বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কলিকাতার আলি গলিতে সে ঘুরে বেড়াতে লাগল। তিন বারের চেষ্টায় কলেজে ঢুকতে পেল। কলেজের মেয়েরা বড্ড হেলে হাটে। তাই দেখে নতুন বাবুর ধুতিতে ভাঁজ পড়তে লাগল। শহর আর গাঁয়ের মধ্য বিভেদ টেনে বললো, আধুনিক জীবন অনেক বেশি আনন্দ দেয়।
আর সইল না, একদিন সত্যি সত্যি নাক গলাল সে। ‘ফুল নেবে’ এই বলে হাত বাড়িয়ে দিল একটি মেয়ের দিকে। সেই মেয়েটি ছিল বড্ড ন্যাকা। আমিষ খেত লুকিয়ে। কাটলেট, কলিজার সিঙ্গারা, ক্যান্টিনের চা কোন কিছুতেই বারণ ছিল না যেন। ফুল দেখে লাফিয়ে এক হাত তুলে দিল। পরের পয়সায় স্ফূর্তি হবে, যেমনটি তার স্বভাব।
যা হবার শেষে তাই হল। রাধার সাথে দুই মাস, মালতীতে তিন। বছর ঘুরতে দেখা গেল টিফিনের পয়সায় টান পড়তে শুরু করেছে। এদিকে বাবার মৃত্যু সংবাদ হজম করতে না করতেই তার মাও গত হলেন। আশিস, বিমল, হরি-কান্ত সবাই গেল পরের ক্লাসে। বেতন আসা বন্ধ হতেই বাক্স বেঁধে বর্ধমানের ট্রেন ধরল চন্দ্র।
কলেজ ফেল, তবুও গ্রামে সে কদর পেল। সম্মান পেল পণ্ডিত মশাইয়ের উপরে। অনেকেই বসবার জন্য চেয়ার এগিয়ে দেয়। একটা চেয়ার এগিয়ে দিল লক্ষ্মীর বাবা নিজেই। এই গায়ে তার লক্ষ্মী থাকে, তাকে না-দেখা পর্যন্ত মন ভরে কি করে।
কলিকাতার রাধা রানিদের প্রসঙ্গ এলে তখনই লক্ষ্মীর কথা মনে পড়ে। ছোট বেলায় লক্ষ্মী তার জন্য তামাক নিয়ে আসত পুকুর ঘাটে। বসে বসে সে তামাক টানত আর লক্ষ্মী উপর দাঁড়িয়ে পাহারা দিত। গাদা ফুল ডলে রুমালে সুগন্ধি মেখে দিত লক্ষ্মী আর সেই রুমাল শুঁকে তিনি গ্রাম চড়িয়ে বেড়াতেন। লক্ষ্মীর কাজ ছিল স্কুলের পড়া মুখস্থ করে চন্দ্রকে সেটা বুঝিয়ে দেয়া। লক্ষ্মীর মাথা ছিল ভাল তবুও তার কলেজে যাওয়া হয় নি। তার জন্য স্কুলই ছিল যথেষ্ট।
মাস বিলম্ব করে চন্দ্র এলো লক্ষ্মীদের বাড়ি। চন্দ্রের ডাকে সে উত্তর দিল ভেতর থেকে। সবে বিধবা হয়েছে। মুখরা ভাবটা কেটে গেছে। জলে না নেমেই সে সাঁতার শিখেছে। ডুবতে ডুবতে বেঁচে গেছে। লক্ষ্মী তো আগেও ছিল এবার মায়াবতী হল। ভেতর থেকে জল খাবার পাঠিয়ে ভৃত্যকে বলল, ‘বাবুকে একটু ভাল মন্দ খেতে বলিস। গ্রামে তো আর গাড়ি ঘোড়া নেই। পায়ে হেটে পাড়া ঘুরতে হবে। শেষে মাথা ঘুরে না কোথাও পড়ে থাকে’।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now