বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিন গোয়েন্দা - কঙ্কাল দ্বীপ (চ্যাপ্টার ২)

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (২) আকাশের দিকে তাকাল। “তার আগেই ঝড় এসে পড়বে কিনা কে জানে !” আকাশের দিকে মুখ তুলল রবিন। পশ্চিম দিগন্তে ছোট্ট এক টুকরো কালো মেঘ, ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে।ঢাকা পড়েছে সূর্য। আজ আরবেরোতে পারবে বলে মনে হয়না। মেঘের চূড়ার কাছে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে থেকে থেকে। ঝড় আসবে, ভীষণ ঝড়। পেছনের সিটে উঠে বসল তিন কিশোর। ড্রাইভিং সিটে বসললোকটা। গাড়ি ছাড়ল। এয়ারপোর্ট ছাড়িয়ে এসে রওনা হল উত্তরে। কিশোর পাশা: “আপনার সঙ্গেএখনও পরিচয়ই হল না, মিস্টার, . . . ” –“হান্ট বলেই ডাকবে আমাকে। সবাই তাই ডাকে,” বলতে বলতে এক্সিলারেটরে পায়ের চাপ বাড়াল লোকটা।তাড়াতাড়ি যেতে হবে। দ্রুত নামছে অন্ধকার। কিশোর পাশা: “হ্যাঁ, মিস্টার হান্ট, আপনি কি সিনেমা কোম্পানিতে কাজ করেন ?” হান্ট: “সব সময় না।” এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে আপন মনেই বিড়বিড় করল, “ঝড় আসছে ! রাত নামতে দেরি নেই ! নিশ্চয় বেরোবে আজ নাগরদোলার ভূত ! ইসস্, বোকামিই করলাম ! বেরোনোই উচিত হয়নি !” শিরশির করে একটা শীতল স্রোত নেমে গেল রবিনের মেরুদণ্ড বেয়ে। নাগরদোলার ভূত ! কঙ্কাল দ্বীপের ওই ভূতের কথা লেখা আছে ম্যাগাজিনে। বাইশ বছর আগে প্লেজার পার্কের নাগরদোলায় চড়েছিল এক সুন্দরী তরুণী। নাম, স্যালি ফ্যারিংটন। হঠাৎ উঠল ঝড়। পার্কে আরওঅনেকেই এসেছিল সেদিন, তাড়াহুড়ো করে পালাল। থেমে গেল নাগরদোলা। স্যালিকে নামতে বলল দোলারচালক। কিন্তু নামল না মেয়েটা। দোলা আবার চালাতে অনুরোধ করল। ঝড়েরমধ্যে নাগরদোলায় চড়তে কেমন লাগে, দেখতে চায়। কিছুতেই মেয়েটাকে নামাতে পারল না চালক। ঝড়বেড়েই চলল। নিরাপদ জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিলো সে। স্যালি বসে রইল কাঠের ঘোড়ার গলা আঁকড়ে ধরে। হঠাৎ পড়ল বাজ। পড়লএসে একেবারে নাগরদোলার ওপর। বজ্রপাতে মারা গেল স্যালি। এর কয়েক হপ্তা পরেই আরেক ঝড়ের রাতে নাকি দেখা গেল, আলো জ্বলে উঠেছে নাগরদোলায়। পার্ক বন্ধ হয়ে গেছে বিকেলেই। কে জ্বাললো আলো ! কয়েকজন লোক সঙ্গে নিয়ে মোটরবোটেকরে দেখতে গেলেন পার্কের মালিক মিস্টার স্মিথ। দ্বীপের কাছে গিয়ে দেখলেন, ঘুরছে নাগরদোলা। একটা কাঠের ঘোড়ায় চেপে বসেছে সাদা একটা মূর্তি। হঠাৎ দপ করে নিভে গেল সমস্ত আলো। থেমে গেল দোলা। কয়েক মিনিট পরে তীরে ভিড়ল বোট। দোলার কাছে গিয়ে দাঁড়াল লোকেরা। একটা রুমাল খুঁজে পেল, মহিলাদের রুমাল। এক কোণে সুতো দিয়ে তোলা হয়েছে দুটো অক্ষরঃ এস এফ। গাড়ি থেকে নামল তিন গোয়েন্দা। বোটটা দেখে অবাক। এত-বড় মুভি-কোম্পানি, এর চেয়ে ভাল বোট জোগাড় করতে পারলনা ! নাকি হান্টের নিজের বোট ওটা ? কিশোর পাশা: “আমাদের মালপত্র ?” হান্ট: “ওগুলোর জন্যে ভাবতে হবে না। নিরাপদেই পৌঁছে যাবে বোর্ডিং হাউসে। জলদি এসো, বোটে ওঠ। এখনও অনেক পথ বাকি।” বোটে উঠল ওরা। মোটরের ওপরঝুঁকল হান্ট। একটা বোতাম টিপে দিতেই স্টার্ট হয়ে গেল পুরানো ইঞ্জিন। ঢেউ কেটে ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়ে চলল বোট। একবার এদিক কাত হচ্ছে একবার ওদিক। ডুবেই যাবে যেন। ভয়ে বুক কাঁপছে তিন কিশোরের। এলো বৃষ্টি। প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি, জোর বাতাসের ধাক্কায় রেণু রেণু হয়ে আছড়ে পড়ল গায়ে। তারপর নামল বড় বড় ফোঁটায়। পাতলা ক্যানভাসের ঢাকনার তলায় গুটিসুটি হয়ে বসল তিন কিশোর। অল্পক্ষণেই ভিজে চুপচুপে হয়ে গেল। মুসা আমান: “রেনকোট নেই?” চেঁচিয়ে বলল মুসা। “এভাবে বসে থাকলে বোট ডুবে যাবার আগেই মরবো !” মাথা ঝোঁকাল হান্ট। দড়ি দিয়ে বাঁধল হুইলের একটা স্পোক। দড়ির অন্য মাথা দিয়ে বাঁধল বোটের গায়ে একটা খুঁটির সঙ্গে। কোনদিকেই এখন ঘুরতে পারবেনা হুইল। উঠে গিয়ে একটা ছোট আলমারি খুলল। বের করেআনল চারটে হলুদ রেনকোট। একটা নিজে পরল। বাকি তিনটে দিল তিন কিশোরকে। হান্ট: “পরে ফেল,” চেঁচিয়ে বলল হান্ট। বাতাসের গর্জন, আস্তে কথাবললে শোনা যায় না। “বোটেই রাখতে হয় এগুলো। কখন বৃষ্টি আসে, ঠিকঠিকানা তো নেই।” মুসার গায়ে ঠিকমত লাগল কোট, কিশোর আর রবিনের গায়ে বড় হল। তাতে কিছু যায় আসে না এখন। গায়ে পানি না লাগলেই হল। আবার গিয়ে হুইল ধরল হান্ট। অনবরত বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। বেড়েছে বাতাসের বেগ। আকারে বড় হয়েছে ঢেউ। ধরেই নিয়েছেছেলেরা, যে-কোন মুহূর্তে উল্টে যেতে পারে বোট। বিদ্যুতের আলোয় ডাঙা দেখা গেল সামনে। ছেলেদের মনে হল, জেটি ছাড়ার পর কয়েক যুগ পেরিয়ে গেছে। ডাঙার কাছে চলে এলো বোট। জেটি চোখে পড়ল না। অবাক হয়ে দেখল ছেলেরা, চ্যাপ্টা একটা পাথরের ধারে এসে বোট রেখেছে হান্ট। পানির তলা থেকে বেরিয়ে আছে পাথরটা। হান্ট: “লাফাও, লাফিয়ে নামো !” চেঁচিয়ে বলল হান্ট। “গড নোজ !” নীরবে একে একে লাফিয়ে তীরে নেমে এলো ছেলেরা। কিশোর পাশা: “আপনি নামবেননা ?” চেঁচিয়ে বলল কিশোর। ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে বোট। হান্ট: “নামা যাবে না,” চেঁচিয়ে জবাব দিল হান্ট। “পথ ধরে এগোও। ক্যাম্পে পৌঁছে যাবে।” ইঞ্জিনের আওয়াজ বাড়ল। দ্রুত সরে গেল বোট। দেখতেদেখতে হারিয়ে গেল ঝড়ো রাতের অন্ধকারে। বাতাসের তাড়নায় গায়ে যেন সুচ ফুটাচ্ছে বৃষ্টি। মাথা নুইয়ে রাখতে হল তিন কিশোরকে। মুসা আমান: “চল, পথটা খুঁজে বের করি !” মাথা ঝুঁকিয়ে সায় দিল কিশোর। হঠাৎ শোনা গেল শব্দটা। অদ্ভুত। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে যেন কোন বিশাল দানব। হু-উ-উ-উ-উ-হু-ই -শ-শ ! হু-উ-উ-উ-উ-হু-ই -শ-শ ! রবিন মিলফোর্ড: “শুনছ ! কিসের শব্দ !” আবার শোনা গেল অদ্ভুত আওয়াজ। কিশোর পাশা: “কিছু একটা আছে দ্বীপে। আবার বিদ্যুৎচমকালেই দেখার চেষ্টা করব! তোমরাও কর।” যেদিক থেকে শব্দ এসেছে, সেদিকে তাকিয়ে রইল তিন গোয়েন্দা। বিদ্যুৎ চমকাল। ক্ষণিকের জন্যে দেখল ওরা, ছোট্ট এক দ্বীপে দাঁড়িয়ে আছে। এটা অন্য কোন দ্বীপ, কঙ্কাল দ্বীপ এত ছোট না। একটা টিলা, উটের কুঁজের মত ঠেলে বেরিয়ে আছে দ্বীপের গা থেকে। আশপাশে ছোটবড় পাথরের ছড়াছড়ি। এদিক ওদিক দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটা গাছ, বাতাসের ঝাপটায় মাথা নুইয়ে ফেলেছে। কোন পথ চোখে পড়লনা, দেখা গেল না ক্যাম্প। অদ্ভুত শব্দ হল আবার। ঠিকএই সময় আবার বিদ্যুৎ চমকাল। অবাক হয়ে দেখল তিন কিশোর, কুঁজের ঠিক মাঝখান থেকে তীব্র গতিতে আকাশে উঠে যাচ্ছে পানি, বিশাল এক ফোয়ারা। বাতাসের আঘাতে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে ছিটকে পড়ছে পানি, অদ্ভুত আওয়াজ হচ্ছে সে-জন্যেই। কিশোর পাশা: “প্রাকৃতিক ফোয়ারা ! কঙ্কাল দ্বীপ না, এটা হস্ত !” স্তব্ধ হয়ে গেল অন্য দু’জন। [[চলবে......]]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তিন গোয়েন্দা - কঙ্কাল দ্বীপ (চ্যাপ্টার -৬)
→ তিন গোয়েন্দা - কঙ্কাল দ্বীপ (চ্যাপ্টার ৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now