বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অশরীরী যন্ত্রণা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X আজ নদীর পাড়টা ভালো লাগছে...।কারণ আজ আকাশ মেঘলা। বৃষ্টি হবে হয়তো,,। মাঝে মাঝে মনে হয় যদি সারাক্ষণ আকাশ মেঘলা থাকলো? মনে হয় ভালো হতো না। কারণ সারাক্ষণ বৃষ্টি হওয়াটা কারোরই ভালো লাগবে না। হাতে একটা সিগারেট নিয়ে হাটছি, কিন্তু জ্বালাতে পারছি না। কারন আমার কাছে দিয়াশলাই নেই,,। পাশের একলোকের থেকে আগুন টা নিয়ে সিগারেট টা ধরালাম। সাদা ধোঁয়া ছাড়ছি আর নদী দেখছি। হঠাৎই দেখছি সায়মা আমার পাশে দাড়িয়ে আছে। দেখে কিছুটা অবাক হলেও, খানিকটা সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ....তুমি এখানে? ....হ্যা, আকাশ ও নদী একসাথে দেখবো বলে এসেছি। ...ওহ .কতক্ষণ আছো? ...তুমি যতক্ষণ। ...আমি যতক্ষণ মানে? আমার সাথেই যাবে নাকি? ...কেন এখনোও কি ভয় পাও আমাকে? নাকি অসহ্য লাগে আমাকে? ... দেখ সায়মা, তুমি এখন আগের মত নেই। অনেক পাল্টে গেছো। তুমি এভাবে যখন তখন সামনে এসে পরলে আমার প্রবলেম হয়। ... ও তোমার কাছে আমি এখন বিরক্তিকর হয়ে গেছি! কিন্তু একটা সময় ছিলো যখন. এই স্থানে আসার জন্য কত রিকুয়েস্ট করতে। কিন্তু আমি রাজি হতাম না। আর এখন......। ---- সায়মা বোঝার চেষ্টা করো, তুমি এখন সাভাবিক নও। ----অস্বাভাবিক কি আমি? বলো আমি শুনতে চাই। ----আমি বলতে পারবো না। আমি চললাম। ---- চাইলেই কি আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে তৌহিদ? ---- নাহ, আমি মুক্তি চাই,, মুক্তি চাই,, মুক্তি। . আমি কান্নার স্বরে বলছি কথা গুলো। আর সায়মা হাসছে। ওর চোখে তীব্র প্রতিহিংসা। চোখ দিয়ে অগ্নি ঝরছে। আর পাশের ভদ্রলোক আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। সে বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে। বুঝবেই বা কি করে, এ ঘটনা তো শুধু আমি আর সায়মাই জানি। ভদ্রলোক হয়তো ভাবছে আমি পাগল। নয়তো কেউ এমন একা একা চিৎকার চেচামেচি করে?? একা বলতে,,, যেই সায়মা আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। ওকে শুধু আমি দেখতে পাই। আর কেউ না। আসলে ও একটা প্রেতাত্মা। হ্যা প্রেতাত্মা। মাস ৬ হলো ও মারা গেছে। বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলো। ওর মৃত্যুর কারনটাও আমিই ছিলাম। দেখেছো মানুষ কেমন তোমায় পাগল ভাবছে!!! এটাই তো আমি চেয়েছি। বললো সায়মা। -----আমি পাগল নই। আমাকে জ্বালিও না। যাও এখান থেকে। যাও। (তৌহিদ) ----যাবনা আমি। কি করবে? মারবে? হা হা হা সেটাও আর সম্ভব না। হা হা হা হা, ---- এভাবে কষ্ট না দিয়ে আমাকে মেরে ফেলছোনা কেন? ----তোমাকে মেরে ফেললে এই কষ্ট গুলো কাকে দিবো আমি? আমি তো তোমার জন্যই এই অবস্থায় আছি। ---- আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি ভুল করেছি। ---- ক্ষমা! ক্ষমার অযোগ্য তুমি। হঠাৎই ওর ভয়ঙ্কর মুখটা ভেসে এলো। কি বিশ্রী। কি ভয়ঙ্কর। চোখে সইছে না। দাত গুলো ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। চোখ বেয়ে রক্ত পরছে। চুল আর যেন চুল নেই। সাপের মত নারছে। আর কন্ঠ তো এতো ভয়ানক যে আমি শুনতেও ভয়ে বুক কাপছে। ---- শোন ..তোর জন্য আজ আমি প্রেতেনি। তোকে এতো সহজে ছাড়বো না। আবার এতো সহজে মারবোও না। তিলে তিলে যন্ত্রণা দিয়ে মারবো। আমি যে যন্ত্রণা পাচ্ছি তার থেকে অধিকতর যন্ত্রণা তুই পাবি। আমি আর দেখতে পারলাম না জ্ঞান হারালাম। যখন জ্ঞান ফিরলো দেখলাম আমি আমার রুমে। মা ও রিতা পাশে বসে আছে। আমার জ্ঞান ফিরেছে বলে মায়ের চোখ মুখে আনন্দের রেখা। রিতাও এতটু হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো এখন কেমন আছি। আর আমি শুধু বললাম কয়টা বাজে? ১ টা .মা বললো। আর বললো আমার কি হয়ে ছিলো? আমি বুঝলাম যে আমি একদিনের মত অজ্ঞান ছিলাম। সায়মার যেই রুপ দেখেছি দুদিন বেহুঁশ হলেও কিছু বেশি হতোনা। আমি রিতাকে জিজ্ঞাস করলাম কখন এসেছে? ও বললো কাল একবার এসে গেছে। আর আজ সকাল ১১টায় এসেছে। আবার মা বললো, কি হয়েছিলো বললি নাহ? ও বলছি,, --কাল মাথা ঘুরে ছিলো, হঠাৎ চোখে মুখে অন্ধকার দেখছিলাম। পরে আর কিছু জানিনা। কিন্তু আমি বাড়িতে এলাম কি করে? --তোকে ওই ঘাটের কয়েক জন লোক ধরাধরি করে নিয়ে এসেছিলো। তোর ফোন থেকে যোগাযোগ করে জেনেছে তুই কোথাকার। . সেদিন আর কিছু হয়নি। রিতাও বিকেল বেলা ওর বাড়ি চলে গেলো। ওহ এবার বলে নেই রিতা কে, রিতা হলো আমার বাগদক্তা। কিছু দিন পরেই ওর সাথে আমার বিয়ে হবার কথা ঠিক হয়ে আছে। দুই পর সন্ধ্যার দিকে ছাদে উঠেছি, এমন সময় ঘাড়ে কে যেনো আলতো ছোঁয়া দিয়ে গেলো। পেছনে তাকাতেই দেখি সায়মার ভয়ঙ্কর রুপ,যা দেখে অজ্ঞান হয়ে ছিলাম। এবার আর অজ্ঞান হলাম না। কিন্তু মুখ থেকে চিৎকার কেউ থামাতে পারলো না। এক চিৎকার এ বাড়ির লোক সবাই হাজির। সায়মা আর নেই। আমি হতভম্ব কি বলবো। চিৎকার দিলাম কেন,নানা প্রশ্নের সম্মুখীন আমি। মা বুঝলো ভয় পেয়েছি,।ঘরে এনে লবন পানি খাইয়ে দিলো। সেদিন টা আর ওকে দেখলাম না। তারপর একদিন রাতে আমাদের গোসল খানায় কে যেনো কাজ করছে আওয়াজ পাচ্ছি। এতো রাতে কে হতে পারে,,,, এই চিন্তা করতে করতে গেলাম গোসল খানায়। দরজা খোলা কেউ নেই। কিন্তু এখনই আওয়াজ ছিলো। ফিরে ঘরে ঢুকবো এমন সময় সায়মা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। এই অশরীরী আত্মা জড়িয়ে ধরাতে দম ছাড়তে কষ্ট হচ্ছিলো! কোন রকমে বললাম ছাড়ো আমায়। --কেন এখন ভালো লাগেনা? আগেতো ঠিকই ধরতে। -- আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। প্লিজ রেহাই দাও। --আচ্ছা ছাড়লাম। কিন্তু আজ আমাকে তোমার সাথে শুতে দিতে হবে। -- নাহ, আমি পারবো না। তুমি কি করে আমার সাথে শুবে? -- কোন কথা নাই চুপ। কথা বললেই আমার রুপের খেলা দেখাবো। আমি আর কথা বললাম না। ওকে নিয়ে ঘরে ঢুকলাম। ভয় হচ্ছে অনেক। ভয়ে ভয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি যানিনা। মাঝ রাত হবে হয়তো। প্রচন্ড অস্থিরতায় ঘুম ভেঙে গেলো। চোখ খুলতেই দেখি সায়মা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভয়ে আতকে উঠলাম। ঘর ময় ছোট বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ। ভয় যেনো দ্বিগুণ হয়ে গেলো। জিজ্ঞেশ করলাম এগুলো কিসের আওয়াজ? সায়মা বললো এটা তোমার সন্তান। আমি অবাক এ আবার কেমন কথা! আমি বললাম কি বলছো এসব? হ্যা ও তোমার সন্তান। আজ ওর জন্ম হলো। আমি যখন আত্মহত্যা করেছি তখন ও আমার পেটে ছিলো। দুই মাসের গর্ভবতী ছিলাম। তাই ব্যাপার টা বুঝিনাই। না বুঝেই বিষ গিলেছি। মৃত্যুর পর বুঝলাম। আমি কথা গুলো শুনে আর থাকতে পারছি না। অন্যায় অপরাধ বোধ হচ্ছে। আমি বললাম ওকে কি আমি একটু ধরে দেখতে পারি? সায়মা বললো, ও একটা ভূত। ওকে ধরা যাবেনা। তখনই দেখলাম বাচ্চাটা উলটো হয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছে। আর পারলাম না। চোখ আবার অন্ধকার। . ঘুম ভাঙলো বেলা ১১টায়। আজ দেহে কোন শক্তি পাচ্ছি না। গোসল করে ফ্রেশ হলাম। আজ আবার নদীর পারে যাবো। একটু ঠান্ডা হওয়া খাওয়াটা জরুরি। আর এখানে অনেক সৃতি জমা আছে। . নৌকা ভাড়া নিবো ভাবছি। কিন্তু নৌকায় একা ভালো লাগবে কি? কে যেন কথাটা বলে উঠলো! দেখলাম পাশে সায়মা দাড়িয়ে আছে। তুমি আমার মনের কথা বুঝলা কি করে? বললাম আমি। ভুলে যেওনা আমি একটা প্রেতাত্মা। আমি অনেক কিছুই করতে পারি। একটু হাসি নিয়েই বললো সায়মা। এখন দেখছি বাচ্চাও আছে। উলটো হয়ে ঘুরছে। সায়মার মুখটাও ভয়ঙ্কর হচ্ছে। বুঝলাম আমাকে ভয় দেখাবে। জানি এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব না। সায়মার মুখটা খুবই বিকট হয়ে আছে। দেখে খুবই ভয় লাগছে। বিকট মুখে আমার দিকে চেয়ে বললো, ভয় লাগছে না? হ্যা তবে আগের মত না। কেন? (সায়মা) দেখতে দেখতে অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। (আমি) আচ্ছা আজ তাহলে চলে যাই। কাল আবার আসবো। বলে উধাও হয়ে গেলো সায়মা। বাচ্চাটাও নেই। এখন আমি একা। সায়মার এই অবস্থার জন্য আমি দায়ী। আজ থেকে ছয় মাস আগের কথা। ২০১৫ ডিসেম্বর এর ৩১ তারিখ। সবাই থার্টিফাস্ট নাইট নিয়ে খুব আনন্দ করছে। আমি আমার এক বন্ধুর ফ্লাটে ছিলাম। ওর বাড়ির কেউ ছিলোনা। কিছু বন্ধু মিলে আড্ডা মজ মাস্তি হচ্ছিলো । তখনই এক বন্ধু বললো আজ সায়মাকে আনতে পারবি? আমি বললাম কেন? ওরা বললো ঘর খালি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবি দোস্ত। আমিও সেই মত ওকে আসতে বললাম। প্রথমে রাজি হয়নি। পরে আমি রাগ করবো ভেবে আসতে রাজি হলো। ও আসার পর কিছুক্ষন কথা বললাম। তারপর ওকে নিয়ে রুমে চলে গেলাম। ও রাজি ছিলো না। আমি একপ্রকার জোড় করে ওর সাথে শারিরীক সম্পর্ক করলাম। ও খুব কান্না করছিলো। ওকে বিয়ে করার কথা দিয়ে ছিলাম। কিন্তু পরে যখন আমার বিয়ে রিতার সাথে ঠিক হলো, তখন ওকে আমি সব ভুলে যেতে বলেছিলাম। তারপরের দিনই শুনি ও আত্মহত্যা করেছে। আমিও খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ওর মৃত্যু যন্ত্রণায় এখন আমি প্রতিনিয়ত ভুগছি। ওর মৃত্যুর এক মাস পর থেকেই ও আমার সামনে আসে। জানিনা কখনো কি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবো কিনা? তবে একটা বুদ্ধি মাথায় এসেছে। সেটাই আজ করবো। . এখন আমি সায়মা ও আমার ছেলে একসাথেই আছি। ছেলেটার কোন নাম রাখা হয়নাই। ওকে আমি বাবু সোনা বলেন ডাকি। এখন ওকে আমি কোলে নিতে পারি। আমরা একসাথেই থাকি। কারণ এখন আমিও ভূত.। আমি সেদিন গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছি। এই অশরীরি যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছিলো না। তাই এই পথ বেছে নিলাম.। আমি এখন খুব সুখী। কিন্তু মাঝে মাঝে জিহ্বা টা একহাত বের হয়ে যায়.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now