বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আধারের মেয়েটি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)

X আজ রবি খুব খুশি। প্রমোশন পেয়েছে। সাব ইন্সপেক্টর থেকে ইন্সপেক্টর হয়েছে। আপন মনে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে। এতটাই খুশি যে খেয়ালই করে নায় কোথায় এসে গেছে। হঠাৎ লক্ষ্য করল আশপাশ বেশ অন্ধকার। রাস্তা চিনার জন্য রবি চারপাশটা দেখতে লাগল। হঠাৎ একটা মেয়েলি কণ্ঠে ভেসে আসল। > আসুন। তাড়াতাড়ি। . রবি একটু ঘাবড়ে গেল। সাথে পিস্তলটা আনেনি। মেয়েটা রবির হাত ধরে টেনে একটা নির্জন পরিবেশে নিয়ে এলো। ভয়ে রবির শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। . > ভয় নেই। এখানে কেউ আসবে না। - কি …… কি … কি করছেন এসব? আপনি কে? > দেখুন সময় নেই। তাড়াতাড়ি শুরু করুন। - দে..খু..ন আপ...নার কো..থাও ভুল হচ্ছে। . এবার মেয়েটি একটু চমকে গেল। > আপনি মি. জাভেদ না? - না আমি রবি। . মেয়েটি কিছুক্ষণ চুপ থাকলো তারপর বলল > আপনি কত দিবেন? - মা...নে? > ন্যাকামী না করে তাড়াতাড়ি বলুন। - দেখুন আমি ওরকম ছেলে না। > ধ্যাত আজকের দিনটাই মাটি। . মেয়েটি বসে পড়ে কাদতে লাগল। রবি কিছুটা অবাক হল। এসব মেয়ে কাদতেও জানে? রবি কিছুটা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল - আপনি কাদছেন কেন? > তা জেনে আপনার কি হবে? - এমনিই জানতে চাইলাম। > অন্যের কষ্টের কথা শুনার জন্য সবাই আগ্রহী থাকে। - আসলে তা নয়। কষ্ট শেয়ার করলে কমে। > আমাদের মত মেয়েদের কষ্ট কেউ শেয়ার করে নেয় না। আমাদেরকে শেয়ার করে। - এই রাস্তায় না চললেও তো পারেন। > কোনো মেয়ে কতটা নিরীহ হলে এই রাস্তায় নামে তা আপনার জানা নেই। - তা ঠিক। কিন্তু আপনার কারণটা কি জানতে পারি? . মেয়েটি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে যা বলল তাতে রবি অবাক হয়ে গেল। এতিম এই মেয়েটরও অন্য সকল ভালো মেয়েদের মত বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বাসররাতেই স্বামী তাকে বেঁচে দেয়। সেই রাতে নরপশুরা মেয়েটিকে ইচ্ছেমত অত্যাচার করেছিল। তারপর নামিয়ে দেয় এই পতিতালয়ে। মেয়েটি চেয়েছিল অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে কিন্তু পারেনি। কারণ তারা হুমকি দিয়েছিল পালিয়ে গেলে তার ছোট ভাইকে মেরে ফেলবে। একমাত্র ভাইয়ের কথা চিন্তা করে মেয়েটি প্রতিরাতে নিজের মনুষ্যত্বকে মেরে দাফন করে। . রবি স্তব্ধ হয়ে আছে। যেকোনো ধর্ম অনুযায়ী স্বামীর দায়িত্ব তার স্ত্রীকে রক্ষা করা। কিন্তু মেয়েটির স্বামীই তো ……!!! ছিঃ মানুষ নাকি পিশাচ। মনে মনে এসব বলতে লাগল। অন্যদিকে মেয়েটি উঠে হাটা দিল। রবি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে, মেয়েটির জন্য তার মনটা এমন করছো কেন? আচ্ছা, আমি যদি তার হাতটা আপন করে ধরি, তবে কি সে এই পথ ছেড়ে আমার সাথে আসবে? . রবি দৌড়ে যেয়ে মেয়েটির পথ আগলে ধরলো। একটু শ্বাস নিয়ে তারপর বলল - আমাকে বিয়ে করবেন? মেয়েটা অট্টহাসি দিয়ে বলল > বিয়ের দরকার কি স্যার। টাকার দিলেই হবে। - দেখুন আমি ওরকম না। > হাসালেন স্যার। আমাদের মত মেয়েদেরকে কেউ বিয়ে করে নাকি! যাস্ট ব্যবহার করে। - আমি সত্যিই আপনাকে বিয়ে করতে চাই। আর আপনার ভাইয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমার। . মেয়েটি এবার অবাক হয়ে তাকালো। রবি বলল সে একজন ইন্সপেক্টর। - আচ্ছা আপনার নাম? > রিমা। অতঃপর রবি রিমার সহায়তা নিয়ে রাতের আধারের এই দুনিয়া সৃষ্টিকারীদের হাতেনাতে গ্রেফতার করল। রিমার ভাইসহ আরও এমন অনেককেই উদ্ধার করল। যাদেরকে ধরে রেখে মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করে তাদের দ্বারা অপকর্ম করানো হিয়। এসব করতে করতে প্রায় সকাল হয়ে গেল। তারপর রবি রিমাকে তার ভাই ও কিছু সহপাঠিদের সাথে নিয়ে কাজী অফিসে এসে রিমাকে বিয়ে করল। . রিমার কাছে সবকিছু যেন স্বপ্ন মনে হচ্ছে। তার মত একটা রাতের আধারের মেয়েকে কেউ নিজের জীবনসঙ্গীনি করে? রবি রিমাকে নিয়ে ঘরে এলো। রিমা চুপচাপ হয়ে আছে। ঘরে নতুন বউ। তবুও পরিবেশটা একদম ঠান্ডা। রিমা কথা বলা তো দূর রবির দিকে এক পলক তাকাচ্ছেও না। রবি রিমার মনের অবস্থা বুঝল। তাই নিজ থেকে কথা বলা শুরু করল। . - রাতে ডিনারে কি খাবে? রিমা যেন হুশ ফিরে পেল। > ইয়ে মানে…… - এমন কিছু তো রান্না করতে পারি না রিমা মুচকি হাসলো। - যাক বাবা তাহলে আপনি হাসতেও পারেন। রিমা আবার চুপ হয়ে গেল। রবি রান্নাঘরে যেতে লাগল এবং রিয়াকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে লাগল - বিয়ের পরেও নিজে রেধে খাব। আহ কি মজা। . রিমা বুঝল। সে এসে বলল > আপনি যান। আমি রান্না করছি। রবি পাশে সরে গেল। রিমা রান্না করতে লাগল। রবি হেল্প করতে লাগল। তারপর তিনজন মিলে খেতে বসল। রিমা তার ভাইকে খাইয়ে দিচ্ছে। হঠাৎই সামনে মুখ হা করে হাজির হল রবি। - আমাকেও একটু খাইয়ে দাও। রিমা কান্না শুরু করে দিল। রবি রিমাকে বুকের মধ্যে নিল। - কেদো না প্লিজ। > এমন লাইফ আমি কল্পনাও করিনি। আমাকে ছেড়ে কখনো যাবে না তো? - নারে পাগলী। তুমি তো আমার হৃদয়ের স্পন্দন। তোমাকে ছাড়া বাচি কি করে বল। তুমি শুধু আমাকে একটু ভালবাসা দিও। আর কিছু চাইবো না। . অতঃপর দুজন দুজনকে খাইয়ে দিল। এভাবে কেটে গেল কিছু মাস। রবি ট্রান্সফার নিয়ে রিমা ও তার ভাই সহ অন্য শহরে চলে এসেছে। বেশ ভালই যাচ্ছে তাদের সাংসারিক জীবন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now