বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তিন গোয়েন্দা: কঙ্কাল দ্বীপ
.
(১)
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”ডুবুরি-পোশাক পরে সাগরে ডুব দিয়েছ কখনও ?”
প্যাসিফিক স্টুডিও। বিখ্যাত চিত্রপরিচালকের অফিসে বসে আছে তিন গোয়েন্দা। বিশাল টেবিলের ওপাশে বসা মিস্টার ক্রিস্টোফারের দিকে চেয়ে বলল মুসা আমান,
মুসা আমান: “হ্যাঁ, স্যার,ডুবেছি। গতকাল শেষ পরীক্ষা দিয়েছেন আমাদের ইন্সট্রাকটর। পাস করেছি ভালভাবেই।”
কিশোর পাশা: “অভিজ্ঞ ডুবুরি নই আমরা। তবে নিয়মকানুন সব জানি। ফেস মাস্ক আর ফ্লিপার আছে আমাদের তিনজনেরই।”
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”গ্যাস ট্যাংক আর অন্যান্য যন্ত্রপাতি ?”
কিশোর পাশা: “যখন দরকার হয়, ভাড়া করে আনি।”
ডেভিস ক্রিস্টোফার: “গুড।মনে হয় কাজটা করতে পারবেতোমরা।”
রবিন মিলফোর্ড: “কাজ !”
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”হ্যাঁ। একটা রহস্যের কিনারা করতে হবে। সেজন্যেই ডেকেছি তোমাদের। আর হ্যাঁ, এক-আধটু অভিনয়ও করতে হবে।”
মুসা আমান: “অভিনয় ?”
ভুরু কোঁচকাল মুসা।
“কিন্তু আমরা তো স্যার, অভিনেতা নই। কিশোর অবশ্য মাঝেমধ্যে টেলিভিশনে. . .”
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”অভিজ্ঞ অভিনেতার দরকার নেই ওদের। মুসা, তোমার বাবা কোথায় আছে এখন জান?”
মুসা আমান: “জানি, স্যার,”
অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান মুসার বাবা রাফাত আমান। ছবির শুটিঙের সময় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তদারকির ভার থাকে তাঁর ওপর।
“ফিলাডেলফিয়ায় ।”
ডেভিস ক্রিস্টোফার: “ভুল বললে,”
হাসলেন পরিচালক।
“রাফাত এখন একটা দ্বীপে।”
মুসা আমান: “কিন্তু বাবা তো গিয়েছিল ডিরেক্টর জন নেবারের সঙ্গে ! এসকেপ ছবির শুটিঙে।”
ডেভিস ক্রিস্টোফার: “জনেরসঙ্গেই আছে। ছবির একটা বিশেষ দৃশ্যের জন্যে পুরানো পার্ক দরকার। স্কেলিটন আইল্যাণ্ডে আছে তেমনি একটা পার্ক।”
রবিন মিলফোর্ড: “স্কেলিটনআইল্যাণ্ড !”
ভুরু কুঁচকে গেছে রবিনের।
“শুনে মনে হচ্ছে জলদস্যুদের দ্বীপ।”
ডেভিস ক্রিস্টোফার: “ঠিকইধরেছ। এককালে জলদস্যুদের ঘাঁটি ছিল ওই দ্বীপ। নামটা সত্যিই অদ্ভুত। আজওনাকি ভুতের উপদ্রব রয়েছেওখানে। বালির তলা থেকে মাঝে মধ্যেই বেড়িয়ে পড়ে মানুষের কঙ্কাল। ভীষণ ঝড়ের পর কখনও-সখনও সৈকতে পড়ে থাকতে দেখা যায় সোনার মোহর। বেশি না, একটা দুটো। ভেবে বস না, গুপ্তধন আছে স্কেলিটনআইল্যাণ্ডে। অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে, পাওয়া যায়নি। উপসাগরের তলায় হয়ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কিছু মোহর। ঝড়ের সময় ঢেউয়ের ধাক্কায় সৈকতে এসে পড়ে।”
কিশোর পাশা: “এবং ওই দ্বীপেই যেতে বলছেন আমাদেরকে ?”
আগ্রহে সামনে ঝুঁকল কিশোর।
“রহস্যের কিনারা করতে ?”
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”হ্যাঁ। দু’জন সহকর্মীকে নিয়ে আছে ওখানে মুসার বাবা। পার্কটার জঞ্জাল পরিষ্কারের জন্যে লোক লাগিয়েছে। কিন্তু গোলমাল শুরু হয়ে গেছে প্রথম দিন থেকেই। জিনিসপত্র চুরি যাচ্ছে। স্থানীয় একজন লোককে পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু চুরি ঠেকান যাচ্ছে না। ভাবনায়পড়ে গেছে জন। খবর পাঠিয়েছে আমাকে।”
কিশোর পাশা: “আমাদের কাজ কি ?”
ডেভিস ক্রিস্টোফার: “আসছিসে কথায়। এসকেপ ছবিটার প্রযোজক আমি। ঠিক করেছি, তোমাদেরকে পাঠাব। নাম যা-ই হোক, দ্বীপটা কিন্তু খুব সুন্দর। চারদিক ঘিরে আছে আটলান্টিক উপসাগর, গভীরতা খুবই কম। ওখানে ইচ্ছেমত ডোবাডুবি করতে পারবে তোমরা। কেউ কিছু সন্দেহ করবে না। ভাববে, তিনটে ছেলে গুপ্তধন খুঁজছে।”
কিশোর পাশা: “খুব. . . খুবই ভাল হবে, স্যার।”
ডেভিস ক্রিস্টোফার: “জনেরসঙ্গে কোম্পানির একজন লোকআছে, জোসেফ গ্র্যাহাম। দক্ষ ডুবুরি। ভাল ছবি তুলতে পারে, বিশেষ করে পানির তলায়। দরকার পড়লেসে তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারবে। আরও একজন আছে, জনের সহকারী, পিটার সিমনস্। সে-ও সাহায্য করবে তোমাদের। তা-ছাড়া মুসার বাবা তো আছেই। গুপ্তধন শিকারির ছদ্মবেশে চোর ধরার চেষ্টাকরবে। আর হ্যাঁ, তোমরা গোয়েন্দা, অপরিচিত কারও কাছে সে কথা ঘুণাক্ষরেও প্রকাশ করবে না।”
রবিন মিলফোর্ড: “খুব মজা হবে ! তবে,”
রবিনের গলায় দ্বিধা,
“বাবা যেতে দিলে হয়।”
ডেভিস ক্রিস্টোফার: “না দেবার তো কোন কারণ দেখি না। খরচ-খরচা সব কোম্পানির। তোমাদের স্কুল ছুটি। তাছাড়া ওখানে মুসার বাবা আছে। দরকার হলে আমিও না হয় ফোন করব মিস্টার মিলফোর্ডকে। কিশোর, তোমারকোন অসুবিধে আছে ?”
কিশোর পাশা: “নাহ্। মুসা আর রবিন যাচ্ছে। তাছাড়া রাফাত চাচা আছে ওখানে, অমত করবে না মেরিচাচী।”
মুসা আমান: “তো কখন রওনা হচ্ছি আমরা ?”
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”আগামী কালই বেরিয়ে পড়।বাড়িতে গিয়ে জিনিসপত্র গুছিয়ে নাওগে। বিকেলে প্লেনের টিকেট পাঠিয়ে দেব। হ্যাঁ, রবিন, তোমাকে একটা জিনিস দিচ্ছি,”
ড্রয়ার খুললেন পরিচালক। একটা বড় খাম বের করে ঠেলে দিলেন টেবিলের ওপর দিয়ে।
“এতে একটা ম্যাগাজিন আছে।রেকর্ড আর রিসার্চের ভার যখন তোমার ওপর, তুমি রাখ এটা। স্কেলিটন আইল্যাণ্ডের ওপর একটা সচিত্র ফিচার আছে। পড়ে দেখ। অনেক কিছু জানতে পারবে দ্বীপটা সম্পর্কে।”
উঠে দাঁড়াল তিন গোয়েন্দা।
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”যাত্রা শুভ হোক তোমাদের।”
–“থ্যাংকু, স্যার,”
বলে বেরিয়ে এলো তিন কিশোর।
রবিন মিলফোর্ড: “ওই যে, কঙ্কাল দ্বীপ !”
প্রায় চেঁচিয়ে উঠল রবিন।
এই বাংলা নামটা শিখেছে কিশোরের কাছ থেকে। স্কেলিটন আইল্যাণ্ড-এর চেয়ে ছন্দময়।
কিশোর পাশা: “কই ! . . . কোথায় !”
মুসা আমান: “দেখি দেখি !”
দু’জনে একই সঙ্গে ঝুঁকে এলো জানালার কাছে, রবিনেরগায়ের ওপর দিয়ে। লম্বা,সরু উপসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে চলেছে প্লেন। আঙুল তুলে দেখাল রবিন। তাদের নিচেই একটা ছোট্ট দ্বীপ। ঠিক যেন একটা মানুষের মাথার খুলি।
রবিন মিলফোর্ড: “ম্যাপের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।”
কৌতূহলী চোখে অদ্ভুত দ্বীপটার দিকে চেয়ে আছে তিন গোয়েন্দা। মিস্টার ক্রিস্টোফারের দেয়া ম্যাগাজিন পড়ে জেনেছে ওরা অনেক কিছু। তিনশো বছরেরও বেশি আগে জলদস্যুদের ঘাঁটি ছিল কঙ্কাল দ্বীপ। অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে, পাওয়া যায়নি গুপ্তধন। তার মানে এই নয় যে, ধনরত্ন লুকানো নেই। হয়তোদ্বীপে নেই, কিন্তু উপসাগরের তলায় থাকতে বাধা কোথায় ? নিশ্চয় পানির তলায় কোথাও লুকানোআছেই গুপ্তধন। তিন গোয়েন্দার আশা, খুঁজে পাবে ওরা।
আরেকটা ছোট দ্বীপ নজরে পড়ল।
কিশোর পাশা: “ওই যে, দ্য হ্যাণ্ড ! হস্ত।”
মুসা আমান: “আর ওগুলো নিশ্চয় দ্য বোনস।”
আঙুল তুলে দেখাল। কঙ্কাল দ্বীপ আর হস্তের মাঝামাঝিএক সারি ছোট প্রবাল-প্রাচীর দেখিয়ে বলল মুসা।
“ইয়াল্লা ! এত তাড়াতাড়ি এসে পড়লাম !
দুপুরের খাওয়াই হজম হয়নি এখনও !”
রবিন মিলফোর্ড: “দেখ, দেখ! হাতের আঙুল। ওগুলো সরু প্রবাল-প্রাচীর ! পানির তলায় রয়েছে, অথচ ওপর থেকে কি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে !”
কিশোর পাশা: “হস্তে যাব একদিন। প্রাকৃতিক ফোয়ারা দেখব। কখনও দেখিনি।”
দ্বীপগুলোকে পেছনে ফেলে এলো প্লেন। মূল ভূখণ্ডের ওপর এসে পড়েছে। নিচে একটা গ্রাম। নাম ফিশিংপোর্ট। ওখানেই উঠবে তিন গোয়েন্দা। একটা বোর্ডিং হাউসে ঘর ভাড়া করে রাখা হয়েছে তাদের জন্যে।
ভিড়ের ভেতর থেকে বেরিয়েএগিয়ে আসছে বেঁটে মোটা এক লোক। লালচে নাক।
–“এই যে,”
কাছে এসে বলল লোকটা।
“নিশ্চয়ই হলিউড থেকে এসেছ ? তোমাদেরকে নিয়ে যেতে পাঠানো হয়েছে আমাকে!”
তিন কিশোরকে দেখছে সে। ছোট ছোট চোখে শীতল চাহনি।
“কিন্তু তোমরা গোয়েন্দা! বয়স্ক লোক আশা করেছিলাম আমি।”
স্থির হয়ে গেল রবিনের পাশে দাঁড়ানো কিশোর।
কিশোর পাশা: “আমরা গোয়েন্দা আপনার তো জানারকথা নয়।”
–“আরও অনেক কিছুই জানি,”
দাঁত বের করে হাসল লোকটা।
“এখন এসো। গাড়ি অপেক্ষা করছে। তোমাদের মালপত্র যাবে অন্য গাড়িতে। আমারটায় জায়গা নেই। হলিউড থেকে অনেক জিনিসপত্র এসেছে, বোঝাই হয়ে গেছে।”
ঘুরে দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করল লোকটা। পেছনে চলল তিন গোয়েন্দা। পুরানো একটা স্টেশন ওয়াগনের সামনে এসে দাঁড়াল।
–“জলদি উঠে পড় গাড়িতে।আধ ঘণ্টা লেগে যাবে যেতে।”
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now