বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেকদিন হলো তাহারমিনের সাথে কথা হয় না রিফাতের । হঠাত করেই তাহারমিন কথা বন্ধ করে দেয় । রিফাতকে বলেও নাই, কি ভুল হয়েছে, নাকি অন্য কিছু । কথা বলা, যোগাযোগ, কলেজে আসা সব বন্ধ । রিফাত তাহারমিনের বান্ধবীদের থেকে অনেক চেষ্টা করেছে খোঁজখবর নেয়ার, কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছেনা । এ দিকে ভয় পায় রিফাত, তাহারমিনের কিছু হয়নি তো আবার ।
.
প্রায় দেড় বছর আগের কথা । রিফাত আর তাহারমিন একে অপরকে খুব ভালোবাসে। কলেজে আসার পথেই দুজনের দেখা হয় কোনো এক বৃষ্টির দিনে । একই রাস্তা দিয়ে দুইজনের যাতায়াত ছিলো । আবার স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তো রিফাত ও তাহারমিন । কিন্তু আলাদা সময়ে, তারপরও কলেজে দেখা হতো । দেখাদেখি তে রিফাত তাহারমিনকে পছন্দ করে । তাহারমিন প্রথমে রাজি না থাকলেও, পরে অবশ্য রাজি হয় । দুজন একই গ্রামের, তাই তাহারমিন একটু ভয় পায় ।
.
এ দিকে রিফাত অনেকদিন তাহারমিনের কোনো খোঁজখবর না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে । তাহারমিন বাড়িতেই আছে, কিন্তু রিফাতের সাথে কেন যোগাযোগ করছেনা এটা বুঝতে পারেনা রিফাত । এ দিকে রিফাতের অবস্থা খারাপ, চোখের ঘুম হারাম ।
.
এভাবে বেশ কয়েকদিন কেটে গেলো । এরপর একদিন রাত ১০:০০ টায় রিফাতের নাম্বারে হঠাত তাহারমিন কল করে, চমকে যায় রিফাত এবং খুব দ্রুত ফোন রিসিভ করেই এক নিশ্বাসে অনেক কথা বলে ফেলে ।
.
-হ্যালো, তুমি ঠিক আছো তাহারমিন ? তোমার কি হইছে,? এতোদিন কই ছিলা,,? (রিফাত)
-একটি দীর্ঘ শ্বাস পেলে, আমাদের এই সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয়, আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে (তাহারমিন)
-মানে কি,? তাহলে এতোদিনের ভালোবাসা কি মিথ্যা ছিলো ? (রিফাত)
-তুমি যাই মনে করো (তাহারমিন)
-ঠিক আছে, তুমি সুখী থাকলেই আমি সুখী (রিফাত)
এই বলে রিফাত ফোন কেটে দেয় ।
.
আজ তাহারমিনের গায়ে হলুদ । রিফাতের কোন এক বন্ধু খবর দেয় । রিফাতের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে তখন । কি করবে বুঝতে পারছেনা । রিফাত তাহারমিনের বাড়িতে যায়, তাহারমিনকে একটু দেখার জন্য । হ্যা দেখেছে সে তাহারমিনকে, খুব হাসিখুশি দেখাচ্ছে । রিফাতের তখন মনে হতে থাকে, তাহলে নিশ্চই তার সাথে মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় করেছিলো তাহারমিন ।
.
যাই হোক, তাহারমিনের শুভকামনা করতে করতে বাড়ির অদূরে একটি নির্জন জায়গায় এসে বসে পড়ে রিফাত । রিফাতের মন খারাপ থাকলে এই জায়গায় এসে বসে সে । আজ রিফাতের মন সবচেয়ে বেশি খারাপ,। আজ তার খুব দামি জিনিসটি তার কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে । আর কিছু ভাবতে পারছেনা, নিজেকে সংযত রাখার খুব চেষ্টা করছে , কিন্তু পারছে না । ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে, কিন্তু কিছু কিছু ব্যথা নিরবে সইতে হয় ।
.
আজ জীবনে প্রথম সিগারেট খায় রিফাত । কি আর করার, সিগারেট খেলে নাকি টেনশন কমে,তাই রিফাত সেই চেষ্টা করছে । কিন্তু একটা জিনিষ কিছুতেই মাথা থেকে নামাতে পারছেনা রিফাত । যে তাহারমিন তাকে এতো ভালোবাসতো, সে তাহারমিন হঠাত এরকম বদলে গেলো কেনো অল্প সময়ে । যাই হোক, তাহারমিন এখন অন্যের বউ। তাই তাহারমিনকে নিয়ে সে চিন্তা করতে নেই । কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো ভুলা যায়না । রিফাত কি করে তাহারমিনকে ভুলবে । যার সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তাকে কিভাবে ভুলা যায় ।
.
একদিন স্মোক করার সময় তাহারমিন দেখে ফেলে, রিফাতকে বলেছিলো, তুমি তো আমাকে কথা দিয়ে কথা রাখনি । রিফাত বলেছিলো, আপনি তো আরো বড় কথাটা রাখেননি । এরপর আর কিছু না বলে, রিফাত সেখান থেকে চলে যায় । আর কখনো তাহারমিনের সামনে পড়েনি ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now