বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি বাঘ। ভীষণ ক্ষুধার্ত। কিন্তু পেটভরে খাওয়ার মতো কোনো শিকার পাচ্ছে না। বাঘটি হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলের দক্ষিণ কিনারে চলে এসেছে। জঙ্গলের সাথের মাঠে তিনটি গরু ঘাস খাচ্ছে। ষাঁড়। একটি কালো, একটি সাদা ও একটি হলুদাভ বাদামি। তিনটি ষাঁড়-এরই বেশ লম্বা শিং আছে। গরুগুলোকে দেখে বাঘটির জিভ থেকে লালা ঝরতে শুরু করলো। কিন্তু হঠাত্ হামলা করে কোনোটিকেও কাবু করা যাবে না; উল্টো তিনটি ষাঁড় ওকে আক্রমণ করলে তখন?
বাঘটি জঙ্গলের প্রান্তে বসে মনে মনে বললো: চালাকি করতে হবে। আর ষাঁড় শিকার না করা পর্যন্ত কাঁকড়া খেয়ে পেটের ক্ষিধে মারতে হবে। ওদিকে ষাঁড় তিনটি ঘাস খাচ্ছে আর নিজেদের মাঝে গল্প করছে। হলুদাভ বাদামি ষাঁড়টি প্রথমে বাঘটিকে ওদের দিকে আসতে দেখলো। ও চমকালেও ভয় পেলো না। ও জানে তিনজন একত্রে থাকলে বাঘটি ওদের কিছুই করতে পারবে না। ও অপর দুই ষাঁড়কে বললো, একটা বেকুব বাঘ আমাদের দিকে আসছে। কাছাকাছি আসতেই আক্রমণ করে বসবো নাকি?
দুটো ষাঁড়ই ঘাস খাওয়া রেখে বাঘটিকে দেখলো। কালো ষাঁড়টি বললো, প্রথমেই আক্রমণ করার দরকার নেই। আগে শুনি কী জন্য আসছে আমাদের কাছে। সাদা ষাঁড়টি বললো, তাই ভালো। শুধু শুধু শত্রুতা বাড়িয়ে লাভ কী!
ক্ষুধার্ত বাঘটি হলুদাভ বাদামি ষাঁড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলো, তুমি কি কখনো দেখেছো যে তোমার আর আমার গায়ের রং একই। শুধু ডোরাকাটা কালো দাগগুলো নেই। হলুদাভ বাদামি ষাঁড়টি বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো, কী বলছো তুমি? বাঘটি বললো, তোমার বন্ধুত্ব হবে আমার মতো বাঘের সাথে, কালো-সাদা ষাঁড়ের সাথে নয়! হলুদাভ বাদামি ষাঁড় বললো, তুমি তো আমাদের মাংস খাও। তোমার সাথে আমার বন্ধুত্ব হবে কিভাবে?
বাঘ বললো, তোমার সাথে আমার বন্ধুত্ব হলে তোমার কোনো ক্ষতি আমি করবো না! বন্ধুর ক্ষতি কি কেউ করে! হলুদাভ ষাঁড়টি বললো, তা ঠিক। বাঘটি বললো, তাহলে আজ থেকে আমি তোমার বন্ধু। পরদিন হলুদাভ ষাঁড়কে বাঘের সাথে মাঠের এক প্রান্তে যেতে দেখে কালো ও সাদা ষাঁড় বেশ অবাক হলো। এর আগে ওরা কখনো এভাবে আলাদা হয়নি। কালো ষাঁড় সাদা ষাঁড়কে জিজ্ঞেস করলো, হলুদ কোথায় যায় রে সাদা? তাও আবার বাঘের সাথে? সাদা ষাঁড় বললো, বুঝতে পারছি না। তবে একটা বিষয় বুঝতে পারছি বিপদ আমাদের সামনে চলে আসছে। কালো ষাঁড় বললো, তোমার কথা শুনে আমার ভয় লাগছে সাদা। সাদা ষাঁড় বললো, আমার কথায় আমিও ভয় পাচ্ছি।
একটু পর বাঘটিকে একা ওদের দিকে ফিরে আসতে দেখে ওরা আরো ভয় পেলো। কাঁপছে ওরা। বাঘটি ওদের কাছে এসে বললো, হলুদ ষাঁড়টি ওখানে খুব মজার ঘাস পেয়েছে। মজা করে খাচ্ছে সে।
বাঘের কথা শুনে দুটো ষাঁড়ের ভয় কেটে গেলো। কালো ষাঁড় বললো, তোমাকে একা আসতে দেখে আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সাদা, চলো আমরাও ওদিকে যাই। হলুদের সাথে মিলে মজার ঘাস খাবো।
চতুর বাঘ বললো, তুমি একা যাও কালো ষাঁড়। সাদার যাওয়া ঠিক হবে না। সাদা ষাঁড় থমকে গেলো। কাঁপা গলায় বললো, কেনো? চতুর বাঘটি বললো, হলুদ ষাঁড় বলেছে তোমার রংটা ওর পছন্দ না। তাই ও তোমার বন্ধুত্ব চায় না। কালো ষাঁড় বললো, হলুদ একথা বলেছে বাঘ মামা? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। বাঘ কালো ষাঁড়কে বললো, তুমি আবার একথা ওকে জিজ্ঞেস করতে যেও না। তাতে ও মনে খুব কষ্ট পাবে। তুমি যাও কালো। আমি আসছি।
কালো ষাঁড়টি সাদা ষাঁড়কে একবার দেখে আস্তে আস্তে হলুদাভ বাদামি ষাঁড়ের দিকে যেতে থাকলো। আর সাদা ষাঁড়টি ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। ওর দুই চোখে অশ্রুধারা। বাঘটি অস্থিরভাবে পায়চারি করতে থাকলো সাদা ষাঁড়কে ঘিরে। কালো ষাঁড়টি আড়ালে যেতেই ক্ষুধার্ত বাঘটি ঝাঁপিয়ে পড়লো সাদা ষাঁড়ের উপর। পেট পুরে খেয়ে বাঘটি চলে গেলো জঙ্গলে।
পরদিন ফের বাঘ এলো ঐ ঘাসের মাঠে। দুটো ষাঁড় মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের খুব বিষণ্ন দেখাচ্ছে। চালাক বাঘটি পায়ে পায়ে ওদের কাছে গেলো। জিজ্ঞেস করলো, তোমরা ঘাস না খেয়ে এভাবে মনমরা হয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? কী হয়েছে?
হলুদাভ বাদামি ষাঁড়টি বাঘের পাশে এসে বললো, তুমি তো আমার বন্ধু! তুমি কি আমাদের সাথী সাদাকে খুঁজে এনে দিতে পারো? বাঘটি দ্রুত বললো, সাদা ষাঁড়কে দেখে এলাম মাঠের দক্ষিণে একটা গুহায় শুয়ে কাঁদছে। হলুদাভ বাদামি ষাঁড় অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, কাঁদছে? কেনো? চালাক বাঘ বললো, আমি জিজ্ঞেস করায় বললো, তুমি নাকি বলেছো ওকে তুমি পছন্দ করো না। তাই মনের দুঃখে তোমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। হলুদাভ ষাঁড় বললো, না না! আমি ওকে খুব পছন্দ করি। বাঘ বললো, তাহলে তুমি তাড়াতাড়ি ওর কাছে যাও! তোমার মনের কথা বলে ওকে নিয়ে আসো!
হলুদাভ বাদামি ষাঁড় মাঠের দক্ষিণ প্রান্তের দিকে ছুটে যেতে থাকলো। হলুদাভ ষাঁড়টি আড়ালে যেতেই চালাক বাঘ কালো ষাঁড়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। ষাঁড়টিকে মেরে টেনে নিয়ে গেলো জঙ্গলে। পেটপুরে খেয়ে সে ওখানেই ঘুমিয়ে পড়লো।
পরদিন ফের বাঘটি মাঠে এলো। হলুদাভ ষাঁড়টি একা মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। বাঘটিকে ওর কাছে আসতে দেখে ভয় পেলেও মনে মনে বললো: ও তো আমার বন্ধু। বন্ধু বন্ধুর ক্ষতি করবে না।
চালাক বাঘ ষাঁড়ের কাছে গিয়ে কোনো কথা না বলে ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। হলুদাভ বাদামি ষাঁড় অবাক হলো খুব। বললো: তুমি না সেদিন বলেছিলে তুমি আমার বন্ধু? আর বন্ধু বন্ধুর ক্ষতি করতে পারে না?
সাপের সাথে নেউলের যেমন বন্ধুত্ব হয় না, তেমনি বাঘ-সিংহের সাথে অন্য কোনো প্রাণীর বন্ধুত্ব হতে পারে না। তোরা তিনটি ষাঁড় একত্রে থাকায় তোদের কাউকেই খেতে পারতাম না। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে তোদের আলাদা করে একে একে সবাইকে খেয়ে ফেললাম।
বাঘটি বোকা হলুদাভ বাদামি ষাঁড়কে মেরে ওখানে বসেই খেতে থাকলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now