বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক....
অভ্র তোর কী লজ্জা বলতে কিছু নেই তাই না???
.
সাকিল একথা বলে আমার দিকে চেয়ে আছে।
হয়তো আমার উত্তরের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু
এর উত্তর আমার জানা নেইই।
কিছুক্ষণ আগে সায়মা আমাকে যাচ্ছেতাই বলে
বকাঝকা করে গেলো। সাধারনত অফিসের সবাই
জানে আমি সায়মাকে ভালোবাসি। সায়মা নিজেও জানে
সেকথা কিন্তু তাতে পাত্তা দেয়না। তার পিছনের কারন
অবশ্য খুবি সেনসিটিভ। সায়মার জায়গায় অন্যকেউ
হলেও হয়তো তাই করতো। যাইহোক সায়মার
কাছে বকা না খেলে যেনো দিন কাটতে চায়না। তাই
রোজদিন এমনকিছু করি যেন সায়মা আমাকে বকা
দিতে বাধ্য হয়।
এরমধ্যে অন্যতম হলো রোজ সায়মার টেবিলে
ফুল রাখা। সাধারনত আমি যেকাজ গুলো করি তা অন্য
কেউ হলে হয়তো সায়মা ইমপ্রেস হয়ে
যেতো! কিন্তু তাতো অন্যকেউ না আমি করি। তাই
সায়মার বিরক্তির শেষ নেইই।
.
সায়মার সব বিরক্তির শুরু হয় প্রায় মাসখানেক আগে। শুরু
থেকে সায়মাকে আমার প্রচন্ড ভালো লাগতো
কিন্তু সায়মাকে তা আমি বুঝতে দিতাম না। কিছু
ছেলেমেয়ে থাকেনা দুর থেকে ভালবেসে
যাওয়ার মধ্যে অন্যরকম এক সুখ পায় আমিও ছিলাম
তাদের মতো। সব ঠিকি চলছিল। সায়মাকে আমি
নিজের মত করে আড়ালে ভালবেসে যাচ্ছিলাম
কিন্তু সব বিপত্তির আরম্ভ হয় যেদিন সায়মার চৌধুরী
গ্রুপের প্রোজেক্ট সাবমিট করার দিন ছিল। সায়মা খুবি
কনফিডেন্স ছিল প্রোজেক্ট নিয়ে!
সত্যি বলতে কি আমিও ছিলাম কেননা সায়মার প্রতি আমার
বিশ্বাস ছিল ওহ ঠিকি পারবে।
প্রোজেক্ট সাবমিট করার ঠিক আগমুহূর্তে সায়মা
কে বেশ চিন্তিত লাগছিল আমার। তখন কেন জানি মাথায়
আসলো সায়মাকে চা খাওয়ালে কেমন হয়। আমি
নিজে সেদিন অনেক অবাক হয়েছিলাম আমার মত
হাবাগোবা ছেলের মাথায় এ চিন্তা আসলো কোথা
থেকে। যেই ভাবা সেই কাজ। নিয়ে গেলাম চা
সায়মার টেবিলের দিকে। সায়মা টেবিলে মাথা নিচু
করে ছিল। আমি যেই ডাক দিলাম অমনি সায়মা মাথা উপর
করে আমার দিকে তাকালো।
আমার মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছিল না।
এমনি সময়ে আমার মুখে খই ফুটে কিন্তু তখন কি
হলো জানিনা। কিছুনা বলার চেষ্টা করে সায়মা কে
চায়ের কাপ দেখালাম।
সায়মা ইশারা তে চায়ের কাপ রাখতে বলল। সায়মাকে
খুশি লাগছিল। মুখের মধ্যে সায়মার উজ্জ্বল একভাব
দেখা যাচ্ছে।
চায়ের কাপ টেবিলে রাখতে যাবো তখনি হাত
কাপাকাপি করা শুরু করলো। আমার কেনো জানি এমনি
হয়। নার্ভাস থাকলে আমার এ সমস্যা হয়।
চায়ের কাপ টেবিলে রাখতে যাবো তখনি হাত
ফসকে সব চা পড়ে গেলো টেবিলে। আমি শুধু
হতোদম্ভ হয়ে দাড়িয়ে ছিলাম। পুরো চা টেবিলে
রাখা ফাইলে পড়ে গেলো। ফাইল টা ওপেন করাই
ছিল। হয়তো সায়মা তা চেক করছিল ঠিক আছে কিনা।
সায়মা অনেক চেষ্টা করেও ফাইলের শেষ রক্ষা
করতে পারেনি।
সেখান থেকে আমার কালরাত্রির শুরু। সেই
প্রোজেক্ট সাকিল কে আবার দেয়া হয়। সায়মা আর
প্রোজেক্টের ফাইল জমা দিতে পারেনি। সায়মা
ভেবেছিল সাকিল কে প্রোজেক্ট নিয়ে দিতে
আমি এসব করেছি। কিন্তু তা তো নয়। কিন্তু ভুলটা
আমার ই ছিল। সায়মা কে কেনো আমি চা দিতে
যাবো আর এসব হবে।
.
এরপর থেকে সায়মা আমার প্রতি মিসবিহেব করা শুরু
করে। এর মাত্রা আরো বেড়ে যায় যখন সায়মা
জানতে পারে আমি ওকে ভালবাসি। আরে বাবা আমি
সায়মা কে ভালবাসি তা তো কোনো পাপ নয়। সায়মা
কেও যে আমাকে ভালবাসতে হবে এমন তো
কোনো কথা নেই। আমি আমার মত করে কি সুন্দর
করে ভালবেসে যাচ্ছিলাম কিন্তু তা তাতেও
ম্যাডামের সমস্যা!
.
আরে মজনুর আবার লায়লার কাছে লজ্জার কি আছে!
বিভার কথায় আমি বাস্তবে ফিরলাম। বিভা আমাদের সাথেই
কাজ করে। আর আমার ভাবিও হয়। বিভার কথা শুনে সাকিল
ক্ষেপে গেলো। কিন্তু বিভাকে সাকিল কিছু বলল
না। সাকিল আর বিভা একে অপর কে ভালবাসে। কিন্তু কি
নিয়ে ওদের মাঝে ঝগড়া হয়েছে ওরা ভালো
জানে। আমি সাকিল কে চিনি। সাকিল কারো উপর
রেগে থাকলে কথা বলে না। সাকিল ঠিক তাই
করলো। সাকিল আমার দিকে তাকিয়ে বলল, কি ভাবছিলি
রে এতক্ষণ?? কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে তার
উত্তর দিতে হয় জানিস না???
আমি আর কি বলবো?? সায়মার কথা ভাবছিলাম, তাহলে
তো সাকিল এমনকি বিভা ভাবিও ক্ষেপে যাবে। কিছু
বলে টপিকস বদলাতে হবে।
সাকিলকে কিছু বলতে যাবো তখনি বিভা বলল, এ্যই তুমি
কি আমাকে ইশারা করে কথা বললে হু!
এই যা শুরু হয়ে গেলো। যাক অন্ততপক্ষে আমি
বাচলাম। ওরা নাহয় ঝগড়াঝাঁটি করুক তবু যেন মিটমাট হয়।
আমি কিছুনা বলে সাইট কেটে নিলাম!
ভালবাসার সম্পর্ক গুলো তো এমনি হয়। একটু
মানঅভিমান, ঝগড়াঝাঁটি অতঃপর মিটমাট তাইতো ভালবাসা তাই
নয় কি!
.
দুই....
আপনার সাহস তো কম না হু! আপনি আমাকে আমার বাসা
পর্যন্ত ফলো করেন।
.
সায়মার কথায় আমি অবাক হলাম না। হ্যাঁ আমি সায়মাকে ওর
বাসা পর্যন্ত ফলো করি। ওকে নিয়ে আমার বড্ড ভয়
হয়। অফিস ওর বাসা থেকে একটু দুরে হয়। না জানি
কখন কি হয়ে যায় এই কথা মনে আসলে আতকে
উঠি। সব তো ঠিকি চলছিল। ওকে বাসা ঢুকতে
দেখলে আমার জানে জান ফিরে। ওই বদ রিক্সা
চালকের জন্য ফেঁসে গেছি। কি দরকার ছিল ভাড়া
নিয়ে সায়মার সাথে বেয়াদবি করার! আমি এমনি খুবি ঠান্ডা
মেজাজের। তবে কেন জানি তখন শরীর শিউরে
উঠে গেছিলো। রক্ত টগবগ করছিল। আর সহ্য
করতে না পেরে আমি সায়মার সামনে আসতে বাধ্য
হই । তবে কেন জানি সায়মাকে আমি অবাক হতে
দেখিনি। সায়মা যেন এমন কিছু প্রত্যাশা করেছিল। আমি
যা বুঝার বুঝে জলদি বাইক নিয়ে ফিরে আসি। আর আজ
বদ মেয়ে অফিসে আমার সাথে এমন করে জেরা
করছে। ভাগ্যিস বস অফিসে নেই! বলুক কি বলার,আমি
মাথা নিচু করে শুনে যাবো। এ্যহ আমি কি করবো না
করবো উনার হুকুম নিতে হবে হু। কাছের মানুষকে
কিছু হয়ে যাবে এই ভয়ের অনুভূতি যদি সায়মা বুঝতো
তাহলে এমন কথা বলতে পারতো না!
.
সায়মা কে প্রায়শই মনমরা দেখি। ইশশ যদি অমন ভুল
আমার দ্বারা হতো না। আজ অন্তত সায়মার মুখে হাসি
দেখতে পেতাম। সেই ঘটনা না ঘটলে যে সায়মা
আমাকে ভালবাসত তাও আমি বলছি না। তবে ভালবাসার
মানুষটির মুখে একটু হাসিও তাকে আপন করে পাওয়ার
সুখের চেয়ে কম না।
আমি জানি সায়মার এ্যামবিশন আরো বেশি। জীবন
থেকে চাওয়া আরেক টু বেশি। হয়তো সেই চাওয়া
পূরণ হতো যদিনা আমি বাধা হয়ে দাঁড়াতাম। সাকিল ওই
প্রোজেক্ট কমপ্লিট করার পর প্রোমোশন
পেয়ে যায়। সায়মা ওর কাজের প্রতি বেশ পরিপাটি।
তাই সবাই সায়মাকে সাকিলের জায়গায় আশা করেছিল
এমনকি সাকিল নিজেও। কিন্তু তা আর হলো কোথায়!
সায়মা তো প্রোজেক্ট জমা দিতে পারেনি আমার
জন্য। খুব গিল্টি ফিল করি এর জন্য। যদি কিছু করতে
পারতাম সায়মার জন্য।
.
আল্লাহতালা এই প্রথম এতো জলদি মনে হয় আমার
মনো-কামনা পূরণ করলো। সায়মার মুখে হাসি
ফুটানোর সুযোগ পেয়ে গেছি। এবার সায়মা কে
একটি প্রোজেক্ট কমপ্লিট করতে বলা হয়েছে
আবার। বস অবশ্য প্রথমে আমাকে বললেও আমি
রাজি হইনি। সাধারনত সায়মা যেহেতু এর আগের বার
প্রোজেক্ট ফাইল জমা দিতে পারেনি তাই স্বভাবতই
বস আমাকে প্রোজেক্ট অফার করে। কিন্তু আমি
জানি তো সায়মা কেনো তা পারেনি।
.
আজ সায়মার প্রোজেক্টের ফাইল জমা দেয়ার দিন।
চুপ করে আমিও প্রোজেক্ট কমপ্লিট করেছি।
সায়মার ফাইল যে করে হোক জমা দেয়ার আগে
চেক করতে হবে। যদি প্রোজেক্ট এর কাজ
ভালো হয় তাহলে ঠিকাছে। আর না হলে আমার
কমপ্লিট করা ফাইলের সাথে নাহয় সায়মার টা বদলিয়ে
দিবো!
.
সায়মা ওয়াশরুম গেছে।
যাই করার এখনি করতে হবে।
সায়মার ফাইলে কিছু জিনিস মিসিং দেখছি। কিছুনা ভেবে
ফাইল বদলে নিলাম। তারপর নিজের টেবিলে এসে
বসে পড়লাম।
কিছুক্ষণ পর সায়মা ফিরে ফাইল নিয়ে বসের রুমে
গেলো।
.
আমার বড্ড চিন্তা হচ্ছিল।
যদি এবারো উনিশবিশ হয়ে যায় তাহলে আমি
নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।
পনেরো-বিশ মিনিট পর.....
বস খুশিখুশি মুখে সায়মার সাথে কেবিন থেকে বের
হলো। বের হতেই বস সবাই কে ডেকে সায়মার
প্রশংসা করলো। আর সাথে সাথে সায়মার
প্রোমোশন এর খবর জানালো। সবাই একেএকে
সায়মা কে অভিনন্দন জানাতে শুরু করলো। আমি আমার
টেবিলে গিয়ে বসে গেলাম। সায়মা কে বেশ খুশি
লাগছিল। আমি সায়মার সামনে গিয়ে তা নষ্ট করতে
চাইনা।
.
সায়মা আমার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি
নিজের চোখে দেখা দৃশ্য বিশ্বাস করতে পাচ্ছি না।
এমন দোটানায় ভুগছি তখনি সায়মা বলল, আপনি আমাকে
দয়া করলেন তাই না?
সায়মা একি বলছে?
ওহ কিছু বুঝতে পারেনি তো??
যদি তাই হয় তাহলে আমার সব পরিশ্রম, চাওয়া ভেস্তে
যাবে!
আমি এসব ভাবছি তখনি সায়মা আমাকে বলল, কি
পেয়েছেন আপনি? নিশ্চয় ভেবে রেখেছেন
আমাকে দয়া দেখালে আমি পটে যাবো! তাহলে
শুনেন তা আর হবার নয়। আমি বস কে সব বলে
দিবো।
.
এই প্রথম সায়মার কথায় খুব কষ্ট পেলাম। মেয়ে টা
এমন কেনো?? কেনো বুঝতে চায়না যাকে
ভালবাসা যায় তার জন্য এতটুকু করা কিছুনা! খুবি তুচ্ছ, বড্ড
তুচ্ছ!
আর আমি তো ভুল করেছি। সেই ভুল শোধরানো
কি কোনো খারাপ কথা নাকি!
আর আমার জন্য তো প্রথমবার ওর কতো বড় ক্ষতি
হয়েছিল তার জন্য এতটুকু তো করা যেতে পারে।
না সায়মা যা বলছে তা হতে দেয়া যাবেনা। খারাপ লাগা
চেপে রেখে সায়মাকে বললাম, বস কে বলবে?
বলে দেখো না, খুন করে ফেলবো
একেবারে!
আমি নিজের কথায় বিশ্বাস করতে পারছি না! একি বললাম
আমি।
আমার কথা বলার মধ্যে অনেক কঠোরতা ছিল। কিন্তু
তা মনে হয় কাজে দিয়েছে। সায়মা ঘোর লাগা
চোখে আমার দিকে চেয়ে আছে। যেন একটু
আগেরকার অভ্রের সাথে আমাকে মেলাতে
পারছে না। সায়মা চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে
নিজে উঠে ক্যান্টিন চলে গেলাম। না এই
মেয়েকে বড্ড ছাড় দিয়েছি আর বেশি মুল্য দিয়ে
ফেলেছি তাই হয়তো আমার সাথে এমন করে। না
অনেক হয়েছে। সায়মাকে বুঝাতে হবে আমি কি
ফিল করি!
অমন ব্যবহার করলে কতোটা খারাপ লাগে সব বুঝাতে
হবে।
.
কিছুদিন পর....
সায়মারর টেবিলে আর আগের মত ফুল রাখি না। ফুল
ঠিকি আনি তবেঁ তা যাকে সামনে পাই তাকেক দেই।
সায়মা কিছু বলতে গিয়েও বলে না।
আগে আগ বাড়িয়ে আমি সায়মার সাথে কথা বলতাম
কিন্তু এখন সায়মা কে দেখলে পালিয়ে বেড়াই।
আজো তাই করেছি।
অফিস থেকে সায়মার আগে বের হয়েছি। সায়মা
ঝটপট আমার পিছুপিছু এসে সামনে দাঁড়ালো। সায়মা খুব
হাফাচ্ছে। অনেক টা পথ দৌড়ে এসেছে।
দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আমাকে বলল,সেই কখন
থেকে তোমাকে ডাকছি!
বাহ বাহ তুমি! আপনি থেকে তুমি তে উন্নীত
হয়েছে। মনে মনে আমি লুঙ্গি ডান্স দিচ্ছিলাম। কিন্তু
তা জাহির না করে বললাম, কেউ ডাকলে কি আমাকে
শুনতে হবে নাকি!
সায়মা আমার কথা শুনে যেন আকাশ থেকে
পড়লো। আমার থেকে হয়তো এমন ব্যবহার আশা
করেনি। সায়মার চোখে পানি টলমল করছে। এখনি
যেন কেঁদে ফেলবে। তবু সায়মা নিহিত কন্ঠে
বলল,তুমি আমার সাথে এমন করছো কেনো??
কদিন ধরে দেখছি আমাকে দেখলে এড়িয়ে যাও।
আর এখন এমন ব্যবহার করছো। আমার কষ্ট হয়না বুঝি!
আমি: তাচ্ছিল্যের সুরে- আপনার কাছে আসলেও
দোষ,এড়িয়ে চললেও দোষ। আমাকে কি পুতুল
পেয়েছেন নাকি! যেভাবে নাচাবেন আমি নাচবো?
আর আপনি দুর্ব্যবহার আর ব্যবহারের ফারাক বুঝেন
সেই জ্ঞান আছে আপনার !
সায়মা এবার সত্যি সত্যি কেঁদে ফেলল।
চোখ মুছতে মুছতে রিক্সায় উঠে চলে
গেলো। কিছুক্ষণ পর আমিও বাইক স্টার্ট দিয়ে
পিছনপিছন গেলাম। এই মেয়ের ঠিক নেই। একদম
পাগলী মেয়ে। কিছুনা আবার করে ফেলে। ইশশ
আমি এতো রুডলি ব্যবহার না করলেও পারতাম।
.
যা ভয় হওয়ার তাই হলো।
তবে সায়মা কিছু করেনি। সায়মা যে রিক্সায় যাচ্ছিল তা
কিছু ছেলে আটক করে। সায়মার সাথে এমন
কাউকে করা দেখলে ঘুমের মাঝেও দুচার জনকে
মেরে ফেলি। আর এটা তো বাস্তব। কিন্তু এখন
ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে। আমি যে আজ
অব্ধি ওকে ফলো করি তা জেনে যাবে। ঝটপট
বাইকের হর্ণ বাজালাম। ছেলে গুলো তা শুনে রিক্সা
ছেড়ে দিলো। হয়তো কেউ আসছে ভেবে
ভয় পেয়ে পালিয়েছে! যাই হোক আমি হাফ
ছেড়ে বাচলাম!
.
পরেরদিন......
অফিসে আসার পর থেকে একেক জন একেক
প্রশ্ন করে যাচ্ছে। আরে বাবা একটু ক্ষত হয়েছে
তাতে পুরো অফিস মাথায় নিয়েছে । আম্মা দেখে
নেওয়ার ভয়ে ড্রেসিং করিনি। আর তা আমার কাল হয়ে
দাঁড়াবে ভেবে পাচ্ছি না। সাকিল তো ডেটল নিয়ে
আমার সাথে কুস্তি খেলছে। ক্ষত জায়গায় ডেটল
দিলে জ্বালা করে। তা আমি মোটে সহ্য করতে
পারিনা।
.
আসলে গতরাতে সায়মা বাসা চলে গেলেও আমি
যেতে পারিনি।ছেলেগুলোকে ঠিক খুজে বের
করি। সিনেমার হিরোর মত মারতে না পারলেও কমও
মারিনি। কিন্তু সে হিসেবে বেশ মারো খেয়েছি।
একজন আর কত পেরে উঠতাম।
.
কিছুক্ষণ পর সায়মা অফিসে এলো।
মেয়েটার চোখ দেখে বুঝা যাচ্ছে রাতে
অনেক কেঁদেছে। কিন্তু কেনো? সায়মা ওর
হ্যান্ডব্যাগ টেবিল রেখে আমার সামনে চেয়ার
টেনে বসলো। সাকিলের কাছ থেকে ডেটল
তুলা নিয়ে ক্ষত জায়গায় লাগাতে লাগলো। খুবি জ্বালা
করছে তা বুঝতে পেরে সায়মা মুখ দিয়ে ফুঁ দেয়া
শুরু করলো।
মেয়েটা এমন কেনো করছে?
আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি না তো??
.
সায়মা: এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই।
কোথায় এটা তো স্বপ্ন না। সায়মা এখনি কথা বলল।
আমার চুপ করা দেখে সায়মা আবার বলল, তোমার
প্রতি আমার একটু রাগ শুরু থেকে ছিল। জানি যে তুমি
ইচ্ছে করে ভুল করনি । তবে তা বুঝার জন্য
আমাকে তো কিছু সময় লাগবে তাই না। সে সময় টা
তোমাকে আমার দেয়া উচিৎ ছিল। তা না করে তুমি
কাজকর্ম বাদ দিয়ে আমার পিছনে লেগে পড়লে।
আর তখন এমনি তে তোমার প্রতি রেগে ছিলাম তাই
তোমার ভালো কিছু আমার খারাপ লাগা শুরু করলো। তাই
অমন দুর্ব্যবহার করেছি আমি। তার জন্য সরি। শুনো
আমি শুনেছি যাকে ভালোবাসা যায় তাকে ক্ষমা
করতে জানতে হয়। কি করবে না আমাকে ক্ষমা?
.
কথাটি বলে সায়মা ডেটল বেশি করে ক্ষত জায়গায়
লাগালো। আর আমি অমনি উউউহ করে উঠলাম। আর 'হু'
এর শুনা গেলো। তা শুনে সায়মা সাথে অফিসের
সবাই হেসে ফেলল। কিন্তু আমি চুপ করে থাকলাম।
তা দেখে সায়মা বলল,গতকাল হিরোগিরী না করলেও
পারতে হু!
আরে এই বদ মেয়ে বলে কি যাকে এতো টা
ভালবাসি তার সাথে কেউ এমন করলে ছেড়ে
দিবো নাকি। প্রিয়তা যদি সত্যি হিরো হতাম বেটা
গুলোকে কুচিকুচি পিছ করে বুড়িগঙ্গা তে ভাসিয়ে
দিতাম হু!
এমন অনেকে আছে যারা আমার মতো করে
মনের কাছের মানুষটাকে ভালবেসে যায়। সবার যে
আমার মতো ইন্ডিং হয় তাও নয়। তবু তারা ভালবেসে যায়
আড়ালে। তার মাঝেও এক সুখানুভূতি আছে।
সবাই আড়ালে থেকে ভালবেসে যেতে পারে
না। আর যারা পারে তাদের ভালবাসা মিথ্যে হতে
পারেনা!
l
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now