বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পিশাচের রাত-০৬

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "পিশাচের রাত" লেখক : অনীশ দেব ------------------' পর্ব ৬ জ্ঞানগর্ভ ব্যাখ্যা শেষ করে হরিহরবাবু লেখাপড়ায় ফিরে এলেন। সবাই বই আর খাতা খুলে বসল। কিন্তু চিকুর একেবারেই পড়ায় মন বসছিল না। ওর বুকের ভেতরটা ঢিবঢিব করছিল। পড়ানোর মাঝেই কাকিমা একবার ঘরে এলেন। স্যারকে চা-বিস্কুট দিলেন। আর চিকুদের দিলেন একটা করে কেক। কাকিমা বোধহয় বিকেলে স্নান করেছেন। ফর্সা টলটলে মুখ, কপালে সিঁদুরের টিপ। ফর্সা মুখে লাল আভা। কাকিমাকে দেখলেই কেমন কাছের মানুষ মনে হয়। আর হরিহরকবাবু? তাঁকে কাকিমার স্বামী ভাবতে চিকুর কষ্ট হচ্ছিল। পড়ানো শেষ হবার পর সবাই যখন বই-খাতা-ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়াল, চিকু তখনো বসে রইল। ওর ভেতর কেমন একটা রাগ আর জেদ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। স্যারকে ও কয়েকটা কথা জিজ্ঞেস করতে চায়। ও জানতে চায়, ওর সন্দেহটা সত্যি কিনা। " কিরে চিকু....তুই যে বসে রইলি....বাড়ি যাবি না?"....স্নেহের সুরে জিজ্ঞেস করলেন হরিহরবাবু। "আ-আপনার সঙ্গে ক-কয়েকটা ক-ক্কথা আছে স্যার", আমতা আমতা করে বলল চিকু। বন্ধুরা সব ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। প্রিয়াঙ্কা জুতো পরে তখনো দরজার চৌকাঠের কাছে অপেক্ষা করছে। কাকিমা ভেতরে হয়ত সংসারের কাজে ব্যস্ত। " কি কথা?", হরিহরবাবু জিজ্ঞেস করলেন। অন্দরে কোথাও টেলিফোন বেজে উঠল। কাকিমা ফোন ধরে কথা বলতে লাগলেন। বাইরের ঘর থেকে আবছাভাবে চিকু কাকিমার গলা শুনতে পাচ্ছিল। " আপনার গলার রুদ্রাক্ষের মালাটা কোথায় গেল স্যার?" চিকু জিজ্ঞেস করল। পলকে চারপাশটা কেমন স্তব্ধ হয়ে এল। শুধু সিলিঙ পাখাটার ভনভন শব্দ শোনা যাচ্ছে। হরিহরবাবুর বাঁ চোখটা একবার কেঁপে উঠেই আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। " ক...কোথাও বোধহয় খুলে পড়ে গেছে...আ...আ...আমি ঠিক খেয়াল করিনি".....আমতা আমতা ভাবে বললেন হরিহরবাবু। " আ-আপনার মুখ পু-পুড়ে গেল কি করে?" চিকু আবার জিজ্ঞেস করল। " বললাম তো, সামান্য পুড়ে গেছে"! হরিহরবাবু হঠাৎই রেগে উঠলেন। " না স্যার, ঠিক কিভাবে পুড়েছে, আপনাকে বলতে হবে", জেদি গলায় বলল চিকু। " এত বড় তোর স্পর্ধা! আমার কাছে জবাবদিহি চাস?" বলতে বলতে হরিহরবাবু উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর গলার স্বর থরথর করে কাঁপছিল। দরজার কাছ থেকে প্রিয়াঙ্কা চিকুকে ডাকল, " চিকু কি হচ্ছে? চলে এসো। " ওর দিকে না তাকিয়েই চিকু হাত তুলে ঈশারা করল। তারপর বই-খাতা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ফস করে হরিহরবাবুকে বলল, " আপনার বাঁ গালে পঞ্চপ্রদীপের ছাপ পড়ে গেছে, স্যার।" চিকুকে অবাক করে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হরিহরবাবু নিজের বাঁ হাত দিয়ে গালে হাত দিলেন। আঙুল দিয়ে আন্দাজে ভর করে পঞ্চপ্রদীপের ছাপটাকে খুঁজতে লাগলেন। একইসঙ্গে চিকুর প্রমাণ খোঁজার পালা শেষ হল। অসুস্থ মানুষটাকে ও খুঁজে পেয়ে গেছে। কিন্তু ও এতটুকু ভয় পেল না। কারণ ও বুঝে গেছে পূর্ণিমার রাত ছাড়া এই মানুষটাকে ভয় করার কোনও কারণ নেই। ও টানটান গলায় বলল, " আপনার গলার রুদ্রাক্ষের মালাটা গত পূর্ণিমায় শিবতলার মন্দিরে ছিঁড়ে পড়ে গেছে স্যার। আর সেই রাতে পুরুতমশাই বোধহয় আপনার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছিলেন......" " চিকু, চিকু, তুমি কিন্তু এবার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছ! এসব আজেবাজে কথা বলার সাহস তুমি কোথা থেকে পেলে? ইতর! অসভ্য!" হরিহরবাবু কথাগুলো বলছিলেন বটে কিন্তু সেগুলো কেমন ফাঁকা আওয়াজের মতো শোনাচ্ছিল। আর তাঁর মুখচোখও কেমন অপরাধীর মত ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল। ঠিক এইসময় অন্দরমহল থেকে কাকিমা বেরিয়ে এলেন। কাকিমাকে দেখে চিকুর বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠল। নিপাট ভালমানুষ কাকিমা বোধহয় হরিহরবাবুর আসল চেহারাটা জানেন না। জানতে পারলে বোধহয় তিনি শোকেদু:খে আত্মহত্যাই করবেন। কাকিমার সামনে চিকু আর কোনও কথা বলতে পারল না। হরিহরবাবু দু-পা এগিয়ে এলেন চিকুর দিকে। মুখের ভাব মোলায়েম করে বললেন, " তোর বয়েস অল্প। তোর না জানার জগৎটা বড় বেশী। জানবি পাপ করলে তার শাস্তি পেতেই হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নৃসিংহ অবতার হিরন্যকশিপুকে......." " আমি কোনও পাপ করিনি", স্যারের কথার মাঝেই চিকু চোয়াল শক্ত করে বলে উঠল। কাকিমা স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, " কি হয়েছে? ভেতর থেকে শুনতে পাচ্ছিলাম....এত শোরগোল কিসের?" হরিহরবাবু স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললেন, " কিছু না। চিকুকে একটু শাসন করছিলাম। তবে ছোট ছেলে, আমি ওকে ক্ষমা করে দিয়েছি।" চিকু ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এল। প্রিয়াঙ্কা এতক্ষণ চিকুর হাত ধরে টানছিল। চিকু বাইরে আসতে প্রিয়াঙ্কা জিজ্ঞেস করল, " কি ব্যাপার বলো তো? তোমাদের কথাবার্তার তো কিছুই বুঝলাম না! স্যারের সাথে পুরুতমশাই আর পঞ্চপ্রদীপের কি সম্পর্ক?" " চলো, যেতে যেতে সব বলছি। তবে তুমি প্রমিস করো, তুমি এখন কাউকে কিছু বলবে না।" প্রিয়াঙ্কা চিকুর গা ছুঁয়ে বলল, " প্রমিস।" ওরা সাইকেল চালাতে শুরু করল। বাতাসে অনেকক্ষণ থেকে ঝড়ের গন্ধ টের পাওয়া যাচ্ছিল। মাঝে মাঝে গুমোটের মধ্যে ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝটকা টের পাওয়া যাচ্ছিল। খুব শিগগীরই একটা কালবৈশাখী আসতে পারে। তবে তার সঙ্গে একটু বৃষ্টি এলে ভাল হয়, চিকু ভাবল। চিকুর কাছে সব শোনার পর প্রিয়াঙ্কা তো ভয়ে একেবারে কাঠ হয়ে গেল। ও বলল, " আমি আর বাংলা কোচিংয়ে পড়তে যাব না।" চিকু বলল, " যেটুকু বুঝেছি, পূর্ণিমার রাত ছাড়া স্যারকে ভয়ের কোনও কারণ নেই। তবে আজ আমার সঙ্গে স্যারের যেরকম কথা কাটাকাটি হয়ে গেল, তাতে আমার আর বাংলা কোচিংয়ে যাওয়া হবে না। বাড়িতে মা-বাবাকে কি বলব তাই ভাবছি।" " তোমার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না," প্রিয়াঙ্কা বলল, " সবাই প্রুফ চাইবে। বলবে, এ হতে পারে না। এটা ইম্পসিবল। " প্রিয়াঙ্কার কথাগুলো চিকু কিছুক্ষণ চিন্তা করল। ওর মনে হল, প্রিয়াঙ্কা ঠিকই বলেছে। হরিহরবাবুর মতো ধার্মিক স্বাত্তিক মানুষকে কেউ রক্তপিশাচ বলে ভাবতেই পারবে না। তাছাড়া, সবাই হয়ত জানতে চাইবে হঠাৎ করে মানুষটা এরকম হয়ে গেলেন কি করে! হরিহরবাবু তো জাঙ্গিকুলে বহু বছর রয়েছেন, এতদিন তো পূর্ণিমার রাতে কোনও মানুষ খুন হয়নি! তাহলে চার মাস আগে এমন কি হল যে মানুষটা অমানুষ হয়ে গেল! চিকু এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর খুঁজে পাচ্ছিল না। প্রমাণের কথা ভাবতে গিয়ে তার মাথার ভেতরটা তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল। সত্যিই তো, ওর মুখের কথা লোকে একবর্ণও বিশ্বাস করবে না। তাছাড়া চিকু নিজেও হরিহরবাবুকে একটা হিংস্র রক্তপিপাসু অমানুষ বলে ভাবতে পারছে না। এজন্য তো অকাট্য একটা প্রমাণ চাই। কিন্তু তাইজন্য আগামী পূর্ণিমা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু পূর্ণিমা আসতে তো এখনো অনেক দিন বাকি। এতগুলো দিন কি হাত পা গুটিয়ে বসে থাকা যায়! চিকু ভাবতে লাগল। ঠিক এইসময় তার মাথায় বুদ্ধিটা খেলে গেল। সে প্রিয়াঙ্কাকে বলল, " তুমি ঠিকই বলেছ। আমার কথা কেউ একবর্ণ বিশ্বাস করবে না। সবাই প্রমাণ চাইবে। কিন্তু আমার মনে কোনও সন্দেহ নেই। ধরো, স্যার নিজে যদি সবকিছু স্বীকার করেন?" " কিন্তু স্যার নিজে থেকে কেন কনফেস করবেন?" প্রিয়াঙ্কা জিজ্ঞেস করল। চিকু প্রিয়াঙ্কাকে আশ্বাস দিয়ে বলল, " ভয় নেই। আমি তোমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছি। রোজ তুমি একবার আর আমি একবার স্যারকে ফোন করব। আশা করি তাতেই কাজ হবে।" আরও মিনিট পনেরো আলোচনার পর চিকু আর প্রিয়াঙ্কা বাড়ি ফিরে গেল। রাতে শোওয়ার আগে মাকে বলল, " হরিহরবাবুর কোচিংয়ে ঠিকমতো পড়া হচ্ছে না। ও অন্য বাংলা স্যারের কোচিংয়ে ভর্তি হবে।" চিকুর মা একটু অবাক হলেও মুখে কিছু বলল না। পরদিন সকালে বাবা অফিসে বেরিয়ে যাবার পর চিকু হরিহরবাবুর বাড়িতে ফোন করল। ওপাশ থেকে কাকিমা ফোন ধরতেই চিকু মোলায়েম গলায় বলল, " স্যার আছেন?" " ধরো দিচ্ছি।" কাকিমা চিকুর গলা চিনতে পারেন নি। অবশ্য চিনতে পারার কথাও নয়। কারণ এর আগে সে হরিহরবাবুর বাড়িতে মাত্র একদিন ফোন করেছিল। " হ্যালো", হরিহরবাবুর গলা শুনতে পেল চিকু। ও রিসিভারের খুব কাছে মুখ নামিয়ে এনে বলল, " তোমার পাপের বোঝা তোমায় শেষ করে দেবে।" " কে? কে?" " আমি সব জানি", ফিসফিস করে ধীরেধীরে বলল চিকু, " গত চারটে পূর্ণিমায় চার চারজন মানুষকে তুমি নৃশংসভাবে খুন করেছ....." " কে? চিকু?" হরিহরবাবু চাপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন। সে কথার উত্তর না দিয়ে চিকু বলতে লাগল, " সব আমি দেখেছি। সব জানি। পরের পূর্ণিমায় আমি আর কাউকে খুন হতে দেব না।" " চিকু তুই আমায় মিছিমিছি সন্দেহ করছিস। আমি কোনও পাপ করিনি। আমায় ভুল বুঝিস না।" " অন্য কাউকে খুন করার চেয়ে নিজেকে খুন করা অনেক সহজ। তোমার সুইসাইড করা উচিত। তোমার মতো পাপীরা আত্মহত্যা করলে সেটা মহাপাপ হয় না। আগামী পূর্ণিমায় তুমি নিজেকে খুন করো....সেটাই সবার পক্ষে ভাল হবে।" ওপাশ থেকে আবেগে থরথর গলা পাওয়া গেল, " তুই ভুল বুঝছিস।। আমি পাপী নই। আমি কোনও পাপ করিনি।" "পূর্ণিমার রাতে তুমি কি করো, জাঙ্গিকুলের সবাইকে আমি জানিয়ে দেব। লোকে তোমায় রাস্তাঘাটে দেখলে ' থু-থু' করবে, ছিছিক্কার করবে। সুইসাইড ছাড়া তোমার আর কোনও পথ নেই......" রিসিভার নামিয়ে রাখল চিকু। ওর বুকের ভেতর ঢিবঢিব করছিল, বড় বড় শ্বাস পড়ছিল। আবার পরদিন সকালে ও স্যারকে ফোন করবে। কিন্তু এভাবে ফোন করলে কি কাজ হবে? স্যার কি পুলিশের কাছে গিয়ে নিজের সব দোষ স্বীকার করবেন? তাছাড়া, এরকম ভয়ঙ্কর অলৌকিক ঘটনা পুলিশও কি বিশ্বাস করবে? এইসব নানা কথা ভাবতে ভাবতে স্কুলের জন্য তৈরি হতে লাগল চিকু। ( ক্রমশ) ------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now