বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হতাশাগুলোকে মনের বাক্সে রেখে তালা দিন

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X -সকাল বেলা ফেসবুকে লগইন করতেই হোমপেজে দেখতে পেলাম অনির্বাণ সরকার নামে এক ছেলের আত্মহত্যার খবর।কারনটি সম্ভবত ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়ার কারনে। এর পেছনে তার বাবা মাও ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে, চান্স না পাওয়ার কারনে মানসিক টর্চার করতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে তরুনদের সবচেয়ে বেশি হতাশা কাজ করে ভার্সিটিতে ভর্তির আগে এবং চাকুরী খোঁজার সময়। এই সময়টা সবচেয়ে ভয়াবহ সময়। আপনি দেশের সব পাবলিক ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিলেন কিন্তু একটাতেও চান্স পেলেননা। আপনার জীবন শেষ! বন্ধু, জিএফ বিএফ, সমাজের সামনে কিভাবে মুখ দেখাবেন? আপনাকে বলছি, যারা আপনার ভাল পজিশনের জন্য আপনার সাথে থাকে তাদেরকে তিন তালাক দিন। আর হ্যা, এটা সত্য পৃথিবীতে খুব কম সংখ্যক লোক পাবেন যারা আপনার খারাপ সময়ের দিনগুলোতে পাশে থাকবে। সেই সব লোকদের অনেক ভালবাসুন, ঠকবেন না কোনদিন। ভার্সিটিতে চান্স হয়নি? নো প্রবলেম ,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আছে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হয়নি? ডিগ্রী কলেজ আছে। আর ডিগ্রী কলেজ থেকেই একবার সারা বাংলাদেশে বিসিএসে ফার্স্ট হয়েছিল। আপনি ভার্সিটিতে চান্স পেলেই কি আপনি ভাল কিছু করতে পারবেন? কখনই নয়, কারন ভার্সিটি মানুষকে সফলতা এনে দেয়না, সফলতা এনে দেয় জীবনের কঠোর পরিশ্রমগুলো, দিনের পর দিন রাতের পর রাত সফল হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টাগুলো।যদি ভার্সিটি আপনাকে সফলতা এনে দিত তবে বিল গেটস আর পৃথিবীর একজন সফল ব্যক্তি হত না, কারন বিলগেট্স ভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেছিল মাত্র ছয় মাস। আপনি বলবেন কোথায় বিলগেট্স আর কোথায় আমি? হুম আপনি আর বিলগেট্স একই, একই প্রজাতির মানুষ আপনি আমি এবং বিলগেট্সও। বিলগেট্স Homo sapiens আর আপনি আমি Homo erectus না? আপনার আজকে এই দুরবস্থার কারন হল আপনার অলসতা, আপনার মানসিক দুর্বলতা। আপনি কোন একটি দুঃসহ কাজ করতে যাচ্ছেন, চার পাশের বেশিরভাগ মানুষগুলো আপনাকে বাধা প্রদান কিংবা অনুৎসাহিত করবে। বলবে তুই এটা করতে পারবি?ধরুন, আপনার বাবা পেশায় একজন জেলে,একদিন নদীতে জাল না ফেললে আপনার পরিবার অনাহারে থাকবে, আপনার ইচ্ছে ডাক্টার হওয়ার,কোনভাবেই আপনার ইচ্ছাটির কথা জানতে পেল আপনার ধনী বন্ধু কিংবা গ্রামের প্রভাবশালী লোকটি। তারা তো আপনাকে কথায় কথায় ঠাট্টা করবে যদি সে মানুষ হিসেবে ভাল না হয়। এরকমটাই ঘটেছে আমাদের এলাকার এক ভাইয়ের সাথে। উনার বাবা পেশায় একজন জেলে হওয়া সত্ত্বেও উনি আজ ডাক্তার। উনি ঠাট্টা গুলোকে নিজের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে নিয়েছিল। আপনাদেরকে যদি কেউ ঠাট্টা করে, আর তাদের ঠাট্টাগুলো শুনে আপনার দুর্বল মন বিশ্বাস করে নিল, আমার দ্বারায় হবেনা এ কাজ। এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করলেন আপনি । বরং আপনি ঐ ঠাট্টাগুলোকে পুজি করেই এগিয়ে জান না একবার সামনের দিকে,দেখেন সফল হতে পারেন কিনা? ভাগ্য আপনাকে তেতো লেবু দিলে আপনি তা দিয়ে শরবত তৈরী করুন। আমার নিজের কথা বলি একটু, আমি প্রত্যন্ত অজপাড়া গায়ের এক ছেলে। আজকের এ অবস্থানে উঠে আসতে অনেক লোকের ঠাট্টা শুনতে হয়েছে যদিও অবস্থানটি এখনো ততটা দামি নয় আপনাদের কাছে, বাট আমার কাছে এ অবস্থানটি অনেক দামি। শুধু আমাকে নয়, আমার বাবা মাকেও অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমিও আমার শ্রদ্ধেয় বাবা মা ছিল দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তারা তাদের ছেলেকে ভার্সিটিতে পড়াবেই। বাবা মায়ের দোয়ায়, আল্লাহর রহমতে আমি যখন চান্স পাই তখন আমার প্রতি গ্রামের মানুষের চিন্তা ভাবনা পুরো পাল্টে গেল। যে লোকটি আগে আমাদেরকে দেখলে বাঁকা চোখে তাকিয়ে প্রচুর গালি দিত (একটু দুষ্ট ছিলাম বলে বাট এখন ভাল হয়েছি ????????) আজ তিনি আমাকে বাবা ছাড়া কথা বলেনা। হয়তবা কর্মজীবনে ভাল কিছু না করতে পারলে আবার আগের মত বাঁকা চোখে দেখবে। যাক সে কথা,বেশির ভাগ সময় দেখা যায় ভাল পজিশনে যেসব লোক অাছে তাদের ছেলে মেয়েও ভাল পজিশনে যায়। কারন তাদের ছোট থেকেই এরকম বিশ্বাস থাকে যে আমার বাবা মা যদি ভাল পজিশনে থাকতে পারে তবে আমি কেন পারবনা? আর এ বিশ্বাসটাই তাদেরকে সফলতার দিকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। আপনি কোথায় পড়েন তা শুধু দেখবে কিংবা জানবে অল্প কয়েকজন মানুষ। আর আপনি ভবিষ্যতে কি করলেন তা দেখবে পুরো পৃথিবীর মানুষ। আপনি যদি অনেক বড় কিছু একটা আবিষ্কার করতে পারেন তবে সেটাই দেখবে মানুষ, আপনি কোন ভার্সিটিতে পড়েছিলেন নাকি জাতীয় কিংবা ডিগ্রী কলেজে পড়েছিলেন তা কিন্তু দেখবে না। সুশান্ত দাদার একটা কথা মনে পড়ে গেল, ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা শুধু আপনার ভার্সিটি ঠিক করে দেওয়ার জন্য, ভবিষ্যতে আপনি কি করবেন তা ঠিক করে দেওয়ার নয়। তাই নিজের যে অবস্থান রয়েছে সেটাকেই মন থেকে মেনে নিয়ে সফল হওয়ার চেষ্টা করুন। জীবনে ঝুকি নিন, তাহলে হয়তবা অনেক কিছুই করতে পারবেন। নিজের হতাশাগুলোকে মনের বাক্সে রেখে আজীবনের জন্য তালা মারিয়ে দিন। কারন হতাশা মানুষকে কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দেয়না। আর নিজের জীবনকে কখনো অন্যকিছুর সাথে তুলনা করবেননা। আবেগ দ্বারা তাড়িত না হয়ে বিবেক দ্বারা তাড়িত হন। চেষ্টা করে যান সর্বস্ব দিয়ে কিন্তু জীবন দিয়ে নয়, তাহলে সফল হবেনই হবেন ইনশাল্লাহ্। আল্লাহ সবাইকে উচ্চ পর্যায়ে আসীন করুক -এটাই আমার প্রত্যাশা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now