♥গুন্ডার গুন্ডী♥
X
ভার্সিটিতে ঢুকা মাত্রই নায়ানকে খুজঁতে লাগলো নিসা লাইব্রেরির সামনে যেতেই লাইব্রেরি থেকে বাহির হতে দেখলো নায়ানকে।
,
>এইযে মিস্টার নায়ান(নিসা)
>জ্বি আমায় বলছেন?(পিছন ফিরেই নিসাকে দেখতে পেল)
>হ্যা। এইসব কি শুনছি?
>কি শুনছেন??
>আপনি নাকি আমায় ভালবাসেন?
>আমি কখনো আপনাকে এই কথা বলছি?
>আপনার বন্ধুরাত রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসার সময় নায়ানের বউ, ভাবি যায় বলে উত্তক্ত করে আমায়।
>আমি কিভাবে বলব??আমিত আপনার সাথে মাত্র পাচঁদিন কথা বলছি।
>সেটা আমি কি করে বলব??জানেন আমার বাবা এসপি?উনাকে যেন না বলতে হয় এইসব। ১৪শিকের ভিতর ডুকাইয়া শার্ট প্যান্ট খুলে যখন পিডাইবো তখন বুঝবেন আমি কে?
>ভয় দেখাচ্ছেন কেন?আমিত কিছুই করিনাই।
>কিছু করলেত বুঝেনই।ডাইরেক্ট ১৪শিক।ভাল থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।
,
নায়ানকে থ্রেট দিয়া চলে গেল নিসা।আসলে নিসা যা শুনছিল সবই সত্য।সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর মারামারিতে মেতে থাকে।কিন্তু নিসা সামনে আসলে মগজ পুরো ঝালাই হয়ে সব সাহসীকতা শুন্যের চরম শিখরে পৌছাঁয়।সর্বশেষ যেইদিন কথা হইছিল সেদিনও প্রপোজ করতে চাইছে
কিন্তু নিসার চোখ গরম দেখে গলা শুকিয়ে যায়।কোন কথাই বের হচ্ছিলনা।
ভার্সিটির ক্লাস শেষেই নায়ান তাড়াহুড়ো করে বেড়িয়ে বন্ধুদের খুজঁতে লাগল।বন্ধু বলতে হিমোন,তনয়,আরিফ,মিলন আর আনিস।ছয়জন সর্বদা ছয় ভাইয়ের মত থাকে।সবাই শুধু এদের বিয়ে নয় বাসর রাত নিয়েও টেনশনে থাকে।যে একরুমের ভিতরে সব হয়ে যায় কিনা।কারন কেও কাওকে ছাড়া কোথায় যাওয়াতো দূরে থাক।শুধু মাত্র রাতে একেকজন একেকজনের বাসায় ঘুমায়।ঘুম শেষ হইলেই সব একসাথে।
নায়ান আনিসরে ফোন দিয়ে জানলো যে ওরা ভার্সিটির সিড়িঁতে আড্ডা দিচ্ছে।নায়ান হাপাঁতে হাপাঁতে সেখানে গেল।নিসা ওদের দুইটা সিড়িঁ নিচে বসে ফ্রেন্ডাসদের সাথে স্টাডি করছিল।নায়ান তাড়াহুড়োর কারনে সেটা লক্ষ করেনাই।
,
>দোস্ত স্টাম্প আছে কার কাছে??আধাঘন্টার ভিতরে নিয়ে আস।(নায়ান)
>কেনরে?কি হইছে??(তনয়)
>একটার মাথা ফাটামু।ওর সাহসটা কত্ত বড়। নিসার দিকে চোখ তুলে তাকায়।নিসারে নাকি ভালবাসে।আজ প্রপোজ করব।
>কেডারে??এত্ত বড় সাহস কার??
>তুই নিয়ে আস।ওর মাথা যদি আজ না ফাটাইছি আমার নাম নায়ান নাহহহহ।(রেগে আগুন)
>ঠান্ডা হ।ছেলে কি জুনিয়র নাকি আমাদের সাথেরই??(হিমোন)
>আরেহ নিসার সাথে।এক ব্যাস জুনিয়র।
>আচ্ছা চল আগে দেখি। দুইটা থাপ্পড় দিলেই ঠিক হইয়া যাইবো।
>কোন কথা নাই।মাথা ফাটামু
>আরেহ চলনা।
,
হটাৎ করেই নিসা পিছনে ঘুরে দাড়ালো।কোমরে দুইহাত রাখল।মুখে রাগের ছাপ।নায়ানকে কাচা খেয়ে ফেলবে।নায়ানের বন্ধুরা নিসাকে দেখে থতমত খেয়ে যায়।কেও ভাবতেও পারেনি যে নিসা নিচেই বসে ছিল।আর ওদের কথা শুনছে।নায়ানেরত ঘাম ছুটছে বিদ্যুতের গতিতে।চোখগুলোর ডিমের মত বড় হয়ে গেল।নায়ানের দিকে এগিয়ে আসলো নিসা।নায়ানের বন্ধুরা কেটে পড়লো।নায়ান তনয়ের শার্ট ধরে রাখলো।তনয় শার্ট ঝারি দিয়ে দৌড়ঁ দিল।
,
>আপনি ভদ্রলোক তাইনা?(নিসা)
>(নো রিপ্লে)
>ভাজা মাছ উল্টিয়ে খেতে জানেন নাহ?
>(নো রিপ্লে)
>আপনের ফ্রেন্ডসরা যা বলে সব মিথ্যা? ওহ আপনিত আমার সাথে ছয়দিন কথা বলছেন?তাহলেত রিলেশন হবেনা তাইনা?
>আসলে পাচঁদিনের কথা বলছিলাম।(ভয়ে বের হয়ে যায় মুখ থেকে)
>এর মানে এখন হবে?(রেগে যায়)
>না,না। তওবা তওবা।
>আবার মিথ্যা?
>না সত্য।আপনি যা ভাবছেন তা সম্পূর্নই মিথ্যা।
>এখন থাপ্পড় দিয়া দাতঁ সব ফেলে দিবো।
>এত রাগেন কেন??ঠান্ডা মাথায় কথা বলতে পারেন নাহ?
>আপনি মিথ্যা বলেন কেন তাহলে?ফাজিল
>আপনি ফাজিল।(নায়ানও রেগে যায়)
>কি এত্ত বড় কথা??এক্ষুনি আব্বুকে ফোন দিতাছি।
>আপনের আব্বুরে কেন আপনের চৌদ্দ পুরুষরে ফোন দেন।আমার তাতে কি?
>আপনের কিছুনা তাইনা??
>না,কিছুনা আমার।
,
নিসা নায়ানের কলার ধরে ঠাস করে একটা চড় মারলো।নায়ান এখন জ্ঞানে আসছে মনে হয়।
,
>থাপ্পড় দিলেন কেন আমাকে?(নায়ান)
>বেয়াদবি করছেন তাই দিছি।
>কি বেয়াদবী করলাম??আমারত কিছুই মনে নাই।
>আরেকটা দিব?তাহলে মনে পড়ব।
>নাহ থাক।
,
নায়ান মন খারাপ করে চলে গেল। ইচ্ছা করলে থাপ্পড়ের রিপ্লেটা থাপ্পড় দিয়ে দিতে পারতো।কিন্তু নিসাকে সত্যিকারের ভালবাসে বলে দেওয়ার কথাও কল্পনায় আনতে পারলোনা।
পরেরদিন একজন এসে বলল যে নিসার পায়ে নাকি কাচেঁর টুকরো ডুকছে।নায়ান সাথে সাথে হিমোনের বাইক নিয়ে একটা ফার্স্ট এইড বক্স কিনে আনে।সাথে এটিএস ও।নিসার কাছে ওইগুলা নিয়ে যেতেই দেখলো একটা ছোট্ট কাপড়ের টুকরা দিয়ে পা বেধে ফেলছে।নিসা নায়ানকে দেখে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলো।নায়ানও আবুলের মত অইগুলা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।হটাৎ করেই শান্তা সামনে এসে দাঁড়ালো। শান্তা নিসার বান্ধবী।
,
>হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন নাকি দিবেন?(শান্তা)
>ওহ নিন।আমিত ভাবছি লাগবেনা।
>কষ্ট করে যখন আনছেন তখন কাজে লাগানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ।আপনার মত বুদ্দুর নাহ।এখন যান।
>একটু দেইখা দিয়েন।কষ্ট যেন না পায়।
>দিবোনা। নিয়ে যান আপনি আপনেরটা।উনারটা উনারে দিয়ে দে শান্তা।(নিসা রেগে বলে উঠলো)
,
নায়ান তাড়াতাড়ি সেখান দিয়ে দৌড়েঁ পালায়।আর মনে মনে ভাবে মেয়ে মানুষের ভিতর এত্ত রাগ।মরে গেলেও রাগ কমে যাবেনা ওদের।
পরেরদিন ভার্সিটিতে ডুকেই নিসাকে খুজঁতে লাগল চারপাশে।অনেকক্ষন খুজাঁর পরও পেলোনা।তখন ভাবলো যে পায়ে ব্যাথা বলে মনে হয় আসেনি।ক্লাস করে ভার্সিটি থেকে বের হওয়ার সময় দেখলো নিসা শান্তার সাথে দাঁড়িয়ে আছে।
,
>শান্তা ইনারে অইটার টাকা দিয়ে দেত।আমি।অন্যের ঋন জমা রাখিনা।(নিসা)
>আরেহ থাকনা।ছোট করিস কেন?(শান্তা)
>তোর এত লাগছে কেন?
,
নায়ান মাথা নিচু করে কথা শুনছে আর সামনে দিয়ে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছে।
,
>এই কোথায় যাচ্ছেন?(নিসা)
>বাসায় আবার কই যাবো?(নায়ান রেগে উত্তর দেয়।)
>আমার সাথে রাগ দেখাচ্ছেন কেন?আমি আপনার বিয়া করা বউ নাকি?
>আমি বলছি সেটা??
>টাকা নিবেন নাহ?
>কোন ফকিরকে দিয়ে দিয়েন।
>আপনি কি ফকির নাহ?
,
শান্তা আর নিসা উচ্চস্বরে হাসা শুরু করে।নায়ান রাগে প্রচন্ড ক্ষীপ্ত গতিতে হাটা শুরু করে চলে যায়।নিসা কয়েকবার ডাক দেয়।কিন্তু সাড়া দেয়না।
পরে রাগে দুইদিন ভার্সিটিতে যায়নি।
পরেরদিন একটা এসাইনমেন্ট থাকার কারনে ভার্সিটিতে যায়।প্রথমেই নিসার দিকে চোখ যায়।চারতলার এক কোনায় শান্তার সাথে কথা বলছিল।নিসাও নায়ানকে দেখে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন।নায়ান না দেখার ভান করে চলে যায়।
নায়ান দুপুরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় মাঝখান দিয়ে নিসা আসে।সবাই চুপ হয়ে যায়।নিসা ঠাস ঠাস করে কয়েকটা চড় দেয় নায়ানকে।তারপর বলে যে আগে ভালবাসা কাকে বলে সেটা জানবেন পড়ে ভালবাসবেন কাওকে।চোখ দুটো ভিজে যায় নিসার।নায়ানের বন্ধুরা প্রচন্ড ক্ষেপে যায়।নিসা শান্তাকে নিয়ে চলে যায়।
নায়ান হতবম্বের মত দাঁড়িয়ে রইলো।
,
>তনয় শান্তার নাম্বারটা জোগাড় কর।(নায়ান)
>কেন?
>নিসাকে প্রপোজ করব।
>যেই মেয়ে তোকে এত মারলো তুই সেই মেয়েকে আবার প্রপোজও করবি?
>ওর মারের মাঝে ভালবাসা ছিল যেটা তোরা দেখিসনাই।অভিমান ছিল আমার উপর।(নায়ানের টোলপড়া পাচঁ আঙ্গুলের ছাপ বসানো গালে হাসির আভাস)
>তোর যেটা খুশি সেটা কর।
,
তনয় ওর একটা ফ্রেন্ডের বোনের কাছ থেকে শান্তার নাম্বার জোগাড় করে নায়ানকে দেয়।নায়ান শান্তাকে ফোন দিয়ে একটা প্লেসের নাম বলে নিসাকে সাথে নিয়ে আসার জন্য।শান্তা প্রথমে নিতে ইতস্তত করলেও পরে রাজি হয়।
পরেরদিন নায়ান ওর বন্ধুদের নিয়ে একটা সুন্দর প্লেসে যায়। প্রায় সাড়েঁ তিনহাজার টাকার গোলাপ কিনে। তারপর সবগুলো গোলাপ দিয়ে "লাভ" এর মত করে চারপাশে ছড়িয়ে দেয়।অনেক বড় একটা "লাভ" হয়ে যায়।নিসা আর শান্তা এসে পুরো অবাক।
নায়ান শুধু একা লাভের বৃত্তটা ভিতরে। শান্তাকে তনয়, হিমোনদের সাথে যেয়ে দাড়াতে বলল।নিসা পা রাখবে সেটার ভিতরে এমন সময় নায়ান নিষেধ করল।নিসার সামনে গেল।
,
>জুতো খুলেন।(নায়ান)
>কেন?(নিসা)
>আরেহ খুলেন নাহ!!!
>আচ্ছা।
,
নিসা জুতো খুলতেই নায়ান নিসাকে কোলে তুলে নেয়।তারপর বৃত্তটার মাঝে চলে যায়।নিসাকে নামায়।
,
>প্রথমত কান ধরে স্যরি বলছি আমার উপরে আপনার অভিমান আনার জন্য।(নায়ান কান ধরে)
>ইটস ওকে।
,
নায়ান বসে পরে
,
>আমি আপনাকে ভালবাসি।অসম্ভব ভালবাসি।যা বলার বাহিরে। সমস্ত আকাশ একসাথে করলেও আমার ভালবাসার কাছে পিঁপড়ার মত হবে।আমি খারাপ ছেলে না।শুধু গুন্ডামী করি একটু।আপনি চাইলে তাও ছেড়ে দিব। কিন্তু আপনাকে ভালবাসার কথা অন্য কোন ছেলে বললে তার মাথা ফাটিয়ে দিব। যেন মাথায় দ্বিতীয়বার আপনাকে ভালবাসের কথা মাথায় না আনে।আপনাকে কখনো কষ্ট দিলে গতকালের গুন্ডির মত আমায় সারাজীবন মারবেন।হবেন সারাজীবনের জন্য আমার গুন্ডী?
>আমি গুন্ডী?হুম??
>আমি গুন্ডা হলে আপনি গুন্ডার বউ হলে গুন্ডী হবেন নাহ?
>হিহিহিহি
>হাসেন কেন বলেন?
>আজতো নাত্র ৮দিন হল।
>ওহ আচ্ছা।
,
নায়ান মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে যায়।
অন্যদিকে ফিরতেই নিসা পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলে"আমিই তোমার গুন্ডী হব।অন্য কাওকে গুন্ডী বানানোর চিন্তা মাথায় আনলে মাথা ফাটিয়ে দিব"
নায়ান খুশিতে আত্বহারা হয়ে পড়ে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now