বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোবাসার সংসার

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)



X প্রতিদিনের মত কলেজে রওনা হচ্ছে জয়... 3 মাস হয় ওর ক্লাশ শুরু হয়েছে...খুব ভদ্র ও এক কথায় সাদাসিধে... কোনো প্যাচ ঘোচ নেই ওর মধ্যে.... এমন কি মাঝে মাঝে চকলেট খাওয়ার অভ্যাস আছে ওর... সাইকেল চালিয়ে কলেজের পথে যাচ্ছিলো জয়...পথে সায়েম এর সাথে দেখা -কি রে আস্তে চালা!! -ওহ তুই? -হুমম আমি! -চল হেটেই যাই দুজন কথা বলতে বলতে! -আচ্ছা! চল তাহলে তো ভালোই হয়! - এখন বল কি করলি তন্নির ব্যাপারটা? -আজ আর কি প্রোপোজ করবো! -তাই নাকি অনেক মজা হবে আজকে! -হুমম হবে তো কিন্তু তোকে একটা কাজ করতে হবে! -আমি কি করবো? -তুই ওরে বলে দিবি আমি ওরে পচ্ছন্দ করি! -কি বলিস আমি পারবো না! -তুই ছাড়া আমার কোনো উপায় নাই প্লিজ দোস্তো! -ওকে আচ্ছা কিন্তু? -কোনো কিন্তু নাই তোকে করতেই হবে! -হুমম দেখি! -এই না হলে বন্ধু! কথা বলতে বলতে কলেজে আসলো ওরা দুজন....সায়েম প্লে বয়...15 দিন অন্তর গার্লফ্রেন্ড পরিবর্তন করে..সব ধরনের নোংরামি ওর নেশা....সায়েমের সাথে মাত্র 3 মাস হয় পরিচয় হয়েছে জয়ের....তবে সম্পর্কটা অনেক ভালো ওদের দুজনের....সায়েম, তন্নি, জয় ওরা প্রত্যেকেই ক্লাশ ফ্রেন্ড...তন্নি খুব ভদ্র মেয়ে... কিন্তু অনেক চালাক...ঐ দিনের ক্লাশ শেষ হলো ওদের.... ক্লাশে শেষে বাসায় যাচ্ছিলো তন্নি...সায়েম তন্নিকে ডাক দিলো... জয় অনেক ভীতু তবুও বাধ্য হয়ে যেতে হলো ওর.... -তোর কি তারা আছে? -নাহ কি খবর সায়েম ডাক দিলো ক্যান? -ওই একটু কথা ছিলো! -হুমম বল কি বলবি? -কথাটা আমার না! -তাহলে কার? -সায়েমের কিন্তু কিভাবে বলবো বুঝতেছি না! -আরে বলে ফেল কি কথা? -সায়েম তোকে পচ্ছন্দ করে! -কি? আজব তো আমি কি করবো? -তুই যদি চাও তাহলে রিলেশন করতে পারো! -ওই শোন? -ওর মত লুচ্চা ছেলের সাথে আমার রিলেশন ইম্পসিবল, আর শোন আমি তোকে খুব পচ্ছন্দ করি কলেজের প্রথম দিন থেকে আর আমি তোকেই ভালোবাসি! .. .. এই কথা শুনে জয় যেন আকাশ থেকে পড়লো....কিছু না বলেই চলে এলো তন্নির সামনে থেকে....সায়েম কেও কিছু বললো না...বাসায় চলে এলো...একা একা ভাবছে কি করা উচিৎ ওর...সায়েম ওর খুব ভালো বন্ধু...কিন্তু প্রথম বারের মত কেউ জয়কে কথা গুলো বলেছে...কিছুই ভেবে উঠতে পারছে না জয়.... হঠাৎ সায়েম ফোন দিলো...সত্যটা সায়েম কে বলে দিলো জয়... সায়েম জয় কে অনেক অপমান করলো....কিন্তু সায়েম কে বোঝানোর মত ভাষা জয়ের ছিলোনা....সেদিন রাতটা নির্ঘুমে কাটিয়ে দিলো জয়....পরেরদিন কলেজে যায় না ও...কিছুটা চিন্তা মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হল...নিজে নিজে ভাবতে লাগলো! আসলে কি করা উচিৎ? আর জয় ভালো করেই জানে তন্নি মরে গেলেও সায়েমকে ভালোবাসবে না! এভাবে কিছু দিন ভাবতে ভাবতে কেটে গেল জয়ের...কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেলো ওর সবকিছু... সায়েমের সাথেও তেমন যোগাযোগ হয়না! কলেজ থেকে বাসায় যাচ্ছিলো জয়...তন্নি সামনে পরলো ওর... -ওই শোন? -হুমম বলবি কিছু? -না তেমন কিছু না! কিন্তু আমাকে দেখলে কথা বলো না কেন? -এমনি ব্যাস্ত থাকি তাই বলা হয় না! -এত ব্যাস্ততা কিসের তোর?শুনি? -ওই থাকে না! -ওহ আচ্ছা ফোন নাম্বারটা দিবি তোর? -হুম এই নে! -আচ্ছা যা তাহলে ফোনে কথা হবে! ... জয় চলে গেল...হাটতে হাটতে বাসায় এলো তন্নি...ও ভাবছিলো এত দিনে কিছু একটা বলবে জয়....কিন্তু ও তো অনেক ভীতু এই সব বলার সাহস নেই ওর...তাই বাধ্য হয়ে তন্নিকেই ওর নাম্বার নিতে হলো...সেদিন সন্ধ্যায় জয়কে ফোন দিলো তন্নি! -হ্যালো -হুমম কে? -আমি তন্নি -ওহ তুই? বল কি খবর? -আচ্ছা তুই এমন কেন? -কই আমি আবার কি করলাম? -আচ্ছা তুই কি কিছুই বোঝো না? -আরে কি হইছে বলবি তো! -ঐ তুই এত্ত আবুল কেন? তোকে কি সুইসাইড করে বুঝাতে হবে "আমি তোকে ভালোবাসি" -মানে কি? -আমি তোকে অনেক ভালোবাসি!সারাজীবন তোর পাশে থাকতে চাই! কি রাখবি? -আচ্ছা দেখি কি করা যায়? -দেখি মানে? আমি কিন্তু সত্যি সত্যি মরে যাব! -এমন কেন করো বলতো? -বোঝো না তাই না? বোঝাও লাগবে না তোর! রাগ করে ফোন কেটে দিলো তন্নি...আসলে জয়ও তন্নির প্রতি ইম্প্রেস কিন্তু ও কি বলবে ভেবে উঠতে পারছে না...এক পর্যায় জয় তন্নির ভালোবাসার জালে ধরা দিলো...একসাথে পথ চলা...কলেজ ফাকি দিয়ে ঘুরতে যাওয়া...একসাথে ফুচকা খাওয়া..একসাথে বৃষ্টিতে ভেজা...বাসায় ফেরার পথে অপেক্ষা করা...ছোটো খাটো অভিমান...ভালোই দিন গুলো কাটতে ছিলো দুজনের... সায়েম প্রথমত সমস্যা করলেও পরে ওদের ভালোবাসর কাছে গলে যায়... এর মধ্যে পরীক্ষা চলে আসে...দুজনেই পরীক্ষা নিয়ে ব্যাস্ত....পরীক্ষা ছাড়া তেমন একটা দেখা হয় না ওদের...পরীক্ষা শেষ প্রাকটিক্যাল গুলো বাকি...তন্নিকে খুব মিস করছিলো জয়...অনেক দিন হয় তন্নির সাথে কথা হয় না ওর... অপেক্ষায় ছিলো তন্নি হয়তো যোগাযোগ করবে...তারপর ভাবলো একবার ফোন দিয়েই দেখি আসলে কি হয়েছে....যে মেয়েটা আমায় ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না তার কোনো খোজ খবরই নাই?... -হ্যালো! -হুমম কেমন আছো(শরু কন্ঠে) -হুমম ভালো! ভুলে গেছো আমায় তাই না? -আরে না! তুমি কি আমার সাথে দেখা করতে পারবে? -হুমম কখন করতে হবে বলো? -কালকে নদীর পারে এসো 10টার দিকে? -হুমম আচ্ছা! -তাড়াতাড়ি এসো কিন্তু! কথা শেষ হলো ওদের...আজ কেমন জানি একটু অন্য রকম কথা বলে তন্নি....জয় বুঝতে পারলো আসলে কিছু একটা হয়েছে ওর! পরদিন 10টার দিকে নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছে তন্নির জন্য! এর মধ্যে তন্নি এসে পরলো... নীরবে জয়ের পাশে বসলো -জয় শোনো -হুমম বলো! "খানিকটা সময় চুপ করে" -তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো? -হুমম বলো! -আসলে কথাটা আমি কিভাবে বলবো বুঝতে পারছিনা! -নির্ভয়ে বলো তো?কি হয়েছে বলো? -তুমি আমায় ভুলো যাও! -মানে? -আমার বিয়ে ঠিক হইছে! -কি বলতেছো এগুলা? -হুম যা বলছি তাই ঠিক! এই কিছু দিন যাবত আমার বিয়ের পাকা কথা চলেছে... কিছুদিন পর আমার বিয়ে! -বিয়ের কথা বলছো আর হয়ে গেছে? তুমি আমার... অন্য কারো না! -তাহলে কি করবো বলো! -আমি জানি না!তুমি কিছু একটা করো -তাই নাকি চলো? -কোথায়? -তুমি যেখানে নাও এছাড়া আমার কোনো উপায় নেই! -পালিয়ে যাবে? -নয়তো কি? -তোমার মাথা ঠিক আছে? -থাকবেনা কেন! তোমায় ছাড়া আমি এক মুহূর্ত থাকতে পারবো না! -আমার সাথে থাকলে কিন্তু অনেক কষ্ট করতে হবে..তোমার আবদার গুলো সব পূরন করার সামার্থ নেই আমার! -কোনো সমস্যা নেই তুমি থাকলে আমার আর কিচ্ছু চাই না! তবে ছোটো খোটো আবদার আছে! -কি আবদার বলো? -সারাজীবন আমায় ভালোবাসতে হবে! -হুমম আর কি? -প্রতি শুক্রবার আমাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে! -আর? -ফুটপাতে ফুচকা খাওয়াতে হবে! -আর? -রাতে ছাদে এক সাথে জ্যোৎস্না দেখলেই হবে! কি পারবে তো? -হুমম চলো! -চলো! ওই দিনের মত বাসায় চলে যায় দুজন... প্রাকটিক্যাল শেষ হয়...কোনো এক নতুন শহরে পালিয়ে যায় জয় ও তন্নি... প্রথমত খানিকটা অভাবে কাটলেও... এভাবেই শুরু হয় একটি ভালোবাসার সংসার...ছোট ছোট চাওয়া...ছোট ছোট আশা...ছোট ছোট স্বপ্ন...ছোট ছোট অভিমান...টুকটাক ঝগড়া... ...যেখানে আছে শুধুই ভালোবাসা..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৯১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...