বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নতুন অফিস।
পরিবেশটাও নতুন।
এখনো কারো সাথে পরিচয় হয় নি আসলে সেই সময়টাই পাই নি।
মাএ ২দিন হলো
চাকরিতে জয়েন্ট করছি।
এটাই প্রথম চাকরি না।
নতুন জায়গায় তাই নিজেকে একটু সাজিয়ে নিচ্ছি।
অফিসের মালিক নাকি মারা গেছে কয়েক মাস আগে তাই তার মেয়েই এখন দায়িত্ব নিয়েছে।
মেয়ে হোক আর ছেলে হোক নিজের কাজ নিজে মন দিয়ে করলেই তো হলো।
পিয়ন টা বলে গেলো এমডি স্যার নাকি অামামাকে ডাকছে।
কাজটা অর্ধ সমাপ্ত করেই চলে গেলাম হুকুম তামিল করতে।
-May I coming?
-yes
মেয়ে কন্ঠে আওয়াজটা ভেসে আসলো।
আর পর যা ঘটলো আমি ভাবতেইই পারি নি।
মেয়েটাকে দেখে বুকের ভিতর কেমন যে করে উঠলো।
নিজেকে অনেক কষ্টে নিয়ন্ত্রণ করলাম তারপর বললাম,,,,
-মেডাম আমাকে ডেকেছেন?
-সজীব তুমি এখানে? (সিমিন)
হ্যা মেয়েটার নাম সিমিন।
ওকে আমি খুব ভালো করেই চিনি।
-আপনি কি অামামাকে ডেকেছেন?
-আরে আপনি করে বলছো কেন?
-সরি মেডাম আমি আপনার অফিসের সামান্য একজন কর্মকর্তা আর কি জন্য ডেকৈছেন সেটা বললে খুব ভালো হতো আর আমার অনেক কাজ আছে।
-তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছো কেন?
-সরি অামি আমি যদি কোন খারাপ ব্যাবহার করে থাকি ক্ষমা করে দিয়েন।
আর কাজের কথাটা বললে খুব খুশি হতাম।
কথাটা শুনার পর সিমিনের চোখে পানি চিকচিক করছে।
কোন কথা না বলে আমার হাতে কয়েকটা ফাইল দিলো।
আমি কোন কথা না বলে বাইরে চলে আসলাম।
বোঝতে পারছি মেয়েটা কাদছে।
কাদুক তাতে আমার কি?
আমি যে এতদিনন কাদছি তার মূল্য কে দিবে?
সিমিনের সাথে আমার পরিচয় ভার্সিটিতে।
প্রথমে একটু আধটু কথা বলতে বলতে বন্ধুত্বে পরিনত হলো।
তার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রেমটাও হয়ে গেলো।
সিমিন বড়লোকের একমাএ মেয়ে ।
আর আমি?
সজীব
গরিব বাবা একমাএ সন্তান। টিউশনি করেই লেখাপড়া আর পরিবাবের খরচ চালাই।
ভালোই চলছিলো।
বোঝতেই পারুি নি সিমিন কে কখন এতো বেশি ভালোবেসেছি।
একদিন সিমিন আমাকে বললো,,,,
-আমাদের রিলেশনটা রাখা আর সম্ভব না।
-কি বলছো এইসব পাগল হয়ে গেছো নাকি?
তুমি কি বোঝে কথাটা বলছো?
-হুম আমি বোঝেই কথাটা বলছি।
-একটা বারও আমার কথা ভাববে না?
-আসলে আমার করার কিছুই নেই।
আসলে,,,,,,,,
-থাক আর বলতে হবে না।
খুব কষ্ট হচ্ছিলো।তবুও আমি চাইনা যে আমার জণ্য কারো,,,,,,,,,,,,
তাই সেখান থেকে চলে আসলাম।
তারপর সিমিন একটা বারও অামামার খোজখবর নেয় নি। আমি পাগলের মত ওকে খুজেছি কিন্তু কোথাও পাইনি।
হঠাৎ একদিন মার্কেটে সিমিনের সাথে দেখা,
সাথে একটা ভর্দ্র লোক।
-কেমন আছো? (আমি)
-কাকে বলছেন? (সিমিন)০
-কি হলো আমাকে চুিনতে পারছ্র না আরে আমি সজীব জানো কত খুজেছি তোমাকে!
কথাগুলো শেষ না হতেই টাস টাস করে দড়
দুইটা চড় মারলো।
-অস্বভতামির একটা সিমা আছে চিনা নেই জানা নেই এসেছে কোথা থেকে সব পাগল। আসলে সুন্দরি মেয়ে দেখলেই কথা বলতে ইচ্চা করে তাই না?
কথাুগুলো বলেই চলে গেলো।
আমি মাথা নিচু করেই দাড়িয়ে আছি।
আসলে ভুলটা অ ামারই কেন যে ওর সাথে কথা বলতে গেলাম।
অনেক তো ভুলার চেষ্টা করলাম কিন্তু ভুলতে পারলাম না।
কিছুদিনন পর রাস্তায় হাটছি।
সামনে থাকতেই দেখলাম সিমিন দাড়িয়ে আছে মনে হয় কারো জন্য অপেক্ষা করছে খুব ইচ্ছে হলো ওর সাথে একটু কথা বলার কিন্তু সাহস হলো না।
মাথা নিচু করেই চলে আসছি হঠাৎ পিছন থেকে
----এই সজীব
পিছনে তাকাতেই দেখি সিমিন আমার দিকে দৌড়ে আসছে।
সরি সেইদিন আব্বু ছিলো তাই প্লিজ কিছু মনে করো না।
-কিছু মনে করি নি আমার কাজ আছে আমি যাই।
বলেই হাটা শুরু করলাম। পিছন থেকে মেয়েটা অনেক বার ডাক দিলো পিছন ফিরে তাকাতে খুব ইচ্ছা করছিলো। কিন্তু তাকালাম না কারন তাকালেই মায়ায় পড়ে যাবো আমি আর কোন মায়ায় জড়াতে চাই না।
-স্যার বাসায় যাবেন না অফিস তো অনেকক্ষণ ছুটি হইছে।
পিয়নের কথায় ঘোর কাটলো।
চাকরির রিজাইন পেপার টা জমা দিতে গেলাম সিমিনের ডেক্সে।
কাগজটা দেখে সিমিনের চোখ পানিতে চিকচিক করে উঠলো।
-আচ্চা আমি তোমাকে জোর করবো না কিন্তু প্লিজ আমাকে একটা সুযোগ দেও আমার কিছু কথা আছে তোমার সাথে প্লিজ আর না করো না।
মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে খুব মায়া হলো।
চোখ দেখে বোঝতে পারলাম সারারাত ঘুমাই নি।
-তুমি যদি চাও আমরা বাইরে কোথাও বসতে পারি (সিমিন)
কোন কথা না বলে মাথা নেড়ে হ্যা সূচক উওর দিলাম।
সিমিনের গাড়িতে চুপ করে বসে আছ একটা নির্জন স্থানে গাড়িটা থামালো।
দুইজনেই চুপ করে আছি সিমিনের গাল বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে।
-জানি তুমি আমাকে কোনদিনই ক্ষমা করতে পারবে না।
আর আমি ক্ষমার যোগ্যও না।
আচ্চা আমাকে কি আর একটা সুযোগ দেওয়া যায় না? (সিমিন)
-আসলে সুযোগটা দিতে চাইলেও আর সম্ভব না।
-কেন?
-আমি বিবাহিত
কথাটা শুনার সাথে সাথে সিমিনের মুখটা কালো হয়ে গেলো
-১মাস হলো বিয়েটা করেছি।
মেয়েটাকে মা পছন্দ করেছে।
মেয়েটা তোমার মত সুন্দর না তবে আমাকে অনেক ভালোবাসে আর তার থেকেও আমাকে অনেক বিশ্বাস করে আমার সব কিছু জেনেই আমাকে বিয়ে করছে।
আমাকে সে এতো বিশ্বাস করে আমি যা বলি সব কিছু অন্ধের মত মেনে নেয়।
কথাগুলো শুনে সিমিন পাথরের মত জমে
গেলো।
মনে হয় কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
-ও আচ্চা একটা কথা রাখবে? (সিমিন০
-বলো কি কথা
-প্লিজ চাকরিটটা ছেড়ো না কথা দিচ্ছি কখনো তোমার কাছে ভালোবাসার দাবি করবো না।
-কিন্তু
-প্লিজ
মেয়েটার দিকে তাকালাম।
খুব কান্ননা করছে।
কোন কথা না বলে চুপ করেই বসে থাকলাম।
আসলেই কিছু কিছু মূহত আছে যে নিজেই ভাবে পাওয়া যায় না কি করবো।
কোনটা ভুল আর ক্রনটা ঠিক।
সময়ের সাথে তাল মিলাতে অনেক কিছু হারাতে হয়।
কিন্তু পরে বোঝা যায় তখন কতবড় মূল্যবান জিনিসটা হারিয়েছি।
তখন আফসোস ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now