বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আতঙ্ক-০১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আতঙ্ক লিখেছেনঃ ব্লগার ত্রিনিত্রি ১। অস্বস্তি নিয়ে আমি বন্ধ কাঁচের জানালা দিয়ে আকাশ দেখছি। অবশ্য আকাশ দেখাটা একটা ভানমাত্র। আমার সমস্ত মনোযোগ আমার স্বামীর দিকে। তার দিকে তাকানোর প্রবল ইচ্ছা আমি প্রাণপণ চেষ্টা করে চেপে রাখছি। সে বিছানায় আধশোয়া হয়ে একটা ইংরেজী বই পড়ছে। স্বামীর দিকে তাকানো অপরাধের মাঝে পড়ে না, তার দিকে তাকানোর জন্য কোন কারণেরও দরকার নেই। যে অনুভূতির জন্য আমি তার দিকে তাকাতে পারছি না সেটা ভালোবাসা বা লজ্জা না, সেটা হচ্ছে আতংক। প্রবল আতংকে আমার গলা শুকিয়ে আসছে। আমি জানি পিছনে ফিরলেই গত সপ্তাহের মত আজও মাহিনের মাঝে নতুন কিছু লক্ষ্য করবো। প্রতি শুক্রবারেই করছি। আজ আবার আরেকটা শুক্রবার। ব্যাপারটা এতটাই অদ্ভুত যে অপরিচিত কেউ শুনলে নির্ঘাত আমাকে মানসিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে বলবে। পরিচিতজনেরা শুনলে আমার প্রতি মায়াভরা দৃষ্টি দেবে, প্রেমিক হারানো পাগল প্রেমিকার দিকে আমরা যে দৃষ্টিতে তাকাই। কিন্তু আমি জানি আমার মাথা খারাপ হয়নি। এত সহজ না আমার দৃষ্টিভ্রম হওয়া। আমি অসম্ভব পরিশ্রমী এবং চালাক প্রকৃতির একজন নারী, তার সাথে যোগ হয়েছে ধূর্ততা এবং সতর্কতা। পাপ-পুণ্য সম্পর্কে আমার ধারণা সাধারনের কাছে হয়ত প্রশ্নবিদ্ধ, কিন্তু আমি সেসব নিয়ে মাথা ঘামাইনা। এসব গুনের জন্যই নিতান্ত গরীব ঘরের হওয়া সত্ত্বেও এখন আমি দুই দুইটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক। এসব গুণের জন্যই হাতে খুনের রক্ত লাগিয়েও আমি নির্বিঘ্নে খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছি। খুনের জন্য আমাকে দায়ী করা তো দূরের কথা, খুনের সন্দেহও যাতে কেউ না করে তার সকল ব্যবস্থা আমার পরিচিতজনেরাই আগ্রহ নিয়ে করেছে। মুনীরের নিজের বাপ-মাও করেছে। মুনীর, যাকে খুন করার দুই মাসের মাঝেই তার সমস্ত স্মৃতি ভুলে গিয়েছিলাম। “অ্যাঁই শুনছো? আমি না আজকে পেপার দেখে নতুন একটা রান্না করেছি। অনেক ঝাল, তোমার খুব পছন্দ হবে”। এসি রুমেও আমি বুঝতে পারছি আমার কপালে ঘাম জমছে, বুকের বামপাশে একটা চিনচিনে ব্যথা। সম্ভবত আমি ভয় পেয়েছি। ভয়ের অনুভূতি আমার কাছে একেবারেই আনকোড়া, তাই নিশ্চিত হতে পারছি না। ভয় পাওয়ার কারণটা কি? “কেন? আজকে বাবুর্চি আসেনি? তুমিই যদি রান্না করবে তাহলে বাবুর্চিকে এত বেতন দিচ্ছি কেন?” “আশ্চর্য! বাবুর্চি তো রোজই রাঁধে। আমি কি শখ করে কিছু রাঁধতে পারিনা?” ভয় পাওয়ার কারণটা সাথে সাথে বুঝে ফেললাম। মাহিন রাঁধতে পারে না, রান্নাবান্নার মত মেয়েলী স্বভাব থাকলে ওকে আমি বিয়ে করতামও না। রাঁধতো মুনীর, পেপার আর রেসিপি বুক খুঁজে খুঁজে অদ্ভুত সব রান্না করতো সে। এই জাতীয় কথোপকথন প্রায়ই আমাদের মাঝে হতো। উত্তর জানা সত্ত্বেও যান্ত্রিকভাবে প্রশ্ন করে ফেললাম... “কি রেঁধেছো?” “উহু বলবো না, সারপ্রাইজ!” মুনীরও বলতো না। সবসময় বলতো সারপ্রাইজ। “চিংড়ী আর ক্যাপসিকামের কাবাব বানিয়েছো?” “তুমি জানলে কি করে??” মাহিন অবাক হয়ে চেঁচিয়ে উঠলো। “একরাম বলে দিয়েছে? একরামের সাথে দেখা হলো কখন তোমার?” একরাম আমাদের বাবুর্চি। ওর সাথে আমার দেখা হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এবাসায় চাকর-বাকরের কাজ অনুযায়ী তাদের জায়গা নির্দিষ্ট। একরামের সাথে দেখা হতে হলে আমাকে রান্নাঘরে যেতে হবে, আমি নীচতলায় ড্রয়িংরুম ছাড়া অন্য কোন রুমেই যাইনি বছরখানিক। চিংড়ী দিয়ে ক্যাপসিকামের কাবাব মুনীর বানিয়েছিলো, আমাকে খাওয়ানো তার শেষ রান্না। আমি কুল কুল করে ঘামতে থাকি, নিজের হৃদপিন্ডের শব্দ নিজেই শুনতে পাচ্ছি স্পষ্ট। “মাহিন, তুমি রুম থেকে বের হও”। “কি? কি বললে?” প্রচন্ড রাগে চিৎকার করি এবার, “বলেছি তুই বের হ। বাইর হ তুই আমার রুম থেকে”। মাহিন বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আমি দেখলাম ওর থুতনিতে একটা কাটা দাগ, স্পষ্ট একটা তেছরা কাটা দাগ; ঠিক যেমন মুনীরের ছিল। আমি ছুটে ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম। হাপরের মত শব্দ হচ্ছে বুকে। স্টাডি রুমে গিয়ে প্রথমেই কাঁপা হাতে ক্লায়েন্টের নতুন দেয়া মদের বোতলটা বের করে কিছুটা গ্লাসে ঢালি। চমৎকার জিনিস, নামটা যদিও আমার অপরিচিত। রোমানিয়া না কোথা থেকে যেন নিয়ে এসেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তরল পদার্থ তার কাজ শুরু করে, আমি একটু শান্ত হই। গত কয়েক মাসের ঘটনা এখন একটু ঠান্ডা মাথায় খতিয়ে দেখতে হবে। প্রবল অপরাধবোধের কারণেই কি আমার আজ এ অবস্থা? কিন্তু আমি তো মুনীরকে এক সেকেন্ডের জন্যও ভালোবাসিনি। সেদিনের প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি অনুভূতি আমার স্পষ্ট মনে আছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now