বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্বিতীয় প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X সিফাত আর মৌমি একটি পাবলিক ভার্সিটির সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের তৃতীয় বর্ষে পড়ে। তাদের দুজনের মধ্যে খুব গভীর প্রেমের সম্পর্ক। ক্যাম্পাসের সবাই তাদের রোমিও জুলিয়েট নামেই চিনে। এইচএসসি শেষ করে আদর সবে মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, মৌমিদের ডিপার্টমেন্টেই, সাইকোলজি। আদরদের ক্লাশের প্রথম দিনেই মৌমি আর তার বান্ধবীরা মিলে তাকে র্যাগিং করে। মৌমি : এই ছেলে... আদর : জ্বী আমি? মৌমি : হ্যাঁ আপনি। আদর : জ্বী বলুন। মৌমি : ভার্সিটিতে নতুন? আদর : হ্যাঁ। মৌমি : বড় আপুদের দেখলে সালাম দিতে হয় জানিস না? আদর : জ্বী আপু। মৌমি : আবার জ্বী আপু বলিস, বেয়াদব। সালাম দে! আদর : আস-সালামু আলাইকুম। মৌমি : ওয়ালাইকুম আস্-সালাম। নাম কি তোর পিচ্চি? আদর : আদর। মৌমি : এরপর থেকে যখনি বড় আপুদের দেখবি, সালাম দিবি, মনে থাকবে? আদর : জ্বী আপু। মৌমি এমনিতে খুব দুষ্ট প্রকৃতির। সুযোগ পেলেই দুষ্টুমি করে। অন্যদিকে আদর খুব সহজ সরল। তাই মৌমি যখনি আদরকে দেখতো, পিচ্চি, পিচ্চি বলে ডাকতো। কিন্তু মৌমির এই পিচ্চি বলে সম্বোধন আর তুই করে বলা আদরের মোটেই পছন্দ হতো না। আদর খুব রাগ করতো আর বলতো তোমার সাথে কথা বলবো না। তারপর আবার মৌমি আদরের রাগ ভাঙাতো। মৌমি : এই পিচ্চি এদিকে আয়। আদর : তুমি আমাকে পিচ্চি বলবে না। তাহলে কিন্তু আর কথা বলবো না। মৌমি : ইশ! বড় বাবু এসেছে। এদিক আয় তো দেখি তুই কত বড় হয়েছিস। হুম, ঠিকই তো! আমার চাইতে দু'ইঞ্চি বড়। আদর : হা হা হা। বলো কি বলবে? একই ডিপার্টমেন্টে পড়ার সুবাদে আদর আর মৌমির মাঝে আস্তে আস্তে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে যায়। আদর যখনি কোন পড়া বুঝতো না, মৌমিকে বললেই তা বুঝিয়ে দিতো। অর্পিতা হচ্ছে মৌমির সব চাইতে ভালো বন্ধু। কিন্তু সে মনে মনে মৌমির প্রেমিক সিফাত কে পছন্দ করতো। আদরের সাথে মৌমির বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকেই সে সিফাতের কাছে তাদের সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতো। একদিন মৌমি আর সিফাত এক সাথে হাঁটছিল। তখন আদর এসে মৌমির কাছে একটা পড়া বুঝতে পারছে না তাই বুঝিয়ে দিতে বলে। মৌমি সিফাতকে বলে তুমি যাও, আমি ওকে পড়াটা বুঝিয়ে দিয়ে আসি। একথা শুনে সিফাত, মৌমি আর আদর দুজনের সাথেই খুব খারাপ ব্যাবহার করে। আদর তখন ভুল হয়ে গিয়েছে বলে চলে যেতে চায়, কিন্তু মৌমি সিফাতকে রেখে অনেকটা জোর করেই আদরকে লাইব্রেরীতে নিয়ে গিয়ে পড়া বুঝিয়ে দেয়। আদর মাঝে মাঝে মৌমিদের বাসায় যেত। কখনো পড়া নিয়ে কখনো এমনিতেই। আর আদর ওদের বাসায় গেলে মৌমিও কিছু মনে করতো না। কারন মৌমির বাসায় ওর মা ছাড়া কেউ নেই। আদর গেলে আড্ডা দিয়ে সময়টা ভালোই কাটতো ওদের। মৌমির মাও আদরকে খুব পছন্দ করতো। মৌমি আর সিফাতের সম্পর্ক এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিন মৌমি সিফাতের সাথে দেখা করতে চায়, কিন্তু সিফাত শরীর খারাপের কথা বলে না করে দেয়। সিফাতের শরীর খারাপের কথা শুনে মৌমি তাড়াতাড়ি করে তার বাসায় যায়। বাসায় গিয়ে দেখে সেখানে অর্পিতা আর সিফাত ছাড়া কেউ নেই। অর্পিতা যদি সিফাতকে দেখতে আসতো তবে অবশ্যই মৌমিকে বলে আসতো। তাছাড়া ওর বাসার অবস্থা দেখে মৌমির কিছু বুঝতে বাকি থাকে না। মৌমি প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে সিফাতের গালে জোড়ে একটা চড় মেরে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে আসে। এরপর সিফাত আর কখনোই মৌমির সাথে কথা বলার চেষ্টা করেনি। আর মৌমিও না। তাদের সম্পর্কটা এখানেই শেষ হয়ে যায়। সিফাতের সাথে বিচ্ছেদের পর থেকে মৌমমি প্রচন্ড রকম মানষিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে থাকে। কারো সাথে কথা বলে না, ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করে না। আর এই সময়টাতে আদর মৌমিকে অনেক বোঝায়। কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হয় না। তারপর একদিন মৌমি বাসায় যত ঔষধ ছিলো সব একসাথে খেয়ে ফেলে আত্মহত্যা করার জন্যে। খাওয়ার আগে আদরকে একটা মেসেজ দেয়, আমি চলে যাচ্ছি, তুই তোর মত করে কাউকে খুঁজে নিস। এদিকে এমন মেসেজ পেয়ে আদর সাথে সাথেই মৌমিকে ফোন দেয়, কিন্তু বন্ধ পায়। ফোন বন্ধ পেয়ে দ্রুত সে মৌমিদের বাসায় যায়। মৌমির আম্মুকে ওর কথা জিজ্ঞেস করলে বলে ও তো ওর রুমে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু ওর রুমের সামনে গিয়ে দেখে দরজা লাগানো। অনেক ডাকাডাকির পরেও যখন ভেতর থেকে দরজা খোলে না, তখন দরজা ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখা যায় মৌমি অচেতন হয়ে পরে আছে। হাসপাতালে নেয়ার সাত দিনপর মৌমির জ্ঞান ফিরে। এই সাতটি দিন আদর মৌমিকে ছেড়ে এক মুহুর্তের জন্যেও কোথাও যায় নি। দিনরাত মৌমির সেবা করেছে। অন্যদিকে সিফাত এই কয়দিনে একবারও দেখতে আসেনি। কিন্তু মৌমি সুস্থ্য হয়ে বাসায় ফেরার পর সিফাত তার ভুল স্বীকার করে আবার তার জীবনে ফিরতে চায়। তবে মৌমি এবার সিফাতকে না করে দেয়। অন্যদিকে এটা শুনে আদর, মৌমির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। মৌমি বুঝতে পারে যে আদর তার থেকে দূরে চলে যেতে চাইছে। তাই সে আদরের বাসায় যায়। গিয়ে দেখে যে আদর নেশা করছে। আদরের এই দশা দেখে মৌমি খুব কষ্ট পেয়ে ওকে কে থাপ্পড় দিয়ে বলে, মৌমি : তোমার কিসের এত কষ্ট? আদর : জানি না, মনে হচ্ছে জীবন থেকে কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে। মৌমি : হারিয়ে যেতে থাকা জিনিষটা যদি নিজ থেকেই তোমার কাছে ধরা দিতে চায়? আদর : তা কখনো হবে সম্ভব না। মৌমি : আচ্ছা, তুমি সব সময় আমাকে নিয়ে এত ভাব কেন? আদর : জানি না। তবে কেন জানি তোমার সব কিছুই আমার নিজের মনে হয়। মৌমি : তুমি কি আমাকে ভালোবাসো? মৌমির প্রশ্ন শুনে আদরের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে। আর তারপর দু'জন দুজনকে জড়িয়ে ধরে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিয়তির প্রেম [দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব]

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now