বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জানিনা কেন ভালবাসি
.
.
-ইদানিং ব্যাস্ত থাকো না কি?
-কেন?
-ফোন দিলে অল্প কথা বলো,
-ও, কবিতা লিখি।
-সারাদিন কবিতা লিখো,
-হুম,,
-আমার জন্য?
-হুম,,
-কতগুলো লিখছ,
-একটা,
-আচ্ছা,শোনাও
.
নিরব চারপাশে তাকিয়ে দেখে নিল,কেউ আছে
কিনা।এপাশে
কেউ থাকার কথাও না, নিরব সচারচর তুলিকে নিয়ে
পার্কের নির্জন
জায়গায় এসে বসে।আজো সেদিকেই
বসেছে।
আশেপাশে দেখে নেওয়ার কারণ হল ও কবিতা
বলবে, যার জন্য কবিতা
বলবে সে শুনলেই হবে। অন্য কেউ শুনে
নিলে একটা লজ্জার ব্যাপার
আছে। যদিও এখন কার দিনে পার্কে আসলে
লজ্জার কিছু থাকেনা
সবাই খোলামেলা ভাবেই অনেক কিছু করে।
কেউ শুনলেও হয়ত
মনোযোগ দিবেনা নিরবের কবিতার উপর।তারা সবাই
নিজেদের
কাজে ব্যাস্ত থাকবে।
ইদানিং অনেক অশ্লীল কাজ হয় পার্ক এ। সে সব
কাজ নিরবের জন্য
লজ্জার, নিরব তেমন ছেলেনা, নিরব ভাল
ছেলে। নিরব এ জন্য পার্ক এও
আসতে চায়না কিন্তু তুলি নিরব কে পার্কেই
আসতে বলে। পার্ক এ
গাছপালা বেশি,তাই সাস্থ্যর জন্য ভাল।যদিও তুলি আর
নিরব দুজনের
সাস্থ্যই ভাল।
.
নিরব ভাল ছেলে, বলতে গেলে খুব ভাল। এত
ভাল, এত সাধা সিধে
ছেলে যেখানে সেখানে পাওয়া যাবেনা।
এমন টাইপ ছেলে যে কিছু পারেনা, এমন কি বাইক
চালাতেও
পারেনা,পারেনা সাঁতার কাটতে, ঠিকমত লেখাপড়াও
পারেনা,
পারেনা গল্প কবিতা লিখতে ! আসলে সে কিছুই
পারেনা।
তবুও তুলির মত একটা মেয়ে ওকে কেন
ভালবাসে এটা নিরবের কাছে
অজানা।
.
তুলিকে ইমপ্রেস করার জন্য সাত দিন ধরে চেষ্টা
করে আজ কবিতা
লিখে আনা,তাতে যদি একটু ইমপ্রেস হয়
মেয়েটা।নিরব জানে তুলি
ওর প্রতি ইমপ্রেস তবুও নিরব চায় তুলি ওকে নিয়ে
খুশি হোক।বলুক যে
নিরবের অনেক কিছু ওর ভাল লাগে।নিরব জানে
ওর মাঝে ভাল
লাগার কিছু নেই। ওর বন্ধুরা বলে, তুলি পাগলী তাই
তোর মত
ছেলেকে ভালবাসে।এটা শুনে নিরবের খারাপ
লাগে।তবে মাঝে
মাঝে কথাটা সত্য ও মনে হয়। বন্ধুরা আরো বলে
কদিন পর তুলি ছেড়ে
যাবে তোকে।তোর সাথে কেউ থাকতে
পারবেনা ইত্যাদি
ইত্যাদি।
এগুলো শুনে খুব মন খারাপ হয় নিরবের। সাথে
সাথে ও তুলিকে ফোন
দেয়।তুলির সাথে এক মিনিট কথা বললেই নিরবের
মন ভাল হয়ে যায়।
তুলি বলে দিয়েছে,যখনি তোমার মন খারাপ হবে
তখনি আমাকে
ফোন দেবা।নিরব এটা মেনে চলে।
.
এত ভালবাসে মেয়েটা নিরবকে,তার বদলে নিরব
ও ভালবাসে কিন্তু
তবুও কিছু কম আছে নিরবের, এজন্যই কবিতা
লিখে আনা,কবিতাতে যদি
একটু তুলি খুশি হয়।
নিরব কোন ভাবেই তুলিকে হারাতে চায় না। নিরব
জানে
তুলিকে ছাড়া ওর একটা দিন ও চলবেনা।
.
নিরব পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে
সেটা দেখে দেখে
কবিতা আবৃত্তি শুরু করল,
.
আমি আর তুমি পাশা পাশি হাঁটি
হাঁটি হাঁটি শেষে একখানে বসি,
আবার উঠি আবার হাঁটি
এভাবেই তোমায় ভালবাসি।
.
রাস্তা শেষে, হাঁটি মাঠে,
এভাবে আমার দিন কাটে।
.
এটুকু বলে নিরব তুলির মুখের দিকে তাকাল। তুলির
মুখ দেখে মনে হল ওর
খুব ভাল লেগেছে। তবে তুলি মাঝে মাঝে মিথ্যা
বলে।
এইতো গতবার যখন নিরব কবিতা লিখে আনল সে
বার তুলি খুশি হয়ে কত
কি বলল?
কিন্তু কবিতা তেমন ভাল ছিলনা, নিরবের মেসের
রুমমেট রা
কবিতা শুনে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেয়েছে।
আজকের কবিতা
শুনেও হেসেছে তবে নিরবের মনে
হয়েছে আজকের কবিতাটা আগের
দিনের চাইতে ভাল,যথেষ্ট ভাল।
.
-কবিতা শেষ?
.
তুলির কথায় নিরবের চিন্তা ভাঙল, ও তুলির মুখের
দিকে তাকিয়ে
বলল,
-হুম,
-এত জলদি কেন,
-উম,
-সাতদিন ধরে এই লিখছ,
-কবিতা লেখা খুব কঠিন,
-তাই বলে এই টুকু,
-হুম,
-এর পর থেকে আরো বড় লেখবা,ঠিকাছে?
-আচ্ছা, কেমন লাগল?
-খুব খুব খুব ভাল।
.
তুলির এ কথাটা পছন্দ হল না নিরবের,মনে হল তুলি
মিথ্যা বলছে।প্রিয়
মানুষেরা মিথ্যা বলে কাছের মানুষদের খুশি করার
জন্য। তুলিও হয়ত
তেমন বলছে।নিরবের কবিতা কখনোই তেমন
ভাল হয়না।তুলি যদি শুধু
ভাল বলত, তবে বিশ্বাস হত কিন্তু খুব খুব খুব ভাল
এটা একটু অতিরিক্ত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now