বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অফুরন্ত ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অফুরন্ত ভালোবাসা`` লেখকঃ A B Emran Hossain (অভিমানী ছেলে) . নাকের ঢগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে হুমুর। বেশ অনেকক্ষন ধরে টাউন হলের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সূর্যটা ঠিক মাথা বরাবর। রৌদ্রের তাপে পুরু শরীর ভিজে যাচ্ছে। ব্যাগ থেকে টিস্যুটা বের করে মুখে লাগাতেই পুরু ঘাম চুষে নিল টিস্যুটা। ইমরানের আসার অপেক্ষা করছে হুমু। ঘড়িতে টিকটিক শব্দে সেকেন্ড,মিনিটের কাটা এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের ঘনিষ্ঠে ঘন্টার কাটাও দুপুর দুইটা অতিক্রম করেছে। ইমরান একটায় আসার কথা। পুরু এক ঘন্টা দেরি। দুজনে একসাথে লাঞ্চ করবে বলে ভর দুপুরে দেখা করা। ইমরান বরাবর প্রতিবারই নির্দিষ্ট সময় আসতে সক্ষম হয়না। এটা হুমুর জানা। তাও কিছুটা অপেক্ষা করতে হুমুর ভালোই লাগে। কিন্তু আজ ইমরান বেশ দেরি করছে। মাথায় বিভিন্ন রকমের চিন্তা ঘুরছে হুমুর "ইমরানের কোন বিপদ হলো নাতো!" বারবার ভেবেই যাচ্ছে সে। খরা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে একটু ছায়া খোঁজচ্ছে হুমু। কিন্তু এই ব্যস্ত শহরে এইখানটায় মোটেও ছায়ার অংশটুকুও নেই। লিলুয়া দক্ষিনা বাতাসে হুমুর খোলা চুলে বারবার ঢেউ তুলছে। লং জামার সাথে প্লাজু পড়েছে হুমু। . রিক্সা থেকে নেমেই একটু দৌঁড়ে এসে দাঁড়ালো ইমরান। দৌঁড়ানোর অভ্যাস কিছুটা ইমরানের থাকলেও এখন একটু দৌঁড়েই হাঁপিয়ে উঠেছে। বড় বড় কয়েকটা নিঃশ্বাস ফেলল। হুমু সেটা খেয়াল করলেও কিছু বলল না। অন্যদিন দেখা করার সময় ইমরান নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরি করলেও আজ পুরু এক ঘন্টার বেশি দেরি করে ফেলেছে। ইমরানকে দেখে খুব রাগ লাগছে হুমুর। রোদের উত্তাপ আর রাগের অগ্নি একত্রে মিলে হুমুর চেহারা লালচে হয়ে উঠেছে। বুঝার উপায় নেই রোদের তাপে নাকি রাগের উত্তাপে হুমুর চেহারাটা অগ্নিকুণ্ড হয়ে উঠেছে। ঐমূহুর্তে হুমুর মধ্যে বিরাজ করছে গগন ভরা রাগ। ইমরান হুমুর দিকে তাকিয়ে কিছু না বলেই হেসে দিল। হুমুর রাগটা মূহুর্তেই বিলীন হয়ে গেল। . দুজনে হাঁটছে। একটা ছায়াতল জায়গা খোঁজচ্ছে। কারন আজ হুমু নিজের হাতে ইমরানের জন্য বিরিয়ানী রান্না করে এনেছে। ঐদিন ফোনে কথা বলার সময় ইমরান বলেছিল হুমুর নিজের হাতে রান্না করা বিরিয়ানী খেতে চায়। তাই হুমু এই ভর দুপুরে লাঞ্চ করার তাচ্ছিল্যে দেখা করতে চেয়েছে। . বিরিয়ানী রান্না করতে গিয়ে ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুলে খানিকটা ফোসকা পড়েছে। সেটা এখনো ইমরানের নজরে পড়েনি। ইমরানের সকল অবদার সকল চাওয়া হুমু পূরন করতে চেষ্টা করে। শুকনো কণ্ঠে হুমু বলল, . "খুব ক্লান্ত লাগছে" . মায়ার চাহনিতে তাকালো ইমরান। হুমু ঘামছে খুব। বিনয়ী হয়ে বলল, . "সরি, আসলে রেল গেইট থেকে পুলিশ লাইন পর্যন্ত অনেক জ্যাম। তাই রেল গেইট থেকে পুলিশ লাইন পর্যন্ত অনেকটা দৌঁড়ে এসেছি তাই দেরি হয়ে গেল" . হুমু থমকে গেল। তাকিয়েছে ইমরানের দিকে। আচমকা হুমু থমকে যাওয়ার কারন ইমরান বুঝল না। নরম স্বরে বলল, . "আবার কোন ভুল করলাম?" . কোন উত্তর দিচ্ছেনা হুমু। এক নজরে ইমরানের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটি ছলছলিয়ে উঠেছে। জলে ছলছল চোখের মধ্যে অফুরন্ত ভালোবাসা এসে ভীড় করেছে। অনেকটা কাঁদো কাঁদো স্বরে হুমু বলল, . "বুদ্ধু! এতটা পথ হেঁটেছো! তাই ঐ সময় রিক্সা থেকে নেমেই হাপাচ্ছিলে। কি দরকার ছিল এতটা পথ হেঁটে আসার!!" . "এমনিতেই কত না জানি টেনশন করেছো! আরো দেরি করলে যে কি হত!!" . সাবলিল উত্তর দিল ইমরান। হুমুর ইচ্ছে করছে ইমরানকে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু ব্যস্ত শহরের সম্মুখে জড়িয়ে ধরা যাবে না। মনে মনে বলছে "পাগল একটা" . দুপুরে পার্কে তত মানুষের আনাগোনা দেখা যায় না। পার্কে এক কোনে গিয়ে বসল দুজনে। বেশ তৃপ্তি করে বিরিয়ানী খাচ্ছে ইমরান। হুমু খাইয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে অকারনেই দুজনে হেসে দিচ্ছে। হুমুর খুব ইচ্ছে করছে ইমরানের হাতে খেতে। কিন্তু কি যেন ভেবে বলতে পারছে না। হুমুর চোখের চাহনি দেখে তার ইচ্ছেটা বুঝতে পেরেছে ইমরান। তাও কিছু বলছেনা। হঠাৎ ইমরান হুমুর মুখের সামনে বিরিয়ানী ধরল। হুমু খুশিতে আতঃহারা। . দুই বছর পর। দুই পরিবারের সম্মতিতে ইমরান আর হুমুর বিয়েটা হয়েছে। আজ বাসর রাত। ইমরান কিছুটা বিভ্রান্তিতে আছে। জীবনের প্রথম বাসর রাত। ভয়ে ভয়ে ঘরে ঢুকল। খাটের উপর মাথায় অর্ধ ঘুমটা দিয়ে আধবোজা চোখে তাকিয়ে আছে হুমু। ইমরানের মনে হচ্ছে প্রথমবারের মত হুমুকে দেখছে। মনে মনে বলছে, "আমার হুমুটা এত্ত সুন্দর আগে কখনো এভাবে খেয়াল করা হয়নি" আজ যেন হুমুকে লাল পরীর মত লাগছে। কখনো লাল পরী দেখা হয়নি ইমরানের। এই প্রথমবার সাক্ষাত লাল পরী দেখছে। পরীরা হয়ত এমন ই হয়। ভাবছে ইমরান। ইমরানের এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকায় হুমুকে লজ্জারা এসে ঘিরে ধরল। কিছু বলছে না কেউ। শুধু দৃষ্টি বিনিময় হচ্ছে। হাত দিয়ে হুমুর থুতনীটা ধরে মুখটা উপরে তুলল ইমরান। লজ্জায় চোখ বন্ধ করে রেখেছে হুমু। হুমুর কপালে একটা চুমু খেয়ে ইমরান বলল, . "চল ঘুমিয়ে পড়ি খুব ঘুম পাচ্ছে" . রাগে গজগজিয়ে হুমু ঘোমটা ফেলে দিল হুমু। খাটের উপর দাঁড়িয়ে শাড়ির আচলটা মাঝায় গুজে নিল হুমু। ইমরান বড় বড় চোখ করে হুমুর কান্ড দেখছে। ঘুম যেন এক নিমিষে পালিয়েছে ইমরানের চোখ থেকে। ইমরানের পাশে হুমু কি করছে তা শুধু ইমরান নিরব দর্শকের মত হা করে তাকিয়ে দেখছে। . "কি বললে তুমি! ঘুমাবে! ঘুমাও দেখি!" . হুমুর কান্ড দেখে আর কথা শুনে ইমরান থমকিয়ে গেল। একটু আগের পরীটা এখন দেখি রাক্ষসী হয়ে উঠেছে! খাট থেকে নেমে পড়ল ইমরান। হুমু এসে ইমরানের পাশে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবির কলার ধরে বলল, . "মোবাইল কই তোমার? আমার কাছে দাও" . প্রশ্ন শোনে চমকিয়ে গেল ইমরান। চুপচাপ সব কথা শুনতে লাগল হুমুর। হাত বাড়িয়ে মোবাইলটা হুমুর হাতে দিল। হুমু কি যেন দেখছে মোবাইলে। কিছুক্ষন পর এক জোড়া অগ্নিচোখ নিয়ে হুমু ইমরানের দিকে তাকালো। . "এইসব কি!" . হুমুর এই প্রশ্নের মানে না বুঝে ইমরান বলল, . "কোন সব?" "কোন সব মানে! তোমার ফেসবুকের ইনবক্সে এত মেয়ের মেসেজ কেন!" "ওরা তো...................." ইমরান কথা শেষ করার আগেই হুমু কথাটা টেনে নিয়ে বলল, "আমাকে কিছু বুঝাবে না, বুঝেছো! আমি থাকতেও তুমি আমাকে রেখে অন্য মেয়েদের সাথে চ্যাটিং করে বেড়াতে! আজ তোমার ঘরে ঢুকা নিষেধ। বারান্দায় যাও। আজ তুমি বারান্দায় ঘুমাবে আমি ঘরে ঘুমাবো। যাও, এখনি যাও। এটা তোমার শাস্তি" . ইমরান হা করে হুমুর দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে ভাবছে, "এ কি মেয়েরে বাবা! বাসর রাতে স্বামিকে বলে বারান্দায় একা ঘুমুতে। বিয়ের আগে তো এমন রাক্ষসী রূপ দেখিনি" ইমরানের হাতে একটা বালিশ আর একটা চাদর দিয়ে বলল, "যাও বারান্দায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো" . বাধ্য ছেলের মত ইমরান বালিশ আর চাদর নিয়ে বারান্দায় গিয়ে শোয়ে পড়ল। মধ্য রাতের আকাশে অর্ধ চাঁদটা যেন ঝুলে রয়েছে। রূপালি জোৎস্নায় টুইটুম্বুর চারদিক। বারান্দায়ও চাঁদের জোৎস্না এসে পড়েছে। হঠাৎই ভরা নিস্তব্দতায় নুপুরের ঝনঝন শব্দে চমকে উঠল ইমরান। হুমু পাশে এসে বসেছে। চাঁদের রূপালি আলোয় হুমুর চেহারাটা রূপালি হয়ে উঠেছে। হুমুর মুখটা ইমরানের কানে এনে চুপিচুপি বলছে, "অনেক ইচ্ছে ছিল আমরা বারান্দায় চাঁদের জোৎস্নায় বাসর রাত কাটাব। তাই তোমাকে আগে বারান্দায় পাঠালাম" হুমুর ঠোঁট জোরা বাঁকিয়ে একটা হাসি দিল। মুচকি হাসি বলা যায়। যেই হাসিমাখা ছবিটা দেখে ইমরান প্রেমে পড়েছিল হুমুর। শুয়ে রয়েছে ইমরান। হুমু ইমরানের বুকে মাথা রেখে আকাশের অর্ধ চাঁদটার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো ঘুমে নিভো নিভো করছে। পরম আদরে বুকের মাঝে হুমুকে জড়িয়ে রেখেছে ইমরান। দুজনেই ঘুমিয়ে পড়েছে। অপেক্ষা করছে রোদ মাখা সকালের।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা
→ অফুরন্ত ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now