বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভেইল অফ ভিসর
By Erris
ফায়ারপ্লেসে আগুনের দাপাদাপি বেড়েই চলেছে। আগুন দেখে ভালোলাগার ব্যাপারটা কোনকালেই ছিলনা আমার। কয়লার তীব্র সুগন্ধ। আয়নায় আমার প্রতিচ্ছবি। দেখতে আমার মতো নয়। আজ ভিন্নরকম দেখাচ্ছে আমাকে। আজকের দিনটাও অন্যদিনের মতো নয়। চেহারায় রাজ্যের অভিমান নিয়ে ও চুপ করে আছে। অন্যদিনগুলোতে ও কথা না বললে দুঃসহ ঠেকতো সব। আজ বিপরীত। ও বেডে শুয়ে আছে। আমি তাকিয়ে আছি। ওর দিকে না, দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের দিকে, পাশেই পড়ে থাকা বোবা কান্নার আর্তির দিকে...
শহরের কোলাহল ছেড়ে দূরে ছোট একটা কটেজে থাকি। আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা দুই। আমি, আর পাইলট। পাইলট দুপুর পর্যন্ত একাই থাকে। অফিস থেকে ফিরে একসাথে লাঞ্চ। রোজ বিকেলে ঝরা ম্যাপেলের পাতা মাড়িয়ে ছ'টি পা হেঁটে যায় রেডস পার্কে। খুব একটা কেউ আসেনা এখানে। ঝোপঝাড়ের কাঁটাগাছগুলো পার হয়ে বেঞ্চিটাতে বসি। চারপাশে নানা রঙের ফুল। দেখলে কে বলবে যে এদের বেড়ে উঠার পেছনে কারো যত্ন আত্তি ছিলোনা! মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে কিছু ফুল নিয়ে যায় ঘরে, পাইলটের জন্যে হয়না। ফুল হাত দিলেই '' ঘেউ ঘেউ" বলে প্রতিবাদ করতে থাকে। পার্কে যাবার উদ্দেশ্যটা আমার আর পাইলটের বল ছোড়াছুঁড়ি খেলার মধ্যেই আটকে থাকে।
ওর সাথে আমার প্রথম দেখা হবার কারণটাও পাইলট। বল ছুঁড়ে দিয়ে আনতে বললাম। গেলো, ফিরে আসলো না। একটু পরেই প্রতিবাদী পাইলটের চিৎকার
- ঘেউ ঘেউ ঘেউউউ ...
এগিয়ে গেলাম। কেউ ফুল ছিঁড়ছে। খোলা চুল, পরনে ছাই রঙয়ের গাউন। বিকেলের রোদে চিকচিক করতে থাকা সোনালী চুল, ছাই রঙা গাউন, পাতার মর্মর আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফুল মিলে এক অপার্থিব দৃশ্য দেখছি। অন্য একজন মানুষের অস্তিত্ব টের পেয়েও সে পেছন ফিরে চাইলো না! কি নিষ্ঠুর !! জনাকীর্ণ ঝোপের রাজ্যে এই অপার সৌন্দর্যের স্রষ্টা যে রানী, তাকে সামনে থেকে দেখার সাধ আমাকে একটা মুহূর্ত বিলম্ব করতে দেয়নি। শান্ত প্রেমময় চোখ দুটো দিয়ে যেন এই বুকের পাঁজর কেটেকুটে ভেতরে সব ভরিয়ে দিচ্ছে অপরিচিত ভালোলাগায়। গালে গোলাপি আভা। চোখাচোখি হল। সৌজন্যের হাসি হৃদয় বিদীর্ণ করে দিয়ে ফিরে গেল আগের অবস্থানে। কিছু বলতে পারিনি। হয়তোবা ওইদিনটা বরাদ্দ করা হয়েছিল শুধুই দেখার জন্যে।
আমি, পাইলট, ম্যাপেলের পাতা আর নির্জনতার মাঝে জায়গা করে নিল একটি আবছা অবয়বের অপেক্ষা। ভাবনাতেও ছিলনা কোনদিন, এইভাবে আমাকে তাড়িয়ে বেড়াতে পারে গোলাপি কোন গালের স্বপ্ন। এইদিন অন্যদিনের চেয়ে আলাদাভাবে পার্কে যাওয়া শুরু। পাইলট গেলো, বল ছিল। উৎসুক চোখ আর ঠোঁটের কার্নিশে ঝুলে থাকা না টানা সিগারেটের পড়ি পড়ি ছাই নিয়ে ছাই রঙা গাউনের নড়াচড়ার অপেক্ষা ছিল। ও এসেছিল সেদিনও। ফুল কুড়ানোর উদ্যমটাকে ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা জড়িয়ে ছিল নিচু করে রাখা মুখের উপর সাঁতরে বেড়ানো পিচ্ছিল সোনালী চুলের মাঝে। উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছিলাম, মৃত্যুপথযাত্রী ছাইটা কখন সারা গায়ে মেখে নিলাম বুঝতে পারিনি। সে এলো, ফুল নিলো, পাইলট চিৎকার করে করে হয়রান হল, আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। কথা বলার কথা মনে ছিল না। চলে যাবার পর মাথায় আসলো নামটা পর্যন্ত না জিজ্ঞেস করার মতো বোকামির সদ্য সিল লেগে যাওয়া একটা নিরেট গবেটের নির্বুদ্ধিতার কথা!
একই ভুল আর না। মনের মধ্যে উথাল পাথাল, মুখে তালা এঁটে বসে থাকার মানে নেই। নামটা তো অন্তত জানা দরকার। আচ্ছা, ওর নাম কি হতে পারে?? জেইন? ক্যাথি? লিণ্ডা ? অ্যালেক্স?
পোশাকের সাথে মিলিয়ে জেইন নামে বেশ মানাবে। পিচ্ছিল সোনালী চুলের জন্যে অবশ্য ক্যাথির সমতুল্য কোন নাম নেই। গোলাপি রঙের গালটার জন্যে লিণ্ডা ভালো লাগবে। নরম হাসির স্রোতে সারাক্ষণ কাঁপতে থাকা ঠোঁট দুটোর জন্যে অ্যালেক্স হওয়াটা অস্বাভাবিক না। কি যে পাগল পাগল লাগছে নিজেকে। যেভাবে নাম দিয়ে যাচ্ছি, বেচারি না নাম সংরক্ষণে রাখতে শেষে কাঁধে পার্মানেন্টলি ট্রাভেল ব্যাগটাও লাগিয়ে রাখতে হয়। নাম দেয়ার ইস্তফা। এখন শুধুই পথ চেয়ে থাকা। আসলেই আগে নাম জানার কাজ, তারপর বাদবাকি সব। আচ্ছা, আসবে আমি কি করে সিওর হলাম? যদি না আসে? হয়তো সকালে এসে ফুল নিয়ে গেছে এমন হতে পারে, এটাও হতে পারে যে আজ ফুল লাগবেনা। অথবা অন্যখানে ফুল আনতে যাবে, এখানে আসবেনা। এসব কথা আগে ভাবিনি কেন? না আসুক, কঠিন একটা শিক্ষা হোক আমার। সন্ন্যাস জীবন নিয়ে মগজের স্বাভাবিক পরিমাণটাও কমিয়ে ফেলছি দিনদিন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now