বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডিভোর্স (২খন্ড)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)

X একজন ডাক্তার সামনে এসে আমার উদ্দেশ্যে বলল …. --আপনি কি সবুজ সাহেব? --জ্বি, হ্যা। --আপনি আসুন আমার সাথে। কোন কথা না বলেই ডাক্তারের পিছন পিছন চললাম। ডাক্তার সাহেব আমকে একটা কেবিন নিয়ে ঢুকলেন। আমাকে ভিতরে রেখেই ডাক্তার সাহেব কোন কিছু না বলে চলে গেলেন। এখন আমার কী করা উচিত বুঝতে পারছি না। সাজেদার সিটের পাশে রাখা আছে একটি চেয়ার। কোন কিছু না ভেবে সিটের পাশের চেয়ারটায় বসে পড়লাম। এখন সাজেদার ঘুমন্ত নিস্পাপ চেহারে দেখে কারো বুঝার ক্ষমতা নেই যে, এই মেয়ে কত্ত বদ। অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছি সাজেদার ঘুমন্ত চেহারার দিকে। আগের চেয়ে মুখটা কেমন যেন মলিন লাগছে। এই মলিন মুখের প্রতি কেমন যেন মায়া কাজ করছে। সিলিং ফ্যানের বাতাসে এক গুচ্ছ চুল সাজেদার মুখে এসে পড়েছে। এই মায়াবী চেহারায় চুল গুচ্ছ কেমন ব্যামানান লাগছে। তাই হাত বাড়িয়ে চুল গুচ্ছ মুখের উপর থেকে সরিয়ে নিলাম। আমার হাত সাজেদার মুখে লাগতেই চোখ দু’টো ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করলো। চোখ খুলেই সাজেদা আমাকে দেখে আকাশ থেকে পড়ার মতো ভাঙ্গি নিয়ে চেয়ে আছে আমার দিকে। সাজেদা এখানে আমার উপস্থিত আশা করেনি। আমি লক্ষ করলাম সাজেদার চোখ থেকে গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। দেরী না করে আমি তখন সাজেদার চোখের জল নিজ হাতে মুছে দিলাম। সাজেদা তার হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তার হাত ধরব কি ধরব না এইসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন সাজেদার হাত আমার হাতে মুষ্টি বদ্ধ করলাম টেরই পেলাম না। সাজেদা তখন কাপা কাপা কণ্ঠে উচ্চারন করছে ভালবাসি। আমি তখন তার হাত আরো শক্ত করে মুষ্টি বদ্ধ করলাম। আমার নিরবতা দেখে সাজেদা যা বুঝার তা বুঝে নিলো। সাজেদা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে অন্য দিকে তার চোখের জল পড়ছে। আগের হাসি আর এই হাসির মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। এই হাসি একটা ছেলেকে প্রেমে আবদ্ধ করার জন্য যতেষ্ট। . . . হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা বাজে। এখন আমাকে উঠতে হবে। বাসায় মা-বাবা, সাজেদা সবাই মনেহয় আমার জন্য অপেক্ষা করছে। পার্কের ব্যাঞ্চ থেকে উঠে বাসার দিকে পা বাড়ালাম। কলিং বেল চাপতেই ছোট বোন সুমি এসে দরজা খুলে দিলো। .. --ভাইয়া সারাদিন কোথায় ছিলে? আজ তো তোমার ছুটি ছিলো? --একটা বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। --ও। তোমার জন্য বাসার সবাই চিন্তিত ছিলো। তাছাড়া মোবাইল বন্ধ কেনো তোমার? --চার্জ ছিলো না। --হাত মুখ ধূয়ে এসো। আমি তোমাকে চা দিচ্ছি। . সুমির সাথে আর কথা না বাড়িয়ে আমার রুমে গেলাম। আমি রুমে ঢুকতেই দেখতে পেলাম সাজেদা শুয়ে আছে। আমাকে দেখেই উঠে বসল। --কোন উপায় পেয়েছো নাকি? --হ্যা। --তা, আমরা কবে নতুন বাসায় উঠছি? --দু’তিন দিনের মধ্যে। --আমাদের বাসটা কোথায়? --এটা নাহয় স্প্রাইজ থাক। --আচ্ছা। আমি স্প্রাইজ পছন্দ করি। --  --আমি আমার আর তোমার কাপড় ব্যাগে গুছিয়ে নিচ্ছি। --আমার কাপড় ব্যাগে গুছাতে হবে না। --আচ্ছা। তুমি নিজেই গুছিয়ে নিয়ো। . . . সকাল নয়টা। . ফোনের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখি বিদ্বান সাহেবের ফোন। . --হ্যালো। (ঘুম ঘুম চোখে) --হ্যালো। সবুজ সাহেব নাকি? --হ্যা। --আমি এডভোকেট বিদ্বান বলছি। আপনার সমস্ত কাগজ পত্র তৈরী হয়ে গেছে। আপনি চাইলে আজই আসতে পারেন। --আচ্ছা। . মোবাইল পাশে রেখে ফিরতেই দেখতে পেলাম সাজেদা ঘুমিয়ে আছে। ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে কী নিস্পাপ লাগছে। আমি একটু এগিয়ে সাজেদার কপালে একটা চুমা অঙ্কন করে দিলাম। কিছুক্ষন পরে হয়তো আমার আর এই অধিকারটুকু থাকবে না। সাজেদাকে ঘুম থেকে তুলে বললাম তৈরী হয়ে নেও, এই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় হয়ে গেছে। সাজেদা আমার কথা শুনে হাসি মুখে উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেছে। আমি সাজেদার হাসি মুখের দিকে চেয়ে ভাবছি হয়তো কিছুক্ষন পর এই হাসি বিষন্নতায় পরিনত হবে। . বাহিরে দাঁড়িয়ে সাজেদার জন্য অপেক্ষা করছি। বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই সাজেদাকে দেখলাম মোটা একটা স্যুট ক্যাস নিয়ে বাহিরে আসতে। আমি সাজেদার হাত থেকে স্যুট ক্যাসটি নিয়ে গাড়ির ব্যানের মধ্যে রাখলাম। পাশাপাশি গাড়িতে বসে আছি আমি ও সাজেদা। সাজেদা অনেক খুশি হয়ে নানা প্রশ্ন আমার দিকে ছুড়ে দিচ্ছে। আমি এসব প্রশ্নের তুয়াক্ষা না করে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছি। গাড়ি এসে থামল কোর্টে। সাজেদা আমার দিকে কৌতুহল ভরা দৃষ্টি নিয়ে বলছে এখানে থামালে কেনো। আমি এর সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলাম এখানে কিছু কাজ আছে। সাজেদা আমার পিছনে পিছনে আসছে। এখনো স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে তার চেহারায় অজানা এক চিন্তার চাপ। আমি গিয়ে বিদ্বান সাহেবের চেম্বারে ঢুকলাম। বিদ্বান সাহেব আমাকে দেখেই বললেন। --আরে সবুজ সাহেব যে। আসুন,এখানে বসুন। আমি হালকা মুখ প্রসারিত করে একটা হাসি দিয়ে বসে পড়লাম। বিদ্বান সাহেব আবার বলতে শুরু করলেন, --আবারো ভেবে দেখুন আপনার স্ত্রীকে কী সত্যি সত্যি ডিভোর্স দিতে চান। --আমি এই কয়েকদিনে অনেক ভেবেছি। এখন আমাদের আলাধা হওয়াটাই ভালো হবে। সাজেদা আমার দিকে আকাশ থেকে পড়ার মতো ভাব নিয়ে বলতেছে, --তুমি এসব কি বলতেছো সবুজ? --তুমি যা চেয়েছিলে তা উনাকে বুঝাচ্ছি। --আমি নাহয় ঐদিন রাগের মাথায় কথা গুলো বলে ফেলেছি তাইবলে তুমি এই বিষয়টা সিরিয়াসলি নিবে? --তুমি রাগের মাথায় বলছে, কিন্তু আমি তখন সিরিয়াস ছিলাম সাজেদা। আর তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি সব কিছুই সিরিয়াসলি চিন্তা করি। --ও! তাহলে তুমিও শুনে রাখো আমিও কিন্তু খুব জেদি মেয়ে। তুমি কী চাইছো? ডিভোর্সই তো? ওকে তোমাকে মুক্তি দিচ্ছি। উকিল সাহেব আমাকে কোথায় সাইন করতে হবে? . সাজেদা ডিভোর্স পেপারে সাইন দিয়ে কান্না করতে চলে গেছে। আমিও ডিভোর্স পেপারে সাইন করে বেরিয়ে পড়লাম। নিজেকে আজ অনেক সুখি মনে হচ্ছে। বাবার স্বপ্ন পূরন করেছিলাম অনেক আগে কিন্তু এই স্বপ্ন গুলোতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মরিচা পড়ে গেছে। আর সেই মরিচা আজ আমি ছুটাতে পেরেছি। সাজেদার সাথে দুই বছর প্রেম করার পর পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হয়। এই দুই বছর অনেক ঝগড়া খনসুটির মধ্যে দিয়েই আমাদের প্রেম নামক অদৃশ্য বন্ধটি সামনের দিকে এগিয়ে চলছিলো। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সাজেদা কেমন যেনো হয়ে গেলো। সারাক্ষন শুধু ঝগড়াই লেগে থাকত। আমার সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগতো যখন সে আমার বাবার উপর অভিযোগ দিতো। তার সাথে যদি আমি থাকতে হয় তাহলে আমি আমার বাবা-মা ভাই বোন ছেড়ে নতুন ফ্লাটে তাকে নিয়ে থাকতে হবে। তাই আজ থাকে ডীভোর্স দিয়ে মুক্ত করে দিলাম। আমি কী ভাবে আমার বাবাকে ছাড়ব, যে আমাকে মেডিকেলে ভর্তির জন্য নিজের বাড়ি বিক্রি করে দু’লক্ষ টাকা দিয়েছে। আমার মাকে কী ভাবে ছাড়ব যে, আমাকে দশ মাস গর্ভে ধারন করেছে। যেখানে আমার ছোট ভাইয়েরা সকাল বেলা টাই’এর নট বেঁধে অফিসে যাওয়ার কথা ছিলো সেখানে প্রতিদিন সকাল উঠে গ্যারেজে যেতে হচ্ছে, তাও আবার আমার জন্য। আমার ছোট বোনকে কী ভাবে ছেড়ে থাকব, আমার জন্য যার পড়ালেখা প্রাথমিক পর্যায়েই অসমাপ্ত রয়েগেছে। তাদের তরে যদি আমার জীবনটা উৎসর্গ করে দেই তবুও তাদের ঋন শুদ হবে না। তাই আজ সাজেদাকেই আমার জীবন থেকে মুক্ত করে দিলাম। . --স্যার বাসায় জাবেন না? (ড্রাইবার) ড্রাইবারের ডাকে ধ্যন ভাঙ্গল। --হ্যা বাসায় চলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now