জেতেনওনি। জিতেছে সাবু। তবে নির্বাচনী ধকলে সাবু কাহিল হলো, ঠাঁই নিল হাসপাতালে। তারপর আজিমপুরের নিচতলায়। ভাইটার মরণের জন্য বাবু সাহেব দায়ী করেছিলেন বাবাকে। একদিন তিনি আমাকে ডেকে বললেন, সুজন মিয়া, হাজি সাহেবকে বলো, কর্পেট করতে। কর্পেট করলে তাঁর জানটা থাকবে। না করলে না। বাবু সাহেবের কাছে বাবার কো-অপারেট করার মানে ছিল তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করা। অথচ মারা যাওয়ার আগে বাবার হাত ধরে মা অনুরোধ করেছিলেন, বাড়িটা বাঁচাতে। একটা মামলা করলে হয়তো সেটা সম্ভব হবে। আমি দনিয়া কলেজে পড়ি। ছাত্রনেতা। বাবু সাহেব শ্যামপুর-দনিয়ার ত্রাস। এমপির ডানহাত। ভূমিদস্যু। তাঁর দস্যুতা ছিল ঢাকা শহরজুড়ে। বাবাকে বললাম, বাবা, কর্পেট করো। বাবা বললেন, ঠিক বাবা, তা-ই করব। না করলে বাঁচা যাবে না। মাকে হারানোর দুঃখের সঙ্গে এবার যোগ হলো বাবু সাহেবের সঙ্গে কো-অপারেট করার লজ্জা। সেই সঙ্গে পেট্রল পাম্প খোয়ানোর কষ্ট তো ছিলই। ফলে বাবার হৃদ্যন্ত্র ভেঙে পড়ল। সেই যন্ত্রের মেরামতি করতে গিয়ে অনেক টাকার দরকার পড়ল। বাবু সাহেব আমাকে ডেকে বললেন, সুজন মিয়া, একটা কাম কইর দেও। টাকা পাবা, বাবাও বাঁচব। কাজটা সহজ। সবুজবাগে সবুজ সংঘের সাইনবোর্ড লাগানো তিনতলা দালানটার অধিকার নেওয়া। কাজটা না করে উপায় ছিল না। বাবার হৃদ্যন্ত্র বলে কথা। তবে অধিকার নেওয়াটা সহজ হলো না, ঝামেলা হলো। বোমা ফাটল। গুলি চলল। একজন মানুষ একটা পা হারিয়ে, আরেকজন কয়েক কেজি রক্ত হারিয়ে হাসপাতালে গেল। অধিকার পাওয়ার পর আরেক পার্টিকে বাড়িটা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা এল। বুঝিয়েও দিলাম সবুজবাগ থানায় বসে চা-নাশতা খেতে খেতে। পার্টির নাম সুলেমান কন্ট্রাক্টর। সুলেমান থানায় অভিযোগ করেছেন, তাঁর মালিকানায় থাকা সম্পত্তি কিছু স্থানীয় যুবক অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। ইত্যাদি। বাবার হৃদ্যন্ত্র মেরামত হলো। দনিয়ায় আরেকটা ভালো বাড়িতে উঠলাম। কিছুদিনের মধ্যে কাঁচপুরে আরেক অধিকার মিশনে নামতে হলো। মিশনটা ভালোভাবে শেষ করে যে টাকা পেলাম, তা দিয়ে বাবাকে একটা দোকান করে দিলাম। হাজি আমজাদ জেনারেল স্টোর। একেবারে মেইন রাস্তার ওপর। জমজমাট বিক্রিবাট্টা। বাবার হৃদ্ব্যাটারির ভালো রিচার্জ হয়েছে। তিনি স্টোরে বসেন সকাল-বিকেল। খদ্দেরেরা তাঁকে পছন্দ করে। বাবু সাহেবও আমাকে পছন্দ করতে শুরু করেছেন। আমার পকেটও ভারী হচ্ছে। আমি তাঁর আম দলে নাম লিখিয়েছি। কিন্তু আমার জেদ, খাস দলে ঢুকব। সেই থেকে আমার ভনভনানি। নৌকায় বসে বাবু সাহেব বললেন, সবাই ভনভন করে। আমি এক শ টাকা কামাই করলে ১০ টাকা যায় ভনভনানিদের পাতে। তো, যাউক। আমি বললাম, আপনি ওই ১০ টাকা না দিলেও তো পারেন। আরে ছাওয়াল, তিনি ধমকের হাসি হাসলেন, বুদ্ধিশুদ্ধি নাই? ওই ১০ টাকা দেই বইলাই তো ৯০ টাকা পকেটে ঢুকাই। তবে—একটু দম নিয়ে তিনি বললেন, নিজের মানুষ ভনভন করলে ভাল্লাগে না। নিজের মানুষ—তিনি আরও দম নিয়ে বিরক্ত গলায় বললেন, ফুলে বইসা মধু খায়, আবার ওড়ে, আবার ভনভনায়। পরমানুষ তা করে না, না হয় করার সুযোগ পায় না। বাবু সাহেব হাসলেন। হাসির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হতে দিলেন। তারপর আমার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি মনে মনে ভনভনাও? আমি চমকে উঠলাম। লোকটা কি মন পড়তে পারে? জি না, আমি চিকন গলায় বললাম, আমার ভনভানির কী দরকার? তা তো ঠিক, বাবু সাহেব বললেন, কিন্তু মালয়েশিয়া তো তোমারেও টানে। ঠিক কি না? জি। একটু-আধটু টানে। আপনার সঙ্গে একবার গেলাম। আরেকবার যাইতে মন চায়। যাবা। বাবু সাহেব বললেন। তবে ২ তারিখ না। বাবু সাহেবের মোবাইলে ফোন এল। আমেরও আম কেউ ফোন করেছে। তিনি হাতের ইশারায় আমাকে তফাত যেতে বললেন। তফাতে গিয়ে আমি একটা সিগারেট ধরালাম। ফোনটা কার আমি আন্দাজ করতে পারি। সুধীর অ্যাডভোকেটের। সুধীর তাঁর ছোটবেলার বন্ধু, যাঁর চব্বিশ ঘণ্টার আইনি জিম্মায় নিজেকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। বাবু সাহেবের সম্পদের পরিমাণ, আমার হিসাবে, এক হাজার কোটি টাকার কম নয়। এর ছয় আনা হলেও বাবু সাহেবের অধিকারে আছে সুধীর অ্যাডভোকেটের কল্যাণে। তবে সুধীর তাঁকে আজ জানাবেন, বংশালের চৌদ্দ তলা তৈফুর টাওয়ার বাবু সাহেবের অধিকারে নাই। এটা সকালের খবর, আমি জেনেছি সকালে। সুধীর জেনেছেন পনেরো মিনিট আগে। বাবু সাহেব এইমাত্র। দুপুরের পর ঝড় উঠল। ঝড়ের সময় নৌকা ছাড়ার কথা না। কিন্তু নৌকা ছাড়া হলো। তার কারণ, বাবু সাহেব আরেকটা ফোন পেয়েছেন। তিনি জেনেছেন, তাঁর সন্ধানে র্যা ব নেমেছে। তিনি তাঁর শ্যামপুরের বিটুমিন ফ্যাক্টরিতে আমদানি নিষিদ্ধ কেমিক্যাল মজুত করেছিলেন। রহমত হাওয়া হয়ে গেলেও তাঁর ভূতটা তাহলে রয়ে গেল। অবাক, বাবু সাহেব জানেনই না, এসব কেমিক্যাল-না অ-কেমিক্যাল তাঁর ফ্যাক্টরিতে কে আনল, কে রাখল। রহমতের ভূত? আছাড়ি-পিছাড়ি ঝড়ে নৌকা চলে, বাবু সাহেব চোখ বন্ধ করে বসে থাকেন। আমাকে বলেন, কিছু মানুষের ভনভনানি জীবনে কমবে না। আমি চুপ থাকি। জানতে চাও না, এরা কারা? কারা? আমাকে জিজ্ঞাস করতে হয়। রহমত, তিনি হাসেন, রহমত আলি। মালয়েশিয়া থেকে সে ঢাকায় তশরিফ এনেছিল যখন—তার কে এক বুবু, সেই বুবু মরণ বিছানায় ছিল। মরতে মরতে বুবু তারে বলেছিল, শোধ নিস। রহমত ছোট্ট একটা শোধ নিল। ঢোঁক গেলার মতো হাসলেন বাবু সাহেব। সেই বুবুর ছেলেটা এখন ভনভনায়, তিনি বললেন। ঠিক কি না? জি না, আমি বললাম, ভনভনানি তার স্বভাব না। আচ্ছা? চোখ ছোট করে বললেন বাবু সাহেব, স্বভাবটা কী? তার স্বভাব মানুষরে ফুলে বসাইয়া মধু খাওন শুরু করলে উঠাইয়া নেওয়া। মায়ের দুধ মুখে নিলে বাচ্চারে টাইন্যা সরাইয়া দেওয়া। মানুষ যাতে ভনভনায়, সেই ব্যবস্থা করা। বাবু সাহেব চুপ হয়ে গেলেন। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, মালাক্কায় কয়টা দিন কাটাইয়া আসি। তারপর দেখব কে ভনভনায়। মালয়েশিয়া যাইতে পারবেন, সেইটা মনে হয় না, আমি বললাম। গেলেও আপনি রহমত সাবের হাতে পড়বেন। আপনার বিবি সাহেবা সেই হাতে একটা হাত দিয়া রাখছেন। খামোশ, বাবু সাহেব আওয়াজ দিলেন। এত জোরে হাঁক পাড়লে র্যা ব শুনব। আমি বললাম। আমি কি র্যা বের খাই না পরি, সুজন মিয়া, যে তুমি আমারে র্যা বের কথা পাড়ো? বাবু সাহেব রাগ রেখেই বলেন। আমি মনে মনে হাসলাম। বাবু সাহেব নিশ্চয় শুনেছেন, সোনামণি ডেভেলপারের যে ২৪ কোটি টাকা মালয়েশিয়ায় গেছে, তার বারো আনা এখন তাঁর বিবি সাহেবের কোমল হাত হয়ে রহমতের হাতে গেছে। রহমত তাঁর জেলের শোধ নিচ্ছেন। তাঁকে বাবু সাহেব ফাঁসিয়েছেন, এখন তাঁর গলায় ফাঁস লাগাবেন রহমত। আমি চুপচাপ দেখব। যখন ফাঁসটা টাইট হবে, আমি কোপ মারব। শ্যামপুরের পেট্রল পাম্প। দনিয়ার বাড়ি। মা সারা জীবনে যা সুখ পেয়েছিলেন, তা ওই আড়াই তলা বাড়ির সাড়ে পাঁচ বছর। নৌকার পেছনে র্যা বের স্পিডবোট দেখা যাচ্ছে। ঝড় কিছুটা কমলেও বৃষ্টি যথেষ্ট। বোটে এক র্যা ব সদস্যের পাশে স্বচ্ছ প্লাস্টিকে মাথা-গা মোড়া সুধীর অ্যাডভোকেটকে দেখা যাচ্ছে। বাবু সাহেব চোখ বন্ধ করেছেন। রাগটা কিছুটা কমেছে মনে হলো। চোখ বন্ধ রেখেই বললেন, র্যা বের ইসপিটবোট আসতাছে? জি। ওগো সঙ্গে সুধীর না? সুধীর অ্যাডভোকেট? জি। ইসপিটবোটের ভেতরে রহমতও আছে। রহমত তিন দিন আগে তশরিফ এনেছে, আজ ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। যাইতে পারে নাই। আমি চুপ করে থাকি। লোকটা তাহলে সব জানে। র্যা ব আসছে কয়েকজনের ভনভনানি থামাইতে। তাগো মধ্যে আমি থাকতে পারি, সুধীর থাকতে পারে, রহমতও। আর কে থাকতে পারে, কও তো? আমি কিছু বলি না। বাবু সাহেব হাসেন। তুমি এখনো নাবালগ, সুজন। তুমি মাটিতে হাঁটো, আমি উপ্রে দিয়া চলি। শাখামৃগের মতো। শাখামৃগ কারে কয়, জানো? জি। ভালো। তো এখন একটু আল্লাহ আল্লাহ কর। র্যা ব বলে কথা। আমি হাসি। শাখামৃগ। বাবু সাহেব অবশ্যই ডালে ডালে চলেন। মানুষ তা জানে। কিন্তু ডালের ওপরেও তো কিছু থাকে, যেমন পাতা। পাতায় পাতায়ও তো চলা যায়, নাকি? আচ্ছা, পাতা দিয়া যারা চলে, তাদের কী বলা যায়—পাতামৃগ? হা!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now