বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভূতুড়ে কান্ড ২য় পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ভূতুড়ে কান্ড" হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় --------------------- ২ য় পর্ব ক'দিন গুমোট গরম পড়েছে। হাতপাখা নেড়ে নেড়ে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি। কিছুতেই ঘুম আসছে না। বিছানায় এপাশ ওপাশ করছি। বহুকষ্টে যাও বা ঘুম এল, সেটা প্যাঁচার কর্কশ আওয়াজে ভেঙে গেল। ভয় পেয়ে উঠে বসলাম। আমার মামার বাড়ির সবাই বেশ একটু খর্বকায়। মেজমামা আবার সবচেয়ে বেঁটে। সেই মেজমামাকে দেখলাম বিরাট চেহারা। দেহ খাটের বাইরে গিয়ে পড়েছে। দুটো চোখ রগড়ে নিয়ে আবার দেখলাম একই দৃশ্য। খাট থেকে নেমে পালাবার চেষ্টা করতেই দৃশ্য বদলে গেল। মেজমামা যেন নিজের সাইজে ফিরে এলেন। মনকে বোঝালাম ঘুম চোখে নিশ্চয় ভুল দেখেছি। না হলে এমন ব্যাপার হতে পারে নাকি! একথা কাউকে কোনওদিন বলিনি, জানি কেউ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু পরে যা সব ব্যাপার ঘটল, তাতে আমি রীতিমতো ঘাবড়ে গেলাম। এক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি, মেজমামা বিছানায় নেই। ভাবলাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে হয়ত বাইরে গেছেন এখনই ফিরবেন, কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে গেল, মেজমামা ফিরলেন না। উঠে পড়লাম। জানলা দিয়ে বাইরে তাকাতেই বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল। মেজমামা বাইরের রোয়াকে বসে আছেন। জানলার দিকে পিছন ফিরে। একটু দূরে গোটা কয়েক গাছ পার হয়ে একটা জাম গাছে ছোটমামা জাল পেতে রেখেছিল পাখি ধরবার জন্য। জালের এক জায়গায় ফুটো ছিল, ছোটমামা বোধহয় লক্ষ্য করেনি। সেই ফুটো দিয়ে আটকে থাকা পাখিগুলো ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। মেজমামা রোয়াকে বসে বসেই হাত বাড়ালেন। কি বিরাট হাত। রোয়াক থেকে জামগাছটার দূরত্ব কম পক্ষে ত্রিশ গজ তো হবেই। হাতটা সোজা গাছের ওপর চলে গেল। যেখানে জালের ফুটো ছিল সেখানে। মেজমামা আঙুল দিয়ে জালে গিঁট বেঁধে দিলেন। পাখিদের পালানো বন্ধ হল। আমি বুকের ওপর হাত চেপেও দুপদুপ শব্দ বন্ধ করতে পারলাম না। মনে হল এখনই অজ্ঞান হয়ে যাব। কোনওরকমে কাঁপতে কাঁপতে খাটের ওপর শুয়ে পড়লাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। ভোরে উঠে দেখি মেজমামা খাটে শুয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছেন। আশ্চর্য কান্ড, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। কাল রাতে মেজমামা যখন বাইরের রোয়াকে বসে ছিলেন তখন লক্ষ্য করেছিলাম, দরজায় ভেতর থেকেই ছিটকিনি দেওয়া। তাহলে মেজমামা দরজা না খুলে বাইরে গেলেন কি করে? বন্ধ দরজা দিয়ে ঘরের মধ্যেই বা কি করে ঢুকলেন? ঠিক করে ফেললাম, আর মামার বাড়ি নয়। কোনও একটা অছিলায় বাড়ি পালাব। এটাও কি চোখের ভুল? দু'দুবার এরকম চোখের ভুল হতে পারে কখনো? দুপুরবেলা কিন্তু মত বদলে গেল। ছোটমামা জালে আটকানো পাখিগুলো নিয়ে খাঁচায় পুরছিল। আমি বসে বসে দেখছিলাম। মেজমামাও বসেছিলেন। বেশীরভাগই মনুয়া আর টুনটুনি পাখি। একটা শুধু বড় আকারের টিয়া। গাঢ় সবুজ রঙ। লাল চোখ। কিছুতেই ধরা দেবে না। ছোটমামার হাতে ঠুকরে রক্ত বের করে দিল। আমি তো তখন দেখছিলামই,আরও একটা জিনিস লক্ষ্য করছিলাম। আড়চোখে দেখছিলাম উঠোনে মেজমামার ছায়া পড়েছে কিনা, আর তাঁর পায়ের আঙুলগুলো উল্টো দিকে কিনা। দেখে হাঁফ ছাড়লাম। উঠোনের ওপর মেজমামার রীতিমতো ছায়া পড়েছে আর তাঁর পায়ের আঙুলগুলো একেবারে স্বাভাবিক। তারমানে রাত্রে নিশ্চয় আমি বিদঘুটে স্বপ্ন দেখেছি। পেট গরম হলে যা হয়। পেট ঠাণ্ডা করার জন্য রোজ সকালে একটা করে ডাব খেতে হবে। আবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার বিপদও আছে। এখানে দিব্যি হেসেখেলে বেড়াচ্ছি, আর ওখানে বাবা রোজ পাঁচপাতা হাতের লেখা আর দশটা অঙ্ক কষাবে। বেশ কিছুদিন অলৌকিক কিছু চোখে পড়ল না। বুঝতে পারলাম নিজের ভয়ের বিকৃত রূপটাই দেখেছি। মেজমামা যে মাছের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন, তাতে দিদিমা খুব খুশী। তাঁর দুশ্চিন্তার অবসান হয়েছে। কিন্তু আমি ভাবি, মেজমামার চলবে কি করে। একদিন জিজ্ঞাসাই করে ফেললাম। " হ্যাঁ মেজমামা, তুমি যে মাছের ব্যবসা ছেড়ে দিলে, কি হবে?" মেজমামা চুল আঁচড়াচ্ছিলেন, ফিরে বললেন, " কেন? তোর অসুবিধেটা কি হচ্ছে?" বললাম, " না, অসুবিধা আর কি! আগে তুমি মাঝে মাঝে বড় বড় মাছ আনতে...." আমায় থামিয়ে দিয়ে মেজমামা বললেন, " ও, এই কথা। তোকে আজই বড়মাছ খাওয়াচ্ছি।" মেজমামা বেরিয়ে গেলেন। ফিরলেন, হাতে একটা প্রকাণ্ড রুই মাছ নিয়ে। আমি তো অবাক। " হ্যাঁ মেজমামা, এটুকু সময়ের মধ্যে তুমি এত বড় মাছ পেলে কোথায়?" মেজমামা হেসে বললেন, " কিছুটা রাস্তা যেতেই একজন জেলের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। মাছের ঝুড়ি নিয়ে হাটে যাচ্ছিল। আমার তো সবাই চেনা। বলতেই দিয়ে দিল।" দিদিমার আনন্দ আর ধরে না। বঁটি নিয়ে এসেই মাছ কুটতে বসলেন। আর আমি কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। রোজ ছাইরঙা একটা উটকো বেড়াল এ বাড়িতে আসত। আহারের সন্ধানে। সেদিনও সে এসে হাজির। বঁটির পাশে আঁশের স্তুপ। বেড়ালটা এগিয়ে এসে আঁশে মুখ দিয়েই বিকট স্বরে 'ম্যাও' করে উঠল। অস্বাভাবিক স্বর। কেউ যেন তার গলা টিপে ধরেছে। তারপর ল্যাজটা খাড়া করে সোজা পাঁচিলের ওপর উঠে গেল। দিদিমাও ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছিলেন। তিনি বললেন, " বেড়ালটার কি হল বল তো? ওভাবে চেঁচিয়ে উঠল! গলায় কাঁটা ফুটল না কি?" কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখেছি বেড়ালটা একটা আঁশও মুখে তোলেনি। খাওয়া তো দূরের কথা! কেবল শুঁকেই ঐরকম চিৎকার করে উঠেছিল। পুরো ব্যাপারটা কেমন যেন অদ্ভুত ঠেকল আমার কাছে। এমনকি দিদিমা যখন একটা কলাপাতায় করে বড় মাছের রান্না করা একটা টুকরো আমায় খেতে ডাকলেন তখন একটু ইতস্তত করেছিলাম। তারপর মনে সাহস এনে মাছের টুকরো মুখে দিয়ে আশ্বস্ত হলাম। না, কোনও গোলমাল নেই। দিব্যি সুস্বাদু মাছ। কত অল্পেতে আমরা ভয় পেয়ে যাই। বেড়ালটার ওভাবে চিৎকার করে ওঠার হাজার কারণ থাকতে পারে। তবে সেদিন থেকে বেড়ালটাকে আর ধারেকাছে দেখতে পাই না। বোধহয় অন্য কোনও বাড়িতে আস্তানা গেড়েছে। এতদিন দিদিমা কিংবা ছোটমামাকে বলিনি। কারণ, প্রথমত, সব ব্যাপারটা আমি নিজেই এখনো ঠিকঠাক বিশ্বাস করে উঠতে পারিনি। হয়ত আমারই চোখের ভুল কিংবা ভয়ের ছায়াটা রূপ ধরে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন হলে এই অলৌকিক কান্ড যে কাউকে দেখাতে পারব, এমন সম্ভাবনা কম। তাছাড়া, দিদিমাকে তাঁর ছেলের সন্মন্ধে কি করে এসব কথা বলি। তবে আমি মনে মনে ঠিক করেছিলাম আর একবার এরকম বীভৎস দৃশ্য দেখলেই মামার বাড়ি থেকে পালাব। এখানে আদরযত্নের লোভে আর বেঘোরে প্রাণ দিতে পারি না। বেশ কিছুদিন সব স্বাভাবিক। কোথাও কোনও গোলমাল নেই। মেজমামা অবশ্য মাছের ব্যবসায় আর গেলেন না। বাড়িতেও বিশেষ থাকতেন না। কোথায় কোথায় যে ঘুরে বেড়াতেন কে জানে। দিদিমা জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, " একটা কিছু করবার চেষ্টায় আছি। কতদিন আর বসে থাকব।" তারপরই ঘটল অঘটনটা। (চলবে) --------------- (পরের পর্ব আগামী কাল)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভূতুড়ে কান্ড-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now