বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছবিগুলোর মতো না

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X কালকে ছবি দেখতে যাবার জন্য আমাকে চার আনা দিতেই হবে”— সাম্বু দাবি করলো। মা আঁতকে উঠলেন। কী করে পারলো ছেলেটা! ছবিটা বের হবার ছয় মাস আগে থেকেই তিনি ভয়ে ভয়ে ছিলেন। মানুষ কী করে ওকে ছবিতে দেখতে পারবে যখন তারা জানে যে ও বাস্তবে আর নেই? খানিক আশা ছিল যে প্রযোজকরা হয়তো তাঁর অনুভূতির কথা ভেবে ছবিটা বের করবে না। ছেলেপুলেরা যখন টমটম আর ব্যান্ড বাজিয়ে প্ল্যাকার্ড আর তাঁর স্বামীর মস্ত রঙিন ছবি নিয়ে একটা মিছিল করলো, তখন কিছুদিনের জন্য শহর ছেড়ে যাবার সংকল্প করেছিলেন তিনি, যদিও সেটা ছিল অযৌক্তিক সংকল্প, মরিয়া হয়ে করা। আর এখন ছবিটা মুক্তি পেয়েছে। তিন গলি পরের থিয়েটারে তাঁর স্বামী দিনে কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা করে কথা বলবে, হাঁটবে-চলবে, গান গাইবে। সাম্বু এত উচ্ছ্বসিত ছিল যেন ওর বাবা আবার বেঁচে উঠেছেন। “মা, তুমিও ছবি দেখতে যাবে না?” “না।” “প্লিজ, প্লিজ, তোমাকে যেতেই হবে।” তাঁকে তখন ব্যাখ্যা করতে হলো কেন তাঁর পক্ষে ছবিটা দেখতে যাওয়া একবোরেই অসম্ভব। ছেলেটার ছিল এক ধরনের বেপরোয়া যুক্তি— “কেন, অসম্ভব কেন হবে? তুমি কি রোজ রোজ ওর ছবি, এমনকি দেয়ালের ওই বিশাল ছবিটাও দেখছ না?” “কিন্তু ছবিগুলো তো আর কথা বলে না, হেঁটে বেড়ায় না, গানও গায় না।” “তারপরও জীবন্ত ছবির চাইতে এই ছবিই তোমার বেশি পছন্দ!” এর পরের পুরোটা দিনই সাম্বুর উত্তেজনায় কাটলো। ক্লাসে শিক্ষক যখনই ওর ওপর থেকে চোখ সরাচ্ছিলেন, সাম্বু ঝুঁকে পড়ে পাশের জনকে বলছিল, “এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য আমার বাবাকে দশ হাজার রুপি দেয়া হয়েছিল। আমি যাচ্ছি আজকে বিকালে দেখতে। তুই যাবি না?” “কুমারী দেখার জন্য!” বন্ধুটি মুখ বাঁকালো। তামিল ছবি ছিল তার ঘোর অপছন্দের। “আমি ওই পথই মাড়াবো না।” “এটা অন্য তামিল ছবিগুলোর মতো না। বাবা প্রতি রাতে আমাদের ছবির গল্প পড়ে শোনাতো। খুব ভালো কাহিনী। বাবা নিজেই পুরো গল্পটা লিখেছিল। লেখা আর অভিনয়ের জন্য তাকে দশ হাজার রুপি দেয়া হয়েছিল। তুই চাইলে আমি তোকেও নিয়ে যেতে পারি।” “আমি কোনো তামিল ছবি দেখবো না।” “এইটা আর-দশটা তামিল ছবির মতো না। এইটা একদম ইংরেজি ছবির মতো ভালো।” কিন্তু সাম্বুর বন্ধু গোঁ ধরেই রইলো। সাম্বুকে একাই যেতে হলো ছবি দেখতে। ছবিটায় ছিল তামিল ফিল্মে নতুন ধারা সৃষ্টির একটা প্রয়াস— আধুনিক গল্প এবং অপেক্ষাকৃত কম গানবাজনা। গল্পটা ছিল কুমারীর— কমবয়সী এক মেয়ে, যে কিনা চৌদ্দ বছর বয়সে বিয়ে করতে রাজি না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ও স্বাধীনভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে চেয়েছিল। ফলশ্রুতিতে তার কঠোর বাবা (সাম্বুর বাবা) তাকে তাড়িয়ে দেয় এবং শেষমেশ ক্ষমাও করে দেয়। সাম্বু চার-আনা ক্লাসে বসে ছবি শুরুর জন্য ব্যগ্রভাবে অপেক্ষা করতে লাগলো। ছয় মাস হয় সে তার বাবাকে দেখেনি, বাড়িতে ওর বাবার কথা খুব মনে পড়তো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now