বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-- কি হলো এখনো উঠোনি কেনো??
নিশাতের কথা শুনতে পেয়ে আবারও চুপ করে চোখ বুঝে শুয়ে রইলাম। মেয়েটা এত জ্বালায় একবার যদি বলে ঘুম থেকে উঠতে, উঠা না পর্যন্ত ডাকতেই থাকবে।
-- আরে কি উঠো না কেনো? কয়টা বেজে যাচ্ছে সেদিকে খেয়াল আছে তোমার??
-- ………………
-- তুমি তো জেগেই আছো, ঘুমিয়ে থাকলে তো মানুষের চোখ নড়াচড়া করে কিন্তু তোমার চোখ গুলো তো নড়াচড়া না করে শক্ত হয়ে এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে।
.
নিশাতের কথা শুনে মনে হলো আসলেই তো সত্যি। সাথে সাথে চোখ অফ করে চোখের মণি ইচ্ছে করে নাড়াতে লাগলাম। হঠাৎ নিশাত জোরে চেঁচিয়ে উঠল।
-- কি হুম……? জেগে জেগে মজা করা হচ্ছে?? উঠবে তুমি? নাকি পানি ঢেলে দিবো?? এই যে আমি পানি আনতে গেলাম।
-- আরে কি পানি দিয়ে কি করবো? দেখো এই যে আমি উঠে গেছি।
-- পানি দিয়ে গোসল করবে।
-- হুম……তাই বলে এখানে?
-- উঠে বাথরুমে যেতে যদি কষ্ট হয়। তাহলে তো এখানেই গোসল করানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
-- হয়েছে থাক ……… এখন আর আদর দেখাতে হবে না। কষ্ট যদি বুঝতেই তাহলে এই ঠান্ডায় সকাল বেলা ঘুম থেকে জাগাতে না।
-- অফিসটা যদি তোমার নিজের হতো, তাহলে সত্যি জাগাতাম না। এখন উঠো আমি নাস্তা দিচ্ছি টেবিলে।
.
নিশাত বলে হনহন করে হেটে চলে গেলো রান্না ঘরের দিকে। এই সুযোগে আমি ডয়ার থেকে মোবাইলটা বের করে সময়টা দেখে নিলাম। আরো ১০ মিনিট ঘুমানো যাবে। মেয়েটা ভেবেছে আমার সাথে চালাকি করবে, তাই ঘড়িতে সময়টা বাড়িয়ে দিয়ে ছিলো। হুহ……আমিই বা কম কিসের? আমি যে কতটা চালাক সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাবে। যেই ভাবা সেই কাজ কম্বলটা নিয়ে আবারো শুয়ে পড়লাম। আহা… কি আরাম সকালের ঘুমটা এতো মজার কেনো?
.
-- কি আবার শুইছো??
কথাটা কিছুটা চিৎকার করেই বলল নিশাত। চিৎকারে আমার ঘুমই পালিয়ে গেলো। উঠে সোজা ওয়াশরুমের দিকে দৌড় দিলাম। বউ আমার রেগে গেছে না গেলে খবর আছে। মেয়েটার রাগ অনেক, রেগে গেলে অবস্থা খারাপ করে ফেলবে।
.
নিশাত আর আমি একই ভার্সিটিতে পড়তাম। দুজনের ডিপার্টমেন্ট আলাদা ছিলো। বিকেলের এক ফাগুন মাতাল হাওয়ায় নিশাতকে প্রথম. দেখি। প্রথম দেখায় মেয়েটা বুকের অনেকটা জায়গা দখল করে নেয়। সেদিনের পর থেকে নিশাতকে খুঁজে বেড়াতাম। যে জায়গাটায় তাকে প্রথম দেখি প্রতিদিন সেই জায়গাটায় গিয়ে বসে থাকতাম। কিন্তু নিশাতের দেখা পেতাম না। মনের অজান্তেই নিশাতকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়ে ছিলাম। একদিন হঠাৎ আমাদের ভার্সিটিতে নিশাতকে দেখি। তারপর শুরু হয় নিশাতকে ফলো করা।
.
নিশাত কিছুটা বুঝতে পেরেছিলো। একদিন নিশাতের পিছু নিয়ে ছিলাম। নিশাত হাঁটছে আমিও হাঁটছি ওর পিছু পিছু। হঠাৎ নিশাত পিছনে ফিরে আমার দিকে আসতে লাগে। আমি কি করবো এদিক সেদিক দেখতে লাগলাম। নিশাত এসে সোজা আমার কলার চেপে ধরে। বাব্বা কি সাংঘাতিক মেয়েরে বাবা। কলার ধরে বলল………
-- কি চাই হুম? প্রতিদিন আমাকে ফলো করেন সাহস তো কম না আপনার।
আমি থতমত খেয়ে আমতা আমতা করে বললাম……
-- কই না তো……… আমি তো রোজ এখান দিয়েই যাই। আমার বাসাটা সামনেই।
-- ও তাই ………??
-- জ্বী।
-- চলুন আজ আপনার বাসায় যাবো।
.
নেও ঠেলা এখন কি করি? হঠাৎ ফোন বেজে উঠল যাক বেঁচে গেলাম। ফোন রিসিভ করে কথা বললাম। আর নিশাতকে বললাম একটা কাজে যেতে হচ্ছে অন্য একদিন তাকে বাসায় নিয়ে যাবো। মিথ্যে বলে কেটে পড়লাম হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ভালো যে ফোনটা এসেছিল না হলে কি যে হতো কে জানে।
.
তারপরের দিন ও নিশাতের পিছু নিয়েছি। তবে আজ একটু সাহস সঞ্চয় করে নিয়ে এসেছি। নিশাতকে কয়েকবার ডাকলাম ………
-- এই মেয়ে……… এই ……
-- …………………
-- এই যে ………
নিশাত সামনে এগিয়ে এলো। এসে বলল……
-- মেয়েটির নাম এই মেয়ে না…… মেয়েটার একটা ভালো নাম আছে।
-- নামটা কি বলা যাবে??
-- মেয়েটা যাকে তাকে তার নাম বলে না।
-- প্লিজ নামটা বলুন।
-- আগে বলুন আমার পিছু নিয়েছেন কেনো??
-- আপনাকে ভালো লাগে।
-- শুধু ভালোই লাগে নাকি অন্য কিছু??
-- হুম ভালো ও বাসি।
.
তারপর থেকে নিশাতকে আর কোথাও খুঁজে পেতাম না। প্রতিদিন ভার্সিটিতে যেতাম কিন্তু নিশাত আসতো না। এমন কাওকে চিনতামও না, যে তার কাছ থেকে নিশাতের খবর জানতে পারবো। এক শীতের সকালে নিশাতকে সেই জায়গাটায় দেখতে পাই। যেখানে তাকে প্রথম দেখে ছিলাম। দৌড়ে নিশাতের কাছে ছুটে যাই।
.
-- কোথায় ছিলে এতদিন???
-- কেনো?
-- কেনো মানে? জানো তোমাকে আমি কত খুঁজেছি? তুমি যেখানে যেখানে যেতে আমি সব জায়গায় হন্য হয়ে তোমাকে খুঁজেছি। এমনকি তোমাদের বাসায়ও গেছি। কিন্তু সেখানে নিশাত নামের কেউই থাকে না।
আমার কথা শুনে নিশাত হাসতে শুরু করে।
-- হাসছো কেনো?
-- কোন বাসায় গেছেন আপনি?
-- তোমাকে প্রতিদিন যে বাসায় যেতে দেখতাম।
নিশাত হাসতে হাসতে বলল ………
-- ওইটা তো আমাদের বাসা না। আপনার জন্য আমি ওই বাসায় ঢুকে লুকিয়ে থাকতাম। আপনি চলে গেলে আমি বেরিয়ে বাসায় যেতাম।
-- তার মানে……
-- মানেটা খুবই সোজা। এই সুযোগে দেখা ও হলো আপনি কতটা ভালবাসেন।
.
সেদিনই নিশাতকে প্রপোজ করি। তারপর থেকে শুরু হয় আমাদের পথ চলা। পারিবারিক ভাবে বিয়ে করে নিশাতকে চিরতরে আমার করে নেই।
.
-- কি বাথরুমে বসে ঘুমাচ্ছো নাকি??
-- …………
-- কি হলো??
-- ……………
কাঁপতে কাঁপতে বের হলাম বাবারে কি ঠান্ডা। নিশাত সামনে দাঁড়িয়ে, হাতে তেলের বোতল। আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল………
-- এই নাও তেল লাগাও গরম লাগবে।
-- লাগবে না।
-- লাগবে …… ধরো বলছি।
-- শুনো না।
-- শুনছি বলো।
-- ভাবছি কি……প্রতিদিনই তো অফিস করি।
-- হুম করো।
-- আজ না করলে তো আর অফিস হারিয়ে যাচ্ছে না।
-- মানে??
-- মানে দুজনে মিলে এখন ঘুমাবো।
-- কি??
-- হুম।
টেনে নিয়ে গেলাম নিশাতকে। নিশাত চেঁচাতে লাগল।
-- ছাড়… ছাড়…বলছি।
-- উম হুম ছাড়বো না।
-- আর অফিস??
-- ম্যানেজ করে নিবো।
.
আজ আর অফিস নেই বউয়ের সাথে আজ অফিস করবো। শীতের মধ্যে সব চেয়ে কষ্টকর সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করা। আর যদি গোসল করে আবারো লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমানো যায় তাহলেতো কথাই নাই সেই আনন্দের।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now