বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- জারা,আমি তোকে ভালোবাসি। (রাফি)
- ভালোবাসিস! তুই কি পাগল? (জারা)
- হ্যাঁ,আমি তোর জন্য পাগল।
- তুই বড্ড দেরি করে ফেলেছিস রাফি।
- কেন? দেরি কেন?
- আগামী ১৩ তারিখ আমার বিয়ে।ছেলে ডাক্তার।ভালো থাকিস।
.
কথাটা বলে আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে যায় জারা।রাফি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে জারাকে দেখছে।এমন কেন হলো তার জীবন!
- জারা সত্যিই কি তুই আমাকে ভালোবাসিস না? (রাফি)
- তুই দেরি করেছিস। এখন আর তা সম্ভব নয়।
.
জারাকে পিছন থেকে চিৎকার ডেকে বললো রাফি।জারাও তার উত্তর দিলো।কিন্তু নাহ! কোন ফল হলো না।অগত্যা চোখ ছলছল করে উঠলো তার।টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।হাঁটু গেঁড়ে বসে চিৎকার দিয়ে আহ বলে কাঁদতে লাগলো।
.
এতক্ষণে জারা চলে গেছে।সে দেখতে পায় নি একটা প্রেমহীন ছেলের আত্মচিৎকার।জারার বাবা মা নেই।চাচা-চাচীর কাছে মানুষ।ভাই বোন বলতে একটা বড় ভাই আছে।বিদেশ থাকে।সেখান থেকে সে জারাকে টাকা পাঠিয়ে দেয়।
.
রাফি বড়লোক বাবার বড় ছেলে।জীবনে অপূর্নতা নেই তার।যা চেয়েছে তাই পেয়েছে।কিন্তু আজ সে জীবনের বড় পাওয়া জিনিষটাকে হারিয়ে ফেললো।
.
বাড়ি ফিরলো আনমনা হয়ে।বাবার সাথে সবটা শেয়ার করলো সে।রাফির বাবা আকরাম চৌধূরী ছেলের সাথে বন্ধুত্বসূলভ।সান্তনা দিলেন তিনি।
.
রাতে ঘুমাবার আগে আবার সে জারাকে ফোন দিলো।জারাও ফোন রিসিভ করলো।
- তুই কি সত্যি আমাকে ভালোবাসিস না?(রাফি)
- বললাম তো আমার বিয়ে ১৩ তারিখ।
- বিয়েটা না করলে হয় না জারা?
- কি বলিস! সংসার করতে হবে না? লেখাপড়া করে কি আর হবে,তুই বল।
- তা ঠিক।কিন্তু তুই আমাকে বিয়ে কর।
.
জারা আবার রাফিকে বললো সে তাকে বিয়ে করতে পারবে না।কারণ সে অনেকটা দেরি করে ফেলেছে।এতদিনে সে কায়সারকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে।কায়সার হচ্ছে বর্তমান জারার ভালোবাসার মানুষ।
.
- শোন রাফি,তুই কিন্তু আমার বিয়ে অবশ্যই আসবি।
- না যাবো না।
- কেন আসবি না? তুই না আমার জানের জিগর দোস্ত।
- ভাগ, তুই আমার দোস্ত না।শত্রু।
.
কথাটা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো রাফি।জারা অনেকটা বুঝে মুচকি হাসি দিলো।অতঃপর ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো।
.
১৩ তারিখ,
- রাফি তুই কই? (জারা)
- কেন?
- আজকে আমার বিয়ে,তুই না আসলে বিয়েটা হবে কি করে?
- যাবো না।
- আমার কসম লাগে তাড়াতাড়ি আয়।আমরা সবাই কাজী অফিসে।
- কাজী অফিসে মানে?
- ধুমধাম করে এখন হবে না।পরে অনুষ্ঠান করবো।তাড়াতাড়ি আয়।
.
জারার অন্যসব বন্ধুরাও এসেছে।সবাই কাজী অফিসের সামনে বসে কি নিয়ে যেন হাসাহাসি করছে।রাফি মনমরা হয়ে কাজী অফিসে চলে আসলো।
.
- কই তোর বর কই?
- আমার সামনে দাঁড়িয়ে।
- কি বলিস! কই?
- আরে বুদ্ধু তুই তো আমার বর।আমি জানি তুই আমাকে কতটা ভালোবাসিস।ভালোবাসা যাতে প্রকাশ পায় সেজন্য এই বুদ্ধি।
- আর কায়সার?
- আর কোন কায়সার ফায়সার কেউ নেই।
.
সবাই রাফিকে দেখে হাসছে।জারাও হাসছে।সেই হাসি,যা দেখে রাফি জারার প্রেমে পড়েছিলো।
- এখন প্রোপজ কর।তারপর বিয়ে।
- প্রোপজ করতেই হবে?
- বাধ্যতামূলক। না হলে আবার হারিয়ে যাবো কিন্তু।
- নাহ! এভাবে বলিস না জারা। করতেছি।
.
অতঃপর হাঁটু গেঁড়ে রাফি জারাকে প্রোপজ করে চারদিনের মতো নিজের করে নেয়।এভাবেই চলতে থাকে তাদের জীবনের লাভ এক্সপ্রস।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now