বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিশপ্ত ডায়েরী-০৮

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X “অভিশপ্ত ডায়েরী” (পর্ব-৮) By : সামিয়া আহমেদ । আর মিয়া অদৃশ্য হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে হয়ে গেল।কিছুক্ষণ পর সে ভাবল তার এই শহরে থাকা আর নিরাপদ না।তাই সে অন্য শহরে যাওয়ার কথা ভাবল।কিন্তু পরক্ষণে সে ভাবল যে সে এজেলার মত সব মন্ত্র জানেনা।তাই সে তার সকল মন্ত্র তার ডায়েরীতে লিখে রেখেছে। যেই ডায়েরীতে সে তার র জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা আর স্মৃতি লিখে রেখেছে।তাই সে ডায়েরি আনতে বাসায় যায় কিন্তু প্রিস্ট জানতো সে তার বাসায় তার জিনিস নিতে ঠিকই ফিরবে।তাই সে তার বাসার সামনে কিছু মানুষকে বলেছিল লুকিয়ে থাকতে।মিয়া খুবই সাবধানী হয়ে বাসায় ঢুকলো তারপর ডায়েরী থেকে মন্ত্র পড়তে লাগল যাতে সে এজেলার আত্মাকে পরপারে যেতে বাধা দিতে পারে।কিন্তু সে যখন মন্ত্র পড়ার শেষে তার সবকিছু নিয়ে বাসা থেকে বের হতে যাচ্ছিল তখন সবাই তাকে ধরে ফেলল।মিয়া তখন চেচিঁয়ে উঠল,“আমাকে ছেড়ে দাও। নাহলে তোমাদের সবার পরিণতি অশুভ হবে।”তখন একজন বলে উঠল,“আমাদের না তোর পরিস্থিতি অশুভ হবে,ডাইনি ।”এই বলে সে মিয়ার পেটে ছুরি ধুকিয়ে দেয়।প্রিস্ট বলে পরীক্ষা করে দেখ সে জীবিত কিনা।তাকে সবাই মৃত ভেবে সেখান থেকে চলে যায়।কিছুক্ষণ পর মিয়া চোখ খুলে এবং ডায়েরীটাতে একটি মন্ত্র লিখে যায়। যাতে যখনই যে কেউ এই মন্ত্রটি পড়ে মিয়া তার দেহে সে প্রবেশ করে তার অসম্পূর্ণ কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারে।কিছুক্ষণ পর মিয়া মারা যায়।মারা যাওয়ার আগে মিয়া প্রতিজ্ঞা করে তাকে মায়ের মত আদর করা এজেলা এর মৃত্যুর প্রতিশোধ সে নিবে এবং এজেলা আর এলেক্স দুইজনকে সে ফিরিয়ে আনবে।মিয়া মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ পর প্রিস্ট আর কয়েকজন এসে মিয়ার লাশ সেই বাড়ির বেসমেন্টে দাফন করে সেই রুমের দরজা দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেয়।কিছুদিন পর সবাই সবকিছু ভুলে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছিলো। কিন্তু কিছুদিন পর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাথাকাটা লাশ পাওয়া যেতে শুরু করে।লাশ গুলোর মাথা ছাড়া এমন বীৎভস্য লাশ দেখে ডেনভারবাসী এমনকি তদন্তকারী পুলিস অফিসাররা ভয় পেতে শুরু করে। পুরু এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি হয়।পুলিসরাও চিন্তিত হতে শুরু করে কারণ এর পিছনে কে আছে তা তারা বের পারছিল না এবং কারণটি বুঝা যাচ্ছিল না এমন হত্যার। কিছুদিন পর প্রিস্ট এর একজন সহচর্য লেকের ধারের রাস্তা দিয়ে হাটছিল হঠাৎ তার কাছে লাগল কেউ তার পিছনে আছে কিন্তু ঘুরে দেখলাম কেউ নাই।সে হাটছিলো হঠাৎ করে পিছলিয়ে পরে যায়।তার কাপড় সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে মেখে যায়। তাই সে লেকে গোসল করতে নামে এবংতার ক্রশটা তীরে রেখে যায় যাতে পানিতে গোসল করার সময় হারিয়ে না যায়।যখন গোসল করে উঠে তখন কারো কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় সে।যখন কাছে যায় দেখতে পায় আমাদের চার্চের একজন নান।সে তাকে বলল,“আরে তোমার হাতে ব্যথা পেলে কিভাবে?চল আমার সাথে চল আমি চিকিত্সার জন্য তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই।”নানটি তার সাথে চলতে চলতে তার হাত এমন শক্তভাবে ধরল যেন সে ভেঙে ফেলতে চাইছে।”সে বলল,“তুমি ছাড়ো আমাকে,আমি প্রচুর ব্যথা পাচ্ছি।”নানটি বলল,“তুমি কি আমাকে ছেড়ে দিয়েছিলে?আমি তোমাদের সবাইকে বলেছিলাম তোমাদের সবার পরিণতি অশুভ হবে।”এই বলে সে সহচর্যটিকে অনেক দুরে আছড়ে ফেলল।সহচর্যটি দেখে তার ক্রশটি তার থেকে ২-৩ হাত দুরে তাই সে হামাগুড়ি দিয়ে সেটি নেয়ার চেষ্টা করতে থাকে ততক্ষণে নানটি তাকে হত্যা করার জন্য একটি ধারালো ছুরি নিয়ে তার খুবই নিকটে চলে আসে। সে আমার উপর ছুরি নিয়ে তাকে যখন মারতে আসল ঠিক তখনই সে তার উপর ক্রশটি ছুরে মারলো।নানটি তক্ষণাৎ ছটফট করতে লাগল এবংজ্ঞান হারিয়ে ফেলল।তক্ষনাৎ আমি প্রিস্টকে যেয়ে সব বললাম।আমি আর আব্বু বললম,“তাহলে আপনি সেই সহচর্য?”প্রিস্ট বলল,“হ্যা,তখন আমি সেই সময়কার প্রিস্ট এর সহচর্য ছিলাম।এখন আমি নিজেই একজন প্রিস্ট।”আব্বু বলল,“তারপর কি হলে?”প্রিস্ট বলল,“আমি আমাদের প্রিস্টকে সব বলার পর সে নানকে নিয়ে আসল এবং তার চারপাশে হলি ওয়াটার আর কান্ডেলস জ্বালিয়ে মন্ত্র পড়তে লাগল যাতে নানের জ্ঞান ফেরার পর মিয়া তার দেহে প্রবেশ করতে না পারে।নান জ্ঞান আসার পর বলল যে এজেলার বাড়িতে সে যাওয়ার সে একটি ডায়েরী পায় তাই সে ডায়েরিটা পড়তে শুরু করে।তারপর সে রাতে ঘুমানোর পর সকালে উঠে দেখতে পায় তার শরীর রক্তে মাখা।কিন্তু সে ভয়ে এই ব্যাপারটা কাউকে জানায়নি। এর অতিরিক্ত সে কিছুই জানেনা।প্রিস্ট আমাকে ডায়েরিটি আনতে বলল।আমি ডায়েরীটি আনলাম। কেউ রুশ ভাষা না পারায় প্রিস্ট আমাকে ডায়রীটি পড়তে বলল।আমি ডায়েরিটি পড়তে লাগলাম।হঠাৎ করে আমি সেই মন্ত্রটিও ভুলে পরে ফেললাম ফলে নান এর উপর মিয়ার আত্মা আবার এসে পড়ল। মিয়া তার উপর এসেই বলতে লাগল,“আজ তোদের সবাই মরবে, সবাই। ”তারপর জোরে বাতাস বইতে শুরু করল ফলে প্রিস্ট এর হাতে থাকা ক্রশটি পরে গেল এবং কান্ডেলসগুলো নিভে গেল।তারপর সে প্রিস্ট এর গলা চেপে ধরল এবং বলল,“আজ তোর জীবনের শেষ দিন।”আমি নানের হাত ছাড়াতে গেলাম কিন্তু সে আমাকে মাটিতে ফেলে দিল।তখন আমার মনে আসল এই ডায়েরীর মন্ত্র পড়ার ফলে মিয়া নানের শরীরে প্রবেশ করেছিল তাই আমি একটি কাঠ কয়লার পাত্রতে আগুন ধরিয়ে ডায়েরিটি তাতে ফেলে দিলাম।নান ছটফট করতে করতে মিয়ার দেহ ত্যাগ করল কিন্তু ডায়েরিটি আগুনে দেয়ার পরও ডায়েরিটী পুড়ল না।এই পরিস্থিতি দেখে আমি প্রিস্টকে বললাম,“নানের দেহ থেকে কিভাবে মিয়ার আত্মাকে দূর করব?”প্রিস্ট বলল,“একবার ডায়েরী থেকে যে মন্ত্রটি পড়বে মিয়া তার দেহে ততদিন প্রবেশ করতে পারবে যতদিন না মানুষটি মারা যায়।তাই নানের দেহে মিয়ার আত্মা পুনরায় প্রবেশ করার আগে নানকে মিয়াকে যেই স্থানে দাফন করা হয়েছিল সেই স্থান থেকে মিয়ার দেহ আর নান দুইজনকে আগুনে পুড়াতে হবে তাহলে মিয়ার দেহের বিনাশ হবে এবং নানের উপর ভর করা তার আত্মারও শেষ হবে।”তাই নান জ্ঞানহীন থাকা অবস্থায় আমরা তাকে এজেলার বাসার বেসমেন্টে নিয়ে যাই এবং তাকে বেধে রাখি।সে যখন জ্ঞান ফিরে পায় মিয়ার আত্মা আবার দেহে এসে বলতে লাগল,“তোমরা চাইলেও আমাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারবে না। আমার ডায়েরি যতদিন থাকবে আমিও এই পৃথিবীতে থাকব।এই ডায়েরি তোমরা ধ্বংসও করতে পারবে না।এখন হয়ত নানকে মেরে আমাকে বিদায় করবে।কিন্তু আমি আমার ডায়েরি দ্বারা আবার আসবো।” তখন প্রিস্ট বলল,“তা তখনই সম্ভব যখন কেউ এই ডায়েরিটি তখন প্রিস্ট বলল,“তা তখনই সম্ভব যখন কেউ এই ডায়েরিটি পড়বে।কিন্তু আমি তোকে আর এই ডায়েরিটিকে অভিশাপ দিলাম যে,যতদিন এই বেসমেন্টে এসে তোর নাম কেউ না লিখবে ততদিন তুই চাইলেও তোর জাদু প্রয়োগ করতে পারবি না ফলে এই ডায়েরীও কেউ পরতে পারবে না।আই কার্সড দিস ডায়েরি।”মিয়া চিৎকার করল,“না,না,না।আমি নিজের শক্তি না প্রয়োগ করলেও এজেলার আত্মা দ্বারা কাউকে বশীভূত করে আমার নাম লিখাবো।”প্রিস্ট বলল,“এজেলার আত্মা এত শক্তিশালী না।তোর এই আশা করা অর্থহীন।” তারপর আমরা নান আর মিয়ার কফিনে আগুন ধরিয়ে দিলাম।মিয়া চিৎকার করতে লাগল,“আমি আবার আসবো,আবার। তারপর আমরা এই ডায়েরিটিকে লেকের পানির তলে মাটি গর্ত করে পুতে দিলাম।কারন কেউ লেকের তলের মাটি কখনোই খুড়বে না তাছাড়াও তখন লেকটি আরও বিস্তীর্ণ আর গভীর ছিল। আমার অাব্বু বলল,“তাহলে কি এনাকে আমরা বাচাঁতে পারব না?প্লিজ কিছু বলেন।আব্বু কান্না করতে লাগলেন। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now