বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিশ্চুপ ভালবাসা
আকাশটা মেঘলা, ছোপ ছোপ কালো
মেঘ জমে আছে পুরো আকাশ জুড়ে।
নীলাদ্রি বারান্দায় রেলিং এ একটা
হাত রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে
আছে। অন্য হাতে ধোঁয়া উঁরানো গরম
কফির মগ। মনে হচ্ছে কফির ধোঁয়া গুলো
আকাশে গিয়ে গিয়ে মেঘ গুলোকে
আরও কালো করে দিচ্ছে। কিছুক্ষন পরেই
ঝুম বৃষ্টি শুরু হবে। নীলাদ্রির পাশে
থাকা ইজি চেয়ারের উপর ফোনটা তে
মৃদু শব্দে বাজছে গান..
"তুমি তাই… তুমি তাই গো..
আমারও পরাণও যাহা চায়…"
.
গানটা আজ খুব শুনতে ইচ্ছে করছে
নীলাদ্রির। আজ ওর মনটা অনেক
ভালো। নাহ, বয়ফ্রেন্ড বা পছন্দের কেউ
প্রপোজ করেছে সেই জন্যে নয়।
নীলাদ্রি তেমন মেয়ে নয়। বাবা মার
বাধ্য মেয়ে। মধ্যবিত্ত পরিবারের
মেয়ে বলে বাবা অনেক কষ্টে
নীলাদ্রি কে মানুষ করেছেন। তাই এমন
কিছু করলে বাবার মনে আঘাত লাগবে
ভেবেই নীলাদ্রি কারো সাথে
নিজের মন বাঁধে নি। তবে এখন কিছু
হতে যাচ্ছে। কারণ আজ পাত্রপক্ষ
নীলাদ্রি কে দেখতে এসেছিলো।
পছন্দও হয়েছে। পছন্দ না হয়ে যাবে
কোথায়? দুধে আলতা গায়ের রং,
টানা টানা চোখ, হালকা পাতলা
গড়ন, মায়াবী চেহারা। নীলাদ্রির
যা দেখে ছেলেটার সবথেকে ভালো
লেগেছে তা হচ্ছে নীলাদ্রির চুল।
ছেলে তো সবার সামনেই নীলাদ্রির
চুলের প্রশংসায় বিভোর..। একথায় এই
মেয়েকেই বৌ করবে। আর আজই আংটি
ও পরিয়ে গিয়েছেন নীলাদ্রি কে।
কারণ ছেলের বাবা মা বেশি দেরি
করতে চান না।
.
নীলাদ্রির ও বেশ পছন্দ হয়েছে ছেলে
কে। ছেলে দেখতে লম্বা চওড়া, সুপুরুষ,
ভালো চাকরী করে। এমনই একটা জীবন
সঙ্গী চেয়েছিল নীলাদ্রি। ছেলের
নামটাও নীলাদ্রির সাথে বেশ মিল।
ছেলের নাম নিলয় চৌধুরী, ডাক নাম
"নীল"। নীলাদ্রি ও নীল বলেই ডাকবে।
নীলাদ্রির নামের প্রথম দুই অক্ষর দিয়ে
ছেলের নাম বলে আরও ভালো লাগে
নীলাদ্রির। ও ভাবে ওদের জোড়া
যেন আল্লাহ মিলিয়ে দিয়েছেন। এখন
শুধু পারিবারিক মিলের অপেক্ষা।
.
নীলাদ্রি স্বপ্ন দেখছে সুন্দর একটা
জীবনের। দেখছে বিয়ের পর নীল আর
নীলাদ্রি মিলে হানিমুনে
গিয়েছে।
কোন একটা পাহাড়ি অঞ্চলে। কারণ
অরন্য ভূমি নীলাদ্রির অনেক ভালো
লাগে। যেমন পাহাড়, বন, বা সুন্দর
বাগান। তেমনি একটা পাহাড়ে
গিয়েছে ওরা। সেখানে সুন্দর একটা
বাংলো, পুরো বাংলো তে ওরা দুজন।
নীল ওর হাত ধরে এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি
করছে। মাঝে মাঝে নীলাদ্রির
সাথে লুকুচুরি ও খেলছে। নীল হঠাৎ
করেই লুকিয়ে যাচ্ছে। আবার যখন
নীলাদ্রির মুখ কাঁদোকাঁদো হয়ে যায়
তখন বেরিয়ে আসছে। এমন সময় আবার
নীল লুকিয়ে গেল কোথায় যেন..
.
নীলাদ্রি কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না
নীল কে। এদিকওদিক ছুটাছুটি করছে
নীলাদ্রি। নাহ কোত্থাও নেই নীল।
একসময় নীল কে খুঁজে না পেয়ে
চিৎকার করতে থাকে নীলাদ্রি। দূরের
পাহাড়ে নীলাদ্রির চিৎকার শুনা
যাচ্ছে। কিন্তু নীল শুনতে পাচ্ছে না
সেই চিৎকার। একসময় হাফিয়ে যায়
নীলাদ্রি। বসে পরে মাটিতে। মাথা
নিচু করে কাঁদতে থাকে সে। ঠিক তখনই
দূর থেকে কোন একটা নারী কন্ঠে
নীলাদ্রির নাম ধরে ডাকতে থাকে।
বেশ কয়েকবার ডাকার পর হঠাৎ
নীলাদ্রির ঘোর কাটে। কিছুটা অবাক
আর বোকা হয়ে যায় নীলাদ্রি। সে
এতক্ষন ভাবনার জগতে ছিলো? আর নিচ
থেকে ওর আম্মুর ডাকেই ভাবনার জগত
থেকে ফিরে আসে।
.
নীলাদ্রি বুঝতে পারে যে ওর চোখ
ভিজা। তারমানে ও কেঁদেছে। সাথে
সাথে চেয়ারের উপর থেকে ফোনটা
হাতে নেয় নীলাদ্রি। নীলের
নাম্বারে ডায়াল করে। নীল কে
এভাবে হারাতে চায় না নীলাদ্রি।
কারণ এই কিছুক্ষনেই খুব ভালোবেসে
ফেলেছে নীল কে। কিন্তু নীল ফোন
রিসিভ করছে না। এদিকে নীলাদ্রির
আম্মু ডাকছে ওকে। নিচে যায়
নীলাদ্রি, গিয়ে ওর আম্মুর কথা শুনে
হতবাক হয়ে যায়। নীল এক্সিডেন্ট
করেছে। হাসপাতালে আছে।
আর কিছু শুনতে চায়নি নীলাদ্রি। দ্রুত
ছুটে যায় হাসপাতালের দিকে।
.
নীল শুয়ে আছে বেডে। পাশে নীলের
মা-বাবা। নীলাদ্রি কে দেখে
জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে নীলের
মা। যদিও আঘাত খুব গুরুতর না তবুও
একমাত্র ছেলের এই অবস্থা। কোন বাবা
মা সহ্য করতে পারে?
নীলাদ্রি কে রেখে নীলের বাবা
মা বাহিরে চলে যায়। নীলাদ্রি
ধিরে ধিরে গিয়ে নীলের পাশে
বসে। নীল তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
নীলের হাতটা ধরে নীলাদ্রি। কিন্তু
কিছুই বলতে পারে না। নিরবে
চোখের
পানি ফেলে শুধু।
বাহিরে ঝুম বৃষ্টি পরছে। জানালা
দিয়ে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি। নীলাদ্রির
চোখ থেকেও বৃষ্টি ঝড়ছে। নীল
ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে
তাকিয়ে থাকে নীলাদ্রির দিকে।
চোখে চোখে দুটি মন ভালোবাসা
বিনিময় করছে। চুপি চুপি "নিশ্চুপ
ভালোবাসা"।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now