বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আত্মকথার ডায়েরি (প্রথম পর্ব)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X ১| রবিরশ্মি ধীরেধীরে পশ্চিমাকাশে হারিয়ে গেল। মৃদু বাতাস বইছে।ক্লান্ত দেহটা বারান্দার চেয়ারে ঠেকিয়ে আনমনা হয়ে বসে আছে "রাজ"। অফিসের ড্রেসটা খুলা হয়নি।খুব অস্বস্তি ফিল করে এটা তার কাছে।১ বছর হল জব করছে।জবে জয়েন করার পর থেকে এই ১ টা সপ্তাহ তাকে নিজের সব কাজ করতে হয়।তার আগে "পুষ্প" ই সব করে দিত।সকাল সকাল বেড টি, তারপর অফিসের ড্রেসে আয়রন, ফ্রেশ হয়ে আসার পর নিজে ব্রেডে জেলি অথবা বাটার মাখিয়ে খায়িয়ে দেওয়া, লাঞ্চএর জন্য হটপট আর অফিসের পোশাকে পড়িয়ে দেওয়া বিশেষ করে টাই টা বেঁধে দেওয়া আর খুলে রাখার সময় অপলক মায়াবী দৃষ্টিটা সকাল টাকে মুখরিত আর ক্লান্ত বিকেলটা নিমিষেই উচ্ছলিত করে এক স্বর্গীয় সুখ এনে দিত।আর আজ? উফফ!! ভাবতেই গগনবিদারী আর্তনাদধ্বনি উঠে হৃদ মাজারে।হ্যাঁ এখন খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারটা মা আর বোন খেয়াল রাখে।তারপরেও অতৃপ্ত মন,যদিও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাঁধুনি এবং যত্নবতী হল "মা" তবুও পুষ্পের কৌঠাটা শূন্য ই।। নিজের অজান্তেই চোখ থেকে জলকণা বেরিয়ে পড়ছে। বুকের মধ্যে মরুভূমি!! হাহাকারে কাতর। উফফ! আল্লাহ্!! কেন এতবড় শাস্তি দিচ্ছো আমায়? মনে মনে কথা গুলি বলছে "রাজ" ২| ----ভাইয়া এই ভাইয়া? ভাইয়া? কখন ফিরলে আর এখানে এভাবে বসে আছো কেন? পোশাক খুলে ফ্রেশ হয়ে নাও আগে। রিক্তার কথায় সংবিৎ ফিরে পেল রাজ। ----রাজঃ এইতো একটু আগে আসলাম। ----রিক্তাঃ আচ্ছা ভেতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও বলেই চলে গেল। রিক্তা ঢাবিতে পড়াশোনা করে।ওখানে থেকেই পড়ে।ছুটিতে বাড়ি ফিরে।পুষ্পহীন হাসিখুশি প্রাণবন্ত মেয়েটা এক্কেবারে নীরব হয়ে গেছে। হবেই না বা কেন? পুরো বাড়িতে অন্ধকারের চাঁদ হয়ে সবাইকে সমান ভাগে আলো দিত যে সেই তো আজ নাই।বাবা,মার ছেলে মেয়ে দুইটার ভাগ ই একা ভোগ করতো আদর স্নেহ,মায়া মমতা ভালবাসায় ভরপুর ছিল বাড়িটা।বৃদ্ধ বয়সেও বাবা মা যেন খুব স্ট্রং ছিল ওর হাতের ভালবাসার জাদুর পরশে।অথচ আজ? সব কিছুই ঝিমিয়ে যাচ্ছে!! খুশির কলরবের বাড়িটা আজ নিস্তব্ধ! বারান্দার রজনীগন্ধা আর বেলি ফুল গুলিও যেন ছুটি নিয়েছে।রকমারি প্রজাপতি বিলীন হয়ে গেছে।পাখির গান সব কিছুই যেন এলোমেলো করে হারিয়ে গেল তাদের খেলার সাথীর সাথে।হয়তো পুষ্পের বিরহ ব্যথায় সমবেদী হয়েছে সবে।কি উদ্ভত বিধাতার লীলাখেলা!! আজ যাকে ঘিরে যার জন্য গোটা বাড়ি নীরবতা পালনে ব্যস্ত! সে তো ১ টি বছর আগেও ছিলনা! তাকে ছাড়াই তো সব ঠিকঠাক ছিল।তবে আজ কেন তার জন্য এত কিছু? আমনের প্রশ্ন গুলি নিরুত্তর। ৩| ----রাজ? পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে মা হ্যাঁ মা কিছু বলবে? হুম,,একা একা এভাবে এখানে বসে আছিস কেন? ভেতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে বিশ্রাম নে বাবা। ---রাজঃ ভাল লাগছেনা মা,তুমি যাও আমি পরে আসছি। ----রাজের মাঃ আস্তে করে ছেলের মাথায় হাত বুলালেন।আমি বুঝি বাবা।ভাল না লাগার ই কথা। তুই ই তো বোকামো টা করলি! পুষ্প খুব ভাল মেয়ে।আমার অটুট আত্মবিশ্বাস আছে ওর প্রতি।তা কোনদিন কমবে না।রাগের মাথায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব অন্যায় করেছিস তুই।দেখ বাবা? তুই নিজেও কষ্ট পাচ্ছিস! আমাদের কেও দিচ্ছিস।রিক্তা ও খুব কষ্ট পাচ্ছে! সারাদিন মনমরা হয়ে ঘরে পড়ে থাকে।আর তোর বাবার শরীরটাও কেমন অবনতি হচ্ছে।আমাকেও জিজ্ঞেস করেছে পুষ্প কে তুই কবে ফিরিয়ে আনবি? নির্বাক হয়ে মায়ের কথা গুলি শোনালো রাজ। নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে।কষ্ট বুকে চেপে রাখার সেই শক্তিটাও হারিয়ে ফেলছে।নোনাজল চোখের কোণে টলমটল। হাত ধরে মা ঘরে নিয়ে গেল। ৪|ফ্রেশ হয়ে ডিনার সেরে নিজের রুমে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিল রাজ।এপাশ ওপাশ করছে কিছুতেই কিছু ভাল লাগছেনা।ক্লান্ত শরীর।যেখানে বিছানায় পিঠ লাগার সাথে সাথেই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেত সেখানে আজ বিষণ্ণতার পায়তারা।হঠাৎ ওয়ারড্রব এর দিকে নজর পড়ল।একটা ড্রয়ার কিছুটা ফাঁকা!! উঠে গিয়ে টান দিল ড্রয়ারটা।এলোমেলো কিছু কাগজ আর কয়েকটা ডায়েরী ছাড়া কিছুই পেলনা।হয়তো অদরকারি তাই খোলামেলা। এটা ভেবেই আবার বিছানায় চলে গেল।বাচ্চাদের মত দিক্বিদিক দৃষ্টিপাত করছে।ধিক্কার দিচ্ছে পুষ্প কে।নিজের জীবনের চাইতে যাকে এতো বেশি ভাল বাসলো এতটা বিশ্বাসের মধ্যে সে কিভাবে পারলো এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করতে?বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের অঢেল বিশ্বাস থাকার পরেও কিভাবে পরকীয়ায় জড়াতে!!যদিও বাবা মা এখনো অটল তার বিশ্বাসে বাট আমি তো জানি যুগের হাল! বর্তমান পরিবেশ আর ঘটনাবলীর প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে !! ছিঃ!! না আর ভাবতে পারছিনা।মাথাটা ঝিম মেরে ঘুরান্তি দিচ্ছে।বুকের বাম পাশটায় চিনচিন ব্যাথা করছে। পেইন কিলারের জন্য হাত দিতেই চোখে পড়ল একটা মানি ব্যাগ।বাট এটাতো আমার না! মনে মনে বলল রাজ। ---রাজঃ মা? মা? ও মা ----রাজের মাঃ কিরে বাবা কি হয়েছে? রাজ মানি ব্যাগটা হাতে দিয়ে বলল এটা তো আমার না, মনে হয় বাবার রেখে দাও। রাজের মাঃ না তোর বাবার না! নিচে পড়েছিল আমি তুলে রাখলাম তোর ভেবে। রাগ আর ঘৃণামিশ্রীত চাহনি রাজের!! অস্পষ্ট একটা গালি দিয়ে ফেললো পুষ্প কে! রাজঃ দেখছো মা? সেই লোকটার হয়তো এই ব্যাগ। ছানাবড়া চোখে রাজের দিকে তাকালো রাজের মা(ফাহমিদা বেগম) এক সময়ের বলিষ্ঠ লড়াকু আইনজীবীর স্ত্রী আইনজীবী!! এতো সহজে কিভাবে তার চোখ ফাঁকি দিবে?আর তার খেসারত হিসেবে আমাকেই ভ্যালুলেস হতে হবে? ভাবতেই যেন আগের তেজ গায়ে ফিরে এলো।রাগে গরগর করতে করতে ছেলে এক প্রকার হুংকার ছেড়েই বলে উঠলো। এতো এডভান্স না হয়ে আগে সেটা খুলে দেখ! মানি ব্যাগটাই।প্রমাণ করে না পুষ্প পরকীয়ায় লিপ্ত আর সেই লোকটা আসলেই তার আমন্ত্রণ পেয়ে এসেছিল। লোকটি বার বার বলছিল আমাকে মারেন উনাকে মারবেন না।আমি প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিতে এসেছি আর মুহুর্তেই আপনার উপস্থিতি! উনি নির্দোষ। আর আমিও একজন গোয়েন্দার লোক।প্লিজ উনার উপর অমানবিকতা জাহিল করবে না। কিন্তু তুই কারো কথাই শুনলি না! মেয়েটাকে সারা রাতা রুমে বন্দি রেখে, লোকটাকে কোথায় গিয়ে দিয়ে এলি আর সকাল সকাল মেয়েটাকে শুন্য করে কোথায় দিয়ে এসে বললি বাপের বাড়ি দিয়ে এসেছিস।অথচ মেয়েটা বাপের বাড়ি থাকলে আমি জানতাম।তুই ও কিছু লোকাচ্ছিস আমাদের কাছে।সো বি সাবধান!! চলবে.......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now