বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হয়তো স্বাভাবিক, হয়তো অস্বাভাবিক দুশ্চিন্তাকে মুছে দিতে আবার সেই উপস্থিতি। বেঞ্চি ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম, সাথে চিৎকার করে পাইলটও। থামছেনা, চিৎকার করেই যাচ্ছে। পাইলটটার কাণ্ডজ্ঞান কমছে ভীতিজনকভাবে। শুভাকাঙ্ক্ষী সময় আর রক্ত খারাপ বোধবিবেচনাহীন পাইলট একসাথে থাকাটা অসন্তোষের এবং একইসাথে বিপদজনক।
-কোয়াইট পাইলট। পাইলট কোয়াইট। পাইলট... পাইলটটট...
পার্কের নীরবতায় আমার কমান্ড চাবুকের বাড়ির মতো শপাং শপাং শব্দে একের পর এক আঘাত করে যাচ্ছে। পাইলট সমান তালে চিৎকার করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর তালে আছে, বুঝতে দেরি হচ্ছে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি কোনটা। বিরক্ত হয়ে বলটা ছুঁড়ে মেরেই কাজ হল। পাইলট তার ঘাড়ত্যাড়া লেজ নিয়ে ছুটে চলে গেল বল খুঁজতে। একটা স্পেস ... যেটা চেয়েছিলাম।
-এক্সকিউজ মি ম্যাম, আমরা দুটো প্রাণী এখানে কথা বললে হয়তো চারদিকের চুপচাপ ভাবটা সহনীয় পর্যায়ে নামাতে পারি।
আমার বক্তব্যে একটা ইঙ্গিত আছে। আছে অপরিচিতার প্রতি আহ্বান। উত্তর পেলাম না। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। কিংবা চুপ করে নেই। হয়তো ঠোঁট নড়ছে নিঃশব্দে, আমি শুনতে পাচ্ছিনা।
-আমার স্টার্টিং পারফর্মেন্সটা কি খুব খারাপ ছিল? ( ২য়বার আহ্বান)
দুটো দৃঢ়বদ্ধ ঠোঁট বজ্রের মতো এঁটে থেকে ভেতরের সব কথাগুলোকে কেন আটকে রাখছে?
-তোমার নামটা বলার মধ্য দিয়েও কিন্তু কাজ শুরু করতে পারি আমরা।
-স্টেলা।
স্টেলা!! আমার হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক শব্দ বদলে যায়। S T E L L A প্রতিটি বর্ণের উচ্চারণে রিদম নিয়ে নাচতে থাকে সব অ্যালভিওলাস। এতক্ষণ যাকে হৃদয়হীনা ভাবগম্ভির সন্ন্যাসিনী বলে মনে হয়েছিল, তাকে পেলাম দূর কোন গ্রহের কক্ষপথ থেকে ছুটে এসে আমার জন্যে আমারই সামনে বসে থাকা অপ্সরী রূপে। এইমাত্র নড়ে উঠা ঠোঁটের কি ধারালো রং!! সম্মোহন থেকে সম্বিৎ।
-দিস ইজ মার্ক।
-তুমি আমার নাম জানতে না?
ছোট্ট কাশি দিলাম, টের পেয়েছে নাকি কিছু??
- না না। কি করে জানবো? তুমিতো এইমাত্র তোমার মৌনব্রত ভাঙলে।
স্টেলা হাসে। কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া কতো নগরী ছুঁয়ে এসে আমার কানে কি যেন বলে যায় চুপিচুপি। সবকিছু অগ্রাহ্য করে আমি ওকে দেখতে থাকি, দেখার কি শেষ আছে??
বদলে যাওয়া বিকেলগুলো আমার কাছে অসম্ভব সুন্দর লাগে। এতদিন কেন পাইনি ওকে? একটু একটু করে কতো সময় চলে গেল একাকী। ভালোবাসার কথাটা জানানো প্রয়োজন। এই বাড়ির নিঃসঙ্গতার ভুতটা কখন যে আমার ঘাড়ে ভর করে আবার কোন অনর্থ ঘটায়, কে জানে? এই নিঃসঙ্গতা কাটাতে ওকে আমার চাই।
কথায় কথায় জেনেছিলাম, পৃথিবীতে ওর কেউ নেই। একটা অরফানেজে পালিত হয়েছে রাশ্যান মেয়ে স্টেলা। সেখানেই এখন শিক্ষিকা হিসেবে কাটায়। কঠোর নিয়মানুবর্তিতা তাকে অন্য ধাঁচের মানুষ করে তুলেছে। আবেগের উপর কঠিন নিয়ন্ত্রন, বুঝতে পারি। নিজের ভেতর তাই খুব উৎকণ্ঠা বোধ করি, যদি ফিরিয়ে দেয়, এই ভয়ে।
- স্টেলা,সুন্দরভাবে বাঁচার জন্যে তোমার একটা মানুষ প্রয়োজন। অরফানেজে বাচ্চা পড়িয়ে জীবন যাবে?
-কি করতে বলো আমাকে? হাত ধরার মানুষ কোথায় মার্ক? বলতে পারো?
-মার্ককে পছন্দ হয়না? দেখোইনা একটা সুযোগ দিয়ে। দেবে?
অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ও। জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করে। অপদার্থ পাইলটও চীৎকার করে উঠে। আমিও বুকের কাছে টেনে নেই ওকে, ভাগ্যিস এখানে বিকেলগুলোতে প্রচণ্ড শীত পড়ে ! !
অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হলে পাগল হয়ে যায় স্টেলা। অহেতুক ব্যাকুল হয়ে থাকে। পাইলট ওকে মানতে রাজি না। আমি ফেরা পর্যন্ত গেটের কাছে গিয়ে শুয়ে থাকবে, রুচিহীন একটা অকৃতজ্ঞকে পালছি আমি! চার্চে বিয়ের কাজ সেরে যেদিন প্রথম স্টেলাকে বাড়ি আনি, অভ্যর্থনার কেউ ছিলোনা। পা মুড়ে শুয়ে মুখটা বাকিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে পথের ধারে পড়ে ছিল পাইলটটাও, মেহমানকে পাত্তা দেবেনা, ভাব।
রোমহর্ষক আনন্দ বোধ করছিলাম আমি। নতুন করে পথ চলার শুরু।
এই একলা বাড়ি, জিনিসপত্র, আমার সব কিছুর সাথে যখন ওকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলাম, অদ্ভুত নৈকট্যের স্বাদে হৃদয় ভরেছিল। তবুও কেন যেন দুরে দূরে, সারাদিন ভাবনার মধ্যে ডুবে থাকে। খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে ওর সংযম অবাক করে দিতো। পঁচিশ বছরের তরুণী, খাবার খায় দু'বছরের বাচ্চার মতো, অথচ নিজের হাতে এমনভাবে খাইয়ে দিতো, দুনিয়ার খবর থাকতো না আমার। মাঝে মাঝে এতো নিজের মনে হয়, পরক্ষনেই সব ভেঙ্গে উঠে চলে যায়। এতো কাছে থেকেও কি করে দুরের মানুষ থাকে, আমি কুল পাইনা। নিস্তব্ধ বাড়িটাতে ও নিস্তব্ধতার চলমান রূপ।
বিছানায় স্টেলা অসম্ভব রকমের শান্ত। নিজের ইচ্ছেতে কাছে এসেছে, এমন ঘটনা ঘটেনি কোনদিন। অনেক ভালোবেসে আমার মতো করে নিয়ে তবেই ... কাছে ডেকেছি, ঠোঁটে চুমু দিতে গিয়েছি, অমনি চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেছে। ফাইল্যেমোফোবিয়া !! আমি জোর করিনি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now