বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শুক্রবার। সপ্তাহে একটা দিনই ছুটির দিন! ব্যাচেলরদের জন্য কাজ থেকে বিরতি দিয়ে একটু মনের আনন্দে নিজের মত করে একটা দিন পার করা! কিন্তু সেটা আর করা হয় কোথায়?? শুক্রবারেই যে সমস্ত কাজ জমে থাকে!! নিজের কাপড় ধোয়া, কারো সাথে দেখা করা, কোথাও বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি নানান শিডিউল শুক্রবারেই জমা হয়।
অবশ্য আমার তেমন ব্যস্ততা নেই। সুধু সপ্তাহের নিজের কাপড়-চোপড় ধোয়া আর বিকেল ৫ টার সময় প্রেমিকার সাখে দেখা করা।
-
যাই হোক, ঘুম থেকেই উঠলাম ১১ টায়। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া করে, কাপড় ভিজিয়ে রাখলাম। এমনে সেমনে নামাজের সময় হয়ে গেল। গোসল করে নামাজ পড়ে আসলাম। খেয়ে দেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে কাপড়-চোপড় ধুতে ধুতে ৩ টা বেজে গেল। কাপড় শুকাতে দিয়ে একটু শুয়ে পড়লাম। মোবাইলে গান ছেড়ে দিয়ে শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি!! কোন খেয়ালই নেই। যখন ঘুম থেকে উঠলাম, তখন দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৫:৫০। মোবাইলটা হাতে নিলাম। কিন্তু, সেটা বন্ধ! চার্জ লাগিয়ে অন করলাম।। সাথে সাথে মিসড কল এ্যালার্ট সার্ভিস জানিয়ে দিল, ১০৭ মিসড কল!!
সবগুলাই নীরার! সাথে অসংখ্যা মেসেজ! কিছু মেসেজ এরকম……
"ওই শুয়োর, ইতর, জানোয়ার, বদমাইশ। কুত্তা…………"
এসবের কোন শেষ নেই!! ওহ শিট, নীরা আমার প্রেমিকা। আজকে ৫ টায় দেখা করার কথা। এখন বাজে ৬ টা। তবে আমি জানি, নীরা যেখানে দেখা হওয়ার কথা, সেখানেই বসে আছে! কোনমতে মুখে পানি মেরে একটা শার্ট নিয়ে, প্যান্ট না পড়ে, লুঙ্গি পড়েই দৌড়াতে শুরু করলাম। নাজানি আজ কপালে কি আছে!! একটা রিকসা ঠিক করে তারাতারি চালিয়ে যেতে বললাম। কিন্তু টাকা আনতে ভুলে গেছি। তাড়াহুড়ায় কিছু মনে থাকে??
-
যথারীতি যেখানে নীরার থাকার কথা সেখানেই বসে আছে। রিকসাটা ওখানেই থামালাম……
----ভাড়ার টাকাটা একটু দিবে প্লিজ?
নীরা আমার দিকে তাকালো। চোখ-মুখ লাল। মনে হয় কেদেছে এতক্ষণ। অপেক্ষার সময় খুব দীর্ঘ হয়। আর সেখানে ওকে দেড় ঘন্টা বসিয়ে রেখেছি!! নিজের উপরই প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। ঘুম যদি না থাকত!!
নীরা কিছু না বলে টাকা বের করে দিল……
রিকসাওয়ালাকে টাকা দিয়ে বিদায় করলাম। আসে পাশে কেউ নাই।
আমি কান ধরে বললাম……
----সরি বাবুই! তুমি আমাকে যে সাজা দিবে? মাথা পেতে নিব! রাগ কর না প্লিজ……
নীরা কোন কথা বলছে না। যেন বোবা মানুষ। নীরা বরাবরই রাগের সময় কোন কথা বলে না। চুপ করে থাকে। রাগে আরো ফুলে ওঠে………
----আসলে হয়েছে কি, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। দেখ, ঘুম থেকে ওঠেই দৌড় দিয়েছি!!
তবুও নীরা চুপ। মনে হয়, পণ করেছে আমার সাথে কথা বলবে না। আমার খারাপ লাগছে। কি করব? কি বলব, বুঝে পাচ্ছি না………
----দেখ, তোমার অপেক্ষা করার কষ্ট টা আমি বুঝতে পারছি। এই শেষবার ক্ষমা করা যায় না??
কোন মুখ নিয়ে ক্ষমা চাচ্ছি, আমি নিজেও জানিনা। শেষবার বলে বলে কতবার যে দেরি হওয়ার জন্য ক্ষমা চাইলাম!! তার কোন হিসেব নাই।।
----তোমার কাছে আমার কোন প্রয়োজন বা মূল্যে নেই তাইনা?
খুবই স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল নীরা।
----কি বল, আমার নিজের জীবনের খেকেও, তোমার মূল্যে আমার কাছে বেশি!!
----কি মনে করেছ তুমি? প্রতিবারই দেরি করবে, নানান তালবাহানা করবে, শেষে সরি বলেই সব ক্ষমা!!
----না, মানে………
----এই আজকেই শেষ! এবং প্রথম, তোমার যেহেতু আমাকে প্রয়োজন নেয়, তাই চললাম। আমাকে ভুলে যাও। আমিও তোমাকে ভুলে যাব……
----কি বলছ এসব? তোমাকে ছাড়া আমি বাচব না frown emoticon
----গুড বাই, এন্ড টেক কেয়ার………
নীরা চলে যাচ্ছে। পিছন থেকে হাতটা টেনে ধরলাম। কিন্তু সে মানল না। হেচকা টানে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গেল। একবারও পিছন ফিরে তাকাল না। আমি সেখানেই বসে নির্বাক তাকিয়ে আছি। কেন জানিনা পুরো পৃথিবীটা অনেক ছোট মনে হচ্ছে। চোখ দিয়ে টপ করে দু ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। রাতের আধারের মতই আমার জীবনটাও যেন অন্ধকারময় হয়ে গেল!!
-
দেড়বছর পরের ঘটনা। নীরাকে হারানের পরে আর কোনমতেই ওর রাগ ভাঙ্গাতে পারি নি। ওকে ভুলতেও পারি নি। আমি তখন দেবদাস। টুকটাক কাজ করি, অল্পস্বল্প নেশা করি। জীবনের প্রতি কোন খেয়ালই নেই। বাড়ি থেকে বিয়ে করতে বললেও করেনি। দিনগুলো অনেক কষ্টে পাড় হচ্ছে। সবমসময়ই নিজেই নিজের মূত্যু কামনা করছি……
হঠাৎ একদিন বাড়ি থেকে খুব করে ধরল, এবং মা তার মাথায় হাত রেখে কসম করাল। এই বিয়েটা আমাকে করতেই হবে! মেয়েটা নাকি বাবা মায়ের খুব পছন্দের। মন না চাইলেও বিয়েটা আমাকে করতে হল। যেহেতু উদাশীন ছিলাম, কে আমার বউ, কি নাম, কেমন দেখতে?? এসবের দিকে নজর দেয়নি………
বাসরঘরে ডুকলাম………
----কেমন আছেন মিঃ দেবদাস?
আমি চমকে উঠলাম! কণ্ঠটা চেনা চেনা লাগছে। তাকে দেখার চেষ্টা করলাম। ঘোমটার কারণে দেখতে পেলাম না। হাত দিয়ে ঘোমটা সরানোর সাহসও হল না। সে আবার বলল……
----কাকে বিয়ে করলেন, একবার দেখারও প্রয়োজন বোধ করলেন না!
তবুও আমি চুপ! কণ্ঠটা এত চেনা চেনা লাগছে কেন? আমি বিছানার কাছে যাওয়ারই সাহস পাচ্ছি না। দড়জার কাছেই দাড়িয়ে………
সে আবার বলল……
----এত ভয় কিসের? আমি বাঘ না সাপ, হু?
আমি কিছু বলতে যাব? এমন সময় চোখ পড়ল সেই চিরচেনা মুখের উপরে! যার জন্য আজ মৃতপ্রায় অবস্থা? সেই নীরাই আমার বিবাহিত বউ?? ভাবতে অবাক লাগছে, সাথে নিজের চোখকেও বিশ্বাষ করতে পারছি না। রাত বেরে চলেছে, মনে হচ্ছে আমার বাসরটা দড়জায় দাড়িয়ে থেকেই কেটে যাবে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now