বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
“অভিশপ্ত ডায়েরী”
(পর্ব-৭)
By : সামিয়া আহমেদ ।
প্রিস্ট বলল,“আমি এসব জানি কারন মিয়া এইকথাগুলো
আমাকে নিজে বলেছে এই ডায়েটীর
মাধ্যমে।” আমি বললাম,“আপনি এই ডায়েরীটি
পড়েছেন?”প্রিস্ট বলল,“হ্যা,কারণ এটি রুশ ভাষায়
লেখা।আর আমি রুশ ভাষা খুব ভালভাবে জানি।”আমি
বললাম,তারপর বুড়িটি আর মিয়ার কি হলো?”প্রিস্ট
বলল,“মিয়া আর সেই বুড়িটি তারা টেক্সাসে
থাকতো।সেখানে তাদের দুজনকেই অনেকে
চিনতো।যে কেউ দেখলেই তাদের আবার
সমস্যায় পড়তে হত।তাই বুড়ি এজেলা মিয়াকে
বলল,“মিয়া এই শহর আমাদের জন্য নিরাপদ না।
এখানে আমরা আমাদের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারব
না।এখানে কেউ না কেউ আমাদের দেখে
ফেলবে এবং পুনরায় কারাগারে যেতে হবে যা
আমি চাই না।তাই আমাদের অন্য শহরে যেতে
হবে।”মিয়া বলল,“কেন?আমরা অদৃশ্য হয়েও
কাজটি করতে পারব।এজেলা বলল,“তা সম্ভব না।
কারণ একবার অদৃশ্য হওয়ার পর ৩ মাস ১৫ দিন পর্যন্ত
আমি অদৃশ্য হতে পারব না।আর তুমিও একই সময়
পর্যন্ত পারবে না।আর তাছাড়া এই মন্ত্র পড়ে
আমরা ৫ মিনিট এর বেশি সময় অদৃশ্য হতে পারব না।তা
নাহলে আমরা ক্রিস্ট্মাস এর আগের দিনই প্রিজন
থেকে বের হয়ে যেতাম।”মিয়া বলল,“কিন্তু ঠিক
৩ মাস ১৫ পর পর কেন আমরা অদৃশ্য হতে পারব?
তার আগে কেন পারব না?”এজেলা বলল,“এই
মন্ত্রের এই নিয়ম সর্বদা সবক্ষেত্রে।আমাদের
কাছে সময় নেই আমাদের এই শহর ছেড়ে দ্রুত
অন্য কোন শহরের জন্য রওয়ানা হতে
হবে।”মিয়া বলল,“আমি যাওয়ার আগে একবার
এলেক্সকে দেখে যেতে চাই।আর অন্য
শহরে যাওয়ার আগে আমাদের অর্থের
প্রয়োজন।আমি আর এলেক্স কিছু ডলার সঞ্চয়
করে আমাদের বাসায় লুকিয়ে রেখেছিলাম।যাওয়ার
আগে আমি বাসায় যেয়ে তা নিয়ে যেতে
চাই।”এজেলা বলল,“ঠিক আছে।তারা প্রথমে
গ্রেভইয়ার্ডে এলেক্সের কবর দেখতে
গেল।মিয়া অশ্রু সিক্ত কণ্ঠে বলল,“আমি
তোমাকে ফিরিয়ে আনব।শীঘ্রই আমরা আগের
মত একসাথে থাকব।”তারপর মিয়া বাসায় যেয়ে ডলার
সহ প্রয়োজনীয় জিনিস নিল আর যাওয়ার সময় তার
বাবার দেয়া ডায়েরীটাও নিয়ে গেল।তারা টেক্সাস
থেকে সান ফ্রান্সিসকোতে যেয়ে বসবাস শুরু
করল।মিয়া বলল,“আমার কাছে একটি উপায় আছে
যাতে করে আমরা খুব সহজেই আমাদের
লক্ষ্যে পোছাতে পারব।আপনি আপনার কালো
জাদু দ্বারা মানুষের ভবিষৎবাণী করবেন।এতে
অনেকেই আপনার কাছে আসবে এবং আপনি খুব
সহজেই তাদের জন্মসময় জানতে পারবেন।এবং
আমি একটি বারে কাজ নিব যাতে করে আমি
সহজেই অনেক ছেলেদের আকৃষ্ট করে
তাদের আপনার এখানে নিয়ে আসব।”এজেলা
বলল,“উপায়টি খুবই ভালো।তুমি কি প্রস্তুত?”মিয়া
বলল,“হ্যা,আমি প্রস্তুত।”তারপর মিয়া আর এজেলা
তাদের প্ল্যানমত নিরীহ মানুষদের ফাঁদে ফেলে
তাদের শয়তানের উদ্দেশ্যে বলি দিতে লাগল।
কিন্তু তারা বিপদে পড়ল যখন একটি মহিলা পুলিসে
মামলা করল যে তার মেয়ে সুশি এজেলার বাসায়
যাওয়ার পর তাকে আর খুজেঁ পাওয়া যায়নি।তাই একদিন
এক পুলিস অফিসার এজেলাকে গ্রেপ্তার করার
জন্য তার বাসায় পৌছল কিন্তু এজেলা জানালা দিয়ে
তাদের আসতে দেখে অদৃশ্য হওয়ার মন্ত্র
পড়ল।তাই তারা তাকে না পেয়ে মিয়ার সাথে কথা
বলে চলে গেল।সেদিন রাতেই মিয়া আর সান
ফ্রান্সিসকো শহর ছেড়ে ডেনভার শহরে
আসল।ডেনভারেও তারা একই উপায়ে মানুষ গুম
করতে লাগল।কিন্তু এবার তারা আগের চেয়ে
অনেক সাবধান ছিল।তাই যখন পুলিস ও কিছু করতে
পারল না তারা উদ্বিগ্ন হয়ে চার্চের প্রিস্টকে বলল
যে তাদের এখান থেকে হঠাৎ করেই মানুষ গুম
হতে লাগল।কিন্তু কেউ বের করতে পারল না তার
কারন কি।সেই বছর ক্রিস্ট্মাস এর দিন সবাই চার্চে
যাচ্ছিল তাই এজেলা আর মিয়াকেও তাদের
প্রতিবেশি এসে বলল,“কি ব্যাপার?আপনারা যাবেন
না?”এজেলা বলল,“বয়স হয়েছে।তাই সবসময়
চলা-ফেরা করতে পারি না।প্রতিবেশি স্টেলা
বলল,“তাহলে মিয়া চল আমাদের সাথে।তাই একান্ত
অনন্যপায় হয়ে মিয়া তার সাথে গেল।কিন্তু চার্চে
যাওয়ার পর মিয়া ছটফট করতে লাগল।তার হাত পা
কাপঁতে লাগল।কেউ সেটা খেয়াল না করলেও
একজন নান এর সন্দেহ হল।তাই সে চার্চের
প্রিস্টকে জানাল।তিনি নানকে বললেন,“মিয়ার উপর
নজর রাখতে।”একদিন নান তার পিছু নিল আর
দেখলো মিয়া কালো জাদু করছে।সে প্রিস্টকে
সে যা দেখল সব জানাল।প্রিস্ট তাই তার শিষ্যদের
নিয়ে এজেলার বাসার দিকে গেল।মিয়া তাদেরকে
দেখে অদৃশ্য হওয়ার মন্ত্র পড়তে লাগল।কিন্তু
এজেলা অদৃশ্য হতে পারল না কারণ সে কিছুদিন
আগেই অদৃশ্য হওয়ার মন্ত্র ব্যবহার করেছিল।তাই
সবাই এসে এজেলাকে ধরে নিয়ে গেল।
এজেলা বলল,“আমি কোন অপরাধ করিনি।যদি কিছু
করে থাকি আপনারা আমাকে পুলিসে দেন।আদালত
বিচার করবে।”সবাই প্রিস্টকে বলল,“যদি আমরা
এখন তাকে পুলিসে দেই তাহলে আদালত তাকে
ছেড়ে দিেব কারণ কোন প্রমাণ নেই আমাদের
কাছে।আর যদি তা হয় তাহলে আমাদের
আপনজনের আত্মা শান্তি পাবে না।তাই এখানেই
তাকে শাস্তি দিতে হবে যাতে কেউ জানতে না
পারে।”প্রিস্ট তাদের কথায় রাজি হল।তাই তারা সবাই
এজেলাকে গাছে দড়ি বেঁধে তাকে ফাসি দিয়ে
দিল।আর মিয়া.......
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now