বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কেউ কি এভাবে গোলাপ ফুল নিয়ে গাধার মত মাটিতে বসে থাকে নাকি
X
"কেউ কি এভাবে গোলাপ ফুল নিয়ে গাধার মত মাটিতে বসে থাকে নাকি"
.
আমি বেশ অবাক হয়ে কথাটি শুনে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আলিশা আমার দিকে হাসি মিশ্রিত চেহারা নিয়ে তাকিয়ে আছে।আমি ও ওর দিকে শান্ত ভাবে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে ফুলটা লুকানোর বৃথা চেষ্টা করলাম।যাতে মনে হয় এখানে কিছু'ই ঘটেনি।ও আমার কর্মকান্ড দেখে মুখে হাত দিয়ে মুখ টিপে হাসতে লাগল।
আমি বেশ বোকার মত হাসির দিকে তাকিয়ে থাকলাম।তারপর ও একটু পর এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল।
.
-উঠুন।
.
আমি এবার কথাটি শুনে অন্যদিকে তাকিয়ে নিজে'ই উঠে দাড়িয়ে ওর দিকে তাকালাম।
ও মুখটা কি রকম যেন করে হাতটা গুটিয়ে নিল।আমি আর কিছু না বলে ক্লাসের দিকে হাটা দিলাম।সামনে দু'তিন পা হেটে পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও কিছুটা হতাশা নিয়ে আমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
.
এই প্রচন্ড রোদের মধ্যে বেশ তাড়াতাড়ি কলেজ চলে এসেছিলাম।কলেজের বেশ মাঝখানে একটা বটগাছ শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে বেশ শুনশান ভাবে দাড়িয়ে আছে।
আমি ও বেশ শুনশান ভাবে গাছের এক পাশে দাড়িয়ে ছিলাম।হঠাৎ কোনদিক থেকে যেন রাইসা এসে আমার পাশে দাড়াল।হয়ত ও আমাকে খেয়াল করছিল এতক্ষন।আমি কিছু না বলে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম।রাইসা ও কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ওর কাধে থাকা ব্যাগ থেকে একটা গোলাপ ফুল বের করে ফুলটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল।
.
-এটা ধর।
.
আমি খানিক্ষন ভেবে কিছু না বলে হাত বাড়িয়ে ফুলটা নিয়ে ওর দিকে কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বললাম।
.
-ধন্যবাদ।
-ধন্যবাদ এখন না ফুলটা যদি ওকে দিতে পার তখন ধন্যবাদ দিও।আর তখন ধন্যবাদ পাওয়াটা সার্থক হবে।
.
আমি কথাটা শুনে খানিক অবাক হয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম।
একটু পর ওর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাব এ সময় ও আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল।
.
-এইত আলিশা আসছে যাও।
.
এই বলে রাইসা আমাকে এক প্রকার ধাক্কা দিয়ে দিল।।যার ফলে আমি পড়ে গিয়ে রাস্তায় বসে পড়লাম।আর সেই সাথে আলিশা আমার সামনে চলে এল।আমার এভাবে বোকার মত পড়ে রাস্তায় বসা থাকা দেখে আলিশা বলল।
.
"কেউ কি এভাবে গোলাপ ফুল নিয়ে গাধার মত মাটিতে বসে থাকে নাকি"
.
ক্লাস শেষ হওয়ার পর আমি কলেজ থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে বেশ আস্তে আস্তে হাটতে লাগলাম।কলেজের পাশের রাস্তা দিয়ে তেমন একটা গাড়ি চলাচল করে না।তাই এখানে রিক্সা ও পাওয়া যাবে না।
রিক্সা পাওয়ার জন্য সামনে আর ও খানিক্ষন হাটতে হবে।আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে হাটার সময় খেয়াল করলাম আলিশা খুব দ্রুত হেটে এসে আমার সাথে তাল মিলিয়ে হাটতে লাগল।আমি কিছু না বলে একবার ওর দিকে তাকিয়ে আবার হাটতে লাগলাম।কিছুক্ষন হাটার পর সামনে রাস্তায় রিক্সা পেয়ে ও রিক্সা না নিয়ে হাটতে'ই লাগলাম।সেই সাথে আলিশা ও আমার সাথে হাটতে লাগল।এভাবে বেশি কিছুক্ষন হাটার পর আলিশা আমার হাতটা ধরল।আমি এতে কিছু না বলে অন্যদিকে তাকিয়ে হাটতে'ই লাগলাম।তারপর ও আমাকে কোন রকম টেনে রাস্তায় পাশে থাকা বড় একটা পুকুর পাড়ে নিয়ে বসাল।
জায়গাটা ও বেশ ধারুন পুকুরের এক পাশে রাস্তা আর তার মধ্যে গাছপালা আর সাদা কাশফুল আর অন্যপাশে ধুধু কাশফুলে ভরা।আমি ওর পাশে বসে চুপ করে অন্যদিকে তাকিয়ে এসব দেখতে লাগলাম।এভাবে খানিক্ষন চুপ করে বসে থাকার পর আলিশা একটা কাশি বলল।
.
-কেউ ভালবেসে হাত বাড়িয়ে দিলে সেই হাত ধরতে হয় জানেন না।
.
আমি কথাটা শুনে ওর দিকে তাকালাম।
দেখালাম ও কি রকম যেন করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কথাটা শুনে মনে হল এসব ওর কাজ ছিল।আমি ওকে এ সম্পর্কে জ্ঞিজেস করতে গিয়ে আবার থেমে গেলাম।
কারণ কিছু জিনিস না জানা'ই ভাল।
তারপর খানিক্ষন ওর দিকে তাকিয়ে থেকে
এক হাতে ওর হাত ধরে অন্যহাত দিয়ে
ব্যাগ থেকে ফুলটা বের করে ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম।
.
-ভালবাসার মানুষকে নিজে'ই ফুল দিতে হয় জানেন না।
.
ও আমার কথাটি শুনে লজ্জা পেয়ে ফুলটা নিয়ে আমার হাতটা আর ও শক্ত করে ধরল।তারপর লজ্জা মিশ্রিত চেহারা নিয়ে আমার কাঁধে মাথা রেখে কিছু না বলে পুকুরের দিকে তাকিয়ে আছে।বাহ লজ্জা মিশ্রিত অবস্থায় দেখি মেয়েদের ও বেশ সুন্দর দেখায়।
.
লিখা: রক্তাক্ত লেখক হিমু (মি. নীল)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now