বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালবাসা সিনিয়র জুনিয়র
মানেনা"
•••
রাফাত ভার্সিটিতে নতুন। দুই তিন
মাস হলো ভর্তি হয়েছে। স্কুল ও
কলেজ লাইফে কোনো মেয়ের
প্রেমে না পড়লেও ভার্সিটিতে
এসে একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে গেল।
মেয়টির নাম কলি। সমস্যা হচ্ছে
কলি এক ইয়ার সিনিয়র। রাফাতের
একটা ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিল। নাম পল্লব।
পল্লবের সাথে অনেক কিছুই শেয়ার
করে রাফাত।
.
একদিন ভার্সিটির ক্যান্টিনে বসে
আছে রাফাত ও পল্লব। ক্যান্টিনটি
ছিল ভার্সিটির মাঠের পাশেই,
খোলামেলা। তিনটা টেবিলের
পরের টেবিলে বসে আছে তিন
চারটে মেয়ে। তার মধ্যে কলিও
ছিল। রাফাত পল্লবকে বললো...
--দোস্ত একটা কাজ করে দিবি..?
--কি কাজ..?
--ঐযে নীল ড্রেস পড়া মেয়েটা
দেখছিস, ওকে গিয়ে বলবি রাফাত
আপনাকে ভালবাসে..।
--তুই কি পাগল..? ঐ মেয়ে তোর এক
ইয়ার সিনিয়র। সিনিয়র জুনিয়র
ভালবাসা হয়না। আর ঐ মেয়ে যে
রাগী, এই কথা বলার সাথে সাথেই
আমার গালের উপর তার পাঁচ
আঙ্গুলের ছাপ বসিয়ে দিবে..!
--সত্যি...! চড় দিবে তো..?
--এতে কোনো ভুল নাই..!
--এই পর্যন্ত কয়টা ছেলে ওর হাতের
চড় খেয়েছে..?
--শুনেছি ভয়তে এখনও কেউ প্রস্তাবই
দেয়নি ওকে।
--তাহলে আমি নিজেই যাব..।
--কোথায় যাবি..?
--ওকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে..!
--দেখ পাগলামী করিসনা দোস্ত..!
.
রাফাত বসা থেকে উঠে দাড়ালো।
পল্লব রাফাতের হাত টেনে ধরলো।
বারংবার নিষেধ করা সত্ত্বেও
রাফাতকে আটকিয়ে রাখতে
পারলোনা পল্লব। রাফাত দোয়া
ইউনূস পড়তে পড়তে মেয়েগুলোর
কাছে গেল। গিয়ে কলিকে বললো...
--কলি আপু, একটু এদিকে আসবেন কথা
ছিল...!
--কি কথা এখানেই বলেন..!
--একটু সিক্রেট! প্লিজ..!
কলি বসা থেকে দাড়িয়ে
ক্যান্টিনের বাইরে গেল।
.
রাফাতের বুকের ভেতর হার্টবিটটা
যে গতিতে বাড়তে শুরু করলো,
তাতে মনে হচ্ছে খুব শিগ্রিই তার
বিস্ফোরণ ঘটবে! রাফাত সময় নষ্ট
না করে বললো...
--আমি রাফাত। ফাষ্ট ইয়ারের
ছাত্র। অনেক দিন ধরেই বলবো বলবো
করে একটা কথা বলতেই সাহস
পাচ্ছিনা...
রাফাতকে থামিয়ে দিয়ে কলি একটু
রেগে গিয়ে বললো...
--এত ভনিতা না করে চট জলদি বলে
ফেলো...
রাফাত আশেপাশে তাকিয়ে
দেখলো প্রায় সবাই ওদের দিকে
তাকিয়ে আছে..! অনেকটা নার্ভাস
হয়ে রাফাত বলে ফেললো...
--আমি আপনাকে ভালবাসি...!
--কি..! কি বললে তুমি..!? আরেকবার
বলোতো..! (একটু উচ্চস্বরে বললো কলি)
রাফাত আবারও বললো...
--আমি সত্যিই আপনাকে
ভালোবাসি...!
--তোমার সাহস তো মন্দ না..!
আমাকে এসেছো প্রেমের প্রস্তাব
দিতে..! স্টুপিড কোথাকার...!"
বলেই কষে এক চড় বসিয়ে দিল
রাফাতের গালে..!
সবাই তাকিয়ে আছে ওদের দিকে।
কোলাহল মুখর ক্যান্টিনটা এক
নিমিষেই স্তব্ধ হয়ে গেল। রাফাত
কিছুই বললোনা, মাথাটা নিচু করে
দাড়িয়ে রইলো। কলি রাগে ফায়ার
হয়ে ওর বান্ধবীদের কাছেও
গেলনা। সোজা ক্লাসে চলে গেল।
.
পল্লব এতক্ষন সবই দেখলো। পল্লব
রাফাতের কাছে গেল। গিয়ে
দেখলো রাফাতের দুচোখ অশ্রুতে
টলমল করছে। পল্লব বললো.. "তোকে এত
করে নিষেধ করলাম, তুই আমার কথা
শুনলিনা..! চল এখান থেকে।"
রাফাত কাঁন্না ভেজা কন্ঠে
পল্লবকে বললো... "আসলে কলি
জানেনা আমি ওকে কতটা
ভালবাসি। জানলে হয়তো এমনটা
করতোনা।"
.
তারপরের দিন কলি যখন ক্যান্টিনে
গেল, আশেপাশে তাকিয়ে দেখছে
রাফাত আছে কিনা..! কিন্তু রাফাত
তো আজ ক্যাম্পাসেই আসেনি। কলি
মনে মনে ভাবতে লাগলো..
"ছেলেটিকে এভাবে চড় না
মারলেই পারতাম। আমি ওর
প্রস্তাবে রাজিনা, ঠিক আছে,
কিন্তু সেটা হয়তো অন্য ভাবেও
বলতে পারতাম। ওকে আমার সরি
বলা উচিৎ।"
.
কলি তখনই রাফাতের ক্লাসে গিয়ে
খোঁজ করলো। রাফতকে পেলোনা।
পল্লবের সাথে দেখা হলে পল্লব
বললো... "আপু ওকে আমি নিষেধ
করেছিলাম। ও শোনেনি। ও বললো
মনের সত্যি কথাটাই তো বলবো।
আপু, ও ভীষন কষ্ট পেয়েছে, তাই ও আর
আপনার সামনে আসবেনা বলে এই
শহরটাই নাকি ছেড়ে দিবে। ওর শুধু
পা ধরতে বাকি ছিল আমার। আমি
ওকে আটকে রাখতে পারিনি। আপু, ও
গরীব ঘরের সন্তান। কিন্তু খুবই
ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। এসএসসি
এইসএসসি দুটোতেই ষ্টার মার্ক
পেয়েছে। ভার্সিটির ভর্তি
পরীক্ষায় ও প্রথম হয়েছে। অনেক
আশা করে শহরে এসেছে পড়াশোনা
করতে। ওকে শুধু আপনিই ফেরাতে
পারেন। প্লিজ.. আপু! ওর সুন্দর
ভবিষ্যতটা নষ্ট হয়ে যাবে। ওহ্! এই
চিঠিটা ও আপনাকে দিতে বলেছে।
আমি ভয়ে যাইনি আপনার
কাছে।" (পকেট থেকে চিঠিটা বের
করে দিল পল্লব)
.
কলি চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে
লাগলো...
"আসলে আমি একটা পাগল। সত্যিই
আমি পাগল। হ্যা, আমি আপনার
পাগল। স্কুল জীবন পার করে কলেজ
জীবনও পার করলাম। আজ পর্যন্ত
কোনো মেয়ে আমার মনটা চুরি
করতে পারেনি। ভার্সিটিতে এসে
একটি মেয়ে মনটা চুরি করে
ফেললো! তাও আবার সিনিয়র।
তাতে কি! প্রেম ভালবাসা তো আর
বয়স মানেনা..! জীবনে প্রথম
কোনো মেয়েকে ভালবাসার কথা
বলেছিলাম। আমি জানতামনা
মনের সত্যিকারের ভালবাসাটা
প্রকাশ করলে, তার প্রতিদান স্বরুপ
এতটা আঘাত পেতে হয়। তারপরেও
এখনও বলছি আপনাকে আমি
ভালবাসি। আপনার প্রতি আমার
ভালবাসাটা এত ঠুনকো নয় যে, এতটুকু
আঘাতেই স্তব্ধ হয়ে যাবে। আমি
বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। হয়তো আর
দেখা হবেনা। ভাল থাকবেন।"
.
চিঠিটা পড়তে পড়তে কলির দুচোখ
অশ্রুতে ভরে গেল। কাঁন্নাজড়িত
কন্ঠে পল্লবকে বললো..
--ওকে এখন কোথায় পাব.?
--এখন তো এগারোটা বাঁজে!
বারটায় ওর ট্রেন।
--আমি যাব রেলস্টেশনে। তুমি
যাবে আমার সাথে..?
--চলুন..
.
দুজন রওয়ানা হয়ে গেল
রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে। রাস্তায়
প্রচুর জ্যাম। কলি শুধু বার বার ঘড়ির
দিকে তাকাচ্ছে। দেখলো
বারোটা পার হয়ে গেছে। তারপরও
কলি রেলস্টেশনে যাবে। কেন যেন
কলির মনটা বলছে, রাফাতের দেখা
পাবো। রেলস্টেশনে গিয়ে জানতে
পারলো রাফাতের ট্রেনটি আসতে
লেট করেছে, এখোনো ছেড়ে
যায়নি। পাঁচ মিনিটের মধ্যে ছেড়ে
যাবে। পল্লব এবং কলি দুজনেই
রাফাতকে খুঁজতে লাগলো। হঠাৎ
করে কলি রাফাতকে দেখতে পেল।
রাফাত ট্রেনে উঠতে যাবে এমন
সময় কলি গিয়ে রাফাতের হাতটি
টেনে ধরলো। রাফাত ফিরে
তাকাতেই রাফাতের গালে কষে
এক চড় দিয়েই রাফাতকে বুকে টেনে
নিল। কাঁদতে কাঁদতে বললো...
"স্টুপিড, যাকে এত ভালবাসো,
তাকে একা রেখে চলে যাচ্ছো..!"
.
রাফাতও কলিকে জড়িয়ে ধরলো,
দেখলো পল্লব কলির পিছনে
দাড়িয়ে আছে। রাফাত মুচকি
হাসছে আর চোখের ইশারায়
পল্লবকে বলছে.. "কেমন হলো..!!"
পল্লব হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উচিয়ে
মনে মনে বললো.... "ইউ আর এ গ্রেট
দোস্ত! সত্যিই ভালবাসা যে
সিনিয়র জুনিয়র মানেনা, সেটা
প্রমান করে দিলি..!!"
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now