বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
মিশন টাইগার গ্যাং ১
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শাহির খান (০ পয়েন্ট)
X
মিশন টাইগার গ্যাং ১
খুলনার কয়রার আমাদি ইউনিয়নের জাইগীর মহল গ্রাম । আরিফ দের গ্রাম । তার দাদার এখানে বেশ নাম ডাক । এখান কার চেয়ার ম্যান ছিলেন এক সময় আহসান উদ্দিন আহমেদ । তার বাবার নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি । খান সাহেব কোমর উদ্দিন আহমেদ কলেজ । পাইকগাছা ছাড়া এখানকার এক মাত্র কলেজ বলে বেশ নাম ডাক । আরিফ আগেও এসেছে দুবার তার গ্রামের বাড়ি । এবার পরীক্ষার পর জানুয়ারী মাসে এসেছে । শীতের সময় । এসে উঠেছে তার গ্রামের ভিটে বাড়িতে । খুলনা হতে ৩ ঘণ্টা জার্নির পর গাড়ি প্রথমে গেল কলেজে । তার সাথে এসেছে তার আব্বু , তাদের বাড়ির কেয়ার টেকার আজম আঙ্কেল , তার ছেলে রনি ভাই ও তার মেয়ে রিনা । সাথে আমাদের বাড়ির কাজের বুয়া আসমা আপার মেয়ে আঁখি । কলেজে থাকার পর ওখান থেকে ভাত খাওয়ার পর আরিফ বসে কিছুক্ষন ফেলুদা পড়ল । তার পর রনি ভায়ার সাথে কলেজের ভিতর ঘুরে বেড়াল । বেশি বড় জায়গা না । কলেজ ৩ একর জমির উপর একটা ছোটো পুকুর আর কলেজের অই পাসে বয়ে গেছে ছোটো খাল । কলজের পিছনে ধানের খেত ধান কাটা শেষ । দাদার পর আব্বু কলেজের সভাপতি । আমরা আসছি দ্বিতল ভবনের উদ্ভদনের উদ্দেশে । এম পি সাহেব নতুন ভবন উদ্ভদন করবেন । আমি ভাত খাওয়ার পর রনি ভাইয়ের সাথে বাইরে ঘুরলাম । পিছনে চারটে সুন্দর কুকুরের বাচ্চা দেখলাম । শুনলাম কেউ ছেরে দিএ গেছে মা নেই । হয়ত বেশি দিন বাঁচবে না । আমরা খালের পাশে বরই গাছ থেকে টক বরই খেলাম । আজম আঙ্কেল বলল , আমরা বাড়ি যাব বিকেলে । তার পর বাড়ি যাবার আগে আজম আঙ্কেল এর বাড়ি গেলাম । ছোট মাটির বাড়ি । তার বাপ-মা থাকেন এখানে । দাদু এখানে টমেটো গাছ পুতেছে । সেখান থেকে কলেজ হেঁটে গেলাম । দেড় কিলো পথ । সেখান থেকে গাড়ি করে লাগেজ সহিত বাড়ি রওনা হলাম । রিনা আজম আঙ্কেল এর বাড়ি থেকে গেল । আমাদের বাড়ি পৌঁছে গেলাম । সামনে সেই সেই বাড়িতে থাকে হুজুরের ছেলে আর অন্য কতগুলো ছেলে ব্যাডমিন্টন খেলছে । তাই গাড়ি সাইড করে রাখতে হল । বাড়িতে আগেও এসেছি কিন্তু অনেক আগে । এখন দেখে বুঝলাম বারির বয়শ প্রায় একশ বছর । খান সাহেবের তৈরি বাড়ি । আমরা উঠলাম দোতালায় । নীচতলায় হুজুরেরা । বাড়িতে ওঠার জন্য ছোট্ট সিঁড়ি ঘর । সেখান থেকে সটান উপরে চলে গেলাম । উঠে দুই দিকে দুই দরজা একটাতে আমরা ঢুকলাম । দেয়ালে ড্যাম ধরে গেছে ।সামনেই বড় সেগুন কাঠের তৈরি খাট , তার পাসে একতা ছোট টেবিল । ঘরে ওপাশে একটা বড় খাট । তার পাশে পুরনো আমলের নকশা করা আলমারি । ঘরের এক কোণে একতা ছোট টেবিল আর খাতের উলটো দিকে টেবিলসহ সোফা সেট । আর পাশের বাড়ির হাসান আঙ্কেল ঘর দেখিএ দিলেন । পাশের ঘরে কি জিজ্ঞেস করাতে বললেন , ভিতরে কিচ্ছু নেই ফাঁকা । সত্যি ভেতরে কিচ্ছু নেই একটা ভাঙা টেবিল আর কিছু চেয়ার । আমাদের ঘরে দুই খাটের মাঝখানে একটা দেরাজ আর তার মদ্ধে এক পাশে বাথরুম আর এক পাশে একটা বড় বাঙ্ক আর দুইটা জিনিশ পত্র রাখার আলমারি । জামা কাপড় ছেড়ে আমরা বাইরে বেরিয়ে পড়লাম । আমি আর রনি ভাই । গাড় অন্ধকারে প্রথমে টর্চ পেতে একটু দ্বিধা হয়েছিল , কিন্তু পরে হাসান আঙ্কেল এর দৌলতে টর্চ এর বাবস্থা হয়ে গেল । টর্চ পাবার কিছুক্ষন পর রনি ভাই বলল , এক্সকিউজ মি আরিফ আমি একটু মুত্রপাত ঘটায় আসি । রনি ভাইয়ের মুত্রপাতের চক্করে একটা ছোট্ট ঘটনার সুত্রপাত হয়ে গেল । আমি রনি ভাইকে ফেলে একটু সামনে গিয়েছিলাম হটাত একটা অদ্ভুদ লোক এর সাথে আমার ধাক্কা লাগলো । গায়ে শাল জড়ানো , শাল দিয়ে মুখটাও ঢাকা ।হাতে হ্যারিকেন । আমার সাথে ধাক্কা খাওয়াতে তার হাতের একটা কাগজ পরে গেল । কিন্তু তাকে ডাক দেওয়াতে কথা না শুনে আর দ্রুত হেঁটে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল । আমি তার হাত থেকে পরে যাওয়া কাগজ তুলে দেখলাম তাতে লেখা ''আফ্রিকার দ্বিতীয় রাজাকে মারো '' আমি বুঝলাম এই চিঠি অন্য কারো জন্য ছিল । কিন্তু আমার সাথে ধাক্কা খেয়ে চিঠি পড়ার জন্য বোধহয় তার কার্জ সিদ্ধি হল না । কিন্তু আফ্রিকার দ্বিতীয় রাজাকে মারো মানে কি হতে পারে ? রনি ভাই শুনেই বেশ ভয় পেয়ে গিয়ে বলল ,এত খুন খারাপির বিষয় ! পুলিশ কে খবর দেওয়া উচিত । আমি তাকে আশ্বস্ত করলাম আফ্রিকার দ্বিতীয় রাজা বলতে মানুষ বুঝায় তাতো মনে হয় না । রনি ভাই এর মধ্যেই দয়া-দুরুদ পড়া শুরু হয়ে গেছে । পর দিন আমার ক্লাসের এক ক্লস ফ্রেন্ডের সাথে দেখা হল । তার মামা বাড়ি এসেছে । তাকে ঘটনা বলার পর ভুরু কুঁচকে গেল । সেও ফেলুদা ভক্ত । তার নাম রাকিব । রাকিব বলল , তোকে মারতে বলেনি তো ? আমি বললাম কোন বুদ্ধিমান লোক হয়ত কোন ১৩ বছরের শহুরে ছেলে দিয়ে খুন করাতে চাইবে না । কিন্তু এমন হেঁয়ালি কোন সাধারণ লোকের পক্ষে বঝা সম্ভব নয় । রনি ভাই বলল ,তোমাকে দিয়ে খুন করায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা নয়ত ? তুমি কি ভুলে যাচ্ছ যে ১৩ বছরের একটা ছেলের পক্ষে সজ্ঞানে খুন করা অসম্ভব , জোর গলায় বলল রাকিব । এমনকি তুমিও পারবে না । আর যাতে কোন লাভ নেই তাকে খুন করতে যাবে কেন ? আমার এই দিকে তখন খেয়াল নেই । আমি তখন ভাবছি হেঁয়ালি টার কথা । তখন রাকিব জিজ্ঞেশ করল , তুই হেঁয়ালি টার কোন কিনারা করতে পেরেছিস ? আমি তখন বললাম , আমি যা ভাবছি তাই যদি হয় তাহলে বলতে হয় ঘোর গণ্ডগোল , আমাদের পিঠ পিছু যা চলছে তা সম্পর্কে আমাদের বিন্দু মাত্র জ্ঞান নেই । ২ আমার সাথে রাকিবের দেখা হয়েছিল ভোর সাড়ে ছটায় ।এখন আব্বুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর আব্বু ওকে আমাদের সাথে চা - নাস্তা করেই যেতে বলল । আমি রাকিব আর রনি ভাই এক টেবিলে জানালার পাশের টেবিলটাতে বসে চা খাচ্ছি । এমন সময় রাকিব জিজ্ঞেশ করল , হেঁয়ালি টার মানে কি ? মিস্টার ডিটেকটিভ ? আমি বললাম নিজের মাথা কাজে লাগালে বেশি ভাল হয় না রাকিব ? রনি ভাইকে জিজ্ঞেস করতে বলল , ও নাকি এরকম তুচ্ছ হেঁয়ালি ফেয়ালি নিয়ে মাথা ঘামায় না । ও আরও বড় সব রহস্য এর কিনারা করেছে । এখন এসব ফালতু জিনিস নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে গ্রামের পরিবেশ উপভোগ করছে । বাইরে খুব কুয়াশা কিছু দেখা যাচ্ছে না । কিন্তু হটাত একটা জিনিস ছখে পড়ল আরিফের । সে সটান সেই দিকেই তাকিয়ে আছে বলে রাকিবের দেখতে অসুবিধে হল না । সে তাকিয়ে আছে শাল জড়ানো সেই লোকটার দিকেই । সামনে ধানের খেত পেরিয়ে জঙ্গলের দিক যাচ্ছে । এবার টার মুখ স্পষ্ট দেখা গেল । রাকিব বলল তুই শিওর ? গায়ের শাল আর হাতের আংটি আর হাটার ভাব দেখে মনে হচ্ছে সেই ।আগে মুখ ঢাকা ছিল বলে লোকটার মুখের লম্বা সাদা দাঁড়ি দেখতে পারিনি । কেন জানি ওর কাছে লোকটাকে খুব চেনা - শুনা মনে হচ্ছে । রনি ভাই এ গ্রামের ছেলে । ও কে জিজ্ঞেস করলাম যে ও লোকটাকে চেনে কিনা । রনি ভাই বলল , এরকম কোন লোক কে ও চেনে না । রাকিব বলল , হয়ত নতুন এসেছে । আমি বললাম হতে ও পারে । রাকিব , হাসান আঙ্কেল এর কাছে পরে জিজ্ঞেস করব ভাবছি । উনি হয়ত চিনবেন । ঠিক বলেছিস । উনি গ্রামের সব লোককেই প্রায় চেনেন । রনি ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম ও বেশ শান্ত অনুভব করছে । কারণ কাল রাত্রে ও ওই লোকটাকে জিন ভুত ভেবে রাত্রে মোটে ঘুমাতেই পারেনি । এতো ক্ষণে আমাদের চা খাওয়া শেষ । আমরা তখন চেয়ারে বসে বাইরের দৃশ্য দেখছি । এমন সময় হাসান আঙ্কেল এল । চেহারাতে বেশ স্মার্টনেস আছে । চোখে মাইনাস পাওয়ারের রিমলেস চশমা । মুখে কোন দাঁড়ি নেই । বয়শ হলেও বয়শের ছাপটা ভাল ভাবে পড়িনি । গায়ে নীল রঙের উলের জ্যাকেট ।আর একটা খইরি রঙের প্যান্ট । এসেই সালাম দিয়ে বলল , এবার আপনারা আমদের বাসায় জেতে হবে । চেয়ারম্যান এর পোতা বলে এরা অনেক যত্ন আত্তি করেন । হাসান আঙ্কেল আমাদের বিশ্বস্ত লোক । প্রায় ২০ বছর ধরে আমাদের হয়ে কাজ করেন । তাদের বাড়ি আমদের বাড়ি হতে বেশি দূর না । ২ মিনিট এর পথ । বাড়িতে ধুকেই দেখতে পারলাম সামনে বড় উঠন দুই পাশে দুইটি কাছা-পাকা বাড়ি । একটাতে উনি থাকেন আর একটাতে উনার বড় ভাই ।উনি আবার কবুতর পোষেন । কবুতর দেখতে গিয়ে দেখলাম একটা কবুতরের ডানাতে একটু বেথা পেয়েছে । তার পর আমাদের ঘরের উঠনে বসতে দিলেন । সাথে রাকিব আসতে পারিনি । ওকে বাড়ি থেকে ডেকে পাঠিয়েছে । আমরা খাব কিনা জিজ্ঞেশ করাতে রনি ভাই বলে উঠল ''খেতে আপত্তি নেই আঙ্কেল আসক্তি আছে '' কথাটা শুনে আমি ফিক করে হেসে দিলাম । বেশ ভাল রসগোল্লা খাওয়ালেন হাসান আঙ্কেল । তার পর হাসান আঙ্কেল কে জিজ্ঞেশ করলাম ' এরকম কোন লোককে চেনেন ? কই না তো । নতুন কেউ কি গ্রামে এসেছে সদ্য ? যতটুক জানি , না । আর ভোর সাতটার সময় কেইবা জঙ্গলে যাবে ? আমাদের গ্রামে তো কোন মৌয়াল নেই , আর হাতে কোন কুঠারও দেখনি তোমরা ? আচ্ছা এসব কথা বাদ দাও । চল আমরা বাইরে থেকে ঘুরে আসি । যেন কথাটা এক রকম চেপে গেলেন । আমরা বাইরে বেরলাম পথে হাশিম মোল্লা নামে এক জন লোকের সাথে দেখা হয়ে গেল । তিনি তার বাড়ি এক বার যাবার জন্য বললেন , কিন্তু হাসান আঙ্কেল এর বাড়ি থেকে ভুরিভজ করার পর আর সম্ভব হইনি । পরে তাকে বলা হল যে তার বাড়ি কাল যাব । দুপুরে হাসান আঙ্কেল এর বাড়ি থেকেই খাবার আসল ।পেট পুঁজও ভাল হল । আমরা তাড়াতাড়ি ডান হাতের কাজ সেরে বেরিয়ে পড়লাম । আমরা বিলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম হটাত রাকিবের সাথে দেখা । এরকম কোন লোক যে নেই তা শুনে সে থতমত খেয়ে গেল । পরে বিকেলে আমরা ব্যাডমিন্টন খেললাম । সবাই মিলে খুব আনন্দ হল । আজ রাত্রেও আমরা বেরলাম । রাকিব আমাদের সাথে আসল । এবার আমরা তিন জন বেড়াতে বেড়িয়েছি । আগের কোন ঘটনাই আমদের মনে নেই । এবার আমরা পথ দিয়ে হাঁটছি । শেয়াল ডাকছে । পথে বনবিড়ালও থাকতে পারে । হাঁটতে হাঁটতে আবার একটা কাগজ দেখতে পেলাম । এবার তাতে লেখা '' নাক গোলানো ভাল নয় '' এটা যেন ঠিক তাকে উদ্দেশ্য করেই রাখা হয়েছে । এত হুমকি ! চেঁচিয়ে উঠল রনি ভাই । তাকে দেখে বেশ ভীত মনে হচ্ছে । রাকিব জিজ্ঞেস করল , একি হচ্ছে আমাদের সাথে ? আরিফ বলল , আমরা ক্রমেই যেন এই ফাঁদে জড়িয়ে যাচ্ছি । এরা খুব জাঁদরেল টাইপ এর লোক । এদের হাতে পরলে ঘোর অঘটন । কিন্তু যার সাথে পাল্লা নিচ্ছে সেও তো কম নয় ফেলু মিত্তিরের ভক্ত আমি । ৩ আচ্ছা আরিফ , তুমি নিজের পায়ে কুড়ুল মারতে যাচ্ছ কেন ? তোমাকে ওই লোকটা হুমকি দিল আর তুমি পিছপা হচ্ছনা ?তুমি তো জানো কেমন জাঁদরেল টাইপের লোক । নিজের জানের কোন পরয়া নেই তোমার ? ওই লোকটার পিছনে পড়ে থেকে তোমার লাভ কি ? বলল রনি ভাই । এতক্ষণ চুপচাপ রনি ভাইয়ের প্রশ্ন গুলো হজম করে যাচ্ছিল আরিফ । কিন্তু আর কতক্ষণ ? রাগে মাথা হেঁট করে সোজা রনি ভাইয়ের দিক তাকাল । রনি ভাইয়ের চেয়ে রাকিব ভয় পেয়ে গেল । তার চোখে যেন আগুন জ্বলছে । লাভ আছে । আমার লাভ আছে । সমাজের লাভ আছে । আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছে লোকটা । অনেকটা জোর গলাতে রাগের সাথে বলল আরিফ । এক অজানা আগন্তুক এর চ্যালেঞ্জ নিয়ে তোমার কি লাভ ? তোমরা বুঝছ না তাই এমন বলছ । বুঝলে এমন বলতে পারতে না । তোমরা ওই হেঁয়ালিটার কথা ভেবেছ ? ভাবনি । ফাউ ভেবে উড়িয়ে দিয়েছ । ভেবেছ ওই হেঁয়ালিটার ওই আজব কথা গুলর মানে কি ? ভেবেছ একটা লোক মাঝ রাত্রে কেন বেরিয়েছে ? যখন পুরো গ্রাম ঘুমন্ত ? কেন সে অত তাড়াহুড়া করে পথ চলছিল ? কেন আমার ডাকের উত্তর না দিয়ে পালিয়ে চলে গেল ? কেন ওই ছোট লেখাটা নিয়ে পড়ে থাকার জন্য পরের দিন হুমকি দিল ? ভেবেছ ? তাহলে বুঝেছ ওই কথার গুরুত্ব কতটা ? যার জন্য পরের দিন হুমকি আসে ? কিছুক্ষণের জন্য চারিদিকে পিনড্রপ সাইলেন্স হয়ে গেল । রাকিবের মাথা ঘুরছে আরিফের গলা ভাঙা ঝাড়ি আর এত গুলো প্রশ্নের মাঝখানে । রনি ভাই পুরো থ । যেন ভূত দেখল কেবল । আরিফ ভাবল সত্যিই তো । এগুল আগে তার মাথায় আসিনি । আগে এগুলো নিয়ে ভাবিনী কেন ? সব কটা প্রশ্ন যেমন জটিল তার উত্তরও তেমন জটিল । সত্যি আরিফের জবাব নেই । দিনে দিনে তার উন্নতি হচ্ছে । এর পর কথা না বাড়িয়ে আমরা হাঁটা শুরু করলাম । সকাল ৯ টা বেজে গেছে তবু রোদের কোন নাম নেই । জাইগীর মহলের কুয়াশা সুজ্জিমামা কে হার মানিয়ে দিয়েছে । আমি দেখলাম রনি ভাই টেনশনে । তাই তাকে পরিবেশ উপযুক্ত একটা গান গেয়ে মন হালকা করতে বললাম । তখন সঙ্গে সঙ্গে ও গান গাওয়া ধরল '' মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি আহা হা হা হা '' কুয়াশার সময় এই গান শুনে আরিফ রনি ভাইয়ের দিকে তাকাতে ও চুপসে গেল । তারপর আমরা আবার বাড়ি গেলাম । তখন আমরা তিন জন গেলাম আমাদের বাড়ির পুকুর পাড়ে । তিনজন বসে তখন গল্প করা শুরু করলাম । তখন আমার চোখ গেল পুকুর ঘাটের বসার জায়গাতে । তখন দেখলাম তাতে লেখা ১৩৩৫ বাংলা সন । মানে এ বাড়ি ১০০ বছর পুরানো নয় । এ বাড়ির বয়শ পঁচাশি বছর । তখন আরিফ বলল , আমার বয়স আন্দাজের ব্যাপার টা একটু ধাঁদিয়ে নিতে হবে । তখন রাকিব বলল , এই বলব বলব করছি তবু বলা হচ্ছেনা । আচ্ছা ওই হেয়ালিটার মানে কি রে ? তুই কতটুকু ধরেছিস ? আমার মনে হয় কোন জানোয়ার নিয়ে কথা বলছে । তাই নয় কি ? একজাকটলি , এটা যে সে জানোয়ার নয় রে বন্ধু । আচ্ছা বল আফ্রিকা বলতে প্রথমে কি মনে আসে ? রনি ভাই চেঁচিয়ে বলল , কালো লোক ! আমি বললাম , না । অ্যামাজন ! বলল রাকিব । আর অ্যামাজন বলতে প্রথমে কি বুঝায় ? জঙ্গল বা বন । হ্যাঁ । অ্যামাজনের রাজা ? সিংহ । রনি ভাই পাশ থেকে আস্তে আস্তে বলছে , লায়ন লায়ন আমদের খাএওন । আর দ্বিতীয় রাজা ? রাকিবের মাথা যেন ২০০ ওয়াটের বাল্বের মত জ্বলে উঠল , বলল বাঘ ! আমাদের দেশের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ! ও মাই গড ! রনি ভাই , বিস্ফোরিত চোখের সাথে , ও মা গো ! মানে বাঘ পাচার ! হ্যাঁ , টাইগার গ্যাং । এরা বাঘ মেরে বাঘের চামড়া বিক্রি করে । যখন প্রথম এই কথা মাথাতে আসে তখন আমি বুঝলাম এটা এত সহজে ছাড়া যাবে না । এত বড় ক্রাইম । রাকিব বলল , ভাই এরা জাঁদরেল টাইপের লোক । এদের কোন দয়া মায়া নেই । এদের খপ্পরে পরলে আমার মনে হয় নিশ্চিত নিস্তার নেই । এখন কি করা যায় ? পুলিশ পুলিশ পুলিশ খবর খবর খব...... রনি ভাইয়ের কথা আটকে যাচ্ছে টাইগার গ্যাং এর কথা শুনে । তারপর রাকিব বলল ভাই এখন আসি পরে দেখা হবে । তারপর আরিফ ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান থেকে কি কিনল রনি ভাই বুঝল না । আরিফ বলল পরে হয়ত কাজে লাগবে । আরিফ তার সাথে একটা বাইনকুলার নিয়ে এসেছে যা দিয়ে ছাদ থেকে কি দেখছে । তখন তার মাথার উপর দিয়ে এক ঝাঁক কবুতর উড়ে গেল । তার মধ্যে একটা কবুতর খুব দ্রুত উড়ে চলেছে । কিন্তু সেই কবুতরের ঝাঁক আবার কিছুক্ষন পর উড়ে গেল । রনি ভাই আর আরিফ কবুতর পোষে । তখন পেছন থেকে রনি ভাই বলল , আই লাভ পিঞ্জন্স । আরিফ তার ইংরেজি শুধরে দিল । তার পর বলল , কবুতর ইস কবুতর পিঞ্জন হোক আর পিনিজন হোক তাতে নো প্রবলেম । ৪ দুপুরে আজ আজম আঙ্কেল এর বাড়িতেই খেতে হল । তার পর আবার হাশিম মোল্লা এসে পড়ল । ইনার বয়শ প্রায় ৬০ এর কাছাকাছি । মুখে সাদা দাঁড়ি । বেশি লম্বা নন তিনি । তার জোরাজুরিতে তাদের বাড়িতে এক বার জেতে হল । রাকিব এসে পরেছে । হাশিম মোল্লা কে বললাম আমাদের সাথে জেতে পারবে কিনা ? উনি বললেন , না না কোন সমস্যা নেই । আমরা গেলাম মোল্লা পাড়াতে । সেইখানেই তার বাড়ি । বেশ ভিতরে তার বাড়ি । মোল্লা পাড়ার ভিতর ১০ মিনিট ঘোরার পরত্তার বাড়ি । তার বাড়ির পেছনে বেশ বড় জায়গা জুড়ে তার সবজি বাগান । অনেক গাছ ফুলকপি , পাতাকপি , শালগম আর কত কি । এবার ভেতরে আর কয়েক বাড়ি পর তার আর দুটো তার বড় জমি জুড়ে সবজি বাগান । পরে তার বাস্তেও খেতে হল । আরিফ মোল্লা পাড়ার কোথা থেকে জানি ঢুঁ মেরে এসে বলল , সব জানি কিরকম পাকিএ যাচ্ছে ।পরে রাত্রে বাসায় চলে গেল । রাকিব চলে গেল কাল আসবে । রাত্রেও হাসান আঙ্কেল এর বাড়ি হতে খাবার আসল । আমি বললাম আপনি আর হাসিম মোল্লা তো আমাদেওর খাওয়ায়ে মেরে ফেলবেন দেখছি ? হাসান আঙ্কেল বললেন , ও আরে কি মারবে ?
আগামী খন্ডে সমাপ্য...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now