বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
ভাইয়া আর কখনো কিছু চাইবো না
"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান mim (০ পয়েন্ট)
X
মাহাফুজুর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে ভীষণ অসহায় হয়ে পড়েন। এতদিন তাদের মাথার উপর বিরাজমান ছাদটুকুও যেনো সরে গেলো। তাদেরকে ভিটেছাড়া করে সমাজের প্রভাবশালি লোকেরা। দুই সন্তান নিয়ে পথে পথে ঘোরেন তিনি। কিন্তু কেউ তাদের একটু আশ্রয় দেয় না। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে তাদের। এমন একটা সময় হয় যেনো পৃথিবীর সবাই ন্যায়ের পথ থেকে সরে গেছে। কোনো দয়াবান মানুষ পৃথিবীর বুকে নেই। এভাবে অতি কস্টে দিন কাটে তাদের। তেমনই এক দিন তারা পথে খাবার খুজছে। তখন ঈদ আনন্দের ধুম। ছেলে মেয়েরা বাবা-মায়ের হাত ধরে ঈদের কেনাকাটা করছে। সেদিকে তাকিয়ে রাকিব অঝোরে চোখের পানি ফেলছে। কিছুদিন আগেও তাদের এমন সোনালি দিন ছিলো। এমন ভাবতে ভাবতে সে পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখে সাথি তার ছোটো বোন দাড়িয়ে আছে কিন্তু মা! দেখল মা রাস্তায় পড়ে আছে। ওপারে ডাস্টবিন থেকে খাবার নিয়ে আসার সময় গাড়ি এসে তাকে মেরে দিয়েছে। রাকিব ও সাথি কাদতে লাগলো। কিন্তু ঈদের ভিড়ে তাদের কেউ গ্রাহ্য করলো না। একটা এ্যাম্বুলেন্স এসে তাদের মাকে মৃত ঘোষনা করে নিয়ে গেলো। তাদের দুজনকে যেতে দিলো না। রাকিব আর সাথি এ্যাম্বুলেন্সেরর চলে যাওয়া দেখল আর চোখের পানি ফেলল। কিন্তু রাকিব আর সাথির পথ চলা থেমে থাকলো না। রাকিব ছোটো বোনকে মানুষের মতো মানুষ করতে চাইলো যদিও সে নিজে আর লেখা পড়া করতে পারলো না। সে মানুষের বাড়ি কাজ করে, ইট ভাঙে, মাটি কাটে, দোকানপাটে কাজে সাহায্য করে, কাঠ মাথায় নিয়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় পাস করে। ওটুকু মানুষ আর কত পারবে? একদিন রাকিব কাজ করে ক্লান্ত হয়ে তার কুড়ে ঘরে এসে একটু ঘুমাবার চেস্টা করছে। এমন সময় তার বোন এসে ললিপপ খেতে চাইলো। বারবার বিরক্ত করায় সাথিকে খুব বকলো এবং দুই একটা মার ও দিলো। সাথি কাদতে কাদতে চলে যেতে লাগলো আর বলতে লাগলো," ভাইয়া আর কখনো তোমার কাছে কিছু চাইবো না, ভাইয়া আর কখনো তোমার কাছে কিছু চাইবো না "রাকিব তখন ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে উঠে সাথিকে খুজে পায় না। তবুও কাজের জন্য বের হয়। কাজ থেকে ফেরার পথে ওর সাথির কথা মনে পড়ে। ও সাথির জন্য ললিপপ কেনে। বাড়িতে গিয়ে দেখে সেখানে কিছু মানুষ জড়ো হয়ে আছে। রাকিব ভিড় ঠেলে ভেতরে গিয়ে যা দেখে তাতে ওর সারা শরীর পাথর হয়ে যায়। দেখে সাথি মাটিতে পড়ে আছে। কথা বোলছে না। আর ওর কাছে ললিপপও চাইছে না। সাথি পাড়ি জমিয়েছে অন্য এক জগতে। রাকিবের কানে বাজছে "ভাইয়া আর কোনো দিনও কিছু চাইবো না, ভাইয়া আর কোনো দিনও কিছু চাইবো না "
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now