বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হিমেল ফেসবুকে টুকটাক লেখালিখি করে। অনেকেই তার লেখা পছন্দ করে, অনেকেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়। তার মধ্যে "অধরা ইভা" নামেরও একটা আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসে এবং চেক করে দেখলো মেয়েটার বাসা উত্তরায়, তাই এক্সেপ্ট করলো। অতঃপর মেয়েটা.......
--হাই
--হ্যালো, আপনি কি উত্তরায় থাকেন?
--হুম,কিভাবে বুঝলেন?
--আপনার প্রোফাইল আমার কানে ফিসফিসিয়ে বললো।
--তাই? আপনি কই থাকেন?
--হুম, আমিও উত্তরাতেই। কোন সেক্টরে থাকেন আপনি?
--বলা যাবেনা, বাট সেক্টরের বাইরে থাকি। আপনি?
--সেক্টর ৪ এ থাকি।
--ওহ, ভালো তো।
.
এইভাবেই কথা শুরু হয় হিমেল আর ইভার। হিমেল উত্তরায় একটা বায়োমেডিক্যাল কোম্পানি তে জব করার দরূন উত্তরায় থাকে। ইভা hsc দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, বাবার চাকরির জন্য পরিবারসহ ইভাও উত্তরার বাসিন্দা। পরিচয় টা ফেসবুকেই। হিমেল একটু লেখালেখি করার দরূন ইভা তাকে ফ্রেন্ড করেছে। মাঝে মাঝে নিজ থেকেই মেসেজ করে ইভা। ধীরে ধীরে কথা বলার গতি এবং সময় বাড়তে থাকে দুজনের। হিমেল-ইভার মাঝে ভালো একটা বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়। হিমেল ইভাকে কখনো খুব বেশি কিছুই জিজ্ঞেস করতো না। ইভা এই কথা সেই কথায় বকবক করতো শুধু। হিমেল প্রোফাইলে পিক দেয়নি বলে প্রতিদিন কথা শুনাতো আর নির্যাতন করতো ইভা। অথচ সে নিজেও পিক দেয়নি প্রোফাইলে। এই পিক নিয়েই ইভা মাঝে মাঝে রাগ করে আবার নিজের রাগ নিজেই ভাঙ্গে ইভা। সেদিন এটা নিয়েই কথা হচ্ছিলো......
--হিমেল ভাইয়া, আপনার একটা পিক দেন না প্লিজ?
--আগে আপনি দেন, তারপর আমি চেষ্টা করবো।
--সত্যি দিবেন তো?
--হুম, দিবো। আগে আপনি...
--ওকে, বাট একটা সত্যি কথা বলবেন?
--কি কথা?
--আপনি কাউকে ভালোবাসেন?
--ভালবাসি বলতে আমি যে ফ্ল্যাটে থাকি, তার তৃতীয় তলায় একটা মেয়ে থাকে। মাঝে মাঝে দেখা হয়, ভালোই লাগে ওরে। ভালোবাসার মতোই সে।
--আচ্ছা ঠিক আছে, পিক লাগবেনা। বাই
.
ইভার আচরণটা কিসের সংকেত সেটা বুঝতে কষ্ট হলোনা হিমেলের। তবে একটু ধোঁয়াশা তো থেকেই যায়। একটা ছেলেকে না দেখেই কিভাবে কি হয়। ইভা বহুবার তুমি সম্বোধন করতে চেয়েছিলো, বলেও ছিলো বেশ কয়েকবার। কিন্তু হিমেল ছেলেটা আপনি সম্বোধন থেকে কখনো সরে দাঁড়ায়নি, তাই বাধ্য হয়েই ইভাও আপনি সম্বোধন করে।
কয়েকদিন ধরে ফেবুতে আসছে না ইভা। হিমেল মাঝে মাঝে ইভার আইডি চেক করে এবং মেসেজ গুলো দেখে। হিমেল বুঝতে পারছিলোনা কি করবে, কিভাবে মেয়েটা কে শান্তনা দিবে। খুঁজেও পাচ্ছেনা তাকে অনলাইনে। যাইহোক, ইচ্ছা করে তো আর মেয়ে টা কে কষ্ট দেয়নি ভেবেই শান্তনা পাচ্ছে হিমেল। তবে মেয়েটার সাথে কথা বলতে বলতে একটু তো মায়া জমেছেই, সেটা থেকেই কিছুটা মিস করছে মেয়েটা কে। ফেসবুকে যে মেয়েটা মেসেজ করে জ্বালাতন করতো, সে মেয়েটাই এখন আর তার খোজ নেয়না। ফেসবুসকটাও এখন বিরক্তকর লাগে হিমেলের।
ছুটির দিন বিকেলে সেক্টরের কল্যাণ সমিতি পার্কে একা একা কিছুক্ষণ হাঁটলো চারপাশে। হাঁটাহাঁটির পর্ব শেষ করে পার্ক কর্তিপক্ষ কর্তৃক পুকুরের পাড়ে রাখা বেঞ্চগুলোর একটি তে ফাঁকা পেয়েই বসে পড়লো। বসে বসে ফোনের স্ক্রিনের সাথে আঙ্গুল যুদ্ধে লিপ্ত হলো হিমেল। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলো পাশে কেউ এসে বসেছে। সেদিকে চোখ না দিয়ে আবারো ফোন টিপতে থাকলো হিমেল। অতঃপর হিমেলের কানে আসলো দুইটা মেয়ের কথোপকথন আর হাসাহাসি করছে। কিছুটা বিরক্ত হয়েই তাকালো তাদের দিকে। কিন্তু চোখ পড়তেই কেটে গেলো সব বিরক্তি। দেখলো যে তৃতীয় তলার সেই মেয়েটা। অতঃপর.......
--আরে আপনি?
--আপনি কি আমাকে চিনেন?
--চিনি বলতে তেমনটা না, তবে আপনার অপরূপ ওই চোখে চোখ পড়েছে সহস্র বার।
--কিভাবে?
--আমি আর আপনি একই ফ্ল্যাটে থাকি, সেই সূত্রে।
--ওহ
--কি করেন আপনি?
--তেমন কিছুনা
--করেন তো কিছু একটা।
--দুষ্টামি ফাইজলামির পাশাপাশি পড়াশুনাও করি একটু আধটু।
--হাহাহা
--জ্বী, অচ্ছা থাকেন, পরে কথা হবে৷
--চলে যাবেন এখনই?
--হুম, আসছি রিপার সাথে ওর পরিবার সহ।
--ওহ, ওকে বাই।
.
কথা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু নামটা জিজ্ঞেস করা হলোনা। এই জন্যই মনটা অনেক বিমর্ষ হিমেলের। এই কয়েকটা দিনে পরিপক্কতার কোন চিহ্নই খুঁজে পাচ্ছে না নিজের মাঝে। ফেসবুকের ইভা আর তৃতীয় তলার মেয়েটার সাথে কথা ঠিকই হলো কিন্তু কাজে আসলোনা কিছুই। বরং আগের চেয়েও তৃতীয় তলার নাম না জানা মেয়েটার প্রতি দুর্বলতা বৃদ্ধি পেলো। মেয়েটাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতেই সেই দিনটা মাটি। রাতে ঘুমানোর অনেক চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারেনি হিমেল। ফেসবুকে ঢুকে কিছুক্ষণ সময় পার করলো। অতঃপর ভোর রাতে ঘুমের সাথে সাক্ষাত হলো হিমেলের।
সকালে ঘুম থেকে একটু দেরি করেই উঠতে হলো, তারপর কোন রকম ফ্রেশ হয়েই ছুটলো অফিস পানে। অতিরিক্ত দেরি হওয়ার দরূন আজকে আর তৃতীয় তলার মেয়েটার দেখা পায়নি। যার কারণে সারা দিনটাই কেটেছে মন খারাপের বেশে।
সন্ধায় বাসায় এসে ফ্রেশ হয়েই চলে গেলো তৃতীয় তলার উদ্দেশ্যে মেয়েটা কে সারাদিন না দেখার যন্ত্রণা টা দুর করতে। রুমের দরজার সামনে কিছুক্ষণ সিঁড়ি বেয়ে উঠানামা আর ঘুরঘুর করার পর মনে হলো কেউ বুঝতে পারলে সমস্যা আছে। তাই চলে গেলো সোজা ছাদে। ছাদে গিয়েই কিছুটা অবাক।
"পূর্ণিমা রাতে চাঁদ সেজেছে বহুরূপী সাজে,
চাঁদের আলোয় ছড়িয়ে পড়লো জোছনা সবার মাঝে।"
খুব অপরূপ সুন্দর লাগছিলো পৃথিবীটা কে। রাত যেনো 16 বছরের যুবতীর যৌবন ফিরে পেলো আবারো। ছাদের এক পাশে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলো প্রকৃতির এই সৌন্দর্য্যের সমাহার।
হঠাত করেই চোখ পড়লো ছাদের অন্য প্রান্তে। জোছনার আলোয় বুঝাই যাচ্ছিলো দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে। ভালো করে তাকিয়ে বুঝতেই পারলো তৃতীয় তলার সেই মেয়েটা। খোলা চুলে প্রকৃতির বাহ্যিক সৌন্দর্যকে সাজিয়েছে নিজ হাতে। একটা ভালো রেজুলুশনের ক্যামেরার একটা ক্লিকই ইতিহাসের সেরা ফটো হয়ে যেতো। কিংবা চিত্রশিল্পীর পেন্সিলের উপর ভর করে সাদা কাগজের উপর অঙ্কিত ফটোটি মোনালিসা কে হার মানাতো। মেয়েটা অতিরিক্ত সুন্দরী, তবে তার চেয়েও রাতের সাথে খোলা চুলের ম্যাচিং টা দারুণ। মেয়েটাকে এই রূপে কেউ দেখলে হাজারবার প্রেমে পড়াটা তো স্বাভাবিক। হিমেলের তখন আসিফের একটা গান মনে পড়লো.......
"আমি চাঁদকে বলি ও চাঁদ তুমি আইসো আমার বাড়ি,
আছে আমার ঘরে চাঁদের চেয়েও অপরূপ সুন্দরী।
রুপ দেখে তার যায় রে থেমে হাজার পথচারী,
আমার চাঁদবদনি প্রিয়তমা এতোটাই সুন্দরী"
রাতের প্রহর বাড়তেই থাকলো এইসব ভাবনার মধ্য দিয়ে। কাছে গিয়ে কথার বলার সাহস পাচ্ছেনা ভয়ে। কারণ মেয়েটার রূপ দেখেই থ হয়ে আছে হিমেল। তাছাড়া রাত্রি বেলা এইভাবে কোন মেয়ের সাথে কথা বলাও সমাজের আড়চোখে তাকানো। কেউ দেখলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে। তবুও সব ভাবনাকে পিছনে ফেলে সাহসিকতার পরিচয় দিলো হিমেল........
--এক্সকিউজ মি
--জ্বী, ভয় পাইয়ে দিলেন তো।
--কেনো?
--এই অপরূপ রাতের প্রেমমুগ্ধ হয়ে মগ্ন হয়ে গেছিলাম।
--ওহ, আসলেই রাত টা অনেক সুন্দর। তবে তার চেয়েও বেশি সুন্দর আপনি।
--মানে?
--মানে আপনার ওই খোলা চুলের সাথে প্রকৃতির ম্যাচিং টা অসম্ভব সুন্দর।
--ধন্যবাদ
--আপনি কি প্রতিদিন এইসময় ছাদে আসেন?
--আরে নাহ, আম্মু আমার পা ভেঙ্গে হাতে ধরিয়ে দিবে।
--তাহলে আজকে কি পা রুমে রেখে আসছেন?
--হিহিহি, আব্বু-আম্মু রুমে তালা দিয়ে বাইরে গেছে। আমি প্রাইভেট পড়তে গেছিলাম, মাত্রই আসলাম।
--ওহ, আপনার নাম টা তো জানা হলোনা?
--সাদিয়া জান্নাত ইভা, সবাই ইভা বলেই ডাকে। আপনার?
--ওহ, আমি হিমেল।
--হিমেল? খুব সুন্দর নাম, আমার প্রিয় নাম।
--বাহ, ভালোই তো। কিসে পড়েন?
--Hsc দ্বিতীয় বর্ষ। আপনি?
--আপনি কি সায়েন্সে পড়েন?
--হুম, কেনো?
--ফেসবুকক আইডি কি অধরা ইভা?
--হুম, কিন্তু আপনি কিভাবে জানেন?
--তৃতীয় তলার মেয়েটা কে চিনেন?
--মানে?
--আপনার কোন ফ্রেন্ড কি আপনাকে ফেসবুকে কথা টা বলেছে?
--হুম, আপনি কি সেই?
--হিমালয় হিমেল
--সত্যি?
--তিনসত্যি
--তিন তলার সেই মেয়েটা কি আমি?
--অবশ্যই তুমি
--ভালবাসো সত্যি?
--এককোটি বিলিয়ন সত্যি।
--তুমি চার নাম্বার সেক্টর বলছো কেনো ফেসবুকে?
--এমনি বলছি, সবাইকেই তো তাই বলি।
--মিথ্যাবাদী, মধ্য আজমপুর জামতলা বললে কি হতো?
--আরে মিথ্যার কি হলো, একমিনিট হাঁটলেই তো চার নম্বর সেক্টর। এইটুকু দূরত্ব বুঝে নিতে হয়, বলা লাগেনা।
--কাছের মানুষের সাথে ছোট দূরত্বটাও অনেক বড় লাগে।
--হুম, কাছের মানুষের চোখে কি উত্তল লেন্স লাগানো থাকে নাকি?
--মনে হয় থাকে। আর কখনো আমাকে ছোট বড় কোন মিথ্যাই বলবানা।
--ওক্কে মহারানী।
--ইশ, এই কয়েকদিন অনেক কষ্টে কেটেছে আমার। একবার কেনো বললেনা তোমার তৃতীয় তলার মেয়েটা আমি?
--আমি কি তখন জানতাম যে আমার তৃতীয় তলার মেয়েটা তুমি?
--ভালোবাসলে সব জানতে হয়।
--তাছাড়া তুমি সেদিন একটা পিক দিলেই তো হতো।
--ভালোবাসা হয়তো এভাবেই ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়েই হয়।
--ভালবাসো?
--হুম, অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি।
--ও জোছনা রাত, ও পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি সাক্ষী থাকো আমার চাঁদবদনি প্রিয়তমা আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমিও অনেক ভালোবাসি তৃতীয় তলার সে মেয়েটাকে।
অতঃপর মেয়েটা দৌড়ে এসে হিমেল কে জড়িয়ে ধরে বলল.....
--আমার এতোদিনের কষ্টের সুফল তুমি আর তোমার ভালোবাসা। সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি.............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now