বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অফুরন্ত ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)

X """একটু সময় দিন কান্না হবেই""" আকাশটা মেঘলা। গুড়িগুড়ি বৃৃষ্টিও পড়ছে। গলির রাস্তাটা দিয়ে হেটে যাচ্ছে আবির।। আর ভাবছে কিভাবে মিথিলার সাথে ব্রেকাপ টা করবে........ সিগারেট খায়না আবির। বন্ধুদের অনেক পীড়াপীড়ির পরও কোনোদিন ঠোঁটে ঠ্যাকায় নি। কিন্তু আজ কেন যেন চেখে দেখতে ইচ্ছে করছে। রাস্তার পাশের টং দোকানটা থেকে একটা ব্যানসন সিগারেট কিনে নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে টান দিতেই কেশে উঠল আবির। অভ্যাস নেইতো............ দোকানদারটা ভ্রু কুঁচকে তাকায় ওর দিকে। সিগারেট শেষ করে আবার হাটা শুরু করল ও। মিথিলাকে আবির পার্কে আসতে বলেছে। মিথিলা বলছিল ওরো নাকি অনেক কিছু বলার আছে আবিরকে। ঘড়িতে ৪টা ১৬ মিনিট। আজও আবির ১৬ মিনিট লেট। অবশ্য নতুন কিছু নয় এটা।। পার্কে ঢুকেই দেখে মিথিলা ওদের সবচেয়ে পছন্দের বেঞ্চে বসে আছে। একটা লাল বর্ডারের সাদা শাড়ি পড়েছে ও। সাথে লাল লিপস্টিক, কানে দুল আর গলায় একটা চিকন চেইন। চুলগুলো ঘাড়ের একপাশ দিয়ে সামনে আনা। বিকেলের রোদ গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ওর মুখে পড়ছে। আর তাতে ওর নাকের উপর জমা ঘাম চিকচিক করছে। সবমিলিয়ে একটা অদ্ভুত মাধুর্যের সৃষ্টি করেছে। এসব দেখে যেন আবির আবার প্রেমে পড়ে যায়।। কিন্তু নিজেকে সামলে নেয় আবির। ব্রেকআপ ওকে করতেই হবে..... মিথিলার কথায় ঘোড় কাটে আবিরের। আবির দেড়িতে আসছে বলে মিথিলা একটুও বিরক্ত হয় না। একটু অভিমানী কন্ঠে বলে, -এইযে লেট বাবু (দেরি করে বলে এই নাম) এই তোমার আসার সময়? একটা দিন সময়মতো আসতে পারনা? তোমার মধ্যে কি একটুও সিরিয়াসনেস নেই? জানো কতক্ষণ অপেক্ষা করছি??? আবির একদৃষ্টিতে তাকিয়ে মিথিলার বকা শুনছে। কি কিউট মেয়েটা............ আবিরকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিথিলা ওকে ধাক্কা দিল........ - এই কি হইছে তোমার?? আবির বাস্তবে ফিরে....... - হু...ঐ রাস্তায় দেরী হয়ে গেল আরকি। একটু থেমে আবির বলল..... -তোমাকে একটা কথা বলার আছে...... মিথিলা বলল.... - আগে আমারটা শোনো..... - বল - বাবা আমার বিয়ে ঠিক করছে। ছেলে বড় ডাক্তার। - তো করে ফ্যালো...... - এই তুমি ফাইজলামি কর? তোমার সাথে প্রেম করছি অন্য কাউকে বিয়ে করতে?? তুমি কিছু একটা কর। চল পালিয়ে যাই।। - শোনো মিথিলা, তোমাকে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আছে। জানি তুমি কষ্ট পাবা তাও তোমার শুনতে হবে। - কি বলতে চাও তুমি?? - আমার পক্ষে তোমাকে বিয়ে করা সম্ভব না। আসলে তোমার সাথে আমার আর যাচ্ছে না। তুমি আমার ক্লাস নও। আর আমার বেশিদিন একজনের সাথে রিলেশনে থাকতে ভাল লাগেনা। So we better have a breakup. কথাটা বলতে গিয়ে আবির একবারো মিথিলার চোখের দিকে তাকায়নি। ও জানে ততক্ষণে ওই দুটো চোখ থেকে বৃষ্টি ঝড়তে শুরু করেছে। কিন্তু আবির আজ পিছু হটবে না। ওর ব্রেকআপ চাই-ই চাই।। -তুমি মজা করছ তাইনা? - তোমার তাই মনে হচ্ছে? (গলাটা যতটা সম্ভব ভারী করে বলল) - তুমি কেন এমন করছো? আমি কি করেছি বল? তুমি যা বলবে আমি তাই করব। প্লিজ এমনটা করোনা।। (কাঁদতে কাঁদতে) - যা বলব তাই করবে? - হুমম - পারবে একটা রাত আমার সাথে কাটাতে??? মিথিলা চমকে উঠে আবিরের কথা শুনে। এটা কাকে দেখছে সে? এটাতো ওর চেনা আবির নয়।। - এই কি বল এইগুলা তুমি? মাথা ঠিকাছে? - একদম ঠিক আছে। - আচ্ছা আমি রাজী। কিন্তু চল আগে বিয়ে করি আমরা? - আরে বিয়ে করলে তো সব মজা শেষ। আর বিয়ে যে করব? একটা মেয়েকে কয়দিন ভালো লাগে বল। বিয়ের আগেই মেয়েদের ভাল লাগে তাও শুধু একবারের জন্য। হা হা হা,,,,,,, ঠাসসসসসসসস! - ছিঃ আবির। তুমি এতটা নীচ? আজকের পর থেকে তোমার মুখ দেখতে চাইনা আমি। তুমি যদি এখনি মরে যেতে আমি খুব খুশি হতাম। দুনিয়া থেকে একটা জানোয়ার কমতো। আল্লাহ যেন তোমার মরণ করে। বলে উঠে চলে যায় মিথিলা। একটাবার পেছনে তাকিয়ে দ্যাখেনা। আবির তখন পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে। ওর মেডিকেল রিপোর্ট। ওটার দিকে তাকিয়ে শুকনো একটা হাসি দেয় আবির। আর বিড়বিড় করে বলে...... - মাফ করে দিও মিথিলা। আর আল্লাহ তোমার কথা শুনবেন। আর কটা দিনই আছি,,,,,,, কদিন থেকেই অসুস্থ ছিল আবির। মিথিলাই সেদিন ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে অনেকগুলো টেস্ট করায়। আর আজ রিপোর্টে আসে তার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। বিদেশে চিকিৎসা আছে। কিন্তু অত টাকা কই? বাবাকে বললে হয়ত ভিটে-বাড়ি বেঁচে একটা ব্যাবস্থা করবে। কিন্তু তারপর.....?? তার একটা ছোট ভাই আছে। তারতো একটা ভবিষ্যত আছে। সে ঐটা নষ্ট করতে পারে না। তারচেয়ে বরং সেই চলে যাবে।। ভাবতে ভাবতে চোখদুটো ভিজে আসে ওর। মরতে আবিরও চায়না। কিন্তু কি-ই বা করার আছে?? ডাক্তার ওকে ৬ মাস সময় বেঁধে দিয়েছে। তারপরেই সবশেষ......... আজ মিথিলার বিয়ে। বউ সেজে কেমন লাগবে মিথিলাকে তাই ভাবতে থাকে আবির। নাহ্! একবার দেখে আসা উচিত। কিন্তু মিথিলার সামনেতো যেতে পারবেনা ও। তাতে কি? না হয় দুর থেকেই দেখবে।। ********************************** আজ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস হল মিথিলার বিয়ের। বেশ সুখেই আছে ও। তাই আবিরও খুশি। এখন ওর অসুখের কথা সবাই জানে। কিন্তু অনেক দেরী হয়ে গেছে। আবির লেট বাবু কিনা? সবাই ওর জন্য চোখের জল ফ্যালে। মা তো ওকে দেখলেই কেঁদে ফ্যালে....। অনেকটা শুকিয়ে গেছে আবির। সেই চঞ্চল আবিরকে আর চেনাই যায় না। আবির সেদিন একাই একটু ঘুড়তে বের হয়েছিল। ওর ছোটভাই রওনক সাথে যেতে চেয়েছিল কিন্তু আবিরই ওকে বারণ করে দেয়। রওনকও আর জোড় করেনি। কিছুক্ষণের জন্য একা ছেড়ে দেয় ওকে.... ঘুড়তে ঘুড়তে হঠাৎ মিথিলার সামনে পরে যায়। ও চলে যেতে চাইলে মিথিলাই বলে..... - তা কেমন আছো? নিশ্চই ভালো। হুমম, তোমার মত লুচ্চা,বদমাশ,বেঈমানরা ভালই থাকে। আমিও ভালই আছি। স্বামীর সাথে সুখে সংসার করছি। - উত্তরে শুধু একটু হাসে আবির। -ইশশ! তোমার এই পাপী চেহারাটা কেন যে দেখলাম? দিনটাই খারাপ যাবে। ধুরর! কন্ঠে বিরক্তি এনে কথাগুলো বলে মিথিলা - আজকে একটু কষ্ট করে দিনটা চালিয়ে নিও। আর কোনোদিন দেখবে না আমাকে। কথা দিলাম। আর এবার কথা রাখব। আসলে কথাটা ভাঙ্গতে চাইলেও আমি ভাঙ্গতে পারব না। ভাল থেক, সুখে থেক।। -হুহ! মুখ ঘুড়িয়ে নিয়ে চলে যেতে থাকে মিথিলা। আবির ওর চলে যাবার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ করেই কাঁশি ওঠে আবিরের। শুধু কাঁশতেই থাকে। যেন কাঁশিটা থামতেই চাইছে না। কাঁশতে কাঁশতে মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত আসে আবিরের। দু হাত দিয়ে মুখটা চেপে ধরে সে। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারে না আর। হাতের মধ্যে দিয়েই রক্ত ঝরে সাদা শার্টটা লাল হয়ে যায়। আশেপাশে লোকজন ভিরে যায়। মিথিলা আর তার স্বামীও এগিয়ে আসে। (ওর স্বামির সাথেই ও ঘুড়তে বের হইছিলো) আবিরকে দেখেই মিথিলার স্বামী... - আরে আবির সাহেব! - তুমি ওকে চেন?? ভ্রু কুঁচকে তাকায় মিথিলা - আরে চিনিনা মানে? উনার জন্যই আমাদের বিয়েটা হয়েছে। তাছাড়াতো তোমার খোঁজই পেতাম না। প্রায় ছমাস আগে উনার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরে। বেচারা পরিবারের কথা ভেবে কাউকে কিছু বলেনি। টাকা থাকলে হয়তো বেঁচে যেতেন। এখনো এত আত্মত্যাগী মানুষ দুনিয়াতে আছে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আস্তে আস্তে সবকিছু পরিষ্কার হতে থাকে মিথিলার কাছে। আজ বুঝতে পারল আবিরের হঠাৎ ব্রেকআপের কারন। সে ধপ করে বসে পড়লো আবিরের পাশে। আবির ওর দিকেই তাকিয়ে কি যেন বলার চেষ্টা করছিল কিন্তু পারছিল না। শুধু ঠোঁটদুটো না বলতে পারার আহাজারি নিয়ে কাঁপছিল আর গাল বেয়ে পানি পড়ছিল,,,, মিথিলাও কাঁদছে........ - কিছু বলবে আবির??? আবির হ্যা সুচক মাথা নাড়ায়। কিছু বলতে পারে না। মিথিলার হাত বারবার টেনে বুক পকেটের কাছে নিয়ে আসে। এরকম চলতে চলতেই আবিরের চোখ স্থির হয়ে যায়। গড়িয়ে পরে শেষ এক ফোঁটা পানি............... যে পানিতে কান্নার স্রোতে ভাসিয়ে যায় সবাইকে। মিথিলা আবিরের পকেট থেকে একটা চিরকুট পায় যা আবিরের রক্তে রঞ্জিত ছিল। লেখা ছিল,,,, - সেদিনের জন্য Sorry মিথিলা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now