বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিশুথ রাত

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নিশুথ রাত। আকাশটাও কেমন জানি গম্ভীর হয়ে আছে। না আছে চাঁদমামা না আছে তারাদের হাট। আকাশের মতো পৃথিলার মনটাও খুব খারাপ হয়ে আছে। খারাপ বলতে ভীষণ রকমের খারাপ। টপ টপ করে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে কিন্তু সেটার রোধ করতেও পারছেনা সে। মন খারাপের রোগটা শুরু হলো সপ্তাহখানেক আগে থেকে যখন ঈশান তাকে দেখতে আসে। আগে কখনো দেখেনি সে ঈশানকে। পারিবারিকভাবে পাত্র দেখা শুরু হবার পরে তার মামার পরিচিত হিসেবে ঈশান তাকে দেখতে আসে। তার আগে অবশ্য তার ফ্যামিলিও পৃথিলাকে দেখে পছন্দ করে যায়। পৃথিলাকে যতগুলো পাত্র দেখতে এসেছে তার মধ্যে ঈশানকে তার সবার থেকে আলাদা মনে হলো। অন্যসব ছেলেরা এসে তাকে দেখার সময় হা করে তাকিয়ে থাকতো আর এমন লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো যে পৃথিলার রীতিমত শরীর ঘিন ঘিন করে উঠতো। তাইতো এই সেই বলে সবগুলো না করে দিলো। কিন্তু ঈশানের বেলায় তার একেবারে উল্টো। পৃথিলায় কেনো জানি ঈশানের দিকে তাকিয়ে ছিলো। ছেলেটা পৃথিলার দিকে তাকালেও যখন দেখতো সে তাকিয়ে আছে তখন সাথে সাথে চোখ নামিয়ে রাখতো। ঈশানের চোখের দিকে তাকিয়ে পৃথিলার মনে হলো যে একটা পবিত্র আভা যেখানে আছে তার জন্য সন্মান আর ভালোবাসার হাতছানি যেটা অন্য কোনো ছেলের চোখে সে দেখেনি। ঈশান চলে যাবার কিছুদিন পরেই পৃথিলার ফ্যামিলি থেকে এই বিয়ের ব্যাপারে না করে দেয় কেনোনা ঈশান দেখতে এতোটা সুন্দর না। পৃথিলাকে দেখতে যেসব ছেলেগুলো আসছে সে হিসেবে ঈশান কিছুই না কিন্তু তারপরেও সবার থেকে আলাদা। ঈশানের ফ্যামিলিরও খুব ভালো। পৃথিলার অনেক পছন্দ হয়েছিলো ঈশানের মা আর বোনদেরকে। কিন্তু তাদেরকেই শেষ পর্যন্ত না করে দিলো তাদের পরিবার। পৃথিলা না পারছে কিছু বলতে না পারছে সইতে। বাবার সাথে কখনোই সে ফ্রি ছিলোনা। তাই মুখ বুজে পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হচ্ছে তাকে। আসল ঝামেলাটা বাঁধে আজকে সকালে। পৃথিলা ডাক্তারি শেষ করে ইন্টার্নশিপ করছিলো তাদের মেডিক্যাল কলেজে। দুপুরের দিকে একটা এক্সিডেন্টে ছোট বাচ্চার জন্য ইমারজেন্সি রক্তের দরকার ছিলো কিন্তু কাওকে সেরকম পাওয়া যাচ্ছিলো না। অনেক চেষ্টার পরেও যখন পাওয়া যাচ্ছিলো না সবাই তখন বাচ্চাটার বাঁচার আশাও ছেড়ে দিলো। তখন হুট করে কোথা থেকে ঈশান রক্ত দেয়ার জন্য হাজির হয়ে গেলো। ভাগ্যক্রমে অথবা দুর্ভাগ্যক্রমে হোক ঈশানের রক্ত পরীক্ষা থেকে শুরু করে রক্ত নেওয়ার ভারটা পৃথিলার উপর পড়লো। পৃথিলা তখন লজ্জায় মরে যাওয়ার অবস্থা। ঈশান শুধু তার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসি দিলো আর তাতেই পৃথিলা পুরো নেই হয়ে গেলো। যখন রক্ত নেবার জন্য ঈশানের হাতটা ধরলো তখন পৃথিলার মনে হচ্ছিলো যদি এই হাতটা সারাজীবনের জন্য ধরে রাখা যেতো। রক্ত নেওয়ার কিছুক্ষণ পরে ঈশান উঠে যেতে চাইলে পৃথিলা তাকে বাঁধা দিয়ে বলল… < আপনি উঠছেন কেনো? আরো কমপক্ষে দশ মিনিট আপনার বিশ্রাম নিতে হবে। < তাতো আমি পারবোনা ম্যাম। আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থেকে এক ঘণ্টা ছুটি নিয়ে এসেছি। শুধুমাত্র রক্ত দেবার জন্য সবাই আমার জন্য গত এক ঘণ্টা অপেক্ষা করছে। তাই আমাকে যেতেই হবে…(ঈশান হেসে বললো) < ঠিক আছে। চলেই যেতে চাইলে বাঁধা দিবোনা। তবে নিজের খেয়াল রাখবেন। < জী আচ্ছা। আপনিও আপনার খেয়াল রাখবেন। এই বলে ঈশান চলে যাচ্ছিলো। হুট করে পিছনের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে উঠলো…


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now