বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আয়তাকার টেবিলের উপর রাখা একটি নেইমপ্লেট পড়ছি।
মিতু আক্তার
এম.বি.বি.এস,বিসিএস(স্বাস্থ্য),
সিনিয়র মেডিকেল অফিসার,
(চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ)
আর দামী চেয়ারটাতে বসে ডাক্তার মিতু প্রেসক্রিপশন লিখছে আমার আগের সিরিয়ালের প্যাশেন্টের। ডাক্তারের চুলগুলো মুখের সামনে চলে আসাতে চেহারাটা দেখছিনা। তারপর মুখ তুললো প্রেসক্রিপশন থেকে। কিছুক্ষনের জন্য অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। রোগী কে বুঝিয়ে দিচ্ছে কিভাবে, কখন ওষুধ খেতে হবে। আমাকে চোখের ইশারায় আগের প্যাশেন্টের চেয়ারে বসতে বল্লো। আমি বসলাম ঠিকই,কিন্তু চোখ দুটো ডাক্তার মিতুর চশমা আর চুলগুলোতে আটকে আছে। চোখ দুটো গোল গোল। চশমার উপর দিয়ে ব্রু নাঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-নাম কি?
-....
-এই যে হ্যালো!
-...
-এক্সকিউজ মি! (একটু জোরে শব্দ করে)
-জি,জি!
-কি???
-কই কিছুনাতো!!
-কি সমস্যা আপনার?
-সর্দি,জ্বর।
-কয়দিন থেকে সর্দি?
-গত তিনদিন।
-জ্বর কখন থেকে?
-দুদিন!
-দেখি মুখ দেখি (বলেই থার্মোমহিটার টা জিহ্বার নিচে দিয়ে দিলো)
আমি ভদ্র ছেলের মতো ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মায়ার সমুদ্র দেখছি।
-১০০.৫। তেমন বেশি না।আমি কিছু ওষুধ দিচ্ছি,পুরো কোর্স খাবেন। ঠিক হয়ে যাবে।
-জ্বি আচ্ছা।
-নাম কি?
-নীল
-পুরো নাম! (কঠিন ভাব নিয়ে)
-নীল মাহমুদ।
আবার প্রেসক্রিপশন লিখা শুরু করলো। সুন্দর সুন্দর দুটি হাতে প্রেসক্রিপশনের কাগজে কালো কলমে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে লিখছে। হাতের লিখা বুঝার চেষ্টা করছি। একটু একটু বুঝা যাচ্ছে। ডাক্তারদের এই একটা অভ্যেস। একনজরে প্রেসক্রিপশন প্যাডে লিখেই যাবে প্যাঁচানো লিখায়। যা,ফার্মেসির লোক ছাড়া সাধারন মানুষ খুব কমই বুঝে।
-এই নিন। নিচের ফার্মেসি থেকে কালেক্ট করে নিবেন।
-জ্বি আচ্ছা।
-আপনার পরের জনকে পাঠিয়ে দিন।
-না।
-মানে??
-সরি। ভুলে বলে ফেলেছি।
পরের জনকে পাঠিয়েছি ঠিকই। কিন্তু পর্দার আড়াল থেকে সুন্দরী ডাক্তারনী কে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছি। কত্ত সুন্দর। কি চাহনী! আহা! চশমিশ ডাক্তার। এমনইতো চাই আমার! (মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলো)
অনুভব করলাম কেউ পিঠে হাত রাখছে। প্রথমবার হাত সরিয়ে দিলাম। দ্বিতীয় বার ও হাত রাখলো।
-ডিস্টার্ব করবেন না তো! বিজি আছি।
-আপনার বিজি দেখাচ্ছি।
পিছনে ফিরেই বললাম,
-কি সমস্যা ভাই?
-আপনি উঁকি দিয়ে কি দেখছেন?
-আমি আমার পৃথিবী দেখছি।
-দেখাচ্ছি আপনার পৃথিবী!(আমার হাত থেকে প্রেসক্রিপশন টা ছুড়ে নিয়ে সোজা ডাক্তারনীর কাছে চলে গেলো)
-ম্যাডাম,ওই যে ওই লোকটা আপনাকে পর্দার আড়াল থেকে দেখছে,আবার আমার সাথে বড় গলায় কথা ও বলছে।
-এই যে এইদিকে আসেন আপনি?(আমাকে হাতের ইশারায় ডাকলো ডাইনি মুড নিয়ে)
-উনি মিথ্যে বলছে। সব বানিয়ে বলছে। (ভাব নিয়ে বললাম)
-উনি একদম মিথ্যে বলেনি। উনি আমার পিএস। সত্যি করে বলুন,কি দেখছিলেন পর্দার আড়ালে?
-মায়াবতীর মায়া দেখছি(মনে মনে)
-বলুন। চুপ করে আছেন কেন?
-আপনাকে!
-আমাকে দেখার কি আছে?
-স্রষ্টার তৈরি সৌন্দর্য দেখছিলাম।
-আপনার কি মাথাতে ও সমস্যা আছে? ওষুধ দিবো?
-কি??
-মাথা খারাপের ওষুধ দিবো?
-আমি কি পাগল নাকি?
-অবশ্যই।
-কি??
-এইবারের মতো মাফ করে দিলাম। পরেরবার যেনো আর এমন না হয়।
পিএস হারামজাদার দিকে একবার চোখ রাঙানি দিয়ে নিঃশব্দে বের হয়ে গেলাম। পেছনে তাকানোর সাহস হয়নি। নাজানি আবার মাথা খারাপের ওষুধ ধরিয়ে দেয়। এমনিতেই সুন্দরী ডাক্তার দেখে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।যেইখানে সাধারন এম.বি.বি.এস ডাক্তার কে ৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে ট্রিটমেন্ট দিতে হয়,সেইখানে বেকার, গরীবদের জন্য মাত্র ৫ টাকায় চট্রগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভালো ট্রিটমেন্ট আর ফ্রি ঔষধ সুবিধা দেয়ার জন্য সরকার কে ধন্যবাদ দিয়ে বের হলাম। ভাবছি প্রতিদিন যদি ৫ টাকা ভিজিট দিয়ে এমন সুন্দরী ডাক্তার দেখা যায়,মন্দ হবেনা। সময় সন্ধ্যা ৭ টা বেজে ১৫ মিনিট। কাউন্টার সার্ভিস থেকে জেনে নিলাম,ডাক্তার মিতু চেম্বারে আসে সন্ধ্যা ৬ টায়। ৮ টার দিকে শেষ করে।অপেক্ষা করলাম আরো একবার প্রেমে পড়ার। ৮:১০ মিনিটে ৫ ফিট ৫ ইঞ্চি লম্বা,ফর্সা, গোলগোল চোখে পাওয়ারি চশমা পড়ে, হাতে এপ্রোন নিয়ে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসছে একটি গ্রে কালারের প্রিমিও কারের দিকে। পিছন পিছন হারামজাদা পিএস টা ব্যাগ হাতে ড্রাইভিং সিটে বসেছে। বুঝলাম হারামজাদাটা ডাক্তার মিতুর ড্রাইভার ও। এরই মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো আরেকবার ডুব দিলাম ডাক্তার মিতুর প্রেমে। ডুব থেকে ভেসে উঠলাম কার টা অনেক দূরে চলে যাওয়ার পর। দেখে মনে হলো সদ্য পাশ করা ডাক্তার। বয়স আনুমানিক ২৪/২৫ তো হবেই। আমার জন্য খাপের খাপ। আমি মাস্টার্স শেষ করেছি বছরখানেক হলো। বন্ধু আনুর(আনোয়ার) সাথে ম্যাচ শেয়ার করে থাকি। শেয়ার করি বললে ভুল হবে। ওর ম্যাচেই থাকি আমি। মাস শেষে ও নিজেই ভাড়া দেয় আর আমাকে এক গাধা গালাগাল করে।আমি মুচকি মুচকি হাসি। ও একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তে নিম্ন পদে জব করে। আমি বোঝা হয়ে ওর ঘাড়ে চড়ে বসেছি। চাকরির জন্য শ খানেক সিভি জমা দিয়েছি। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দুটা টিউশনি করে হাত খরচ মেটাই। ৮ টাকা দামের গোল্ডলিফ কিনে হাঁটা দিলাম ম্যাচের উদ্দেশ্যে। মাথায় ঘুরছে ডাক্তার মিতু। সিগারেটের ধোঁয়া টা উপরে ছাড়ছি। মনে হচ্ছে ধোঁয়াটা মিতুর অবয়ব হয়ে আবার মিশে যাচ্ছে বাতাসে। গায়ের চাদর টা ভালো করে জড়িয়ে নিলাম। এই প্রথম মনের মতো একটা মেয়ে পেলাম। ঠিক করলাম কাল থেকে ঠিক সন্ধ্যায় একবার করে ডাক্তার মিতুর প্রেমে পড়বো। এর মধ্যে কল্পনায় অসংখ্যবার প্রেমে পড়েছি ডাক্তারনীর। পরদিন আবারো ৫ টাকার টিকেট কিনে গেলাম চেম্বারে। আমায় হয়তো চিনতে পারেনি।
-নাম কি?(মিতু)
-নীল,নীল মাহমুদ।
নামটা বলার পর ভ্রু কুঁচকে কেমন করে যেনো তাকালো। হয়তো স্মরন করতে পেরেছে। ডাক্তারদের অতি জ্ঞানী হওয়ার এই একটা সমস্যা। সহজে কারো নাম মনে রাখতে পারেনা। কিন্তু গাদা গাদা ওষুধের নাম মনে রাখতে পারে।
-কি সমস্যা?
-হু?
-কি সমস্যা? কানে কম শোনেন?(চুলগুলো কে কানের কাছে গুঁজে)
-নাহ। মনের কানে কম শুনি।
-আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি। কাল এসেছিলেন আপনি,তাইনা? আচ্ছা আপনার কি সত্যিই মাথা খারাপ? (চশমাটা টেবিলে রেখে)
-নাহ। সব ঠিক আছে।
-তাহলে এইখানে এসেছেন কেন? পাবনায় যান। আপনার এক্ষুনি পাবনায় যাওয়ার দরকার। (আবার চশমাটা পড়ে নিলো)
-হ্যাঁ!
-কি???
-...
-পাগল একটা!! জুবায়ের! জুবায়ের! এই জুবায়ের!! (চিৎকার করে ডাকলো)
পেছনে সেদিনের পিএস কুত্তাটা এসে দাঁড়ালো। বুঝলাম কুত্তাটার নাম জুবায়ের।
-এই পাগল টা কে এক্ষুনি বাইরে নিয়ে যাও। নেক্সট টাইম যেনো আমার চেম্বারের আশেপাশে না দেখি। কোথথেকে যে আসে এইসব।
-ডাক্তার মিতুর মুখে "পাগল" নামটা শুনে বেশ ভালোই লাগছে। হারামজাদা পি এস আমার হাত ধরে হ্যাঁচকা টেনে বাইরে নিয়ে আসলো।
-এই হারামজাদা? কি সমস্যা তোর?(দাত মুখ খিঁচে)
-কি সমস্যা মানে? ম্যাডাম আপনাকে সহ্য করতে পারছেনা। কাল থেকে যেনো আর না দেখি আশেপাশে।
-শালা, আমিতো ফ্রি আসিনা। নগদ ৫ টাকায় টিকেট কিনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে তারপর দেখা করি।
হারামজাদাটা চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে। চাদর টা ঠিক করে গোল্ডলিফ ধরিয়ে ৮ টা বাজার অপেক্ষা করতে থাকলাম। যথারীতি আজ ও দাঁড়িয়ে আছি হাসপাতালের নিচ তলার বেলকনি তে গ্রে কালারের গাড়িটার দিকে তাকিয়ে আরো একবার প্রেমে পড়ার জন্য। কানে হেডফোন। লো সাউন্ডে বাজছে তাহসানের "আমি আবার আর একটাবার তোমার প্রেমে পড়তে চাই"। গানটা শেষের দিকে। ডাক্তার মিতু এগিয়ে আসছে গাড়ির দিকে। আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে ১২০ এর ঘরে হয়তো। শয়তান পি এস টা আমার দিকে আংগুল তাক করে মিতু কে দেখিয়ে দিলো। আর ডাক্তার মিতু কটমট চোখে আমার দিকে একবার তাকিয়ে দাতে দাত চেপে কারে চড়লো। গাড়ি কিছুদূর যাওয়ার পর হৃদস্পন্দন আবার ৮০ তে ডাউন হলো। বুঝলাম ডাক্তারনী কে পটানো যেমন তেমন ব্যাপার না। তার আগে হারামজাদা পিএস টা কে পটাতে হবে। তবেই কেল্লাফতে!
১২ টাকার ভেনসন সুইচ আর ৭ টাকার খাঁটি গরুর দুধের চা খাইয়ে পোষা বিড়ালের মতো পটিয়ে ফেললাম চামচা পিএস টা কে। প্রতিদিনই ১৯ টাকা পিএসের পিছনে আর ৫ টাকার টিকেট কিনে ডাক্তার মিতু ম্যাম কে এক নজর দেখে যাই। আর কিছু কঠোর কিন্তু মিষ্টি গালাগাল হজম করি। প্রতিদিনই হাজারবার প্রেমে পড়ি। হৃদস্পন্দন উঠানামা করে দ্রুত গতিতে।
দুমাস হলো রেগুলার ভালোবাসার প্যাশেন্ট হয়েছি ডাক্তার মিতুর। বিভিন্ন কুখ্যাত টাইটেল পেয়ে অভ্যস্ত। হঠাৎ একদিন দেখলাম মিতুর গ্রে কালারের গাড়িটা নেই। মনটা খচখচ করতে লাগলো। হৃদস্পন্দন আবারো বেড়ে গেছে। এইবার আর উত্তেজনায় বাড়েনি। হতাশায় বেড়েছে। কাউন্টার থেকে খবর নিলাম। কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেনি।
তিনদিন হলো ডাক্তার মিতু কে দেখছিনা। তিন রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছি। এতোটাই ঘোরের মধ্যে ছিলাম যে,ডাক্তার মিতুর সাথে যোগাযোগের কোনো ওয়ে নিয়ে ও ভাবিনি। চতুর্থ দিন তার গাড়িটা দেখলাম। কিন্তু ডাক্তার মিতু কে দেখছিনা। পি এস কে জিজ্ঞাসা করলাম,অনেক আশা নিয়ে।
-আপনার ম্যাডাম কোথায়?
-অস্ট্রেলিয়া গেছে।
-কি কাজে?
-তা তো বলেনাই!
-আচ্ছা উনার সাথে কি কোনোভাবে যোগাযোগ করা যাবে?
-আমার সাথেই যোগাযোগ নাই। আপনার সাথে তো দূরের কথা।
-ওহ। চোখ ভরা জল নিয়ে গোল্ডলিফে টান দিলাম। ৬/৭ টানেই পুরোটা শেষ করলাম। প্রতিটা দিনই বুকভরা আশা নিয়ে যাই সেখানটায়,যেখানটায় পেয়েছিলাম আমার ভালোবাসার প্রথম দেখা।
হ্যাঁ,ভালোবেসে ফেলেছি ডাক্তার মিতুকে। যদি ও যোগ্যতার দিক দিয়ে আমি শূন্য। আচ্ছা ডাক্তার মিতুর কি এই পাগল টার প্রতি একটু ও ভালোলাগা জন্মেনি? কখনো কি পাগল বলতে যেয়ে ঠোঁটের কোনো হাসি ফুটেনি?
ফুটবেই বা কেন? তারা তো অনেক উঁচু স্তরের মানুষ! তাদের সাথে মানাবে পাজেরো গাড়িতে চড়া স্যুট টাই পড়া কোনো শিল্পপতিকে। তবু ও আশায় বুক বেধেছি। ভালোবাসা চাইনা। ভালোবাসতে চাই। ৫ টাকা টিকেট কেটে একটাবার ডাক্তার মিতুর মুখ থেকে "পাগল" শব্দটা শুনতে চাই।
১ বছর পর,
সময়টা শীতের শেষে মাঘ মাসের মাঝামাঝি,১০ ই জানুয়ারী। গত বছরের চাদর টা গায়ে। কয়েকটা জায়গায় ফুটো হয়ে গিয়েছে অবশ্য। হাতে গোল্ডলিফ নিয়ে ছোট ছোট টান দিচ্ছি। ইদানিং, আনমনা হয়ে হাঁটি। কোনদিকে কোন উদ্দেশ্যে হাঁটি ঠিক থাকেনা। হাঁটতে হাঁটতে মাঝ রাস্তায় চলে আসি। কেউ কেউ গালাগাল ও করে।সেদিন তো একটা সিএনজির সাথে ধাক্কা খেতে খেতে বেঁচে গিয়েছিলাম। আরেকটু হলেই ফকাৎ। আজ ও এলোনা ডাক্তার মিতু। চাদরটার ফাঁটা অংশ লুকিয়ে হাঁটা দিলাম ম্যাচের উদ্দেশ্যে। হাতে ৩ নাম্বার গোল্ডলিফ। পেছন দিক থেকে পায়ে কিছু একটাতে আঘাত পেলাম। আরো একবার পেলাম। আমি রাস্তার পাশ ঘেষেই হাঁটছিলাম। ভাবলাম আমাকে পাশ কেটে যাবে গাড়িটা। আমার পেছন পেছনই আসছে কোনো একটা গাড়ি। তৃতীয় বার ধাক্কা দিলো একটু জোরেই। প্রায় পড়তে গিয়েছিলাম। একটু ব্যাক করলাম প্রতিবাদ করার জন্য। যা দেখলাম, আরেকটুর জন্য হৃদয় টা ছিটকে বেরিয়ে যায়নি। খুব বেশি খুশি হয়ে গেলে যা হয় আর কি।
সেই গ্রে কালারের প্রিমিও গাড়িটার ড্রাইভিং সিটে চশমা পড়ে মুখে মুচকি হাসি দিয়ে স্টিয়ারিং ছেড়ে ডাক্তার মিতু আমার সামনে, একদম মুখোমুখি দাঁড়ালো।
-কি সমস্যা? রাস্তার মাঝখানে হাঁটেন কেন?(ভ্রু নাঁচিয়ে)
-... (চোখ থেকে ফোটা ফোটা জল গড়িয়ে পড়ছে)
- পাগলই রয়ে গেছেন দেখছি।
গালে দুটো নরম তুলতুলে হাতের ছোঁয়া পেলাম। আমার জল গুলোকে স্পর্শ করছে।
-পাগল দেখতে দেখতে তো আমিই পাগলী হয়ে গেলাম।
-কোথায় ছিলেন এই একটা বছর?(চোখের পানি মুছে)
-বলতেই হবে?
-হ্যাঁ।
-পি এইচ ডি করতে গিয়েছিলাম। ভালো অফার পেয়েছি,তাই হুঁট করেই চলে গিয়েছি। আপনি কি প্রতিদিনই আসতেন এইখানে?
-হুম। (মাথা নিচু করে)।
-পাগলামীর ও তো একটা সীমা আছে।
-জানি।
-অতিক্রম করেন কেন?
-অদৃশ্য,কিন্তু খুব গভীর টানে।
-কি সেই গভীর টান?
-যেই টানে আপনি আমাকে প্রতিটাদিন এক একটা টাইটেল দিতেন,কিন্তু কখনো তাড়িয়ে দেননি।
-(লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললো)
-ভালো আছেন?
-এতদিন ছিলাম না। এখন আছি ভালো।
-কেন?
-পাগল টা কে দেখবো,তাই।
-আমার সাথে তো কোনোরকম যোগাযোগ করার চেষ্টাই করেন নি।
-প্রতিদিন আমি আপনার খবর নিয়েছি। আপনি কি করেন? কোথায় যান? এইখানে আসেন কিনা,সব খবর রেখেছি।
-কিভাবে?
-আমার পি এস দিতো।
-কিন্তু,ওই হারামজাদাটা বলেছিলো,আপনার সাথে নাকি ওর কোনো যোগাযোগ নেই।
-আমিই আপনাকে বলতে বারন করেছি।
-কেন?
-আমার প্রতি আপনার ভালোবাসা কতটুকু দেখার জন্য।
-পরিমান করতে পেরেছেন?
-নাহ।
-পারবেন ও না।
-জানি। আর তাই,এখন থেকে শুধু আমার চেম্বারের আশে পাশে না, আমার মনের চেম্বারের আজীবন সদস্যপদ দিতে চাই।
-এত বড় একটা দায়িত্ব কি একটা ভবঘুরে কে দিয়ে হবে?
-আমি কাজ বুঝিয়ে দিবো।
-তাহলে পারা যাবে!
-কাজী অফিস টা যেন কোন দিকে?
-আমি চিনি। এসো আমার সাথে।
হাতটা ধরলাম আলতো করে। মনে মনে ভাবলাম, এই হাতটা ধরে জীবন নামক মহা যুদ্ধ ক্ষেত্র টা পাড়ি দেওয়ার জন্যেই সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছে। অজান্তেই মুচকি হেসে ডাক্তার মিতুর চোখের দিকে তাকালাম। চশমাটা খুলে বাঁ হাতে চোখ মুছে যাচ্ছে। কাঁদুক। ইচ্ছেমতো কাঁদুক। এতোদিন আমি কেঁদেছি,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now