বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চুকদার বাড়ির দিঘি

"গ্রাম্য লোককথা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ঈদের কয়েকদিন আগের কথা। কয়েকজন বন্ধুর সাথে ঘোরাঘুরি ও আড্ডা শেষে বাড়িতে পৌঁছুলাম রাত বারটার দিকে। এসে দেখি আমার মেয়ে ঐশী, ভাগ্নি পলী, ভাতিজা শাকিল ও ছোটো ভাইয়ের বউ লুৎফা একটা রুমে বাতি নিভিয়ে অন্ধকারে জড়ো হয়ে মোবাইলে রেকর্ড করা ভূত-এফএম-এর গল্প শুনছে। আমি ওদের সাথে যোগ দিই। কয়েক মিনিট শুনবার পর বলি, ‘চলো, আজ আমি নিজেই তোমাদেরকে ভূতের গল্প বলবো, যেগুলো আমার জীবনে ঘটেছিল।’ এ কথা বলতেই সবাই কলকলিয়ে লাফিয়ে উঠে আমার ঘরে চলে এলো। আমি এক একটা গল্প বলি, ওরা ভয়ে একে অপরের সাথে আরো লেপ্টে বসে। ‘এগুলো কবে ঘটেছিল আপনার জীবনে? আপনি বেঁচে গেলেন কীভাবে?’ আমি বলি, ‘এগুলো আমার জীবনে ঘটে নি, এগুলো হলো একেকটা বানানো গল্প। ওরা অবাক হয়ে বলে, ‘ইয়া আল্লাহ, আপনি এত্ত ভূতের গল্প বানাতে পারেন!’ এরপর আমার ঘরে ভূতের গল্প বলার জমজমাট আড্ডা শুরু হলো। পলী, ঐশী এবং লুৎফা একটার পর একটা গল্প বলছে, সবাই শুনছে মুগ্ধ হয়ে। এমন সময়ে শাকিল ফ্লোর নিয়ে বললো, ‘আমিও একটা ভূতের গল্প বলবো।’ ‘বলো, বলো।’ ভাতিজা খুব উৎসাহ নিয়ে বলতে লাগলো, ‘একদিন আমরা তিন বন্ধু গভীর রাতে মেলা থেকে ফিরছিলাম। দোহারপুরীর কুমার বাড়ি ও চোরামন সাধুর বাড়ির ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে আসলাম। কিন্তু আমরা কোনো ভূত দেখি নাই।’ ক্লাস নাইনে পড়ুয়া ভাতিজার ভূতের গল্প শুনে হাসতে হাসতে আমাদের দম ফাটার অবস্থা হলো। অনেক আগে আমার বাবার কাছে একটা অলৌকিক ঘটনার কথা শুনে তার উপর ভিত্তি করে ‘চৈতি বিবি’ নামে একটা গল্প লিখেছিলাম। গল্পটি লিখবার পর মনে হয়েছিল বাবা গল্পটি ঠিক এভাবে বলেন নি; কিন্তু কীভাবে বলেছিলেন তাও মনে করতে পারছিলাম না। ভূতের আড্ডা যেদিন বসলো, তার ক’দিন পর বাবার কাছ থেকে সেই পুরোনো গল্পটি পুনর্বার শুনলাম। এ গল্পটি আমার বাবা ছোটোবেলায় তাঁর বাবার কাছে শুনেছিলেন; তাঁর বাবা আমার দাদা তাঁর ছোটোবেলায় তাঁর দাদার কাছে শুনেছিলেন, যিনি তাঁদের ছোটোবেলায় তাঁদের দাদাদের কাছে এটি শুনেছিলেন বলে জানা যায়। আদতে এটি কবে ঘটেছিল তার কোনো সঠিক হিসাব কারো কাছে নেই। আমাদের গ্রামের পশ্চিমে গাজীরটেক, তারও পশ্চিমে গভীর বনজঙ্গলে ছাওয়া দোহারপুরী। দোহারপুরীর রাহীম চুকদার একবার একটা বিশাল দিঘি খনন করেছিলেন। আশ্বিনে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর দিঘি খনন শুরু হয়; প্রতিদিন শত শত কোদালি উদয়াস্ত মাটি কেটে সেই দিঘি খনন করতে লাগলো। দিঘির তলদেশ গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। কিন্তু আশ্চর্য, দিঘির তলায় কোনো পানির আভাস নেই। এখানে-সেখানে অল্প কয়েক হাত কূয়া খনন করলেই ডগডগিয়ে পানি উঠতে থাকে, অথচ রাহীম চুকদারের দিঘির তলদেশ যেন শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। তিনি খুব চিন্তিত হলেন। রহস্য কী? এ কোনো গভীর বিপদের আলামত নয়তো! একদিন রাতে তিনি স্বপ্ন দেখলেন তাঁর একমাত্র পুত্রবধূ ধান-দূর্বা দিয়ে দিঘিতে সাতপাঁক ঘুরে বর দান করলেই পাতাল থেকে পানি উঠে দিঘি ভরে যাবে। স্বপ্নের কথা শুনে পুত্রবধূ বর দানে রাজি হলো। একদিন নিরালা দুপুরে পুত্রবধূ ধান ও দূর্বার বর নিয়ে শুকনো দিঘিতে নামলো। দিঘির চারকোনায় ঘুরে সাত পাঁক পুরো করতেই প্রবলবেগে পাতাল থেকে পানি উঠতে থাকলো, এবং চোখের পলকে সুবিশাল দিঘি কানায় কানায় ভরে উঠলো। কিন্তু হায়, পুত্রবধূ দিঘির গভীর তলদেশে হারিয়ে গেলো। পুত্রবধূর একটা দেড় বছরের পুত্রসন্তান ছিল। একদিন বাড়ির এক ভৃত্য দুপুরবেলায় দিঘির পাড়ে এসেই চমকে উঠলো- দিঘির পানিতে পা ডুবিয়ে পাড়ে বসে পুত্রকে দুধ খাওয়াচ্ছে পানিতে ডুবে যাওয়া পুত্রবধূ। হায় হায় রব ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। এবং কিছুদিন পর পরই অনেকের চোখে এ দৃশ্য ধরা পড়তে থাকলো। এমনই একদিন দুধ খাওয়ানোর সময় রাহীম চুকদারের ছেলে তার স্ত্রীকে দেখে সবেগে বুকে জড়িয়ে ধরে। স্ত্রীকে সে কিছুতেই যেতে দেবে না। কিন্তু তার ফিরে না গিয়ে উপায় নেই। তার ‘মহাজন তাকে দূর থেকে সর্বদা নিয়ন্ত্রণ করছে। এক সময় জোরজবরদস্তি করে স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পানিতে ডুব দিল। এরপর আর কোনোদিন তাকে দেখা যায় নি। চৈতিবিবির দিঘি দু গাঁয়ের মাঝখানে আধমাইল দীর্ঘ চক। চক পার হয়ে গ্রামের শুরুতে রাস্তার উত্তর ধারে প্রকাণ্ড এক বটগাছ– অসংখ্য শেকড়-বাকড় আর নোয়ানো শাখা-প্রশাখায় ঢাকা তলাভূমি তার উত্তরে বহুদূর অব্দি বিস্তৃত, তারও উত্তরে যে বিশাল ও গভীর এক দিঘি, তার নাম চৈতিবিবির দিঘি। বটগাছটি দিনের বেলায় রাখাল ছেলেদের, ক্লান্ত কৃষকগণের ও শ্রান্ত পথিকদের মনোরম বিশ্রামস্থল। রাত্রিবেলায় দূর থেকে আবছা অন্ধকারে এটিকে আকাশছোঁয়া এক পাহাড়ের মতো মনে হয়– বুকের ভিতর কেমন এক ভয় জাগে। তাই সাঁঝের পর সচরাচর এ গাছের নিচ দিয়ে কেউ হাঁটে না। রাত-বিরাতে এ বটগাছের কাছে আসতেই গা ছমছম করে ওঠে। রাতের বটগাছকে তো মানুষ এমনিতেই ভয় পায়– কিন্তু এ গাছটিকে ভয় পাবার পেছনে গভীর রহস্য আছে। এ গাছের কাছে আসলেই বহু যুগ ধরে শুনে আসা এক ভয়ঙ্কর কাহিনি সবার মনে পড়ে যায়। চৈতিবিবির দিঘির পাড়ে এ বটগাছটা দাঁড়িয়ে, এজন্য মানুষের মুখে মুখে ফিরতে ফিরতে এর নাম চৈতিবিবির বটগাছ হয়ে গেছে। এর পশ্চিমে জঙ্গল-ছাওয়া যে বিশাল পোড়ো ভিটেটি রয়েছে, ওটি বহু যুগ আগে এক জমিদার বাড়ি ছিল। প্রায় একশত বছর আগে জমিদার হারান শেখ এই দিঘি খনন করেছিলেন। প্রতিদিন ১০০ জন করে কামলা মাটি কাটতো এই দিঘিতে, পুরো ১০০ দিন একটানা মাটি কাটার পর এতোই গহীন ও বিশাল হয় এই দিঘি যে এর পাড়ে এসে দাঁড়ালে ভয়ে বুক কেঁপে উঠতো। এই দিঘির একটি মাত্র শান বাঁধানো ঘাট ছিল। সেই ঘাটে সখীগণকে নিয়ে গোসল করার অধিকার ছিল মাত্র একজনের- সে হলো জমিদারের পুত্রবধূ চৈতিবিবি। জমিদারের একমাত্র পুত্র মরন শেখের তিনটি বিয়ে দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কারো গর্ভেই কোনো সন্তানাদি জন্মালো না। বংশ রক্ষার্থে অগত্যা জমিদারপুত্রের চতুর্থ বিয়ে দেয়া হয় চৈতিবিবির সাথে এবং আল্লাহ্‌র অসীম ফজিলতে বিয়ের প্রথম রাতেই চৈতিবিবি গর্ভবতী হয়। এই শুভ সংবাদে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে জমিদার মহোদয় মহা ধুমধামে সাত গ্রামের মানুষজনকে দাওয়াত করে খাওয়ান। চৈতিবিবির একটি লুলা পুত্রসন্তান হয়। জমিদার পরিবারে দুঃখের অন্ত থাকে না, তাঁদের দুঃখের সাথে গ্রামবাসীরাও কেঁদে আকুল হয়- বিধাতার কী নিষ্ঠুর রহস্য! দিনে দিনে লুলা পুত্র বড় হতে থাকে। টেনে টেনে হামাগুড়ি দেয়- তা দেখে চৈতিবিবি অঝর ধারায় চোখের পানি ফেলে। আস্তে আস্তে আরো বড় হয়- ভাঙ্গা পায়ে অতি কষ্টে লুলা ছেলে হাঁটে। একদিন ভরদুপুরে দিঘির ঘাটে চৈতিবিবির লাশ ভাসতে দেখা গেলো। সারা গাঁয়ে কান্নার রোল উঠলো। সেই কান্না থামে না। এরপর বহু আশ্চর্য ঘটনা ঘটতে লাগলো। প্রায় দুপুরেই দেখা যায় লুলা শিশুটি পাকা ঘাটের কিনারে বসে পা দুলিয়ে খিলখিল করে হাসছে– একদম একাকী। কেউ তাকে ওখানে নিয়ে যায়, নাকি সে একা একা যায়, কেউ তা জানে না, বুঝতেও পারে না। দুপুরে ঘাটে পানি আনতে গিয়ে জমিদার বাড়ির এক চাকরানি একদিন ‘ও-মাগো’ বলে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারালো। জ্ঞান ফিরলে সে জানালো, সে নাকি ঘাটের কিনারে চৈতিবিবিকে লুলাকে কোলে নিয়ে বসে থাকতে দেখেছে। খুশিতে ডগমগ লুলা পা দুলিয়ে মায়ের বুকে দুধ খাচ্ছিল আর মাঝে মাঝেই খিলখিল করে হেসে উঠছিল। এটা তার দেখার ভুল। চৈতিবিবি মারা গেছে মাস ছয়েক আগে- সে কোথা থেকে আসবে? এরূপ আরো অনেকে চৈতিবিবিকে দেখতে লাগলো, সে সাঁতার কেটে দিঘির এ পাড় থেকে ও পাড়ে যায়, মাঝখানে চিৎ হয়ে ভেসে থাকে। ঘাটে বসে লুলাকে গোসল করায়। এসব কথা জমিদারের কানে যায়, কিন্তু তিনি তা শুনে বিরক্ত হোন- এ কখনো হয়? শেরেকি কথা। অবশ্য এ-ও তিনি ভাবেন– চৈতিবিবিকে গাঁয়ের মানুষ খুব ভালোবাসতো, তার অস্বাভাবিক মৃত্যু তার প্রতি মানুষের সহানুভূতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, দিঘির কাছে এলেই চৈতিবিবির কথা তাদের খুব করে মনে পড়ে যায়, ফলে দৃষ্টিভ্রম হয়। জমিদার অবশ্য এ-ও জানেন, তিনি তাঁর এই পুত্রবধূটিকে অসম্ভব ভালোবাসতেন এই কথাটি সবারই জানা, চৈতিবিবির কথা পেড়ে জমিদার মহোদয়ের সুনজর পাওয়ারও একটা প্রয়াস থাকতে পারে। এর মাস খানেক পরই অত্যাশ্চর্য ঘটনাটি ঘটলো। জমিদার মহোদয় দুপুরে পুকুরের পাড়ে বটের ছায়ায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। হঠাৎ তাঁর কানে এক শিশুর খিলখিল হাসির শব্দ ভেসে আসে। উৎসুক হয়ে সামনে এগিয়ে যান- ঘাটের পাড়ে দাঁড়াতেই তিনি বিস্ময়ে রুদ্ধবাক হয়ে যান– তাঁর দু চোখ বিশাল বিস্ফারিত হয়ে ঘাটের কিনারে স্থির হয়– বেণি খোলা, এলোচুল তার, পানিতে অর্ধনিমজ্জিত দুই পা, কোলের ওপর লুলাকে বসিয়ে স্তন্যপান করাচ্ছে চৈতিবিবি, ঘাড়খানি বাম দিকে ঘোরানো, তার ভীষণ হাস্যোজ্জ্বল মুখটি ঈষৎ দেখা যায়, মাঝে মাঝে লুলার গালে সে টুসি মারে, খিলখিল হাসিতে সে ফেটে পড়ে- এ কী অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন জমিদার মহোদয়! অবিশ্বাস্য! অবিশ্বাস্য! বউমা! ঘোরের মধ্যেই তিনি অস্ফুট স্বরে ডেকে উঠলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় চৈতিবিবি, তার হাসিমুখ স্তিমিত হয়, সন্তর্পণে লুলাকে কোল হতে নামিয়ে পাথরের সিঁড়িতে তাকে বসায়, তারপর ধীরে ধীরে সাঁতরে দিঘির মাঝখানে চলে যায়– জমিদার এক দৃষ্টিতে কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মতো তাকিয়ে থাকেন– চেয়ে চেয়ে দেখেন, দিঘির মাঝখানে গিয়ে চৈতিবিবি থামলো, আবার তার দিকে ফিরে তাকালো, তারপর টুপ করে একটা ডুব দিল, মাথার চুল পানিতে ভেসে থাকতে দেখা গেলো কিছুক্ষণ, শাড়ির আঁচলখানিও আরো কিছুক্ষণ দেখা গেলো, তারপর আর কিছুই দেখা গেলো না। জমিদারের ঘোর কাটে, কিন্তু তাঁর হতবিহ্‌বল কণ্ঠে বাক ফোটে না। এ কী অবিশ্বাস্য ঘটনা! তিনি দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন। মায়ের জায়গায় বসে লুলা মায়ের চলে যাওয়ার পথের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। জমিদার তাকে কোলে তুলে নেন, হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ফিরে আসেন, কিন্তু কাউকে কিছুই খুলে বলেন না। এ ছেলে কীভাবে দিঘির ঘাটে যায়ি? সারা বাড়ি ভর্তি কতো মানুষজন, এ ছেলে কখন কীভাবে পানির এতো কাছে গিয়ে বসে? কেউ কি দেখে না? তিনি আশ্চর্য হয়ে ভাবেন, আর এক নিদারুণ ভয়ে তাঁর বুক কেঁপে উঠতে থাকে। জমিদার হারান শেখ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাকরুদ্ধই ছিলেন। তাঁর মুখে যেমন ভাষা ফোটে নি, চৈতিবিবিকেও আর কোনোদিন ঘাটে বসে লুলাকে দুধ খাওয়াতে দেখা যায় নি। কিন্তু চৈতিবিবিকে দেখার বাসনা মানুষের তীব্র হতে থাকে। তারা ভিড় করে দিঘির পাড়ে এসে বসতো, ঝিম দাঁড়িয়ে থাকতো। অনেক দূরের মানুষও অনেক সময় এসে পাড়ে দাঁড়িয়ে এক ধ্যানে অপেক্ষা করতো, যদিই বা চৈতিবিবিকে একবারের জন্য দেখতে পায়। চৈতিবিবিকে দেখার বাসনা আর কখনোই মানুষের পূরণ হলো না এবং কালক্রমে মানুষের মুখে মুখে ফিরতে ফিরতে এক সময় দিঘির নামটি হয়ে যায় চৈতিবিবির দিঘি। দিঘির পাড়ের বটগাছটির বয়স দিঘির বয়সের চেয়ে বছর কুড়ি কমই হবে এবং এটাকেও মানুষ একদা চৈতিবিবির বটগাছ নামে ডাকতে থাকে। 4.06 আপনার মূল্যায়ন: আপনি মূল্যায়ন করেন নি।গড় রেটিং: 4.1১ ভোট » ২০৯ বার পঠিত শেয়ার করুন » অথবা এই সংক্ষিপ্ত লিংক শেয়ার করুনঃ #৩২৮৫৯৮১ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১২:৫৯ অপরাহ্ন তারিখে প্রতীপ বলেছেন বড় কোন দিঘির সাথে এধরনের গল্প সবসময় জড়ানো থাকে এবং সব অঞ্চলে গল্পের ধরন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রায় একই। ছবি যোগ করে দিলে আমরা দেখতে পারতাম বিখ্যাত দিঘি দুটি #৩২৮৬০৮২ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১:১৫ অপরাহ্ন তারিখে সোনাবীজ বলেছেন লেখকের মন্তব্য এ পোস্টে দুটি অংশ দেখতে পাচ্ছেন। প্রথম অংশে প্রচলিত লোককথা, দ্বিতীয় অংশে চৈতিবিবির দিঘি। অনেক আগে আমার বাবার কাছে এ প্রচলিত লোককথা শুনে তার উপর ভিত্তি করে ‘চৈতি বিবি’ নামে একটা গল্প লিখেছিলাম। গল্পটি লিখবার পর মনে হয়েছিল বাবা গল্পটি ঠিক এভাবে বলেন নি; কিন্তু কীভাবে বলেছিলেন তাও মনে করতে পারছিলাম না। ভূতের আড্ডা যেদিন বসলো, তার ক’দিন পর বাবার কাছ থেকে সেই পুরোনো গল্পটি পুনর্বার শুনলাম। প্রচলিত লোককথা গল্পটি আমার বাবা ছোটোবেলায় তাঁর বাবার কাছে শুনেছিলেন; তাঁর বাবা আমার দাদা তাঁর ছোটোবেলায় তাঁর দাদার কাছে শুনেছিলেন, যিনি তাঁদের ছোটোবেলায় তাঁদের দাদাদের কাছে এটি শুনেছিলেন বলে জানা যায়। আদতে এটি কবে ঘটেছিল তার কোনো সঠিক হিসাব কারো কাছে নেই। চৈতিবিবির দিঘি হলো প্রচলিত লোককথার রূপান্তর। বাস্তবে কোনো দিঘি বা বটগাছের অস্তিত্ব নেই। ধন্যবাদ পোস্ট পড়বার জন্য। শুভ কামনা। #৩২৮৬১৩৩ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১:২৩ অপরাহ্ন তারিখে প্রতীপ বলেছেন হায় খোদা, এমনভাবে লিখেছেন পড়ে মনে হলো সত্যি কাহিনী! আমি বাস্তবে দুটি দিঘি দেখেছি যেখানে পানি উঠানোর জন্য জমিদারের প্রিয় নারীকে দিঘিতে বিসর্জন দিতে হয়েছিল মর্মে গল্প চালু আছে। #৩২৮৭৮১৪ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন তারিখে সোনাবীজ বলেছেন লেখকের মন্তব্য ধন্যবাদ। #৩২৮৬১৪৫ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১:৩০ অপরাহ্ন তারিখে ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন আপনার বর্ণনা অনেক প্রাঞ্জল । #৩২৮৭৮৩৬ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন তারিখে সোনাবীজ বলেছেন লেখকের মন্তব্য ধন্যবাদ। #৩২৮৬২৫৭ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৩:০৪ অপরাহ্ন তারিখে মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন চৈতিবিবির ছেলেটি, গল্পে যার কোনো নাম নেই, জন্ম থেকেই পঙ্গু। তো, এই শিশু চরিত্রটিকে- লুলা পুত্রসন্তান, লুলা ইত্যাদি শব্দে পাঠকের কাছে এনেছেন আপনি। শব্দগুলো কেমন যেন, কানে লাগে। আপনার লেখার হাত ভাল। অনেক লিখুন। #৩২৮৭৮৭৮ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৮:২৮ পূর্বাহ্ন তারিখে সোনাবীজ বলেছেন লেখকের মন্তব্য জমিদারের একমাত্র পুত্র মরন শেখের তিনটি বিয়ে দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কারো গর্ভেই কোনো সন্তানাদি জন্মালো না। বংশ রক্ষার্থে অগত্যা জমিদারপুত্রের চতুর্থ বিয়ে দেয়া হয় চৈতিবিবির সাথে - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - চৈতিবিবির একটি লুলা পুত্রসন্তান হয়। জমিদার পরিবারে দুঃখের অন্ত থাকে না, তাঁদের দুঃখের সাথে গ্রামবাসীরাও কেঁদে আকুল হয়- বিধাতার কী নিষ্ঠুর রহস্য! জমিদার বংশে কোনো লানত বর্ষিত হয়ে থাকতে পারে; এক অভিশপ্ত জমিদার পরিবার- এরূপ ইঙ্গিত দেয়ার জন্য পুত্রসন্তানকে লুলা হিসাবে দেখানো হয়েছে। লুলা শব্দটা কেমন যেন, কানে লাগে দ্বারা কী বোঝালেন, একটা শিশুকে লুলা বা পঙ্গু হিসাবে দেখানো অনুচিত, তাই? তা হয়ে থাকলে তা গ্রহণ করছি। আর কানে লাগার অর্থ কেবলই কানা লাগা হয়ে থাকলে বিনীত ক্ষমা প্রার্থনা করে বলছি, লুলা শব্দটি এখানে আমার কাছে যথোপযুক্ত নির্বাচন মনে হয়েছে। গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। শুভ কামনা। #৩২৮৬৫৬৯ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১০:১৫ অপরাহ্ন তারিখে বাতিঘর বলেছেন রিপনভাইয়ের সাথে একমত হয়ে বলি, মিয়াভাই আমরা অনেক সময়ই নির্বিকারভাবে কিছু শব্দ ব্যবহার করে থাকি। যা ভুক্তভুগীদের কানে না, সরাসরি বুকেই লাগবার কথা। ঐ শব্দের বদলে অন্য শব্দ ব্যবহারের বিনীত অনুরোধ থাকলো। আপনি মনে হয় চতুরে নতুন না? আগে দেখিনি। ব্যাপকভাবে স্বাগতম জানাই মিয়াভাই লেখালেখি জারি থাকুক। ভালো থাকা হোক। #৩২৮৭৯১১০ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৮:৩১ পূর্বাহ্ন তারিখে সোনাবীজ বলেছেন লেখকের মন্তব্য স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ। শব্দটার ব্যাপারে উপরে রিপন ভাইয়ের মন্তব্যে আমার মতামত জানিয়েছি। এখানে আমি খুব যে নতুন তা নয়, ২ বছর ৩ সপ্তাহ। তবে চতুর্মাত্রিকে কালেভদ্রে আসা হয়। এখন থেকে নিয়মিত আসবার ইচ্ছে আছে। আশা করি পাশে থাকবেন। শুভ কামনা। #৩২৯১৭১১১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৮:৪১ অপরাহ্ন তারিখে বাতিঘর বলেছেন ভাই দেখলাম রিপনভাইয়ের মন্তব্যের উত্তর, যদিও আমি আপনার সাথে পুরোপুরি এক্ষেত্রে একমত নই। সবার মত সবার সাথেই মিলে যাবে এমন তো কথা নাই ভাই- নাকি কও? উরি বাপস! আপ্নেই এখন আমারে স্বাগতম জানান উল্টা কারণ আপনি আমার চেয়েও পুরানা ব্লগার। যদিও আমি কিছুদিন নিয়মিত ছিলাম না। আর যখন ছিলাম তখন আপনারে দেখিনাই তাই নতুন ভেবে বেয়াদবি করছি, ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখবার অনুরোধ জানাই। নিয়মিত আপনার লেখা পাবো ইনশাল্লাহ। সে পর্যন্ত ভালো থাকা হোক। #৩২৯২৫০১২ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১:৫৬ পূর্বাহ্ন তারিখে সোনাবীজ বলেছেন লেখকের মন্তব্য ধন্যবাদ #৩২৮৬৭৬১৩ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ২:১২ পূর্বাহ্ন তারিখে জলরঙ বলেছেন জমিদার হারান শেখ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাকরুদ্ধই ছিলেন-- তাহলে সে কি কি দেখেছিলো অন্যরা জানলো কিভাবে #৩২৮৭৯৪১৪ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন তারিখে সোনাবীজ বলেছেন লেখকের মন্তব্য বাকরুদ্ধ হবার পর কী জমিদার হারান শেখ কী কী দেখেছিলেন গল্পের কোথাও তার কোনো বর্ণনা নেই; এবং অন্যদেরও তা জানার আর কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু চৈতিবিবিকে দেখার বাসনা মানুষের তীব্র হতে থাকে। তারা ভিড় করে দিঘির পাড়ে এসে বসতো, ঝিম দাঁড়িয়ে থাকতো। অনেক দূরের মানুষও অনেক সময় এসে পাড়ে দাঁড়িয়ে এক ধ্যানে অপেক্ষা করতো, যদিই বা চৈতিবিবিকে একবারের জন্য দেখতে পায়। চৈতিবিবিকে দেখার বাসনা আর কখনোই মানুষের পূরণ হলো না এবং কালক্রমে মানুষের মুখে মুখে ফিরতে ফিরতে এক সময় দিঘির নামটি হয়ে যায় চৈতিবিবির দিঘি। দিঘির পাড়ের বটগাছটির বয়স দিঘির বয়সের চেয়ে বছর কুড়ি কমই হবে এবং এটাকেও মানুষ একদা চৈতিবিবির বটগাছ নামে ডাকতে থাকে। ------ এর চেয়েও পরিষ্কারভাবে জানতে হলে পুরো গল্পটি পড়তে হবে। ধন্যবাদ জলরঙ। #৩২৮৯৫৬১৫ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন তারিখে জলরঙ বলেছেন এ কী অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন জমিদার মহোদয়! অবিশ্বাস্য! অবিশ্বাস্য! বউমা! ঘোরের মধ্যেই তিনি অস্ফুট স্বরে ডেকে উঠলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় চৈতিবিবি, তার হাসিমুখ স্তিমিত হয়, সন্তর্পণে লুলাকে কোল হতে নামিয়ে পাথরের সিঁড়িতে তাকে বসায়, তারপর ধীরে ধীরে সাঁতরে দিঘির মাঝখানে চলে যায়– জমিদার এক দৃষ্টিতে কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মতো তাকিয়ে থাকেন– চেয়ে চেয়ে দেখেন, দিঘির মাঝখানে গিয়ে চৈতিবিবি থামলো, আবার তার দিকে ফিরে তাকালো, তারপর টুপ করে একটা ডুব দিল, মাথার চুল পানিতে ভেসে থাকতে দেখা গেলো কিছুক্ষণ, শাড়ির আঁচলখানিও আরো কিছুক্ষণ দেখা গেলো, তারপর আর কিছুই দেখা গেলো না।------ বোধহয় কোন কারণে বোধ হয় কনফু খেয়ে যাচ্ছি। -------------তবে প্রশ্নটাই আজাইরা ছিলো আমার। মুখে বলতে পারে নাই হয়ত লিখে জানাইছে। ---------------- পুরো লেখা না পড়ে কমেন্ট করার অভ্যাস নেই #৩২৯০৭৮১৬ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ২:৩২ অপরাহ্ন তারিখে সোনাবীজ বলেছেন লেখকের মন্তব্য হাঃ হাঃ হাঃ প্রশ্নটা খুব সাংঘাতিক। আচ্ছা, বোবা বা অন্ধদের নিয়ে কি কোনো গল্প লেখা হয় না, বা যায় না? বোবা তো কথা বলতে জানে না, কিন্তু তারপরও তাকে নিয়ে যে-সব ঘটনা ঘটে গল্পে তার বিশদ বর্ণনা থাকে। অন্ধের বেলায়ও। আপনি যদি এবার প্রশ্ন করে বসেন বোবা কোনো কথা বলতে পারে না, তার ঘটনা অন্য মানুষ জানলো কীভাবে, তাহলে সেই উত্তর পরে দিব, তার আগে আমাকে আপনার কিছু পোস্ট পড়ে নিতে হবে আপাতত নিচের কথাগুলো পড়ুন: যখন নৌকায় উঠিলেন এবং নৌকা ছাড়িয়া দিল, বর্ষাবিস্ফারিত নদী ধরণীর উচ্ছলিত অশ্রুরাশির মতো চারি দিকে ছলছল করিতে লাগিল, তখন হৃদয়ের মধ্যে অত্যন্ত একটা বেদনা অনুভব করিতে লাগিলেন-- একটি সামান্য গ্রাম্য বালিকার করুণ মুখচ্ছবি যেন এক বিশ্বব্যাপী বৃহৎ অব্যক্ত মর্মব্যথা প্রকাশ করিতে লাগিল। একবার নিতান্ত ইচ্ছা হইল, ফিরিয়া যাই, জগতের ক্রোড়বিচ্যুত সেই অনাথিনীকে সঙ্গে করিয়া লইয়া আসি- কিন্তু তখন পালে বাতাস পাইয়াছে, বর্ষার স্রোত খরতর বেগে বহিতেছে, গ্রাম অতিক্রম করিয়া নদীকূলের শ্মশান দেখা দিয়াছে- এবং নদীপ্রবাহে ভাসমান পথিকের উদাস হৃদয়ে এই তত্ত্বের উদয় হইল, জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার। কিন্তু রতনের মনে কোনো তত্ত্বের উদয় হইল না। সে সেই পোস্টআপিস গৃহের চারি দিকে কেবল অশ্রুজলে ভাসিয়া ঘুরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছিল। বোধ করি তাহার মনে ক্ষীণ আশা জাগিতেছিল, দাদাবাবু যদি ফিরিয়া আসে-- সেই বন্ধনে পড়িয়া কিছুতেই দূরে যাইতে পারিতেছিল না। হায় বুদ্ধিহীন মানবহৃদয়! ভ্রান্তি কিছুতেই ঘোচে না, যুক্তিশাস্ত্রের বিধান বহুবিলম্বে মাথায় প্রবেশ করে, প্রবল প্রমাণকেও অবিশ্বাস করিয়া মিথ্যা আশাকে দুই বাহুপাশে বাঁধিয়া বুকের ভিতরে প্রাণপণে জড়াইয়া ধরা যায়, অবশেষে একদিন সমস্ত নাড়ী কাটিয়া হৃদয়ের রক্ত শুষিয়া সে পলায়ন করে, তখন চেতনা হয় এবং দ্বিতীয় ভ্রান্তিপাশে পড়িবার জন্য চিত্ত ব্যাকুল হইয়া উঠে। এবার বলুন, পোস্টমাস্তার বা রতনের মনের ভাবগুলো অন্যরা, মানে আমরা কীভাবে জানতে পারলাম, আর রবিকাকাই বা কীভাবে জানতে পেরেছিলেন? শুভ কামনা থাকলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now