বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গ্রহণ-০২

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৩. “সুবীর শালা গেল কই?” বিড়বিড় করতে করতে দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে আরিফ। রাস্তার ওপারে দু’টো বাড়ির মাঝের চাপা জায়গাটা থেকে প্যান্টের চেন টানতে টানতে বেরিয়ে এলো সুবীর। “কিরে, কখন আসলি?” “তোর এতক্ষণ লাগলো ছাড়তে? দোকান যে খোলা রেখে গেছিলি, কেউ যদি আইসা জিনিসপাতি নিয়া যাইতো?” দাঁত বের করে হাসলো সুবীর। “যা বে! আমার এলাকায় আমার লগে বাটপারি করব, পোলাপাইন এহনো এতো বাড়েনাই। আয়, ভিতরে আয়।” সুবীরের পিছন পিছন দোকানের ভিতরে ঢুকলো আরিফ। কাউন্টারের পিছনে বসতে বসতে সুবীর বলল, “দে, মালটা দে।” “দোস্ত, একটা ঝামেলা হয়ে গেছে।” “এইটা বলিস না যে, জিনিসটা তুই আনোস নাই!” “তুই আগে আমার কথাটা শোন...” “তোর কি কথা শুনব আমি? তুই বললি যে আজকে সকালে তুই ওইটা আমার হাতে দিবি। আমি তোরে বলিনাই পরে নে? তুই সেইটা শুনলি না, এখন বলতেছিস যে তুই ওইটা আনোস নাই?” “শোন, কি হইসে আগে শোন। কালকে -” “আমার কিছুই শোনার দরকার নাই। তুই এক্ষন ওঠ! ওইটা নিয়া আইসা আমার হাতে দিয়া কি কইতে চাস ক!” “সুবীর, শোন –” “না, তুই আগে ওঠ।” “সুবীর! থাম।” “চিল্লাবি না!” “ঠিক আছে। আমি এখনি যাচ্ছি। তুই শুধু দুইটা কথা শোন। বস।” “কি বলবি, তাড়াতাড়ি বল!” “আমি আজকে সকালে সিডিটা আমার টেবিলে রাখছি। আমি জানি আম্মা আমার টেবিলের জিনিসে কখনো হাত দেয়না। so, কোন problem হওয়ার কথা না। আমি জাস্ট দুই মিনিটের জন্যে বাথরুমে গেছি। কিন্তু, আইসা দেখি আমার ছোট ভাই ওইটা দুইভাগ কইরা হাতে নিয়া ড্রাম বাজাইতেছে। এখন... সাড়ে চার বছরের পিচ্চি, কি কমু ক? আর, একবার দেখছি... ভাবলাম রেখে কি করব? তাই কপিও করিনাই। দোস্ত, প্লিজ, রাগ করিস না।” “তুই কি বুঝতে পারতেছস, তুই আমার ব্যবসার কত বড় লস করাইলি ?” “আমি তো ইচ্ছা কইরা করিনাই দোস্ত। তুই আমারে বল, কার কাছ থেকে নিয়ে আসতে হবে, আমি নিয়ে আসতেছি।” “বাল! সেই উপায় থাকলে তো আমি এইরকম করতাম না!” “মানে?” “যার কাছে থেকে নিছি, সে ওই মেয়ের বয়ফ্রেন্ড। শুধু মজার জন্যে আমারে ক্লিপটা দেখাইছে। আমি ওরে না বইলা ওর মোবাইল থেকে নিছিলাম। পরে আমার সামনেই মোবাইল থেকে ডিলিট কইরা দিল!” “তুই ওই ভিডিও ছাড়লে ওই ছেলের চেহারাও তো দেখা যাইত। তোরে কি ছাইড়া দিত?” “আরে বেটা, আমি তো ওই পোলার চেহারা blur কইরা দিতাম। আর আমি তো ওরে চিনি। কয়দিন পরেই মাইয়ারে ছাইড়া দিত এমনিতেই। ভিডিও দেখলে একটু তো ফালাফালি করতোই। তখন হাতে দুইটা মালের বোতল ধরায় দিলেই problem শ্যাষ। কিন্তু এহন! তোর জন্যে কিছুই হইলো না!” “sorry দোস্ত! ...তুই তো বুঝতেছিস অবস্থাটা। কেমনে যে এইটা হয়া গেল...” দু’আঙুলে কিছুক্ষণ কপাল চেপে ধরে রাখে সুবীর। “আচ্ছা যা! কি আর করবি? আমারই কপাল খারাপ! কিন্তু, এমনি এমনি পার পাবি না। সন্ধ্যায় আসিস বোতল নিয়া। খরচ তুই দিবি পুরাটা।” “ঠিক আছে। ৮ টার মধ্যে আসতেছি। কিন্তু, একটা জিনিস বুঝলাম না। মেয়েটারে দেইখা তো ভদ্র মনে হইলো... এইরকম ছেলের সাথে এর হইলো কেমনে?” “অন্ধকার ছিল, ছেলেরে তুই তো ভালমত দেখতে পারস নাই। সেইরকম ফিগার। আর কথাও সেইরকম। আমাদের মত না! আর বুঝো না, বড়লোকের পোলা, টাকাই টাকা! খালি খারাপের মধ্যে, মাল খায় আমার লগে!” বিশ্রী একটা হাসি দিল সুবীর। “পটাইতে আর কি লাগে এগুলা ছাড়া? এখন যা, বহুত গ্যাযাইছস। কাজ করতে দে।” “ঠিক আছে। সন্ধায় আসতেছি তাইলে।” “যা।” গতরাতের বৃষ্টিতে পুরো রাস্তায় তখনো প্যাচপ্যাচে কাদা। সেদিকে খেয়াল নেই আরিফের। বড় বড় পা ফেলে ও সামনের রাস্তায় হেঁটে চলে যাচ্ছে। হাতে ধরা সিগারেটে ছাই জমছে, মিশে যাচ্ছে কাদাপানিতে। ৪. “আরেকটু ঢাল না রে আরিফ... এই এতটুকু...” সুবীরের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। আরিফ গাঢ় সবুজ রঙের বোতলটা থেকে কাঁচের ছোট গ্লাসটায় খানিকটা তরল ঢেলে সুবীরের দিকে এগিয়ে দেয়। পাশে আরেকটা গ্লাসের তখনো প্রায় পুরোটা ভর্তি। গ্লাসটা হাতে নিয়ে সেটার ভিতর দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে সুবীর বলে, “দেখ, আকাশটার গায়ে কেমন সোনালী সোনালী ফুটকি হইছে! আচ্ছা, আকাশেরও কি চিকেন পক্স হয়? আরিফ, এ্যাই আরিফ! দেখনা!” আরিফ মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকায়। ভাঙা একটা চাঁদের উপর দিয়ে ক্রমাগত মেঘ সরে যাচ্ছে। কেমন ভ্যাপসা গরম পড়েছে আজ। কোন বাতাস নেই। বৃষ্টি হবে বোধহয়। সুবীর তখনো বিড়বিড় করে কি যেন বলে যাচ্ছে। হঠাৎ যেন দশতলার এই ছাদের উপর মেঘগুলো খুব কাছে নেমে এলো। শূণ্যে আঙুল চালিয়ে আরিফ মেঘগুলোকে হাওয়াই মিঠাইয়ের মত পেঁচিয়ে যাচ্ছে। গরম! সারা শরীর ভিজে উঠছে ঘামে। ছাদের রেলিঙের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় আরিফ। ...তৃণা... মেয়েটার নাম তৃণা। কাছেই থাকে... আদাবর। তাতে আমার কি? আমি এসব চিন্তা করছি কেন? নষ্ট একটা মেয়ে! ও! আর তুমি খুব সাধু? তুমি নষ্ট না? তোমার কোন দোষ নাই? নাকি ছেলেদের কোন দোষ হয়না? টপ করে একফোঁটা পানি আরিফের হাতের উপর পড়ল। মুখ তুলে আকাশে তাকায় ও। বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি নেমে আসছে। কেন সিডিটা সুবীরকে ফেরত দিলনা, জানেনা আরিফ। ওর শুধু মনে হচ্ছিল, কিছু একটা ঠিক নেই... কোথাও কিছু একটা ভুল হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটাকে কি ওর খুব ভালো লেগে গেছে? নাহ্! ...এভাবে ভালো লাগেনা কাউকে। তাহলে এরকম লাগছে কেন? বৃষ্টির ফোঁটাগুলো আরও ঘন হয়ে আসছে। সবুজ রঙের বোতলের উপর পানির কণাগুলোও সবুজ হয়ে গেছে। সোনালী তরলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে একটু একটু করে। সুবীরের তখনো ঘুম ভাঙেনি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now