বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প :→ "স্মৃতিতে কল্পনা"
লেখিকা :→ "স্পর্শের হাতছানি (সখি)"
~~~~~~~~~~~~~~~~~
এক রকম জোর করেই পিকনিকে গেল
অয়ন.বড়ই দুষ্টু ছেলেটা.অয়নকে নিয়ে
ভোগান্তির শেষ নেই ওর
পরিবারের.অয়ন খুব জেদি আর দেখতে ও
কিন্তু কম সুন্দর নয়.সবে ইন্টার ফার্স্ট
ইয়ারে পড়ে ।
যাই হোক ৩ দিনের সফরে গেল বহুল
কথিত ও সৌন্দর্যে মোড়া
কক্রবাজারে.টান টান উত্তেজনা
নিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিল
সবাই.অয়ন ভাবছিল এবার সেই অপরুপ
সৌন্দর্যকে নিজেই চোখে দেখবে
ভেবেই খুশিতে আত্নহারা.অনেক
আনন্দ,আড্ডা,ফাজলামি করতে করতে
সময়টা তাদের ভালোই কাটছিল এর
ভিতর আবার কখনও গান গাওয়া কখনও বা
কবিতা.সব মিলিয়ে খুবই উপভোগ করছিল
সবাই তাদের ভ্রমণটাকে ।
অপেক্ষার শেষে রাত্রে তারা
কক্রবাজার পৌছালো এবং একটি
হোটেল বুকিং করে যে যার মত রুমে
চলে গেল.অবশ্য কয়েকজন চেয়েছিল এই
রাত্রেই সমুদ্র পাড়ে যাওয়ার জন্য অয়ন ও
তাদের দলে কারণ অয়ন শুনেছে রাতে
নাকি সমুদ্রকে একটি মায়াবি রুপে
দেখা যায় একেবারে শান্ত শিস্ট
রুপে আর তারপর তো জোৎন্সা রাত
হলে তো কথাই নেই আর ও বেশী
মায়াবি লাগে সমুদ্রকে ।
কিন্তু তাদের সব স্যারই তাদের
বিরুদ্ধে দ্বিমত পোষণ করলো.তো আর
কি করার এক রকম বাধ্য হয়েই রুমে যেতে
হলো।
অয়ন ও অন্যদের মত তার রুমে গেল কিন্তু
তার মন সমুদ্রের কিনারায় যেন হাটা
হাটি করছে.এসব ভাবতে ভাবতে
অবশেষে ঘুমিয়ে গেল অয়ন..হঠাৎ কারও
চিল্লানি শুনে ঘুম ভাংলো তার
দেখল যে সকাল হয়ে গেছে.দরজা খুলে
দেখে সবাই রেডি বেড়াতে যাওয়ার
জন্য ।
অয়ন তো মহাখুশিতে খুব দ্রুত রেডি হয়ে
অন্যান্য ছেলেদের সাথে বেড়িয়ে
পড়লো.আজ তাদের প্রথম দিন
কক্রবাজারে খুবই উত্তেজনার মধ্যে
আছে সবাই.এ যেন অন্য রকম এক অনুভূতি ।
সবাই স্যার দের অনুসরন করে এগিয়ে
চলেছে.অয়ন ও যাচ্ছে কিন্তু হঠাৎ করেই
দুষ্টুমি শুরু হলো.সে ভিন্নভাবে
একেবারে নিজের মত করে এই অপরুপ
সৌন্দর্য টাকে উপভোখ করতে চায় ।
তাই সে স্যারদের পিছু ছেড়ে কখন যে
অন্যদিকে চলে গেছে কেউ টের
পাইনি.অয়ন একাই হেঁটে চলেছে.একটু
একটু ভয় ও লাগছে যেহেতু অপরিচিত
জায়গা তারপর ও তার ভালো
লাগে.প্রকৃতি যেন তাকে মুগ্ধ করে
চলেছে.ভয়ের চেয়ে যেন ভালো
লাগাটাই বেশী ।
অয়ন হেটেই চলেছে কোথায় যাচ্ছে
সে নিজেও জানে না.কোন সময়
মোবাইলটা বের করে ছবি তুলছে আবার
কোন সময় ক্যামেরায় ছবি তুলছে ।
এভাবে বিকাল গড়িয়ে
গেলে.এদিকে সবাই অয়নের
অনুপস্থিতি লক্ষ করলো। স্যাররা সবাই
বকা বকি শুরু করলো.অতঃপর তারা
অয়নকে খুজতে বেরিয়ে পড়লো ।
এদিকে অয়ন তার ক্যামেরায়
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে
লাগলো.হঠাৎ করেই সে তার
ক্যামেরায় দূরে কোন এক মেয়েকে
বসে থাকতে দেখলো.এই সৌন্দর্যের
মাঝে মেয়েটাকে অসম্ভব অপরুপা
দেখাচ্ছে.এখন অয়ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
দেখা বাদ দিয়ে শুধু সেই মেয়ে
টাকেই দেখছে ।
মনে হচ্ছে অন্য এক জগতে হারিয়ে
গেছে অয়ন.মনে হচ্ছে আকাশ থেকে
একটা পরী এসে বসে আছে.তার হরিণি
চোখ দেখলে যে কেউ মায়ায় পড়ে
যাবে অয়নের ও বুঝি তাই হলো.এ যেন
অন্য এক অনুভূতি.যা হৃদয়কে স্পর্শ করে যায়
।
প্রথম দেখাতেই যেন অয়ন তার মায়ায়
পড়ে গেল.এই পড়ন্ত বিকালে
মেয়েটাকে এতটাই সুন্দর লাগছে যা
বর্ণনা করা যাবে না.কার ও মায়ায়
পড়লে বুঝি তাকে পৃথীবির সবথেকে
সুন্দর মনে হয়.অয়ন ভাবছে মেয়েরা কেন
এত সূন্দরী হয় যে নজর ফেরানোই যায়
না ।
অয়ন যেন কল্পনার জগতে ডুবে
আছে.এদিকে এসব ভাবতে ভাবতে সূর্য্য
প্রায় ডুবি ডুবি অবস্থা.কি করবে এখন
অয়ন মেয়েটাকে যে তার ভালো
লেগেছে.একবার কি মেয়েটার সাথে
কথা বলবে আবার ভাবে না থাক
মেয়েটা যদি তার সাথে কথা না
বলে;
ওর থেকে দূর থেকে দেখাই ভালো.এক
পলকে অয়ন মেয়েটার দিকে
তাকিয়েই আছে.কি অপরুপ চেহারা
তার..
হঠাৎ করে মেয়েটি হয়তো চলে
যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিল.অমনি অয়ন
দৌড়ে গিয়ে মেয়েটার পিছু নিল
কিন্তু অয়নের সাহস হলো না মেয়েটার
সাথে কথা বলার.
মেয়েটা হেটে চলেছে আর অয়ন তার
পিছু পিছু ।
এভাবে মেয়েটা তার হোটেলে চলে
গেল.অয়ন কিছুক্ষণ মেয়েটার চলে
যাওয়া দেখল..
এবার অয়ন পড়লো চিন্তায় এখন সে কি
করবে কিভাবে সে তার হোটেলে
ফিরে যাবে.সে তো এখানকার কিছু
চিনে না.. কি আর করার হাটতে শুরু
করলো অয়ন ।
এদিকে স্যার সহ অন্য সকল ছাত্ররা
তাকে খুজতে খুজতে হয়রান হয়ে
হোটেলের দিকেই ফিরছে.
অয়ন ক্লান্ত হয়ে একটা গাছে হেলান
দিয়ে একটু দাড়ালো ।
হঠাৎ কেউ যেন অয়ন বলে ডাক দিল..অয়ন
দেখলো এ যে তাদেরই ছাত্র আর স্যার
রা। এবার স্যাররা অয়নকে খুব বকা দিল
কিন্তু অয়ন কিছুই বললো না.অয়ন শুধু
মেয়েটার কথাই ভাবছে.মেয়েটাকে
কি সুন্দরীই না লাগছিল.একপাশে সমুদ্র
অন্যপাশে পাহাড় আর গাছপালা এই
অপরুপ সৌন্দর্যের ভিতর তাকে যেন
নীল পরীর মতো লাগছিল ।
এবার অয়ন তার রুমে আসলো.রাতে
অয়নকে খেতে ডাকা হলো কিন্তু
অয়নের যেন কিছুই খাইতে মন চাইছে
না.অয়ন না খেয়েই তার রুমে চলে
আসলো.অয়ন শুধু মেয়েটার কথাই ভেবে
চলেছে. ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে
পড়লো অয়ন । (visit my site:-bdonlinereads.blogspot.com)সকালে
পাখির কলকাকলিতে আর সূর্যের
আলোতে ঘুম ভাংলো অয়নের.সকালে
নাস্তা করেই বেড়িয়ে পড়লো অয়ন.
সেই জায়গায় গেল যেখানে সে
মেয়েটিকে দেখেছিল.কিন্তু সে
মেয়েটাকে দেখতে পেল না.অনেক
ভয় লাগছিল তার অয়ন ভাবছিল
মেয়েটা মনে হয় চলে গেছে.অনেক্ষণ
অপেক্ষার পর অয়ন মেয়েটার হোটেলে
গেল এবং অনেক কষ্ট করে হোটেল
ম্যানেজারের কাছ থেকে মেয়েটার
নাম জানতে পারলো.মেয়েটার নাম
কল্পনা ।
মেয়েটাকে দেখতে না পেয়ে
অনেকটা বিষন্ন মনে তার রুমে চলে
আসলো.মনটা যেন সব সময় মেয়েটার
কথাই ভাবছে.কি এক অজানা সুখ এর
মাঝে.দুপুরের খাওয়াটা কোন রকম
খেয়ে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলো অয়ন
কিন্তু ঘুম আসছে না কি এক অস্থিরতা
মনের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে.অয়নের মন
মানছে না তাই বিকালে বের হলো
মেয়েটির খোজে.ঠিক সেই জায়গায়
গেল কিন্তু মেয়েটাকে দেখতে পেল
না তাই বিষন্ন মনে সমুদ্র কিনারে বসে
রইলো.অয়নের কিছুই ভালো লাগছে
না. চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাড়াল তখন
অয়ন দেখতে পেল;নীল শাড়ি পড়ে যেন
একটা পরী হেটে আসছে কিন্তু অয়নের
মনটা বিষন্ন হয়ে গেল কারণ কল্পনা আজ
একা আসেনি সাথে আরও একজন
এসেছে তাও আবার একটা ছেলে.. অয়ন
ভাবছে আজ সে কল্পনার সাথে কথা
বলবেই কিন্তু তার সাহস হচ্ছে
না.পাশের ছেলেটা যদি তাকে কিছু
বলে আর ও নানান করম চিন্তা করে আজ
ও তার কথা বলা হলো না. কল্পনা
হাসছে হেসেই চলেছে কি অপরুপ
হাসি তার.হাসলে যেন কল্পনাকে
আরো বেশী সুন্দর লাগে..
আজ ও অয়ন কথা বলতে পারলনা ভেবে
অনেক কষ্ট লাগছে তার কষ্ট ভরা মন
নিয়ে হোটেলে ফিরে আসলো
অয়ন.তারপর ও যেন মনের ভিতর কত শত
চিন্তা কল্পনাকে ঘিরে.অয়ন প্রতিটা
মুহূর্ত কল্পনা কে নিয়ে ভাবে. কেন এত
সুন্দর সে, অয়ন তবে কি তার প্রেমে
পড়েছে. এভাবে তার রাত কেটে যায়
কল্পনাকে ভাবতে ভাবতে..
আজ তৃতীয় দিন আজ সন্ধ্যায় রওনা দেবে
বাড়ির উদ্দেশ্যে..
অয়ন সকাল বেলা বেড়িয়ে পড়লো
কল্পনাকে দেখার জন্য আজ সে কল্পনার
সাথে কথা বলবেই বলে সিদ্ধান্ত
নিয়েছে...
সকাল গড়িয়ে দুপুর.দুপুর গড়িয়ে বিকাল
কল্পনার কোন দেখা নেই অয়ন কি যেন
এক অস্থিরতায় ভূগছে কিছুই ভালো
লাগছে নাহ্.আজ আর কল্পনার দেখা
পেল না সে অয়ন যেন কিছুই বুঝতে
পারছে নাহ্.সে যেন পাগলের মত
দৌড়াতে লাগলো.সেই হোটেলে
গেল সবার কাছে কল্পনার কথা
জিঙ্গাসা করলো কেউ কিছু বলতে
পারলো না.অবশেষে হোটেল
ম্যানেজারের কাছ থেকে জানতে
পারলো কল্পনা আজ সকালেই এখান
থেকে চলে গেছে..অয়নের দু চোখ
বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে
লাগলো.অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে
সমুদ্রপাড়ে ফিরে গেল অয়ন.কিছুক্ষণ
বসে কল্পনার কথা ভাবতে থাকলো আর
কাদঁতে লাগলো.আজও সন্ধ্যা ঘনিয়ে
এলো অয়নের কোন খোজ নেই স্যাররা
বকাবকি শুরু করলো. সবাই গাড়িতে
উঠে পড়লো. তারপর অয়ন আসলো কিন্তু
তার চোখে পানি কারণ জানতে
চাইলো অনেকে কিন্তু অয়ন কোন কথা
বললো না.
গাড়িতে সবাই অনেক আনন্দ করছে আর
অয়ন শুধু কল্পনার কথাই ভাবছে.সারাটা
রাত অতিকষ্টে পার করলো সে.সকালে
বাড়িতে এসে কারোর সাথে কোন
কথা না বলেই নিজের ঘরে গেল.তার
ডায়রিটা নিয়ে কল্পনাকে ঘিরে
কিছু কথা লিখলো সে- ও আমার
কল্পনা. তুমি আমার কাছে কল্পনাই রয়ে
গেলে.তোমার হরিণি চোখের মায়ায়
পড়েছি আমি.কি অপরুপ চেহারা
তোমার.পাগল করেছে আমায়.তুমি
আছো শুধু.আমার কল্পনাই
এরপর থেকে প্রতি বছরে একবার হলেও
কক্রবাজার যায় যদি সে কল্পনাকে
ফিরে পায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now