বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কলেজের ক্যম্পাসে পায়চারি করছি এমন সময় হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা লেগে যায় আমার হাতের নোটটা পরে যায় চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলাম একটা মেয়ে আগে কখনো দেখিনি মেয়েটিকে।
এই কলেজে নতুন এসেছে বোধহয়
সে নোটটা নিচ থেকে তুলে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো আর বলবো স্যরি আমি দেখতে পাইনি বলে চলে গেল।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি সে মেয়েটির চলে যাওয়ার পথে। বন্ধুদের কাছ থেকে খোজ নিয়ে জানতে পারলাম মেয়েটি কলেজে নতুন মেয়েটির নাম ঝুমুর। ক্লাস শেষ করে বাড়ি ফিরে ফ্রেস হয়ে লাঞ্চ করে রুমে আসলাম
হঠাৎ করে সে মেয়েটির কথা মানে ঝুমুরের কথা মনে পড়লো, মেয়েটি দেখতে খারাপ ছিল না অনেক রূপবতী চেহারার মধ্যে যেন অন্যরকম এক আকর্যন ছিল ছলছল করছিল তার দুটি কাজল কালো আখি চুলগুলো উড়তে ছিল মৃদু বাতাসে, যে কেউ দেখলে চোখ ফেরাতে পারবে না প্রথমবার, আমিও পারিনি।
পরদিন সকাল সকাল উঠে কলেজ যেতে হলো কোচিং ক্লাস আছে তাই
সেদিন হঠাত সে মেয়েটি মানে ঝুমুরের সাথে দেখা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম ঝুমুরের চোখে আমার চোখ পড়ে গেল, আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম না দেখার ভান করলাম
আড় চোখে দেখতে পেলাম সে আমার দিকেই আসছে
>সত্যিই আমি দেখতে পাইনি গতকাল আপনার সাথে এইভাবে ধাক্কাটা লেগে যাবে ভাবিনী, আপনার লাগে নি তো? (ঝুমুর)
>আরে না কি বলছেন, ইটস ওকে, (আমি)
>আমি ঝুমুর বাবার একমাত্র মেয়ে এই কলেজে নতুন শুনলাম কলেজটা অনেক ভালো পড়াশোনার মান ভালো তাই বাবা এখানে নিয়ে আসছে, আপনার নামটা কি জানতে পারি? (ঝুমুর)
>হ্যা অবশ্যই, আমি শুভ, (আমি)
>ও আচ্ছা, কোচিং টাইম হয়ে গেছে এখন আসি পরে দেখা হবে বায়(ঝুমুর)
>ওকে বায় (আমি)
এভাবে আমাদের পরিচয় কথোপকথন শুরু হয়,
রাত ১০টার দিকে একটু টাইম নিয়ে ফেবুতে আসলাম
দেখলাম একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসছে এবং একটা মেসেজ দিয়েছে চিনতে পারিনি কে এটা তাই রিকু এক্সপেক্ট করিনি।
পরদিন সকাল বেলা ঝুমেরের সাথে দেখা
>এই আপনি রিকুয়েস্ট এক্সপেক্ট করেন নি কেন হ্যা? (ঝুমুর)
>রিকুয়েস্ট দিয়েছেন আপনি ও আচ্ছা চিনতে পারিনি তাই করিনি আর কি, (আমি)
>হুম,আজ করবেন কিন্তু,(ঝুমুর)
একটা মন কাড়া হাসি দিয়ে ঝুম বিদায় নিলো ঝুমুর।
মনে হয় আমি ঝুমুরেকে ভালোবেসে ফেলেছি, সর্বদা শুধু তাকে নিয়ে মন মেতে থাকতো।
রাতে খুব আনন্দের সহকারে রিকুটা এক্সপেক্ট করি, সাথে সাথে মেসেজ আসে
>কেমন আছো?
>হ্যা ভালো আছি,আপনি?
>হুম ভালো, একটা রিকুয়েস্ট করবো?
>হ্যা অবশ্যই,
>নাহ বলছিলাম কি আমরা একে অপরকে আপনি করে না বলে তুমি করে বলি?
>হুম বলতে পারি...
>তোমার নাম্বারটা দিবে (ঝুমুর)
যেহেতু আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি সেহেতু নাম্বার দিতে আপত্তি নাই,আমি আমার নাম্বারটা দেই, তখন থেকে আমাদের প্রত্যহ কথা হতো,
এক পর্যায়ে আমার মনে হলো, আমি এখন বলা উচিত ঝুমুরকে আমি যে ওকে ভালোবাসি,
সেদিন প্রস্তুতি নিলাম হাটু গেড়ে প্রপোজ করবো আমি ঝুমুরকে,
দিনটা ছিল ১৪ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে তাকে প্রপোজ করবো,
সকাল হলো ঝুমুরকে ফোন দিলাম,একটা সুন্দর যায়গায় আজ ঘুরতে যাবো ঝুমুরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি যাওয়ার পথে একটা গোলাপ নিলাম ঝুমুরকে দিবো বলে..
ঝুমুর চলে আসলো, ঝুমুর একটা নীল শারী পরেছিল, নীল শারীতে ঝুমুরকে অনেক সুন্দর লাগছিল একদম পরীর মতো।
অনেক্ষন এক জায়গায় বসে ঝুমুরের সকল ইচ্ছা তার মনের কথা গুলো জানলাম,
একটা সময় আমি ঝুমুরকে বললাম,
>ঝুমুর একবার দাড়াবে?, (আমি)
>কেন কি হয়েছে?(ঝুমুর)
>না এমনি একবার দাড়াও না প্লিজ (আমি)
>সে একটা হাসি দিয়ে বললো আচ্ছা ঠিক আছে দাঁড়ালাম (ঝুমুর)
>এবার চোখ দুটো বন্ধ করো,(আমি)
ঝুমুর চোখ দুটো বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে আমার কাছে মনে হলো একটা পরী আমার সামনে দাড়িয়ে আছে,
তখন আমি হাটু গেড়ে তার সামনে বসলাম এবং গোলাপটা তার সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম এবার চোখ খুলো,
>আই লাভ ইউ ঝুমুর!!
সে যেন কিছুই বুঝতে পারলো না,
সে সোজাসুজি মুখ ঘোমরে আমাকে বললো,
এবার তুমি দাড়াও, আমি দাড়াতেই সে আমাকে জরিয়ে নিলো, সে মুহুর্তটা সে আমার কাছে কতটা দামি এবং আনন্দের ছিল তা বলে বুঝানো সম্ভব নয়।
তারপর থেকে আমাদের ভালোবাসা চলতে থাকে অনেক আনন্দে দিন কাটছে, সে আমাকে অনেক ভালোবাসে, আমিও ঝুমুরকে অনেক ভালোবাসতাম
সে অনেক টেক কেয়ার করতো আমাকে
অবশর সময় পেলেই ওকে নিয়ে ঘুরতে যেতাম,
যেতাম কোন রেস্টুরেন্টে।
বছরখানেক চলে যায় এভাবে।
একদিন আমি আমার গ্রামের বাড়িতে যাই সারাটাদিন সবার সাথে অনেক আনন্দ করে রাতে সময়করে কল দিই ঝুমুরকে কিন্তু সে কল ধরছে না একের পর এক কল দিচ্ছি কিন্তু নো এনসার!!
খুব চিন্তায় পরে গেলাম,
দুদিন চলে গেল সে কিছুতেই কল রিসিভ করছে না, মনে হচ্ছে যে বুকের মধ্যে একটা পাথর পড়ে আছে,
খুব কষ্ট হচ্ছিল, পরদিন সকাল সকাল গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম,
ঢাকায় গিয়ে কল দিলাম এক পর্যায়ে সে কলটা রিসিভ করে,
>হ্যালো কি হয়েছে ঝুমুর গত তিন দিন ধরে কোন কল রিসিভ করছো না কেন?(আমি)
সে আমাকে বললো তোমার সাথে কথা আছে সেইম প্লেসে কাল দুপুর ২টায় চলে এসো এ বলে সে লাইনটা কেটে দিলো,
পরদিন সকাল বেলা আমি ওখানে যাই
দেখি সে আমার আগে এসে বসে আছে আজও তাকে অনেক সুন্দর লাগছে,
আমি জিজ্ঞেস করলাম
>কি হয়েছে?(আমি)
>আমি আর এ সম্পর্কটা রাখতে পারবো না তোমার সাথে!! (ঝুমুর)
>মানে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না কেন রাখতে চাও না?(আমি)
>তুমি কখনো আমার অতীত জানতে চাও নি, আর আমিও বলি নি আমি অতীতে অন্য কাউকে ভালোবাসতাম সে আমার জীবনে আবার ফিরে এসেছে তাই আমি আবার নতুন করে তার সাথে বাঁচতে চাই, আমি তোমাকে ভালোবাসতাম কিন্তু আমার কিছুই করার ছিল না,পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।(ঝুমুর)
এটা বলে ঝুমুর চলে যায় আমার সামনে থেকে, আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলছি ঠিক সেই মুহুর্তে, চোখ বেয়ে গরিয়ে যাচ্ছে শ্রাবনের নির্জন মেঘ, সেদিন থেকে বুকটা চিনচিনিয়ে ব্যথা শুরু হয়েছে আজও তার কথা মনে পড়লে বুকের ব্যথা আরম্ভ হয়ে যায়। সেদিন বুঝেছিলাম প্রথম প্রেম কেউ ভুলতে পারে না তাই হয়তো ঝুমুর চলে গেছে আমার খাঁচা ছেড়ে।আমার হয়তো এটাই ভুল ছিল তার অতীত জানতে চাইনি,আর তাকে বেশি ভালোবেসেছিলাম......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now