বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
মিশন টাইগার গ্যাং ২
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শাহির খান (০ পয়েন্ট)
X
সকাল হল আজ গ্রামে দ্বিতীয় দিন । রাকিব আগেই চলে এসেছে কোন নতুন ক্লু পাওয়া গেল কিনা বা কিছু হয়েছে কিনা ? আজকে আরিফ দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছে । ও সবসময় ফেলুদাকে অনুসরণ করে । ফেলুদার মত ওর নীল ডায়রি আছে । অতে কি লিখেছে তাই দেখল । তাতে লেখা- মুখও চেনে চোখ চেনা কিন্তু ? রাতে হেঁটে কেন ? ও কেন ? এইসব লেখা দেখে অরা কিছুই বুঝল না । আরিফ কেবল বিছানা ছেড়ে উঠল । হাত মুখ ধুএ বেরিয়ে পড়ল । দুজনকে নিয়ে হাঁটতে থাকল । বলল মোল্লা পাড়া চল । দুজন মোল্লা পাড়া গেলাম সুনলাম হাশিম মোল্লা নেই । তারপর আমরা গেলাম তার সবজি বাগান সেখানে তিনি নেই । তারপর গেলাম তার ফসল খেতে ধান কাটা শেষ । ওই রাস্তা দিয়ে ৫ কিলো পরেই জঙ্গল শুরু । ফার্স্টে জঙ্গল শুরু তারপরে ঘন । বুজলাম কিছু একটা সমস্যা । হাসিম মোল্লা লোকটা গেল কোথায় ? উনার পরিবার সারা গ্রাম খুজেছে কিন্তু তার দেখা মেলেনি । রাকিব বলল , আমাদের কি আর যাওয়া ঠিক ? আমি বললাম , আর একটু সামনে চল তার পর গ্রামের লোক নিয়ে আসব । আড়াই কিলো হাঁটার পর আর হাঁটতে সাহশ হচ্ছিল না । ফিরব ফিরব ভাব ।এমন সময় মৌমাছির মতো কেমন একটা আওয়াজ কানে এল । একটু পর বুঝলাম , সেতা আর কিছুই নয় রনি ভাইয়ের সাউন্ড । ফিরে দেখি ও কাপছে । ও পড়ে যাচ্ছিল আমি আর রাকিব গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ধরলাম আর যা দেখলাম আমার রক্ত জল হয়ে গেল । আমার শরীর ক্রমে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে আর গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেছে । রাকিবের কি অবস্থা তার দিকে আমার খেয়াল নেই । রনি ভাইয়ের পায়ের সাথে লাগান এক জনের পা ।ঘাসের মধ্যে থেকে জুত দেখা যাচ্ছে । ঘাশ সরাতেই আমরা সবাই থ । রনি ভাই টা দেখে অজ্ঞান অবস্থা থেকে সজ্ঞান হয়ে গেছে । আমি হা । আমরা এটা ভাবতেই পারিনি । সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত । লোকটা আর কেউ না হাশিম মোল্লা ! আমরা রনি ভাইকে অনেকটা কোলে পিথে নিয়ে গেলাম । রাকিবেওর মাথা ঘুরছে । আমার মাথা কাজ করছে না । বাড়ি এসে সবাইকে ঘটনাটা বলতে , সবাই ছুটে হাশিম মোল্লার লাশের কাছে চলে গেল । হাসান আঙ্কেল পুলিশ কে ফোন করল । পুলিশ ক্রাইম সিনে গেল । তার পর রাত্রে আমি আর রনি ভাই সম্পূর্ণ বিশ্রামে । রাকিব ওর বাড়ি । ওর নাকি প্রচণ্ড জ্বর হয়েছে । রাতে আব্বু কে আরিফ জিজ্ঞেস করল আব্বু , মার্ডার কি দিয়ে হয়েছে । আব্বু বলল কিছু না । আমি বললাম কিছু না বলে লাভ নেই আব্বু বল প্লিজ । ফিরে ইন্সট্রুমেনট । লং রেঞ্জ রাইফেল । আগে থেকেই নজরদারি ছিল । তারপর সুজগ বুঝে....কথাটা শেষ হয়ার আগেই আজম আঙ্কেল ধরমর করে ঘরে এসে পড়ল । খুব হাঁপাচ্ছে মনে হচ্ছে দৌড়ে এসেছে । এসেই যা বলল আমার দুই কান বিশ্বাস করতে পারল না আর আমার মাথার মধ্যে সব যেন উলতে পালতে গেল । তিনি বললেন , হাসানও খুন ...... । আব্বু সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে চলে গেল । আমি আস্তেই আমাকে বাধা দিল । দরজা আতকিএ চলে গেল । আমি আর রনি ভাই অনে জোরাজুরি করে দরজা খুলে লুকিএ লুকিয়ে গুপ্তচরের মতো গেলাম । গ্রামের লোকের দৌড়ানও দেখে আমরা পিছন পিছন গিয়ে পউছালাম ক্রাইম স্পটে । দেখলাম হাসান আঙ্কেল মৃত । তার পিছন থেকে কেউ ছুরি ধুকিএ কাপুরুষের মতো হত্তা করেছে । কিন্তু তার লাশ পাওয়া গিএছে একটা সম্পূর্ণ অজানা জায়গাতে । একটা ছোট্ট ঘর বাঁশ আর গোলপাতার । এই জায়গাতে হাসান আঙ্কেল কি করতে এসেছিল ? প্রশ্ন অনেক কিন্তু উত্তর ভাবার মতো সময় এখন নেই । আরিফ বলল তারাতাড়ই একটা গোল বৈঠক ডাকবে । তাতে শুধু থাকবে আরিফ , রনি ভাই আর রাকিব । রাকিবের প্রচণ্ড জ্বর । তাই ওরা তার মামার বাসায় যাওয়াই স্থির করল । ওরা রাকিবের বাড়ির দিক রওনা হল । তখন রাত ৯ টা । আব্বুর বাসায় ফিরতে নিশ্চয় দেরি হবে । রাকিবের মামার বাড়ি পাকা এক তালা দালান । হাক ডাক দিতেই একটা শান্দা মার্কা লোক বাইরে এল । বুঝলাম ইনি রাকিবের মামা । আমরা রাকিবের সাথে দেখা করতে চাই শুনে আমাদের রাকিবের ঘরের দিকে নিয়ে গেলেন । রাকিবের মামার হাইট প্রায় ছ ফুট । বেস শক্তিশালী মানুষ । মুখে হালকা হালকা দাঁড়ি । সারা গায়ে কাটা ছেঁড়ার দাগ । রাকিবের ঘরে আমাদের পৌঁছে দিয়েই উনি চলে গেলেন । রাকিব বিছানাতে কম্বল গায়ে দিয়ে শোয়া । আমরা ঢুকতেই ও উঠে বসলো । আমরা গোল বৈঠক এর জন্য এসেছি শুনে ও বেশ উত্তেজিত হয়ে গেল । আরিফ বলল , হাসান আঙ্কেল এর খুনের ব্যাপার টা জানিস ? ও যেন আকাশ থেকে পড়ল । হাসান আঙ্কেল ও ! হুম তোকে বোধ হয় কেউ জানায়নি । কিন্তু এটা যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা নয় এ অনেক বেশি জটিল । তমাদের কি মনে হয় হাশিম মোল্লা আর হাসান আঙ্কেল এর খুন হওয়া স্বাভাবিক ? তাতো নয় । রনি ভাই যেন দর্শক । আচ্ছা এখন আমি যা বলব টা মন দিয়ে শোন । আমরা চোরাবালিতে আটকে গেছি । যত বের হবার চেষ্টা করব ততই ফেঁসে যাব । তাই আমাদের বের হওয়ার চেষ্টা না করে এর সমাধান করতে হবে । রনি ভাই ওপাশ দিয়ে আস্তে আস্তে বলছে , মিশন ইম্পসিবেল । আমি বললাম , না মিশন টাইগার গ্যাং । শোন এখন আমরা কিছুই করতে পারব না । এদের খুনের পেছনে যে টাইগার গ্যাং এর হাত আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই । আমরা কিছু করতে পারব না আর পুলিশ কে টাইগার গ্যাং সম্বন্ধে বলতে পারব না । আমাদের অন্য রাস্তা নিতে হবে । আমরা পুলিশকে বলব যে এতে হয়ত ডাকাতদের হাত থাকতে পারে ।এদের আস্তানা জঙ্গল এর খুব গভীরে । তাই একবার সার্চ করতে বলব । যদি অদের আস্তানা ধরা যায় । ভাল । কিন্তু যদি না যায় ? তাহলে প্ল্যান বি । আচ্ছা তুই খুনের কিছু ধরতে পেরেছিস ? এখনো না কাল আমার সাথেমল্লা পাড়া আর হাসান আঙ্কেল এর বাড়ি যাবি । ওখানে গিয়ে জিজ্ঞাসার কাজ সেরে আস্তে হবে । তাহলে যদি কিছু বঝা যায় । আর শোন তোমরা সবাই সাবধান থাকবা । টাইগার গ্যাং এর লোক ডেঞ্জারাস যেকোনো সময় অ্যাটাক আসতে পারে । আচ্ছা আমাদের বাড়ি যাবার সময় হয়ে গেছে । আসি । সাবধান থাকিস । ৫ আরিফরা রাতে বাড়ি এসে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ল ভোর করে উঠতে হবে আর আব্বু সন্দেহ করবে না । কিন্তু ঘুম সহজে আসল না । তবু এক সময় ঘুমায়ে গেল । সকালে উঠল ভোর ৬ টায় । রনি ভাই তৈরি । আমিও তাড়াতাড়ি উঠে হাত মুখ ধুয়ে তৈরি হয়ে নিলাম । বাইরে এসে দেখলাম রাকিব অপেক্ষা করছে । ওর জ্বর খানিকটা কমেছে । তবুও সতর্কতার জন্য জোড়া সোয়েটার গায়ে দিয়েছে । ভোর বেলা ঠাণ্ডাও বেশি আর কুয়াশাতে কিছু দেখা যাচ্ছে না । তাও গ্রামের লোক সকাল করে অথে । ওরা ফার্স্টে মোল্লা পাড়া যাওয়া ঠিক করল । মোল্লা পাড়াতে হাশিম মোল্লার বাড়িতে কান্নাকাটির রোল পড়ে গেছে । আমাদের দেখে সবাই একটু কান্না থামাল । তাদের সান্ত্বনা দেবার পর হাশিম মোল্লা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম । আচ্ছা , হাশিম মোল্লার পূর্বে কারো সাথে শত্রুতা ছিল কি ? জিজ্ঞেস করল আরিফ । তার মা বললেন , না । ছেলে আমার বড্ড ভাল ছিল । আচ্ছা এই কয়েকদিন ধরে কি তার আচরণে কোন পরিবর্তন লক্ষ করেছেন বা টেনশনে ছিলেন ? আমরা কেন এসব জিজ্ঞেস করছি দেখে হতবম্ভ হলেও বললেন , কই না তো ছেলে আমার বড্ড সুখি ছিল এই কয়েকদিন । কয়েক দিন আগেই নতুন জমি কিনসে । খুব খুশি ছিল আমার বাজান । মোল্লা পাড়া থেকে তথ্য সংগ্রহের পর আমরা রওনা হলাম হাসান আঙ্কেল এর বাড়ির দিকে । হাসান আঙ্কেল এর বাড়িতেও একি অবস্থা । পুলিশ দুজনের লাশি পোস্ট মারটমের জন্য নিয়ে গেছে । হাসান আঙ্কেল কোন টেনশনে ছিলেন কিনা জিজ্ঞেস করাতে বললেন হাসাআন আঙ্কেল অনেক টেনশনে ছিলেন কয়েকদিন আর আরথিক সমস্যায় ভুগছিলেন । তারপর ওরা বাসাতে এল । চা নাস্তা করল একসাথে । আব্বু রাকিবকে অসুধ দিয়েছে । রাকিব জিজ্ঞেওশ করল , কিছু বুঝলি ? এখনো না । রনি ভাই বলল , জিলিপির প্যাচ মশাই এত সহজ নয় । তারপর আমাদের থানাতে নিয়ে যাওয়া হল । বয়ান দিতে । তারপর সবার বয়ান আর জেরা শেষে পুলিশ কে বলল রনি ভাই , আঙ্কেল আমার মনে হয় অদের দুজনকে খুন করেছে ডাকাত । এরকম রাইফেল আর তরবারি টাইপের ছরা কাদের থাকবে বলুন ? আপ্নারা জঙ্গলে এক বার সার্চ করুন । পুলিশ বললেন আমরাও তাই ভাবছিলাম । ওরা বড্ড বাড় বেড়েছে ভাবছি আজ বিকেলে একবার সার্চ দিব তার পর আমরা চলে আসলাম ওখান থেকে । আমরা ভাত খেলাম হোটেলে । ত্রাপর আর বিশেশ কিছু হইনি । আজ আর কবুতর ওড়াউড়ি করছে না । সন্ধার সময় পুলিশ আমাদের বাসায় আসল ওড়া বলল জঙ্গলের অনেক গভির পর্যন্ত যাবার পর ওড়া কিছুই খুজে পাইনি । আরিফের ভুরু কুঁচকে গেল ।সে একবার রাকিবের সাথে দেখা করতে গেল । এবার মিটিং । সে বলল কিছুই পাওয়া জাইনি । রাকিব বলল , কিন্তু কেন ? এমন তো হবার কোথা নয় । আচ্ছা তুই প্ল্যান বি বল। প্ল্যান বি বলতে কিছু নেই । আমি তোদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলাম । কারণ আমার বিশ্বাস ছিল ওড়া ধরা পরবে । কি এবার কি হবে? কিছু না । কিন্তু এবার আমাদের অতিরিক্ত সাবধান হতে হবে । ওড়া আমাদের ছাড়বে না । আমার মনে হচ্ছে কিছু একটা অঘটন ঘটবে । আমরা আসি । তাই বলে উঠে গেল দু জন । বাড়ি জেতে প্রায় ১৫ মিনিট লাগবে । যেতে যেতে রনি ভাই আবার মুত্রপাত ঘটাতে চলে গেল । আমি দাঁড়িয়ে আছি । এমন সময় ধারাম । আমার মাথায় প্রচণ্ড একটা আঘাত লাগলো । আমি মাতিতে লুটিয়ে পড়লাম । আমার আর কিছু মনে নেই । মনে হচ্ছে আমি জ্ঞান ফিরে পেয়েছি । মাথা প্রচণ্ড বাথা । মাথা তুলতে পারছি না ।'' ডিটেকটিভ মশাই'' বলে এক গুরুগম্ভির আওয়াজ আমার কানে এল । মনে হল গলার আওয়াজতা কোথাও সুনেছি । চোখ খুলে দেখি সব ঝাপসা । আমার হাত পা দড়ি দিয়ে বাধা । মুখও বাধা । দেখতে পাচ্ছি । সামনে একটা লোক চেয়ারে বসে আছে । মুখ দেখতে পারছি না । জগাই বলে চেঁচিয়ে উঠল লক্তি । একটা দানবের মতো লোক এসে আমার মুখ খুলে দিল । একে চেন ? এ হল জগাই । তোমাকে হাসানের মতই ছরা দিয়ে মারতে চেয়ে ছিল । আমি ওকে থামালাম । ওই হাসানকে মেরেছে । আমি ওকে থামিএ মাথায় এই ডাণ্ডা দিয়ে আঘাত করলাম । আমার মাথায় কাজ করছে না । কিছুক্ষন পর আমি বুঝলাম আমি জঙ্গলে আর এরা নিশ্চয়ই টাইগার গ্যাং এর লোক । এত বুদ্ধিমান কিশোর কে হত্যা করা যায় ? বিশ বছর ধরে আমরা এ কাজ করছি ? আর একটা ১৩ বছরের ছেলে আমাদের গ্যাং ধরে ফেলল ! মুখটা স্পষ্ট হতেই আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল । তাই বলি গলা চেনে লাগছে কেন । এ যে রাকিবের মামা ! তাই বলি উনার গায়ে এত কাটা ছেঁড়ার দাগ কেন । আমি তখন মাথা ঠাণ্ডা করে বললাম ,থাঙ্কস টু উ । তোমাদের আস্তানা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না । তোমার দৌলতে তাও জানা হয়ে গেল । হা হা হা করে ভিলেন টাইপের হাসি দিল লোকটা । তুমি মনে করেছ তোমাদের আমি ছেড়ে দেব । কথাটা যেন তীরের মতো গিয়ে বাঁধে আরিফের কানে । তোমাদের মানে ? মহেশ বল্টু আবার চেঁচিয়ে উঠল লোকটি । এবার দুই জন শক্তিশালী লোক টেনে ধরে নিয়ে আসল রনি ভাইকে । এক ঢিলে দুই পাখি , বুঝলে খোকা ? রাকিব কই ? চেঁচিয়ে বন কাঁপিয়ে দিল আরিফ । আমার আদরের ভাগ্নে কে আমি জানাতে চাই না যে ওর মামা এরকম করতে পারে । ওকে সহি সালামত ঘরে বন্দি করে রেখে এসেছি । আরিফের মুখে একটা হাসির রেখা দেখা দিল । ও বলল ,তোমার আদরের ভাগ্নে একাই তোমাদের ধরাশায়ী করতে পারে । রাকিবের মামার চোখে যেন আগুন জ্বলে উঠল । ৭ রাকিবের ঘুম ভাঙল কেবল । ওর মাথাটা অসাড় হয়ে আছে । ও ঘরে থেকে বেরতে গিয়ে দেখে ও ঘরে বন্দি । ও তখন ভাবেন আরিফদের কিছু হইনি তো । সে তখন দেখে দরজা ভাঙার মতো কিছু নেই । তখন ও দরজা ধাক্কাতে শুরু করে । আধা ঘণ্টা ধাক্কানোর পর দরজা ভাঙে । ও বেরিয়ে প্রথমে দৌড়ে চলে যায় আরিফদের বাড়ি । আরিফ নেই শুনে ওর মাথায় যেন বাজ পড়ল । ও ইন্সপেক্টরকে ফোন করল । তাড়াতাড়ি আসতে বলল । পুলিশ আসার পর ও বলল আমি জানি ২৪ ঘন্তার আগে মিসিং কমপ্লেন লেখান যায় না । তবু ঘটনাটা সিরিয়াস সবাইকে সবকিছু খুলে বলার পর সবাই থ । এর মধ্যে এত কিছু হয়ে গেছে শুনে সবাই থ । তার পর ইন্সপেক্তর বলল ,আমাদের এখনি জঙ্গলে রওনা দিতে হবে । সবাই গারিতে চেপে বসলো । রাকিবের কথা শুনে জগাই ঠাস করে জরদার থাপ্পড় মারল আরিফের গালে । আরিফের গালে তিন আঙ্গুলের ছাপ পড়ে গেছে । তোমার জন্য পুলিশ জঙ্গলে রেদ দিয়েছে । তাইত বলি আপনারা ধরা খেলেন না কেন ? আপনি সেদিন রাতে আমাদের আর রাকিবের কথা বাত্রা শুনে ফেলেন আর পড়ে জঙ্গলে গিয়ে আস্তানা তুলে জঙ্গলের আরও গভীরে চলে যান । তাই নয় কি ? প্রশ্নটা রাকিবের মামাকে থ করে দিল । ব্রিলিয়ান্ট বলে চেঁচিয়ে উঠল লোকটা । তোমার মগজ দেখি ১৬ আনা সোনা ! আমি বললাম , আপনি সাবধান । সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা থাপ্পড় এসে পড়ল গালে । রাকিব আর পুলিশ জঙ্গলের সামনে চলে এসেছে । এবার ওরা হাঁটা শুরু করল । জঙ্গল ধিরে ধিরে গভির হচ্ছে । তারপরে ওরা একটা ছোট্ট জলাশয় পার করল ওরা । আজ পূর্ণিমা । চাঁদের হাসি বাধ ভেঙেছে । কিন্তু ওদিক কারো খেয়াল নেই । রাত প্রায় এগারতা । ওরা তিনটা টর্চ নিয়ে এগচ্ছে । এখন প্রায় রাত ১১ টা । চারিদিকে অন্ধকার । গাছ বারছে বলে চাঁদের আলো কমে যাচ্ছে । চারিদিকে শেয়াল ডাকছে বেশ ভয় ক৯রছে রাকিবের । এমন সময় রাকিবের কানে সসসসসসস...... সব্দ এল । চোখ সরেতেই দেক্তে পেল গাছ থেকে নেমে আসা একটা বিষধর সাপ ওর দিকে এগচ্ছে । পেছনে সবাই স্থির । ও পাথরের মতো স্থির । সাপটা ওর ঘার হতে পা দিয়ে নেমে আস্তে করে চলে গেল । জোর বাঁচা বাঁচল রাকিব । স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল রাকিব । এরকম অনেক বিপদের সম্মখিন হতে হবে বললেন ইন্সপেক্টর নাসির আহমেদ। তারপর হাঁটতে হাঁটতে হটাত নজরে পড়ল জঙ্গলে দূরে কোথায় আলো জ্বলছে । সবাই তাড়াতাড়ি এগিএ গেল সেই দিকে । ১ ঘণ্টা হাঁটার পর জঙ্গলের বেশ গভীরে ওরা । আরিফ আবার অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল আবার জ্ঞান ফিরে পেল । চোখ খুলে রাকিবের মামার দিকে তাকিয়ে বলল , তোমরা কি চাও ? আমাদের চোরা চালান এর বাবসা ভাল ভাবে চালাতে চাই । এই দেখ । আমাদের পুরো গ্যাং এখানে । এই ৮ জন তোমাদের দেশের রত্ন কে কাত করে ফেলে । এখন তোমার আমাদের দরকার নেই । বেশিক্ষণ রাখলে আমারি সমস্যা । বাই বাই বলে পিস্তল উঁচু করেছে এমন সময় থাস করে একটা কান ফাতান সব্দের সাথে সাথে লোকটার হাতের পিস্তল পড়ে গেল তার হাতে গুলি লেগেছে । রাকিব জগাই নামে লোকটার উপর ঝাপিএ পড়ল আর পুলিশের পুরো দল টাইগার গ্যাং কে ঘিরে ফেলেছে । ইন্সপেক্টর নাসির রাকিবের মামা কে জিজ্ঞেস করে তুই হাসান আর হাশিম মল্লাকে মেরেছিস কেন ? ততক্ষনে আমাদের হাত আর পায়ের বাধন খুলে গেছে । লোকটা বলে ''ওই সইতান টা আমাকে ধোঁকা দিয়েছে '' আমি তখন বললাম না । সব ভুল আমি বলছি , সব বলছি প্রথম থেকে। রাকিব মনে আছে ওই অদ্ভুদ লোকটার কথা ? সাদা দাঁড়ি আলা ? হ্যাঁ । উনি কিন্তু হাসান আঙ্কেল । কি ! সবার চোখ কপালে উঠে যায় । হ্যাঁ । হাসান আঙ্কেল টাইগার গ্যাং এর লোক । আরিফ যেন একের পর এক বমশেল ছেড়ে যাচ্ছে । তারপর আমি ভাবি কি ব্যাপার । আসলে তিনি ম্যাসেজ পাঠাতেন বাঘ মারার খদ্দের থাকলে । কিন্তু তখন ভাব্লাম পায়ে হেঁটে কেন ? মনে আছে তিনি কবুতর পুষতেন আর একটা কবুতরের ডানায় আঘাত পেয়েছিল ? হয়ত সেইটাই ছিল তার ম্যাসেজ পাঠানোর কবুতর । সে আঘাত প্রাপ্ত বলে সে সেদিন হেঁটে গিয়েছিল । আর হেঁয়ালিটা ছিল অতিরিক্ত সাবধানতা । এবার খুনের ব্যাপারে আসি । তার খুনের আগে হাশিম মোল্লা কে '' ও '' বলে সম্বোধিত করাতে আমি ভাব্লাম তার প্রতি হয়ত হাসান আঙ্কেলের কোন ক্ষোভ আছে । তার পর মোল্লা পাড়া থেকে জানা গেল হাশিম মোল্লা নতুন জমি কিনেছে । একটা সাধারণ কৃষকের কাছে এত তাকা হটাত কথা থেকে আসল ? রাকিব থ আর রনি ভাই হতভম্ব । আর হাসান আঙ্কেল এর হটাত আরথিক সমস্যা । এ দুটোর মধ্যে কি একটা সংযোগ আছে মনে হচ্ছে কিন্তু আমি তখন বুঝিনি । পরে বুঝি ব্যাপার টা কালোডাকের । ব্ল্যাকমেইল ! রাকিবের মাথা খুলে গেল । আসলে হাসিম মোল্লা হাসান আঙ্কেল কে ব্ল্যাক মেইল করছিল । হাসান আঙ্কেল আর পারছিল না । তাই সে এক অদ্ভুদ উপায় বের করল । সে সাদা দাঁড়ি লাগিএ হাশিম মোল্লা সেজে টাইগার গ্যাং কে ব্ল্যাক মেইল করতে লাগলো । হাসান আঙ্কেল চেয়েছিল টাইগার গ্যাং হাশিম মোল্লা কে মেরে ফেলুক । তাতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে । তার প্ল্যান সাকসেসফুল হল । হাশিম মোল্লা মারা গেল । কিন্তু তার একটা ভুল হয়ে যায় যা আমার চখেও পড়ে আবার রাকিবের মামার চোখেও পড়ে । তার হাতের আংটি । হাশিম মোল্লা মার যাবার পর তার হাতের আংটি ছিল না । কিন্তু সেই আংটি তাই রাকিবের মামা হাসান আঙ্কেল এর হাতে দেখতে পাক্য । সে মনে করে যে ও হাশিম মোল্লা সেজে ব্ল্যাক মেইল করে তাকা কামানোর চেষ্টা করছিল । কিন্তু আসলে তাআ নয় । কিন্তু রাকিবের মামা ভুল বুঝে তাকেও মেরে ফেলে । আমার প্রথম সন্দেহ হয় সেদিনই যেদিন তাকে দেখতে পেয়েছি । তরা হয়ত খেয়াল করিশ্নি কিন্তু হাসান আঙ্কেল কে অবিকল হাশিম মোল্লার মতো সেজেছিল । তখন আমার খটকা লাগে । এত গুলো কথা বলার পর আরিফ থাম্ল । আরিফ পরিষ্কার করে বুঝানর পরেও যেন রাকিবের কাছে ঘোলাটে আর রনি ভাই কিছুই বুঝিনি । এর পর অদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় । রাকিবের মামার নাম এখনো জানে না আরিফ । খবরের কাগজে পড়ে লোকটার নাম জব্বার । কলেজে অনুষ্ঠান শেষ । সবাই আরিফ আর রাকিবের খুব প্রশংসা করছে । রাককিব আরিফদের সাথেই যাবে । গাড়িতে যেতে যেতে রনি ভাই বলল , তোমাকে আজ এই উপাধিতে ভুশিত করলাম '' এ বি সি ডি '' আমি বললাম ওই টা তো ফেলুদার । রনি ভাই বলল , আজ্ঞে ওই টা না , আমি বলতে চাচ্ছিলাম এ বি সি ডি মানে '' আমাদিস বেস্ট ক্রাইম ডিটেক্টর ''
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now