বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
→হঠাৎ দেখি মেঘা বাথরুম থেকে স্নান সেরে
চুল মুছতে মুছতে বের হয়েছ।ভেজা চুলে
মেঘাকে দেখতে অপরুপ সুন্দর লাগছিল।আমি
মেঘার দিকে এক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছি।
-এই ভাবে কি দেখছো?(মেঘা)
-আকাশের চাঁদ(আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল)
-কি!!!???
-না না মানে তোমাকে।দেখতে খুব সুন্দর লাগছে
তোমাকে এখন
-আমি সব সময়ই সুন্দর।তোমার মত কালো না।
আমি আর কিছু না বলে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথরুমে
চলে গেলাম।
.
নাস্তার টেবিলে গিয়ে দেখি মেঘা বাবা-মাকে নাস্তা
দিচ্ছে।মনে মনে বললাম কি মেয়েরে
বাবা,আমাকে মারে জারি আর ওদিকে ভাল সাজা হচ্ছে।
-এই যে বস(মেঘা)
-আমি(আমি)
-আর কেউ কি আছে এখানে?
-না।বসছি
-হুমম বস
.
নাস্তা শেষ করে উঠতেই দেখি আকাশ এসে হাজির
-দোস্ত চল একটু বাইরে যাই(আকাশ)
-কোথায়?(আমি)
-আরে চল না
আকাশের সাথে বাইরে বের হলাম।একটা চায়ের
দোকানে গিয়ে আমরা বসলাম।
-তা রাত কেমন কাটলো তোদের?(আকাশ)
-খুব ভাল(আমি)
-বউ কি দিলো?
-তর মাথা(রাগ দেখিয়ে)
-আমার মাথা হতে যাবে কেন?তর বউ তোর বুকে
মাথা রেখে ঘুমাইছে সেটা বল
-শালা তোকে না....
-আমার কোনো বোন নেই কিন্তু,আর থাকলেও
এখন দেবো না।কারন তুই বিবাহিত।
-তর জন্য আমার লাইফটা শেষ
-দোস্ত কোথায় তর আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার
কথা,তার বদলে বলছিস আমি তর লাইফ শেষ করছি
-কিসের ধন্যবাদ?
-আমার জন্য সুন্দর একটা বউ পাইলি
-তোরে আমি আজকে....
-আরে শান্ত হ শান্ত হ
আকাশের সাথে কথা বলতে বলতে দুপুর তিনটা
বেজে গেছে বুজতেই পারিনি।আকাশের কাছ
থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় গেলাম।
.
-মা খাবার দাও(আমি)
-বউমাকে বল।(মা)
-তুমি দিয়ে দাওনা
-তুই বউমাকে বল।আমি একটু ব্যস্ত আছি।
আমার রুমে ঢুকে দেখি মেঘা বসে আছে।আমি
খাবার দেওয়ার কথা বলতেই
-আমাকে কি পেয়েছো তুমি?তোমার চাকর?যখন
ইচ্ছে বলবে খাবার দাও।এখন কয়টা বাজে?(খুব রাগ
দেখিয়ে)
-সরি।আসলে আকাশের সাথে কথা বলতে বলতে
একটু দেরি হয়ে গেলো
-নিজে গিয়ে খাও।আমি দিতে পারবো না।
-থাক আমার খিদে নেই।এখন খাবো না
-একটু আগেই তো বললে খাবার দেওয়ার কথা।
এখন ক্ষিদে চলে গেলো?
-হুমম চলে গেছে।আর খাব না।
-টেবিলে যাও খাবার দিচ্ছি
-না এখন খাবো না।
-বলছি না টেবিলে যেতে(রাগ দেখিয়ে)
-যাচ্ছি যাচ্ছি
.
খাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে দেখি মেঘা বই
পড়ছে।আমি বিছানায় শুয়ে পড়লাম আর ভাবছি এ কি
মেয়েরে বাবা।একটু আগে জারি দিল।আর এখন
নিজের হাতে খাওয়ালো।আসলেই মেয়েদের
মন বোঝা সহজ নয়।
.
আমার এক বন্ধু আমাদেরকে নিমন্ত্রন করেছিল
তাদের বাসাতে যাওয়ার জন্য।কিন্তু মেঘা রাজি হচ্ছিল
না।ওর না যাওয়ার কারনটাও আমি বুঝতে পারছি।আমি
সুন্দর নই,স্মার্ট নই এই কারনে হয়তো ও যেতে
চাইছিল না।অনেক রিকুয়েষ্টের পর মেঘা
যেতে রাজি হল।ওদের বাড়িতে গিয়ে মেঘা
আমার থেকে একটু দূরে দূরেই থাকল।অনেক
মজা
করলাম বন্ধুর বাসায়।বাসায় ফিরতে অনেক রাত হলো।
কিন্তু আমার মনটা খারাপ ছিল।মেঘা বিছানায় শুয়ে পড়ল।
আমিও নিচে শুয়ে পড়লাম আর ভাবতে লাগলাম,কি
ভাগ্য আমার...বিয়ে করেও ব্যাচেলরের মতো
আছি।কত আশা ছিল সকাল বেলা বউয়ের মিষ্টি ডাকে
ঘুমটা ভাঙবে।আমাকে শাষন করবে।আবার অনেক
ভালবাসবে।আর আমি অকারণে রাগিয়ে দেবো।
তখন দেখতে খুব সুন্দর লাগবে ওকে।এই কথা
মনে হতেই মনে পড়ে গেলো ফুলশয্যার
রাতে মেঘার মায়াবী মুখটার কথা।কি অপরুপ লাগছিল।
হঠাৎ শোয়া থেকে ওঠে বিছানায় মেঘার দিকে
তাঁকালাম।মেঘা ঘুমিয়ে আছে গুটিশুটি ভাবে।গায়ে চাদর
দেয়া নেই।আমি চাদরটা ওর গায়ে দিয়ে দিলাম।ঘুমের
মধ্যে ওর মুখটা দেখতে আরো মায়াবী লাগছে।
আমি এক দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছি ওর মুখের দিকে।
তাঁকিয়ে থাকতে থাকতে কখনযে ঘুমিয়ে পড়েছি
বুজতেই পারিনি।
.
সকালে মেঘার চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙল।
-কি হয়েছে?(আমি)
-তুমি এখানে কেন?(মেঘা)
-কোথায়?
-তুমি বিছানায় কেন?
(রাতে মেঘাকে দেখতে দেখতে বিছানায়
ঘুমিয়ে পড়েছিলাম)
-আসলে না.....মানে
-আর আমাকে মানে বোঝাতে হবে না।
-আমি মানে বোঝাতে চাইও না।আমার বিছানা আমি
ঘুমিয়েছি
-কি!!!!
-হুমম।আচ্ছা তুমি কি একটু ভালভাবে কথা বলতে
পারো না?
-কি আমি ভালভাবে কথা বলতে পারি না?
-না পারো না
-তাহলে আমার সাথে কথা বলার দরকার নেই।
রাগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো মেঘা।আমি
মুচকি মুচকি হাসলাম।ওকে ইচ্ছে করেই রাগিয়ে
দিয়েছি।রাগলে ওকে অনেক কিউট লাগে।আচ্ছা
আমি কেন সব সময় ওর কথা ভাবছি?কেন ওকে
ইচ্ছে করে রাগাচ্ছি?কেন ওর মায়াবী মুখটার দিকে
তাঁকালে চোখ ফেরাতে পারি না?ওর প্রতি আমার
কিসের এত টান?তাহলে কি আমি ওর মায়াবী চেহারার
প্রেমে পড়ে গেছি? এসব ভাবতে ভাবতে
নিজের মধ্যে অজান্তেই এক অজানা অনুভূতি কাজ
করতে লাগল।
.
কিছুক্ষন পর মা ডেকে বললেন মেঘাকে নিয়ে
মেঘাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে।
মেঘাকে নিয়ে তাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা
দিলাম।মেঘা কোনো কথা বলছে না।চুপচাপ বসে
আছে রিকশায়।নীরবতা ভেঙে আমিই কথা বললাম
-ফুচকা খাবে?(আমি)
-............
-কি হল কিছু বল
-............
-বলনা কিছু
-আমি তো ভালভাবে কথা বলতে পারি না।তাই কথা
বলছি না।
-ও এই কথা।সরি সরি।আমি ত মজা করেছিলাম।
-তারমানে তুমি জোকার?
-একদমই না
-এই মাএ বললে
-আচ্ছা বাদ দাও।আমি জোকারই ভালো।চল ফুচকা খাই।
-চল
ফুচকার দোকানে মেঘাকে নিয়ে ঢুকতেই একটা
মেয়েলী কন্ঠ ভেসে এল পেছন থেকে।
-এই শুভ দাঁড়া
আমি পেছনে ফিরে দেখি......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now