বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভেইল অফ ভিসর-০৩ (শেষ)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ধীরে ধীরে আমার সমস্ত সত্তাকে অধিকার করে নেয় ও। ওর প্রতিটি কথা, অঙ্গভঙ্গি, চলাফেরা চোখের সামনে প্রতি মুহূর্ত দেখতে পাই। খুব একটা বৈচিত্র্য নেই ওর মধ্যে, তবুও অদ্ভুত মোহে ডুবে থাকি। পাইলটকে হারিয়ে স্টেলা অস্বাভাবিক কান্নায় ভেঙে পড়েছিল যেদিন, আমিও কেঁদেছি। যতটা না পাইলটের জন্যে, তারচেয়ে বেশী ওর কান্নায়। যতবার ব্যালকনিতে দাড়িয়ে পাইলটের বসে থাকার জায়গাটায় রক্তের দাগ দেখেছে, ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে নির্বাক চেয়ে থেকেছে। আকস্মিক কোন দুর্ঘটনায় মানুষ শরীরের অংশ হারালে যেমন হতভম্ব হয়, তেমন করে। ওর দুর্বলতার কথা ভেবে কোনদিন জিজ্ঞেস করিনি কি হয়েছিলো পাইলটের । আফসোস, পাইলট ওকে বুঝতে পারলো না! এই নিস্তরঙ্গ জীবনে আমাদের একটা সন্তানের প্রয়োজন ছিল। প্রথম যেদিন স্টেলার মুখ থেকে সন্তান আগমনের সংবাদ পাই, আমি চলে গিয়েছিলাম অন্য পৃথিবীতে। জানালায় দাঁড়িয়ে একটি তুলতুলে হাত আমাকে বাই বলবে। বাড়ি ফিরলে হাত ধরে ঝুলে ঝুলে পথ আটকাবে, সুখের পেলব অনুভূতি। ওদিকে স্টেলার মুখে দুশ্চিন্তার স্পষ্ট ভাব। -মার্ক, আমার ভয় করছে। মনে হয় আমাদের আরও কিছুটা সময় নেয়া উচিত। -শুধু শুধু ভেঙ্গে পড়ছো ডার্লিং, আমার কাছে এটাই উপযুক্ত সময় মনে হচ্ছে। -আর অল্প কটা দিন সময় নেই? অ্যাবরশনটা করিয়ে............... আমি ওর মুখটা আলতো চেপে ধরি। -প্লিজ, আমাদের প্রথম সন্তান!! স্টেলা প্রতিবাদ করেনি। সময় যতই কাছে ভিড়ছে, কিসের অজানা ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে থাকে ওর মিষ্টি মুখটা। -তুমি ভয় পেয়োনা, আমি ছুটি নেবো। সব ঠিকঠাক করা আছে। দক্ষ একজন নার্স হায়ার করেছি। -কিন্তু... ওর মাথাটাকে আমার বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখি। অফিসে ফোন করে যখন নার্স আমার ছেলের জন্মসংবাদ দিল, বাইরে তখন প্রবল তুষারপাত। প্রাণপণে গাড়ি ছুটিয়ে আসছিলাম, ওকে দেখবো, আমার ছেলে, আমার ভালোবাসার সবচেয়ে দৃঢ় বন্ধন। জমাট তুষার কাটিয়ে আসতে ঘণ্টাখানেক দেরি হল। প্রথমে আমি স্টেলাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমার জন্যে এতো বড় উপহার এনেছে সে। টুলের উপরে কিছু সাজসজ্জার সরঞ্জাম। নার্সকে দেখতে পেলাম না। ল্যাম্পের আগুনটাকে উস্কে দিচ্ছিল ও। -তুমি আমার জীবনটাকে পরিপূর্ণ করেছো। লাভ ইউ সো মাচ স্টেলা। ও আমার বুকের কাছে সিটিয়ে থাকে। এই মানুষটা পৃথিবীর সব সুখ আমার হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। ভালোবাসা আর প্রচণ্ড আবেগে আমি প্রথমবারের মতো ওর ঠোঁটের ওপর আমার ঠোঁট চেপে ধরি। কাঁচা মাংসের উৎকট গন্ধ!!!!! বৈদ্যুতিক শকের মতোই আমাকে সজোরে ধাক্কা দেয় গন্ধটা। চমকে উঠে পিছিয়ে যেতেই পায়ের নীচে শক্ত কিছুর অস্তিত্ব টের পাই। হাড়গোড়!! ছোট মানুষের!!! নার্স কোথায়?? আমার ছেলে!! আমার ছেলে কোথায়?? অদ্ভুত অকাট্য নিখুঁত গণ্ডগোল!! একটা ষড়যন্ত্র!! গা গুলিয়ে বমি আসতে থাকে আমার। অনেক অজানাকে জেনে যাই। খাবারে অবিশ্বাস্য অনীহা! ফাইল্যেমোফোবিয়া !! পাইলটের বসার জায়গায় রক্তের দাগ!! সন্তান সম্ভবা হয়ে অ্যাবরশনের চিন্তা!! দুশ্চিন্তায় কুঁচকে থাকা কপাল!! - তুমি!! আমার ছেলে!!! আমার পাইলট!!! শূন্য দৃষ্টিতে স্টেলা তাকিয়ে থাকে। যে দুটো হাত দিয়ে ওকে বুকে টেনে নিতাম, সেই দুটো হাত আমার অজান্তে ওর গলা টিপে ধরে। প্রচণ্ড চাপে ওর চোখ দুটো বেরিয়ে আসছে। আশ্চর্য! একটিবারের জন্যে ও আমাকে বাধা দেয়নি। খুনি ঠোঁটের কোণ বেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে সাদা ধবধবে ফেনা। গোলাপি গাল দুটো লাল হয়ে গেছে। কপালের শিরাগুলো ফুলে উঁচু হয়ে আছে। এক মুহূর্তের জন্যে মায়া হল। না, দুর্বল হলে চলবেনা। শেষ করে দেয়া চাই, আজ, এই মুহূর্তে। চোখ বুজে ওর কণ্ঠনালীতে আঙুলের চাপ বাড়াই। ফায়ারপ্লেসের আলোয় আমার ঘরটা পুরনো ধ্বংসস্তূপের মতো দেখাচ্ছে। আগুনের শিখার নাচানাচিতে যোগ দিয়েছে উড়তে থাকা পর্দাগুলো। ওদিকটায় পড়ে আছে একটা রক্তভেজা সাদা শাড়ি, একটা বাচ্চার চুল, আর খুবলে নেয়া ছেঁড়া পায়ের পাতা। বিছানায় পড়ে থাকা নিথর স্টেলাকে অপ্সরীর মতো লাগছে দেখতে, ঠিক যেমনটা লেগেছিল প্রথমবার নিজের নামটা বলার সময়। ল্যাম্পের কাচটা খুলে নিয়ে ডান হাতের তর্জনীটা পুড়তে থাকি। অসহ্য কষ্ট। খুব একা লাগছে আমার। সব ভালোবাসা কেন এই পিশাচটাকে দিয়ে দিয়েছিলাম? পাইলট গেলো, নার্স গেলো, আমার ছেলেও গেলো। সবচেয়ে কাছে থেকেও কেন আমার কিছু হল না? স্টেলা আমাকে সত্যি সত্যিই ভালোবাসতো!!!!!!! নিজের হাতে কাজটা শেষ করার আগে একবারও ভাবলাম না কেন!!! এই একাকীত্ব আমি কিভাবে মেনে নেবো? আমার যাবার জায়গা নেই। কিছু করারও নেই। সব কাজ ফুরিয়েছে। পিশাচের বুকে জমিয়ে রাখা ভালোবাসাকে নিজ হাতে খুন করা ..হত্যা... মৃত্যু... শুদ্ধ পৃথিবী... শান্ত বাতাস... আমি একা... কেউ নেই!!!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now