বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তার আগে আপনাকে আরু একটা কথা বলি।’ আমার দিকে ঝুকে এলেন লোকটি, ‘ওই তিনজনের আগে এ জায়গাটার মালিক কে ছিলেন, জানেন?’
মাথা এদিক-ওদিক করলাম আমি। লোকটি একটু অবাক হয়ে বললেন, ‘সত্যি জানেন না!’ একটু থামলেন তিনি। আমার দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে বললেন,
‘আপনার অবশ্য জানার কথাও না। সামনের ওই গ্রামটা দেখছেন না, ওই গ্রামটার নাম সাদউল¬াপুর। ওখানে নেয়ামত হাওলাদার নামে একজন মানুষ বাস করতেন। ওই গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন তিনি, অংকের শিক্ষক। ওই শুকিয়ে যাওয়ার মতো গাঙটা দেখছেন না, একদিন তাকে ওখানে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।’
‘তাই নাকি!’ কৌতূহলটা আবার জেগে উঠছে আমার।
‘তার দু’চোখ উপরে ফেলা হয়েছিল। গলাটাও কেটে ফেলা হয়েছিল।’
‘কে করেছিল এটা?’
‘সবাই বলে ওই প্রথম লোকটা, যিনি রাস্তায় বাসে চাপা পরে মারা গিয়েছিলেন।’ লোকটি থুতনি চুলকাতে চুলকাতে বলেন, ‘অবশ্য তিনি নিজ হাতে কাজটা করেননি, অন্যকে দ্বারা করিয়ে ছিলেন।’
‘কেউ দেখে ফেলেছিল ব্যাপারটা?’
‘না। এসব কাজ তো কেউ দেখিয়ে করে না। নেয়ামত সাহেবের খুব শখ ছিল চাকরি জীবন শেষে তিনি নিজেই একটা স্কুল দেবেন এখানে। কিন্তু জায়গাটার প্রতি চোখ যায় ওই প্রথম লোকটার। ঘুষখোর মানুষ ছিলেন তো। টাকার গরমে জায়গাটা কিনতে চান তার কাছ থেকে। কিন্তু কোনোভাবেই জায়গাটা বিক্রি করতে চান না তিনি। শেষে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেন তাকে। মাস্টার সাহেবের ছেলেরা পরে জায়গাটা বিক্রি করে ফেলে। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, জায়গাটা কিনে তিনি নিজেও বাড়িটা করতে পারেন না। তার আগেই রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা যান।’
‘তারপর জায়গাটা কেনেন ওই পাগল হয়ে যাওয়া লোকটা।’
‘জি। তিনি পাগল হয়ে গেলে তার বংশের লোকজনও জায়গাটা আর রাখে না, তৃতীয় লোকটার কাছে বিক্রি করে ফেলে।’
‘যিনি অজানা এক কারণে আত্মহত্যা করেছেন।’
‘জি।’
লোকটা যেভাবে কথাগুলো বলছেন, তাতে আমার বিশ্বাস করার কথা। একটু একটু বিশ্বাসও করে ফেলছি আমি। বাড়ি করতে আসা তিনজনের পরিণতি ভেবে বুকের ভেতরটা কেঁপেও উঠল একটু। তবে কি এবার আমার পালা? লোকটি আমাকে চমকে দিয়ে হেসে উঠল আবার, ‘আমি জানি আপনি কী ভাবছেন! অবশ্য ভাবারই কথা। সমস্যা যেহেতু এই জায়গাটা নিয়ে, এখানে বাড়িটা করা নিয়ে।’
বুকের ভেতরটা এবার সত্যি সত্যি দমে এলো আমার। গলার ভেতরটাও শুকিয়ে এলো। চাপা স্বরে আমি বললাম, ‘আমি কি তাহলে কাজটা করা বাদ দেব?’
‘আপনি তো এখানে বাড়ি করছেন না। স্কুল করছেন। মাস্টার সাহেবও সেটা করতে চেয়েছিলেন। সম্ভবত গরিব বাচ্চা এবং এতিমদের জন্য স্কুল বানাচ্ছেন আপনি।’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now