বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্রাহ্মসমাজের কয়েকজন

"গ্রাম্য লোককথা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X বাংলা সাহিত্য যখন সবে হাঁটি হাঁটি পা পা। সেসময় ছোটদের জন্য পৃথক সাহিত্যের ভাবনা সবেমাত্র অঙ্কুরিত অবস্থায়। বিদ্যাসাগর মশায়ের ‘বর্ণপরিচয়’ ও মদনমোহন তর্কালংকারের শিশুশিক্ষাই ছিল ছোটদের পাঠযোগ্য প্রথম পুস্তক। এর পাশাপাশি নীতিকথামূলক অনুবাদ বই ও হাতে গোনা দু’চারটে ঐ ধরনের বই নিয়েই গ‍‌ড়ে উঠেছিল শিশু কিশোর সাহিত্য। এসময়ে ছোটদের জন্য পৃথক একটি পত্রিকা প্রকাশ হলো (১৮৮৩) মূলত ব্রাহ্মসমাজের কয়েকজন বিদগ্ধ ব্যক্তির উদ্যোগে। পত্রিকার নাম ‘সুখা’, তার প্রথম সম্পাদক হলেন প্রমদাচরণ সেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে পরবর্তীকালে এই পত্রিকার সম্পাদনার ভার গ্রহণ করেন শিবনাথ শাস্ত্রী। তিনি অবশ্য পরবর্তীকালে পৃথক একটি পত্রিকা প্রকাশ করলেন, ‘মুকুল’ (১৮৯৬)। এর মাঝে জ্ঞানদানন্দিনী ঠাকুরের সম্পাদনায় ‘বালক’, ‘সখা ও সাথী’ প্রভৃতি ছোটদের পত্রিকা প্রকাশিত হয়। মূলত ‘সখা’ পত্রিকার হাত ধরেই আমরা সে যুগে ছোটদের জন্য পৃথক সাহিত্যের সূত্রপাত লক্ষ্য করি। পরবর্তীতে ‘মুকুল’ এই কাজে আরো অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে। ‘সখা’ পত্রিকার মাধ্যমে আমরা পেলাম যোগীন্দ্রনাথ সরকার, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, শিবনাথ শাস্ত্রী,নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য প্রমুখ শিশু-কিশোর সাহিত্যিকদের। যাঁর মধ্যে প্রথম দুজন ছড়া ও গদ্য সাহিত্যে ছোটদের কাছে এক নতুন জগতের সন্ধান দিলেন। শুধু তাই নয় এই দুজন ছোটদের সাহিত্য প্রকাশের উপযোগী প্রকাশনা সংস্থা, পত্রিকা ও নতুন নতুন লেখক গোষ্ঠী তৈরিতে বাংলায় এক নবযুগের সূচনা ঘটালেন। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর জন্ম ১৮৫৩খ্রীস্টাব্দের ১২ই মে অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার মনুয়া গ্রামে। পিতা কালীনাথ রায় সুপরিচিত ছিলেন শ্যামসুন্দর মুন্সি নামে। তারা ছিলেন পাঁচ ভাই তিন বোন, সারদারঞ্জন, কামদারঞ্জন, মুক্তিদারঞ্জন, কুলদারঞ্জন, প্রমোদারঞ্জন, গিরিবালা, ষোড়শীবালা ও মৃণালিনী। ঐ গ্রামেই বাস করতেন তাদেরই এক জ্ঞাতি হরিকিশোর রায়চৌধুরী, যাঁর স্ত্রী ছিলেন রাজলক্ষ্মী দেবী। তাদের কোনো সন্তান না থাকায় তাঁরা কামদারঞ্জনকে পাঁচ বছর বয়সে দত্তক নিলেন, তার নাম হলো উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। পরে অবশ্য এই হরিকিশোরের এক পুত্র নরেন্দ্রকিশোর ও দুই কন্যা মনোরমা ও সুরবালার জন্ম হয়। উপেন্দ্রকিশোর ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভালোভাবে পাস করে কলকাতায় প্রথমে প্রেসিডেন্সি ও পরে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট কলেজ থেকে বি. এ পাস করলেন। এ সময়েই তিনি ধীরে ধীরে ব্রাহ্মসমাজের অনেক নামকরা ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসেন ও ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন। ছাত্রাবস্থা থেকেই উপেন্দ্রকিশোর গান বাজনার প্রতি তীব্র আগ্রহ অনুভব করতেন। হারমোনিয়াম, বেহালা, মৃদঙ্গ প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র খুব ভালো বাজাতে পারতেন। তিনি ‘বেহালা শিক্ষা’ ও ‘শিক্ষক ব্যতিরেকে হারমোনিয়াম শিক্ষা’ নামে দুটি চমৎকার বই রচনা করে প্রকাশ করেন। এসময় থেকেই তার ছোটদের জন্য লেখবার প্রচেষ্টা শুরু হয় ‘সখা’ পত্রিকার মাধ্যমে। তারপর ‘মকুল’-এও তিনি নিয়মিত ছোটদের জন্য লিখতে শুরু করেন। যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সঙ্গে এইভাবে লেখালেখির সূত্রেই পরিচয়, যা পরবর্তীতে বন্ধুত্বে রূপ নিয়েছিল। যোগীন্দ্রনাথের ‘সিটি বুক সোসাইটি’ থেকে তাঁর ‘ছেলেদের রামায়ণ’ (১৮৯৭), ‘ছেলেদের মহাভারত’ (১৩১৫), ‘সেকালের কথা’, ‘মহাভারতের গল্প’ প্রভৃতি বই প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ১৯১০খ্রীষ্টাব্দে তিনি নিজে ইউরায় অ্যান্ড সন্স নাম দিয়ে প্রকাশনা সংস্থা তৈরি করলেন। এই সংস্থা থেকেই তার পরবর্তীকালের ‘টুনটুনির বই’সহ অন্যান্য বই ও ‘সন্দেশ’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। উপেন্দ্রকিশোর যখন শিশু কিশোর সাহিত্য সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেন তখন তাঁর পূর্বসুরি হিসেবে কাউকেই প্রায় পাননি। তিনি এদেশের মহাকাব্য, পুরাণ, লোককথা, উপকথাগুলোকে যত্ন নিয়ে পাঠ করে, ছোটদের কাছে তার আস্বাদ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণ করলেন। তার পাশাপাশি ছোটদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলার জন্য বিজ্ঞাননির্ভর বিভিন্ন ঘটনা, বিশ্বের ভূগোল ইতিহাসকে সঠিকভাবে ছোটদের কাছে তুলে ধরবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন দেশের আগামী প্রজন্মকে যুগোপযোগী মানসিকতায় গড়ে তুলতে হবে। এজন্য শুধু নীতিকথামূলক গল্প ছোটরা আনন্দ সহকারে পড়তে চাইবে না, আবার শুষ্ক বিজ্ঞান-ভূগোল-ইতিহাস জানতে তাদের আগ্রহ গড়ে উঠবে। এদেশের আপন সংস্কৃতিকেও ‍‌ছোটদের জানবার, ভালবাসবার প্রয়োজন রয়েছে। একারণে তিনি তার সাহিত্যকে শিশু-কিশোরদের মনোজগতের আকাঙ্ক্ষা অনুসারে গড়ে তুলেছিলেন। তার বিজ্ঞান, ইতিহাস বা ভূগোলের প্রবন্ধগুলো এজন্যই সম্ভবত গল্পের আঙ্গিকে রচিত হয়েছিল। ছেলেদের রামায়ণ ও মহাভারত সম্পর্কে বলা যায় যে, এত বিশাল মহাকাব্যকে ছোটদের ভাষায় এত সহজভাবে তিনি সাজিয়েছিলেন কোন্‌ জাদুতে! রবীন্দ্রনাথ তাঁর একাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। উপেন্দ্রকিশোরের আরো একটি বিশেষ গুণ তার সাহিত্য ছোটদের কাছে ভালোভাবে পৌঁছতে সাহায্য করেছে—তা হলো তার অসাধারণ ছবি আঁকার হাত। তাঁর সমস্ত বই, গল্প, প্রবন্ধে তিনি নিজে অলঙ্করণ করতেন, একারণে শিশু কিশোরদের কাছে সেসব আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তাঁর পূর্বসুরি যোগীন্দ্রনাথ সরকারও একইভাবে তাঁর ছড়া’র সাথে প্রতি পাতায় সুন্দর ছবি অঙ্কন করতেন। ‘সেকালের কথা’য় উপেন্দ্রকিশোর অঙ্কিত ছবিগুলি ছিল এককথায় অসাধারণ। একইভাবে ‘টুনটুনির বই’এ তিনি প্রায় প্রতিটি গল্পের সঙ্গে ছবি এঁকেছেন। এরফলে গল্প-ছবি ছোটদের মনে বই পড়ার মজা বা আনন্দকে উসকে দিয়েছিল বলা যায়। তবে ছেলেদের রামায়ণ ও মহাভারতে তার আঁকা ছবিগুলো কাঠের ব্লকে ছাপানোর ফলে পুরোপুরি বিকৃত হয়ে যায়। বলা হয় এই ঘটনাই তাঁকে টেনে আনে ‘হাফটোন’ ছবির জগতে। তবে প্রকৃতপক্ষে ‘হাফ টোন ফটোগ্রাফি’ ও প্রসেস শিল্প নিয়ে তার চর্চা শুরু হয় এ ঘটনার ছ-সাত বছর আগে থেকে। তাঁর ১৩নম্বর কর্ণওয়ালিস স্ট্রিটের বাড়িতে তিনি এর চর্চা করতেন, সেখানে স্বতন্ত্র ডার্করুম ছিল। এ তিনি ছিলেন উন্নত মানের হাফটোন ছবির এ দেশের পথিকৃৎ। তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিল। কারণ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এর চর্চা থাকলেও সুনির্দিষ্ট তত্ত্ব প্রতিষ্ঠান করেন উপেন্দ্রকিশোর। এজন্য তাকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছিল। নিজের পুত্র সুকুমারকে এজন্য ব্রিটেনে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাজ সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। ভারতী পত্রিকায় (অগ্রহায়ণ-১৩০৫) তিনি লিখেছেন ‘‘অনেকেই হয়তো জানেন না, হাফটোন লিপি সম্বন্ধে উপেন্দ্রবাবুর নিজের আবিষ্কৃত বিশেষ সংস্কৃত পদ্ধতি বিলাতের শিল্পী সমাজে খ্যাতিলাভ করিয়াছে,..তিনিই বাঙালীর মধ্যে প্রথম নিজ চেষ্টায় হাফটোন শিক্ষা করেন এবং অল্পকালের মধ্যেই তাহার সংস্কার সাধনে কৃতকার্য হন। ভারতবর্ষের প্রতিকূল জলবায়ু এবং সর্বপ্রকার পরামর্শ ও সহায়তার অভাব সত্ত্বেও এই নূতন শিল্পবিদ্যা আয়ত্ত এবং তাহাকে সংস্কৃত করিতে যে পরিমাণ অধ্যবসায় ও মানসিক ক্ষমতার প্রয়োজন তাহা অধ্যবসায়ীর পক্ষে মনে আনাই কঠিন।’’ ১৯১৫খ্রীস্টাব্দে মাত্র তিপ্পান্ন বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়। তাঁর সাহিত্যের মধ্যে সব চাইতে জনপ্রিয় সম্ভবত ‘টুনটুনির বই’। এই বই তিনি তাঁর সংস্থা থেকে ১৯১০-এ প্রকাশ করেন। তখন হাফটোন পদ্ধতি তাঁর কাছে সফলতা পেয়েছিল। এজন্য ছাপা, ছবি, সবই ছিল সে সময়ের নিরিখে অসাধারণ। এই বই সম্পর্কে আজও সকলের আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেছে বলে মনে হয় না। কী অসাধারণ ভাষা, যেন ছন্দোবদ্ধ আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেছে বলে মনে হয় না। কী অসাধারণ ভাষা, যেন ছন্দোবদ্ধ নদী বয়ে চলেছে। সাতাশটি গল্পের বেশিরভাগই বিভিন্ন সময় ‘মুকুল’এ প্রকাশিত হয়েছিল। এ দেশের উপকথা-লোককথার অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সম্পদকে তিনি নিজের ভাষায় ছোটদের মনের চাহিদা অনুযায়ী উপহার দিলেন। তাঁর গল্পের পশু-পাখিরা যেন ছোটদের জগতের সাথী। তাদের মধ্যে যারা দুষ্টু তাদের উপযুক্ত সাজা, আর যারা ভালো তারা ছোটদের বন্ধু। তিনি চলিত ভাষাকে ছোটদের সাহিত্যে এমন সুচারুভাবে ব্যবহার করলেন, যা তাঁর পূর্বে কেউ আর পারেননি। এ সময়ে চলিত ভাষা কিন্তু বর্তমান রূপ পায়নি, কথ্য ভাষা — এক এক স্থানে ভিন্নরূপে প্রচলিত ছিল। বলা যায় আজকের চলিত ভাষার সাহিত্য গড়ার যুগ চলছিল সেসময়। তার ‘গুপী গাইন বাঘা বাইনের’ অসাধারণ ভাষাশৈলী আজও আমাদের মুগ্ধ করে— কথা বললে, ‘আমি বাঘা বাইন; তুমি কে? গুপি বললে, ‘আমি গুপি গাইন; তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ বাঘা বললে, ‘যেখানে জায়গা জোটে, সেইখানে যাচ্ছি। গ্রামের লোকগুলো গাধা, গান বাজনা বোঝে না, তাই ঢোলটি নিয়ে বনে চলে এসেছিলাম। তা ভাই এখানে যে ভয়ঙ্কর জানোয়ারের ডাক শুনেছি, তার সামনে পড়লে আর প্রাণটি থাকবে না। তাই পালিয়ে যাচ্ছি।’ গুপি বললে, ‘তাই তো! আমিও যে একটা জানোয়ারের ডাক শুনে পালিয়ে যাচ্ছিলাম। ব‍‌লো ত’ তুমি জানোয়ারটাকে কোথায় বসে ডাকতে শুনেছিলে?’ বাঘা বললে, ‘বনের পূর্বধারে বটগাছের তলায়।’ গুপি বললে, ‘আচ্ছা, সে যে আমারই গান শুনেছ। সে কেন জানোয়ারের ডাক হবে।’ সেই জানোয়ারটা ডাকে বনের পশ্চিমধারে হরতুকীতলায় বসে।’ বাঘা বললে, সে তো আমারই ঢোলকের আওয়াজ। আমি যে ঐখানে থাকতাম।’ উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যুর পর তার পুত্র সুকুমার রায় বাংলা শিশু সাহিত্যে এক নতুন ধারা প্রবর্তন করলেন, তা ‘ছেলেমি রচনা’ বলা যায়। কেউ কেউ এ ধারাকে ননসেন্স ভাষার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিন্তু তিনি যে ধারা প্রবর্তন করেন, তার সবটাই কি ননসেন্স ভার্স-এর অনুকরণ? মনে হয় না, কারণ তাহলে সুকুমারের ঐসব ছড়া-গল্প, নাটক তার জন্মের একশো পঁচিশ বছর পরও এক জীবন্ত থাকত না। এখনও বাংলা ছড়া জগতে জনপ্রিয় ছড়াকারের মধ্যে সুকুমারের নাম অগ্রগণ্য। যে পারিবারিক পরিবেশে তিনি ছোটবেলায় মানুষ হয়েছেন, সেখানে সাহিত্য-সংস্কৃতির এক অনুপম সৃজনশীলতা বিরাজ করত। সেই পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ করে তিনি তার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। তবে এটা ঘটনা যে তাঁর সাহিত্যে অবধারিতভাবে তার পূর্বসুরি ইংরেজ সাহিত্যিক ল্যুইস ক্যারল (১৮৩২-১৮৯৮) এবং এডওয়ার্ড লিয়র (১৮১২-১৮৮৮)-এর খানিকটা প্রভাব পড়েছিল। এধরনের প্রভাব আমরা যোগীন্দ্রনাথ সরকার, ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়-এর মধ্যে কিছু কিছু লক্ষ্য করেছি, কঙ্কাবতী, ডমরুচরিত-এর মধ্যে। সুকুমার রায়ের সঙ্গে তার উক্ত পূর্বসুরিদের অনেকটাই মিল ছিল প্রাণের দিক থেকে ও গুণের দিক থেকে। ক্যারলের মতো তিনি ছিলেন একাধারে শিল্পী ও বিজ্ঞানী, আবার লিয়রের মতো চিত্রী ও লেখক, অর্থাৎ উভয়ের গুণেরই সমাহার তার মধ্যে ছিল। ১৮৮৭-১৯২৩ মাত্র ছত্রিশ বছর জীবনে তিনি আমাদের শিশু সাহিত্যে এমন অবিস্মরণীয় অবদান সৃষ্টি করে গেছেন যে, আজ শতবর্ষ পরেও তার স্বাদ চিরনতুন বলে অনুভব করি। প্রথম কবিতা ‘মুকুল’ পত্রিকায় প্রকাশ মাত্র ন’বছর বয়সে—নাম ‘নদী’। তারপর ১৩১৩-তে প্রথম গদ্য ‘মুকুলে’ প্রকাশ, নাম-‘সূর্যের রাজা’। প্রবাসীতে ১৩১৭ সালে প্রবন্ধ ‘ভারতীয় চিত্রশিল্প’। ১৯০৮-০৯ সালে তার প্রতিষ্ঠিত ‘ননসেন্স ক্লাবে’র জন্য নাটক রচনা করলেন ‘ঝালাপালা’ ও লক্ষ্মণের শক্তিশেল’। প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন ১৯০২সালে, এসময়ে তিনি ব্রাহ্মসমাজের Student Weekly Service-এর সঙ্গে যুক্ত হলেন। এ সময়ে তার সঙ্গে অনেক উৎসাহী সমমনোভাবাপন্ন বন্ধুদের যোগাযোগ ঘটে। ১৯০৬ সালে তিনি পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন শাস্ত্রে অনার্স নিয়ে বি এস সি পাস করলেন। এরপরই তার ‘ননসেন্স ক্লাবে’র কাজকর্ম শুরু হলো। উপেন্দ্রকিশোর সেইসময় তার ছোটদের লেখার পাশাপাশি ‘হাফটোন ফটোগ্রাফ’ নিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফল করে এনেছিলেন। তিনি চাইলেন একাজে সুকুমারের বিজ্ঞান প্রতিভা ও বুদ্ধিমত্তাকে আরো ভালোভাবে কাজে লাগাতে। একারণে তাঁকে বিলাতে চিত্রমুদ্রণ শিল্প-এর বৈজ্ঞানিক কারিগরি শিক্ষালাভ করতে পাঠালেন। ১৯১১ খ্রীস্টাব্দে সুকুমার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘গুরুপ্রসন্ন ঘোষ বৃত্তি’ লাভ করে লন্ডনে গেলেন ‘চিত্র-মুদ্রণ বিদ্যা’ শেখবার জন্য। সুকুমারের ফটোগ্রাফ ও অঙ্কনে ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক ছিল, ব্রিটেনের ‘Boys own Paper’ পত্রিকায় ফোটোগ্রাফির এক আন্তজার্তিক প্রতিযোগিতায় তিনি তৃতীয় স্থান লাভ করেন মাত্র সতেরো বছর বয়সে। সুকুমার রায়ের জীবনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব অনেকখানি। যখন রবীন্দ্রনাথ লন্ডনে গেলেন সুকুমার উচ্চশিক্ষার জন্য সেখানে, তার আবাসস্থল থেকে কবির বাসস্থান খুব কাছেই। এখানেই তার কবির সঙ্গে যোগাযোগ ক্রমশ অন্তরঙ্গতায় পরিণত হলো। সুকুমার এই যোগাযোগের বিবরণ বিস্তারিতভাবে তার মা-বাবা ও ঘনিষ্ঠদের চিঠি লিখে নিয়মিতভাবে জানাতেন। প্রায় দিনই কবির বাড়িতে তার নিমন্ত্রণ থাকত, এবং বলাবাহুল্য সেখানে অনেক বিদ্বান ব্যক্তিদের সঙ্গে চলত সাহিত্যের নানা আড্ডা। তিনি রবীন্দ্রনাথের অনেক গান/কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন, যা ইংল্যান্ডের গুণীমহলে সমাদৃত হয়েছিল। সেইসঙ্গে কবিও সন্তোষ লাভ করেছিলেন। কবি তাঁকে নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন দেখবার জন্য গিয়েছিলেন, তাঁর বাবাকে লেখা চিঠিতে যে খবরের মজার বিবরণ রয়েছে (১৯১৩ খ্রীঃ ৮ই আগস্ট)। সুকুমার তার বোন পুণ্যলতা চক্রবর্তীকে (খুশি) ঐ বছর ২১শে জুন চিঠিতে জানালেন—‘‘পরশুদিন Mr. Pearson (যিনি Dr. Roy-এর জায়গায় এখন আছেন)—তাঁর বাড়িতে আমার Bengali Literature সম্বন্ধে একটা Paper পড়ার নেমন্তন্ন।...ঘরে ঢুকে দেখি রবিবাবু বসে রয়েছেন। বুঝতেই পারছিস আমার কী অবস্থা। যা হোক চোখ কান বুজে পড়েছিলাম।...তাছাড়া রবিবাবুর কয়েকটা Poetry (সুদূর’, ‘পরশপাথর’, ‘সন্ধ্যা’, ‘কুড়ির ভিতর কাঁদিছে গন্ধ’ ইত্যাদি) translate করেছিলাম—সেগুলো সকলেরই খুব ভালো লেগেছিল।’’ যদিও সে প্রবন্ধ বা অনূদিত কবিতাগুলো পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে অন্য একটি প্রবন্ধের কথা অনেকেই জানি। লন্ডনের ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট সোসাইটিতে ২১শে জুলাই তিনি তা পাঠ করেছিলেন। পরবর্তীতে তা বিখ্যাত কাগজ ‘Quest’ এ ছাপা হয়েছিল। এবিষয়ে তাঁর ছোটবোন শান্তিলতা (টুনি)-কে ২৫শে জুলাই চিঠিতে লিখলেন—‘‘গত সোমবার এখানে একটা ক্লাবে (East & West Society-তে) The Spirit of Rabindranath’ বলে একটা Paper পড়লাম। লোক মন্দ হয়নি—‘Quest’ কাগজের Editor Mr. Mead যিনি এখানে রবিবাবুর lecture সব arrange করেছিলেন, তাঁর প্রবন্ধটা খুব পছন্দ হয়েছে। তিনি সেটা ‘Quest’ কাগজ ছাপাচ্ছেন।’’ ১০ই সেপ্টেম্বর ১৯২৩সকালে তাঁর জীবনাবসান হলে, সেই সংবাদ কবি পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তার তিনদিন পর শান্তিনিকেতনে উপাসনান্তে তিনি একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ পাঠ করলেন, যা ‘শান্তিনিকেতন পত্রিকা’র ৩০শে ভাদ্র ১৩৩০-এ প্রকাশিত হয়। কবি এতে সুকুমারকে যে কতটা স্নেহ করতেন, ভরসা করতেন তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ১১ই সেপ্টেম্বর তিনি সুকুমার পত্নী সুপ্রভা দেবীকে গভীর দুঃখ-বেদনা প্রকাশ করে চিঠি লিখেছিলেন। আমরা লক্ষ্য করলে দেখব কবির শেষ জীবনের সাহিত্যে সুকুমারের প্রভাব পড়েছিল, খাপছাড়া, সে, প্রভৃতির মধ্যে। সুকুমার রায় উচ্চশিক্ষা থেকে ফিরে এসে রীতিমত শিশু সাহিত্য রচনার কাজে হাত দিলেন। পিতার মৃত্যুর পর ‘সন্দেশ’ পত্রিকার সমস্ত ভার তার উপর এসে পড়ল। পত্রিকার যে মান পিতা সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন, তা বজায় রাখার জন্য তার সর্বতো প্রচেষ্টা চলল। সত্যিই আমৃত্যু তিনি সন্দেশ পত্রিকার শ্রীবৃদ্ধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে গিয়েছিলেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র’র মন্তব্য অনুসারে—‘তখনকার কয়েক বছরের ‘সন্দেশ’ পৃথিবীর যে কোনো ভাষার শিশু পত্রিকার সঙ্গে বুঝি পাল্লা দিতে পারত।’’ তাঁর আবোল-তাবোল’’ গ্রন্থের দ্বিতীয় ছড়া থেকেই আমরা অভিনবত্বের খোরাক পেলাম— হাঁস ছিল সজারু (ব্যাকরণ মানি না) হয়ে গেল হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না।’ (খিচুড়ি) তারপর একে একে যেন দৃশ্যান্তর পর্ব চলতে লাগল—‘গোঁফচুরি, ‘কাঠবুড়ো’, ‘সৎপাত্র’, ‘গানের গুঁতো’, ‘কুমড়ো পটাশ’ নতুন নতুন রস আ অসম্ভবকে সবার সামনে ছন্দে ভাষায় ও ছবিতে এনে ফেলা। তার প্রতিটি ছড়ার সঙ্গে তাঁর স্বহস্তে অসাধারণ অঙ্কন চিত্র কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করেছে। এপ্রসঙ্গে আমরা তার সুযোগ্য পুত্র সত্যজিৎ রায়ের লেখায় জানতে পারি, ‘‘উপেন্দ্রকিশোর বা সুকুমার কেউই আঁকা শেখেননি। উপেন্দ্রকিশোরের কাজে সেটা বোঝার উপায় নেই, কিন্তু সুকুমারের কাজে বোঝা যায়। নিছক অঙ্কন কৌশলে সুকুমার উপেন্দ্রকিশোরের সমকক্ষ ছিলেন না। কিন্তু এই কৌশলের অভাব তিনি (সুকুমার) পূরণ করেছিলেন দুটি দুর্লভ গুণের দ্বারা। এক হলো তাঁর অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, আর এক হলো তাঁর অফুরন্ত কল্পনা শক্তি। এই দুই-এর সমন্বয়ে তাঁর ছবির বিষয়বস্তু টেকনিককে অতিক্রম করে চোখের সামনে জলজ্যান্ত রূপ ধারণ করে। তাই সুকুমারের আঁকা রাস্তা বা কাল্পনিক কোনো প্রাণীরই অস্তিত্বে অবিশ্বাস জাগে না। একদিকে যেমন কাঠবুড়ো বা চণ্ডীদাসের খুড়ো, অন্যদিকে তেমনি রামগরুড়ের ছানা বা হিজিবিজিবিজ বা গোমরা থেরিয়াম—সকলেই সমান জীবন্ত। সমান বিশ্বাসযোগ্য।’’ একই শব্দ কতভাবে ব্যবহার করা যায় তা তিনি দেখিয়ে গেছেন। তাঁর রচিত ছড়া ও কবিতার সংখ্যা শতাধিক (একশ’ ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ) তার মধ্যে ‘মহাভারত’, ‘অতীতের ছবি’, ‘শ্রীশ্রীবর্ণমালাতত্ত্ব’ প্রভৃতি দীর্ঘ কবিতার সুর কিন্তু ভিন্ন। আবার ‘মণ্ডা ক্লাবে’র আমন্ত্রণলিপির ক্ষুদ্র ছড়াগুলির ভাবনা ভিন্ন। তার নাটকের সংখ্যা আটটি বলে আমরা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু অপর একটি নাটকের কথা জানা যায় তাঁর বোন পুণ্যলতা চক্রবর্তীর লেখায়, তার নাম ‘রামধন বধ’। মাত্র আঠারো বছর বয়সে এ নাটক তিনি দেশাত্মবোধের উৎসাহে লিখেছিলেন। তারপর ননসেন্স ক্লাবের জন্য তিনি নাটক লিখেছেন, যা সদস্যরা সকলে মিলে অভিনয় করতেন। ‘ঝালাপালা’, ‘লক্ষ্মণের শক্তিশেল’, ‘চলচিত্ত চঞ্চরি’, ‘শব্দকল্পদ্রুম’, এগুলো আকারে বড়। এছাড়া ছোট আকারের ‘অবাক জলপান’, ‘হিংসুটে’, ‘ভাবুকসভা’, ‘মামাগো’ এই চারটি নাটক রয়েছে। তিনি যে তথাকথিত পাণ্ডিত্যকে পরিহার করার পক্ষপাতী ছিলেন, ‘ঝালাপালা’ নাটকে সে মনোভাবের প্রকাশ রয়েছে। চলচিত্ত চঞ্চরি’তে পরস্পর বিপরীত মতাবলম্বী দলের কথা যেন বলা হচ্ছে। এতে যেন ব্রাহ্মসমাজের নব্য ও প্রাচীনপন্থীদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব প্রকাশিত। ‘লক্ষ্মণের শক্তিশেল’-এর কাহিনী রামায়ণের অনুসারী কিন্তু ঘরোয়া ও সমকালীন করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। এ যেন কোনো গম্ভীর সভাকে ভে‍‌ঙে দেবার প্রচেষ্টা। ‘শব্দকল্পদ্রুম’ নাটকের বিষয়ে দেখা যায় এক গুরুর অনুগত শিষ্যদের, যাদের কথাবার্তা বেতাল। মনে হয় সুকুমারের ছড়া বা নাটক নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছে তার গল্প, প্রবন্ধ নিয়ে ততটা হয় না। অথচ তার রচনার প্রায় সত্তর ভাগের বেশি অংশ রয়েছে গল্প আর প্রবন্ধ নিয়ে। সত্তরটি গল্প, ষোলোটি জীবনী ও একশ আঠাশটি প্রবন্ধ তিনি রচনা করেন, যার মধ্যে দুটো ইংরেজিতে। কিন্তু মনে হয় এর চেয়েও অনেক বেশি তার রচনা সম্ভার, কারণ তিনি লন্ডনে রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু কবিতা অনুবাদ করেন, অন্তত দুটো প্রবন্ধ তিনি ওখানে পাঠ করেন, যেগুলোর সন্ধান মেলেনি। তার গল্পের মধ্যে বিখ্যাত ‘হ-য-ব-র-ল’, ‘পাগলা দাশু’, হ-য-ব-র-ল-তে তিনি এক জায়গায় বিচারক প্যাঁচাকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক রূপকের আশ্রয় নেন। তাঁর লেখা বিজ্ঞানের গল্প, জীবনী ও প্রবন্ধগুলো যেন তার বিজ্ঞান প্রতিভাকে মনে করিয়ে দেয়। ‘হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি’ আমাদের এক নতুন অ্যাডভেঞ্চারের সন্ধান দেয়। পুত্র সত্যজিতের হাতে পড়ে সে যেন সম্পূর্ণ রূপ পায় ‘প্রোফেসর শঙ্কু’তে। গুপী-বাঘার গল্পও যেন রচয়িতা দ্বিতীয় প্রজন্মের হাতে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। সুকুমারের প্রবন্ধগুলো পাঠ করলে বোঝা যায় তাঁর পাণ্ডিত্য কত বহুমুখী ছিল। শুধু ‘ননসেন্স রাইম’ই নয়, তাঁর সাহিত্য প্রতিভা ছিল তার পিতার মতোই বিচিত্র ও সমৃদ্ধ। তার রেশ কয়েকটি নাটকে তিনি প্রায় চৌত্রিশটি গান লিখেছিলে, যার বেশিরভাগের সুরকার ছিলেন তিনি নিজে। সুকুমার রায় মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে চলে না গেলে নিশ্চিতভাবে তাঁর কাছে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধি লাভ করত। একথা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পর্কেও বলা যায়। জীবদ্দশায় যার কোনো গ্রন্থই প্রকাশ হয়নি। মৃত্যুর মাত্র ন’দিন পর ১৯শে সেপ্টেম্বর ১৯২৩ তাঁর প্রথম ছড়ার গ্রন্থ ‘আবোল তাবোল’ প্রকাশিত হয়। মাত্র ক’দিনের জন্য তিনি তার প্রকাশিত গ্রন্থ দেখে যেতে পারলেন না। তাঁর মৃত্যুর সময় পুত্র সত্যজিতের মাত্র আড়াই বছর বয়স, পরবর্তী জীবনে যিনি পিতার রচনা সম্ভারকে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now