বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ ব্যাচেলরদের আর্তনাদ
.
সেদিন মেসে প্রথম দিন ছিলো আমার।তাছাড়া বাকিরা পুরোনোই।তো আমি মেসের ডাল নামক সদরঘাটের পানি আর মাছ নামক ছোট এক টুকরা কাটা দ্বারা খেতে অভ্যস্ত ছিলামনা।দুই একদিনেই অসুস্থ হয়ে পড়লাম আমি।তো একদিন সফিক ভাইকে বললাম যে ভাইয়া আমরা কাল বুয়াকে ছুটিতে পাঠাই।তোমাদেরও যেহেতু ছুটি,সেহেতু সবাই মিলে রান্না করবো।দেখি কেমন হয়! সবাই আমার কথায় রাজি হলো কারণ সবাই ভাবছিলো ভবিষ্যৎ নিয়ে,যেহেতু বুয়া একদিন না আসলে পরেরদিন হোটেলে খাওয়া লাগবে।এখন থেকে রান্না শিখলে পরে আর হোটেলের ঠেলা সামলাতে হবেনা ভেবে তাই করলাম।বুয়াকে ফোন দিয়ে বললাম আগামীকাল আসা লাগবেনা আপনার।
তো পরেরদিন সকালে উঠেই সফিক ভাই বাজার করতে গেলো।তুহিন ভাই তার শ্বশুর বাড়ি থেকে আনিতো লুঙ্গিটা ঝাড়ি দিলো ঘুম থেকে উঠেই।আমি রাতে লুঙ্গি আগে পড়তামনা।ইদানীং পরি।আগে লুঙ্গি পরে ঘুমোলে পরেরদিন লুঙ্গি খুঁজতে খাটের নিচের তল্লাশি করা লাগতো।কিভাবে লুঙ্গি অইখানে যায় সেটা আজও আমার অজানা।একবার ভেবেছিলাম ফকির এনে ঝাড়ফুঁক দেওয়াবো খাটটা।পরে ভাবলাম নাহ থাক!
.
তো বাজার সেরে আমরা তিনজনই রান্নার উদ্দেশ্যে রান্নাঘরে গেলাম।আমি পেয়াজ কাটতেছিলাম।দেশী পেয়াজ।চোখ থেকে পানি এমনিতেই পড়তেছি আর আমি নায়িকা শাবানার মত চোখ মুছিতেছিলাম।পার্থক্য একটাই যে উনি আচল দিয়ে চোখ মুছতো আর আমি হাত দিয়েই।সফিক ভাই তার ফোনে গান ছেড়ে দিলো।মোবাইলের সাউন্ড সাউন্ডবক্সের চেয়ে কম নাহ।কষ্টের গান ছাড়ছিলো তাই সবার চোখের পানি বের হওয়ার কারণটা খুঁজতে একটু সময় লাগছিলো।চুলায় কড়াই বসানোর পর আমি বললাম যে ভাইয়া তেল দেন।তুহিন ভাই ইলিশমাছ কাটছিলো,হলুদ দিয়ে ইলিশমাছ মেখেছিলো।তো সফিক ভাই বললো তেল গরম হলে নাহ ছাড়মু? আমি বললাম তেল গরম হইলে কেমনে ছাড়বা? ছিটকাইয়া পরবোনা?
সফিক ভাই বললো দেখতে থাক।
তিনজনের কেওই যে রান্না পারিনা তা নিশ্চিত।তিনজন যতটুকু জানি তা বাসায় মাঝেমধ্যে দেখে দেখে শিখা।
.
তেল গরম হওয়ার পর হিসইস করতেছিলো।তিনজন বীরের মত কড়াইয়ের সামনে দাঁড়ালাম। তুহিন ভাইয়ের হাতে মাছ,সফিক ভাইয়ের হাতে খুরচুন।আর আমি পেয়াজ,মরিচ কাটা বাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।তুহিন ভাই ভয় পাইতে লাগলো।আমায় বললো দেখ শিশির কেমনে ফুটতাছে তেল।এইটার উপরে ছাড়লে তেল নির্ঘাত ছিটকাইবো।
আমারো অবস্থা খারাপ।তেল ছিটতাছে তাপে এমনিতেই।সফিক ভাই বললো তুহিন ছাইড়া দে মাছ,নয়তো আমারে দে আমি ছাড়ি।
তুহিন ভাই দূর থেকেই মাছ ছুড়ে দিলো কড়াইয়ের উদ্দেশ্যে।মাছটা ঠাস কইরা কড়াইয়ের উপরে পড়লো।তেল ছিটকাইয়া পড়লো চারদিকে।তিনজনের গায়েই গরম তেল পরে।তিনজন চুলা পার থেকে বের হওয়ার জন্যে দৌড় দিলাম।দরজায় তিনজন দাড়াইয়া দেখতাছিলাম মাছটাকে ভাজা ভাজা হইতে।তুহিন ভাইয়ের উপর আমার আর সফিক ভাই দুইজনেরই রাগ।সফিক ভাই বলতাছে যে চুলা এখন বন্ধ করুম কেমনে? আমি বললাম ভাইয়া পানি আনেন।সামনে যাওয়ার দরকার নাই।তেল ছিটকাইতে পারে।তুহিন ভাইরে পানি আনতে বললো সফিক ভাই। তুহিন ভাই বালতি ভরা পানি আনলো।সাথে মগও।আমি আর তুহিন ভাই দরজায় দাড়াইয়াই চুলার উদ্দেশ্যে মগ দিয়া পানি ছুড়লাম।কিছুক্ষণ সাপের মত ফুসফুস আওয়াজ করার পর চুলা নিভে যায়।
কড়াইয়ের সামনে যাইয়া তুহিন ভাই মাছটা হাতে নিয়ে বললো মাছটা কিন্তু সেই হইছে! আমি আর সফিক ভাই দুইজন একসাথে তাকাইলাম।আমার হাতে, সফিক ভাইয়ের গালে আর হাতে আর তুহিন ভাইয়ের কপালে আর হাতে ঠোসা পরে।এরপর চুলা আবার জ্বালিয়ে আস্তে আস্তে করে মাছ দেই।এবার তেল গরম হওয়ার আগেই সব মাছ ছেড়ে দেই আমি।তবে এইবার অন্য কৌশলে মাছগুলো ভাজি।তিনজনই গামছা দিয়া মুখ পেচাই আর লুঙ্গি দিয়া হাত পা ঢাকি।ভাত রান্নার সময় অবস্থা আরো খারাপ।ভাত একমিনিট পরপরই চেক করি একেকজন।শেষমেশ অবস্থা এমন হইছে যে ভাত হইছে কিনা এইটা নিয়াই ঝগড়া তিনজনের।কেও বলে হইছে আবার কেও বলে হয়নাই।আমি জিদ্দে ভাতের মধ্যে পানি ঢাইলা দিলাম।তারপর বললাম এখন পান্তাভাত।হইলেও কেও বুঝবোনা নাহইলেও কেও বুঝবোনা।খাইয়া ফালাও সবাই।ভাত খাওয়ার সময় আর কিছু না বুঝলেও এতটুকু বুঝছি এইরকম ভাত যদি মৃত শাহজাহানের বউ মমতাজ খায় তাহলে সে শাহজাহানকে ছ্যাকা দিয়া চইলা যাইবো।তার আর তাজমহলের প্রতি আশা থাকিবেনা না থাকিবে ভালোবাসা।
.
দুপুরেও এক খাবার খাইলাম কোনোমতে।খাবার যাইহোক।নিজেদের হাতের রান্না বলে কথা! একটি হলেও শান্তি লাগতেছিলো আবার ভিতরটা জ্বলে যাইতেছিলো।তিনজনই তিনজনের দিকে তাকাইয়া হাসতেছিলাম।হাসিটা কষ্টের বাহ্যিক রূপ ছিলো।
রাতে প্লানিং হইলো রুটি আর ডিম ভাজি করবো।
তো আমি বললাম যে আমি ডিম ভাজতে পারি।তো রুটি বানানোর জন্যে যা দরকার সবই আছে।তো আমি সফিক ভাইয়ের কথামত বেশখানিক আঠার মধ্যে দুইগ্লাস পানি ঢাললাম।তারপর কচলাতে লাগলাম।বাসায় মাকে দেখতাম আঠা শক্ত হয়।আর আমাদেরটা কাদামাটি হচ্ছে।তুহিন ভাইয়ের কথা আরো কিছু আঠা যোগ করলাম।এইবার আবার আঠা বেশী হয়ে গেছে।তো আবার পানি ঢাললাম।এইবার পানি বেশী।এমন করতে করতে আধাকেজি আঠা পুরোটাই শেষ।এবার যখন আঠা বেলানোর কাজ আসলো তখন তিনজনই একে একে বেলতে লাগলাম।আঠা বেলুনের সাথে লেগেই থাকতো আর ছুটতোনা।ছুটাতে গেলে ছিড়ে যেতো।মেজাজতো হেব্বি খারাপ।অন্য জায়গা থেকে আঠা নিয়ে আবার সেইখানে তালি দিতাম।তো অবশেষে হাত দিয়ে যাইতা যাইতা গোল বানাইলাম।মাঝেমধ্যে থালা নিয়া অইটা দিয়া যাতা দিতাম।অবশেষে ছয়টা রুটি গোল হইছিলো কিনা জানা নেই তবে দেখতে গোলের মতই ছিলো।মাঝেমধ্যে দুই একটা মুরগির মত চুলের স্টাইলের ছিলো।
.
তাওয়ায় রুটি দিলাম।একসময় দেখলাম রুটি ফুলতাছে।তুহিন ভাই ফকিরের খালাতো ভাই না বললে ভুল হবে।উনি আমাগো দুইটারে বললো এই রুটি এখন ফাটবো তারপর আমাগো গায়ে আবার ছিটকাইবো।তুহিন ভাই সহ আমরা দুইজন দরজার দিকে দৌড় দিলাম।তারপর একজন আরেকজনের কাধের উপরে মাথা রেখে রুটিটাকে ফুলতে দেখতে লাগলাম।একসময় দেখলাম রুটিটা ফুলতে ফুলতে অনেক বড় হলো।আমাদের ভিতর ভয় বাড়তে লাগলো।ভাবলাম অনেক জোরে আওয়ার হবে বেলুনের মত।তাই চোখ বন্ধ করলাম তিনজনে।কিছুক্ষণ চোখ অফ থাকার পর দেখলাম কোনো আওয়াজই আসছেনা।তাকিয়ে দেখলাম রুটিটা পুড়ে চিপসে গেছে।আমি আর সফিক ভাই তুহিন ভাইয়ের দিকে আবার রাগী চোখ নিয়ে তাকালাম।তুহিন ভাই রুটির সামনে গেলো।তারপর পুড়া রুটিটা হাতে নিয়ে বললো রুটিটা কিন্তু সেই হইছে ভাই।
রাতে খাওয়া দাওয়া সেড়ে ঘুমোলোম তিনজনই।মাঝরাতে তিনজনই চিৎকার দিলাম।ডিম ভাজিতে তেল ছিলো অনেক।অইটার সাথেই খাইছি তিনজনই চিৎকার দিতে লাগলাম মাথা ব্যাথা সাথে বাথরুমের সিরিয়াল।
সেদিন বুঝেছিলাম যে ব্যাচালরদের আর্তনাদ কতটা মর্মাহত জিনিষ!
.
লিখাঃশিশির আহমেদ(শিশু)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now